বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
★★★প্রেমের কেরবানি★★★
:
কলেজ থেকে বাসায় ফিরে
ক্লান্ত ভঙ্গিতে শুয়ে পরলাম।
বেশ দখল গেছে আজ কলেজে।
ইয়ারফোনে গান শুনতে শুনতে
ফেবুটা লগ ইন করলাম।
আচমকা এক মেসেজ,
তাও আবার একটি মেয়ে।
আমি হতবাক.!!!
আইডির নাম প্রজাপতির পাখনা।
নামটা অদ্ভুত;
প্রজাপতির ডানা অনেক আইডি দেখলেও
এই প্রথম সে দেখলাম প্রজাপতির পাখনা।
আনন্দের সাথে মেসেজ এর রিপ্লে দিলাম।
চলতে থাকল দীর্ঘ সময়।
মেয়েটির নাম ফারহানা ইয়াসমিন,
তার বাসাচট্টগ্রাম।
সে এই বছর এইচ.এস.সি
প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে।
আমারও এইচ.এস.সি প্রথম বর্ষ।
এভাবেই পরিচয় পর্ব শুরু হলো
ফারহানা আর আমার।
খুব ভাল বন্ধু ও হয়ে গেলাম।
কিন্তু বন্ধুত্বতা কি আর বেশিদিন থাকে????
তা তো পরিবর্তন হয়......
হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা শেষ করে
ফারহানা ঢাকা এসেছে আমাকে জানাল,
কিন্তু আসার দুই দিন পর জানাল।
কারন আমার পরীক্ষা শেষ হয়েছিল
২ দিন পর।
তখন আমাদের মাঝে নিয়মিত ফোন আলাপ চলছে।
আমাকে কোন প্রশ্নের চান্স না দিয়েই
ফারহানা বলল,
বসুন্ধরা সিনেকমপ্লেক্সে এ চলে এসো
৪টার সময়।
আমার পরনে থাকবে পিংক কালারের ড্রেস।
আমি কিছু বলবো
তার আগেই ফারহানা ফোন কেটে দিল।
মহামসিবতে পরে গেলাম।
একটা টিকেটের দাম ৭৫০ টাকা।
আর পকেটে আছে মাত্র ৫০০ টাকা।
কি করা যায়??
এইবার ফোন করলাম সাকিবের কাছে।
মামা ১০০০ টাকা বিকাশ কর প্লিজ।
আর বেশি কিছু না বলে ফোন কেটে দিলাম।
:
৪.৩০ মিনিট এ মুভি শুরু।
এর আগে মাত্র একবার ছবি দেখেছি,
আজকে দ্বিতীয় বার।
আমার যেতে যেতে মুভি প্রায় শুরু।সিকোরিটি নাম্বারসহ সিটে বসিয়ে দিল।
কিন্তু আমার তো ছবি দেখাতে মন নেই।
অন্ধকার এ কাউকে দেখতেও পাচ্ছি না।
সিনেমা অর্ধেক শেষ।
ফোনেও পাচ্ছি না ফারহানাকে।
:
হঠাৎ আমার পাশে বসা একটি মেয়ে বলল,
আপনি কি কাউকে খুঁজছেন???
আমি মেয়েটার দিকে তাকালাম,
দেখলাম পিংক কালার তো তার পাশেই বসে।
হায়রে ১ঘন্টা ২০ মিনিট,,
প্রথম দেখা আমার আর ফারহানার।
সত্যিই সে দেখতে অপ্সরা।
আমাকে ফেবুতে পিক এ দেখেছে ফারহানা
কিন্তু ফারহানা আমাকে কখনো পিক দেয় নি।
তবে ফারহানা একবার বলেছিল,
আমাকে ভালবাস???
আমি উত্তর দিয়েছিলাম, "হ্যা"।
সিনেমা শেষ করার আগেই
আমাকে একটা খাম দিয়েই
হনহন করে চলে যেতে লাগলো।
আমি দেখলাম সে তাড়াতাড়ি যাচ্ছে,,
তারপরও আমি তার পিছনে গেলাম।
ফারহানা তার ফ্যামিলি মেম্বারদের সাথে এসেছে।
:
ওহ,খামটা খোলা হল না,
কি আছে এতে???
বাসায় গিয়ে খোলা যাবে।
চমকানোর যদি কয়েকটা স্তর থাকে
তবে সর্বোচ্চ স্তরে চমকালাম।
আমি খাম টা খুলে দেখলাম
দুটা ১০০০ টাকার নোট।
বাহ, টাকার উপর লেখা,
i love u..do u???
জীবনে কোন প্রেমিক
এমন প্রোপোজাল পাইছে বলে মনে হয় না।
আমাকে ফোন দিল ফারহানা,
কি খবর উত্তর দিবা না।
মজা করে বললাম, তুমি রিজেক্টেট,
কি?? কাঁদার ভান নিল ফারহানা।
আমি বললাম, আরে নাহ স্যরি,
তোমাকে যদি রিজেক্ট করি তবে আমি তো একটা.......
এভাবেই চলছিল আমার আর ফারহানার প্রেম।
বেশ ভালই কাটছিল আমাদের জীবন।
আমাদের প্রেমের সময়
প্রায় ৯ মাস হয়ে গেছে।
দুজনেরই সেকেন্ড ইয়ার
প্রিটেস্ট পরীক্ষা শেষ।
ফারহানা এসেছে ঢাকায় পরীক্ষার পর।
এইবার নাকি তার পরিবার
ঢাকায় ঈদ করবে।
ফারহানার মনে একটা অজানা শংকা দিয়েছে।
তার বাবাও হঠাৎ দেশে ফিরেছে।
আমি বেশ খুশি ফারহানা ঢাকায়
ঈদ করবে।
এইবার আমার ইচ্ছে ছিল তাকে
কিছু উপহার দিবো,
এখন সে উপহার ও দিতে পারবো আবার ঘুরতেও পারবো।
ফারহানা ঢাকায় পৌছাল ২ দিন।
কিন্তু আমার সাথে তার
কোন যোগাযোগ নেই।
আমি দ্বীধায় পড়ে গেল।
হঠাৎ ফারহানার ফোন,
বুক থেকে পাথর নামল আমার।
আমি বললাম হ্যালো,
হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেলে,
কোন খোঁজ নাই।
ফারহানা বলল ঠান্ডা স্বরে, তুমি
আজ বিকাল ৪.৩০ মিনিটে
রমনা পার্কে এসে,
আমার সাথে দেখা করবে।
আমি বললাম ওকে...!
আমার মনে অজানা আশংকা।
কঠিন কিছুর জন্য প্রস্থুত নিতে
হবে মনে হয়।
মনের মধ্যে অজানা ভয় কাজ করছে।
:
সেখানে গেলাম, গিয়ে দেখলাম।
দীর্ঘক্ষন বসে আছে ফারহানা।
কিছু বলছে না।
আমিও চুপচাপ বসে রইলাম।
ফারহানা বলল হঠাৎ, নীরব শোন
হয়ত একটু কষ্ট পাবা তবুও বলছি
বাস্তবতার মাঝে আমি দাঁড়িয়ে,
কিছু করার নেই, আমাকে ভুলে যাও।
আমি তাকিয়ে রইলাম ফা্হানার দিকে।
ফারহানার চোখ বলে দিচ্ছে,
তার কথাটা কোন ফাইজলামি নয়, সত্য।
ফারহানা বলল, এই ছিল আমার বলার, বিদায় নিচ্ছি।
আমি বললাম, ঠিক আছে,
কিন্তু কারন টা কি জানতে পারি????
ফারহানা হতবাক হলো, এ কেমন ছেলে,
পানিতে চোখগুলো চকচক করছে,
কিন্তু কত সহজ ভঙ্গিতে কথা বলে যাচ্ছে।
ফারহানা বলল হুম, আমার মামাত ভাই
দেশে ফিরেছে U.S.A থেকে,
তার সাথে আমার বিয়ে,
আমাকে ও নিয়ে যাবে।
আর তুমিও আমাকে নিয়ে যেতে পারবে না,
আর আমিও আমার বাসায় বলতে পারব না।
কারন তারা জানলে
আমাকে তো কোরবানি দিবেই
সাথে তোমাকেও,,,
আর আত্নহত্যা যদি মহাপাপ না থাকত
তবে কবেই.......
আমি সহজ ভঙ্গিতে কংগ্রেচুলেশন
জানালাম
এবং পরবর্তী জীবনে সুখী হওয়ার জন্য বললাম।
আর এটাও বললাম,
আমি তোমার বিয়েতে ঈদের দিন আসব
আর নিজের প্রেমকে কোরবানি দিব।
সহজভঙ্গীতে হেঁটে চলে গেলাম।
আর চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে,
আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।
কিন্তু এই সমাজের হাজারো বাঁধার মুখে তা অনর্থক।
আমি জানি না তার জীবন কিভাবে চলবে।
মনে হয় বেশ ভালই চলবে।
তবে সে আর কাউকে ভালবাসতে
পারবে হয়ত না পারবে।
বিয়েতে গিয়েছিলাম সে আড়াল থেকে দেখেছে।
ভালবাসার কাছে পরাজিত হয়ে
সে ধুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল।
:
তবে জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না,
অনেকদিন কেটে গেলো,
আমি স্টুডেন্ট ভিসা পেয়ে
ছুটছি আজ জার্মেনিতে...
আমার অজানা ঠিকানায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now