বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রায়শ্চিত্ত

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রায়শ্চিত্ত নিয়াজ মোর্শেদ ভূঁঞা ১. যাঃ শালা ! ভুলেই গেসিলাম । কথাটা সজীবের । সে দাঁড়িয়ে আছে জিইসি মোড়ে । একটু আগেই বাসা থেকে বের হয়েছে সে , মোড়ে এসে সিগারেটে দুই টান দেয়ার পর তার মনে পড়েছে এটা রমজান মাস , আর সে রোজা আছে । সে ভুলোমনা নয় , তবে আজকের ব্যাপারটা আলাদা । আজ সে যাচ্ছে মিলির অবৈধ প্রেমের ফসল আকিবকে দেখতে । মিলি সজীবের স্ত্রী , সজীব যে আজ এই মিশনে যাচ্ছে তা মিলি জানেই না । সে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে । ঘুমালে মিলিকে কী নিষ্পাপই না লাগে - ভাবছিল সজীব । মিলি ঘুমাচ্ছে - এটা নিশ্চিত হয়েই বের হয়েছে সে । হাতের সিগারেটটা ফেলে দিয়ে সে ডেকে উঠলো - এই সিএনজি !!! ২. সজীব একজন ডাক্তার । ওর বাবা বহু আগেই মারা গেছেন । মিলির সাথে ওর চার বছর আগে বিয়ে হয় । মিলি সজীবের ছোটবোন নীলার বান্ধবী । সজীবের মা মিলিকে সজীবের বৌ করে আনার সিদ্ধান্ত নেন । সজীবও মনে মনে মিলিকে পছন্দ করতো , বলতে পারেনি । বিয়ে ঠিক হবার পর সজীবের কাছে অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে কোন এক ছেলে বলতো মিলির চরিত্র খারাপ , অনেকের সাথে প্রেম ছিলো , ওর সাথে আরো গভীর সম্পর্ক - মোট কথা বিয়ে ভাংতে যা যা বলা দরকার বলতো । কিন্তু সজীব বিশ্বাস করেনি সেসব । যা হোক , ওদের বিয়ের ছয়মাস পরেই নীলা কোন এক ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যায় । এই শোক সামলাতে পারেননি সজীবের মা । তিনি কিছুদিনের মধ্যেই মারা যান । আরো আড়াই বছর কাটে । ভালোই চলছিল টোনাটুনির সংসার । এর মধ্যেই একরাতে মিলি একটা ফোন কল পায় । সেটা পেয়ে পরদিনই সে বাপের বাড়ি যায় । তিনদিন পর ফেরে । এর ঠিক এক সপ্তাহ পর মিলির মা সজীবকে ফোন করে বলেন - 'অনেকদিন তোমাদের কাউকেই দেখিনা । চলে আসো বাবা' হতভম্ব হয়ে সজীব ফোনটা রেখে দেয় । তাহলে মিলি গেছিল কোথায় ? ৩. এরপর থেকে মাঝে মাঝেই মিলি বিকেলে বাইরে যেতো । সজীব খেয়াল করেছে , সেটা সোমবার । এইদিন বিকেলে সে কোন কাজই রাখে না । তাকে যেন যেতেই হবে । সন্দেহ দানা বাঁধে সজীবের মনে , কিন্তু কিছু বলেনা সে মিলিকে । এক সোমবার বিকেলে সজীব হাসপাতাল যাবার মিথ্যা কথা বলে বাসা থেকে বের হয় । কিছুদূর গিয়ে সে একটা চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে । প্রায় বিশ মিনিট পর সে দেখে মিলি বের হচ্ছে । সজীব ওকে ফলো করে । মিলি শিশুপার্কে যায় । গেটের সামনে একটা বাচ্চা দাঁড়ানো ।তিন - চার বছর বয়স হবে । সজীব আড়াল থেকেই ওদের দেখে । ঘণ্টাখানেক পর মিলি বাচ্চাটাকে পাশের একটা এতিমখানাতে রেখে আসে । এসব কিছু দেখে সজীবের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে । ওর কাছে বিয়ের আগের ফোনকলগুলোর কথা সত্যি মনে হয় । এমন কি হতে পারে যে এই বাচ্চাটা ওর আর মিলির বিয়ের কিছুদিন আগেই জন্ম নিয়েছে ? এত বড় ধোকা !!! রাগে ঘৃণায় সজীব বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে । ও ঠিক করে , মিলির সাথে সংসার আর নয় ! ৪. স্যার আইসা গেছি । সিএনজিওয়ালার ডাকে চমক ভাঙে সজীবের । এতিমখানার সামনে এসে গেছে সে । ভাড়া মিটিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ে সে । এতিমখানার প্রধানের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে বলে যে সে মিলির স্বামী । 'বুঝলেন মিঃ সজীব , আপনার স্ত্রীর মত মানুষ এ যুগে পাওয়া কঠিন । আকিব ছেলেটির বাবা মা দুজনই রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে বছরখানেক আগে । ওরা নাকি মিসেস মিলির আত্মীয় । মিসেস মিলিই ওকে এখানে নিয়ে এসেছেন , প্রতি সোমবার ওকে নিয়ে বের হন ঘুরতে । এমনকি আকিবকে দত্তকও নিতে চান তিনি । আপনার সাথে আজ কালের মধ্যেই এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন আমাকে । তা আপনি বুঝি সে ব্যাপারেই এসেছেন ?' এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থামেন এতিমখানার মালিক । 'জ্বী না , মানে জ্বী ' ইতস্তত করে সজীব , তারপর বলে - আকিব ছেলেটির বাবা মায়ের নাম কি জানা যাবে ? 'কেন নয় , নিশ্চয়ই । ওর বাবার নাম আশিকুর রহমান খান , মা ফারজানা আক্তার নীলা ।' স্তব্ধ হয়ে যায় সজীব । আকিব ওর ভাগ্নে !!! ৫. সজীব হাঁটছে রেললাইন ধরে । ওর নিজেকে খুব বড় পাপী মনে হচ্ছে । ও মিলিকে সন্দেহ করতে পারলো ? ওর মনে পড়লো কয়েক ঘণ্টা আগের কথা - মিলি ঘুমাচ্ছে । সজীব কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখল ওর নিষ্পাপ মুখটা । তারপর ... বালিশ দিয়ে চেপে ধরলো মিলির মুখ । মিলিকে শেষ করে দিতে কষ্টই হয়নি তার । 'মেয়েদের শরীরে শক্তি এত কম' - বিদ্রূপের হাসি হাসলো সে । তারপর বেরিয়ে গেল ঘর থেকে । এত বড় পাপ সজীব কী করে করল ? এখন এর প্রায়শ্চিত্ত কী ? কী করলে প্রায়শ্চিত্ত হবে ? ও খেয়াল করেনি , কিন্তু রেললাইনের আশেপাশের সবাই খেয়াল করলো যে একটা ট্রেন প্রবল বেগে ওর পেছন পেছন আসছে । ট্রেনটা শেষবারের মত হর্ণ দিলো । কিন্তু যার উদ্দেশ্য দিলো , সে তখন নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটছিলো আর ভাবছিলো - কী করলে প্রায়শ্চিত হবে?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♦প্রায়শ্চিত্ত♦
→ পানুতান্ত্রিকের প্রায়শ্চিত্ত
→ অসফল প্রায়শ্চিত্ত
→ প্রায়শ্চিত্ত
→ অবৈধ প্রেমের প্রায়শ্চিত্ত!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now