বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরিবার

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পরিবার by-প্রাঞ্জলিকা গোমেজ রিক্সা করে বাসায় যাচ্ছি।যত বাসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি তত মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে।বাসায় আমার একেবারে থাকতে ইচ্ছে করে না,যতক্ষন বাইরে বাইরে থাকি ততক্ষণ ভালই থাকি,কিন্তু বাসায় আসতে তো হবেই,ক্লাস এইটে পড়া একটা মেয়ে আমি আর কতক্ষণই বা বাইরে থাকতে পারব!স্কুল,প্রাইভেট শেষে তাই আমাকে আবার এই বাসাতেই ফিরে আসতে হয়।চুপচাপ বাসায় ঢুকে গেলাম।বাড়িটা শান্ত হয়ে আছে একদম,সচরাচর থাকে না।তার মানে বাবা বাসায় নেই,মনটা শান্ত হয়ে গেল।বাবা যতক্ষণ না থাকে আমি,মা আর আমার ছোট ভাই ভাল থাকি।বাবা আসলেই অশান্তি শুরু হয়ে যাবে।আমার বাবাটা এরকম ছিল না মোটেই,আমার বাবা পৃথিবীর সবথেকে ভাল বাবা ছিল। ছোট থাকতে আমি আর আমার ভাই অপু মিলে হাত ধরাধরি করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অফিস থেকে বাবা ফেরার অপেক্ষা করতাম,অফিস থেকে বাবা আসলে তাঁর হাত থেকে বাজারের ব্যাগ নিয়ে আমরা বাবার হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে বাড়ি ফিরতাম,বাবা হাত-মুখ ধুয়ে আমাদেরকে পড়াতে বসাত,মা সন্ধেবেলার নাস্তা দিত,আমি আর অপু বাবার দুই পাশে বসে খেতাম।রাতে বাবা আমাকে আর অপুকে মা খাইয়ে দিত।আমাদের ছিল ছবির মত সাজানো সংসার, সুখী এক পরিবার। আমি ছিলাম বাবার "মা"।আমাকে বাবা কখনো মা ছাড়া আমার নাম ধরে ডাকে নি।আমার সেই ভাল বাবা এখন খুব খারাপ হয়ে গেছে,খুব খারাপ।বাবা এখন আর কোন চাকরী করে না,কিছু করে না।শুধু মা'র কাছ থেকে টাকা নেয়।আমার মা স্কুলের শিক্ষিকা। মা'র রোজগারের সব টাকা বাবা জোর করে নিয়ে নেয়,মা না দিতে চাইলে মাকে খুব মারে।অপুকেও মারে।বাবা যাখন-তখন অপুর গায়ে হাত তোলে।অপুকে বাবা সহ্যই করতে পারে না।অপু যাই করে বাবা তাতেই রেগে যায়,আমার পিচ্চি ভাইটা আমার কাছে এসে কাঁদে।বাবাকে আমার এখনো ঘেন্না করতে ইচ্ছা করে না কিন্তু এই লোকটা নেশা করে এসে আমার মা-ভাইকে শুধু অত্যাচার করে,সেই লোকটাকে ঘেন্না না করে কোন উপায় কি আছে আমার?আমার গায়ে বাবা এখন পর্যন্ত হাত তোলে নি।অপু আর মাকে যখন বাবা মারে আমি আটকাতে গেলে বাবা আমাকে ধরে এনে আমার হাত-পা বেঁধে রেখে তারপর আমার মা আর ভাইকে মারে।আমি শুধু দেখি কিছুই করতে পারি না!এই লোকটা এত নিষ্ঠুর আর পিশাচ কি করে হয়ে গেল? মাকে কতবার করে বলি, "মা,চলো আমি,তুমি,অপু মিলে অন্য কোথাও চলে যাই।আমি আর কিছুদিন পরই বড় হয়ে যাব,তখন আমি চাকরী করব।বাবাকে আমাদের দরকার নেই মা।কোন দরকার নেই।আমরা যখন না থাকব তখন বাবা আমাদের খুঁজবে।তখন বুঝবে।" মা কিছু বলে না।বাবা আর মা নাকি ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করেছিল,তাই দাদু বাড়ি আর নানু বাড়ি কোথাও থেকে আমার বাবা-মাকে মেনে নেওয়া হয় নি। বাবা মুসলমান আর মা হিন্দু তো,তাই।মা তাই এখন আমার নানু বাড়ি ফিরে যেতে পারবে না।যার জন্য বাবা একদিন তার সংসার ছেড়েছিল তার সাথে বাবা এখন কিভাবে এমন করে আমি ভেবে পাই না।মা এখনো বাবাকে ভালবাসে,ভাবে বাবা একদিন ঠিক হয়ে যাবে,তাই বাবাকে ছেড়ে কোথাও যেয়ে চায় না,বাবার অত্যাচার সহ্য করেই বাবার সাথে থাকে।কিন্তু আমি পারব না।আমি ঠিকই একদিন চলে যাব। মা আর অপুর জন্য খুব কষ্ট হয় তাই যেতে পারি না !বাবা লোকটার জন্যও খুব কষ্ট হয়। মা রাজি হয়েছে।আমি,মা আর অপু মিলে কাল সকালে এই বাড়ি ছেড়ে,বাবাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি।আমি আর অপু খুব খুশি। অপু আমার চেয়েও খুশি।মা আমাদের মুখ চেয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।আজকেই শেষ রাত আমাদের এই বাড়িতে।আমরা সিলেট যাচ্ছি,মা ওখানের একটা স্কুলে চাকরী পেয়েছে।সব গোছগাছ হয়ে গেছে,বাবা তার নেশার আড্ডা থেকে এখনো ফেরে নি।আমি আর অপু আজ তাড়াতাড়ি বিছানায়,কাল থেকে আমাদের নতুন জীবন,সব নতুন করে শুরু করব। হঠাত করে একটা চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে গেল।পাশে তাকিয়ে দেখি অপু আগেই উঠে গেছে,ভয়ে জড়সড় হয়ে আছে।বাবা ফিরেছে,কিন্তু চিৎকার করল কে?আমি উঠে মায়ের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম।দরজার কাছে যেয়ে দেখলাম বাবা আমার মা'র গলা টিপে ধরে আছে।মা ,বাবাকে সরিয়ে দিতে পারছে না।মা'র চোখ বন্ধ হয়ে গেছে।আমার বুক কেমন যেন খালি খালি করতে লাগল,চারপাশ অন্ধকার লাগছে,কি করছি জানি না।দৌড়ে রান্নাঘর থেকে বটি নিয়ে এসে ওই পিশাচ লোকটার পিঠে বসিয়ে দিলাম,লোকটা পড়ে গেল,তারপর আমি কোপাতেই থাকলাম,কোপাতেই থাকলাম,লোকটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল,একবার শুধু "মা" উচ্চারন করে নিথর হয়ে গেল।মেরে ফেলেছি,বাবাকে আমি মেরে ফেলেছি।কুপিয়ে মেরেছি।অপু দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।চুপচাপ,ওর চোখ-মুখ ও হিংস্র হয়ে আছে।মা'র কাছে যেয়ে দেখি আমাদের মাও মরে গেছে।বাবা-মা কেউ নেই। আমি আর অপু হাত ধরাধরি করে বাড়ি থেকে বের হলাম।কমলাপুর ষ্টেশনের দিকে যাচ্ছি,পৌঁছে গেছি।দুইজনে রেললাইনের মাঝখান দিয়ে হাঁটছি,অপু একদম ভয় পাচ্ছে না,আমার গায়ের সাথে লেপ্টে আছে,আমরা হাঁটছি,একটা ট্রেইন আসার হুইসেল দিল,ট্রেইন আসছে,আমি আর অপু জড়াজড়ি করে চলন্ত ট্রেইনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি........................।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পরিবারে শেখা পাঠ
→ আমি একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, লেখক: ক্ষুদ্রলেখক মোঃ রাকিবুল হাসান
→ পরিবার থেকে শিক্ষা
→ বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবারের কর্তা
→ টিম পরিবার
→ এক ফিলিস্তিনি পরিবারের গল্প
→ মধ্যবিত্ত পরিবারে ছেলেদের জীবনে বয়ে যাওয়া কিছু কথা:- ...
→ বাবু পরিবার
→ ⚠ অতৃপ্ত পরিবার ⚠
→ মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প
→ আমার জিজে পরিবার পার্ট-৫
→ আমার জিজে পরিবার পার্ট-৪
→ আমার জিজে পরিবার পার্ট-৩
→ জিজে: আমার প্রিয় পরিবার
→ আমার জিজে পরিবার পার্ট-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now