বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরী আমার। আজ তোমার আমার মাঝে কত শত মাইলের দূরত্ব। মাঝে মধ্যে মনে হয় আকাশ মাটির মধ্যে যতদূর ব্যবধান তারও বেশি দূরত্ব আজ তোমার আমার মাঝে। আমার এমন কি সামর্থ্য আছে যে, সে ব্যবধান অতিক্রম করি? বিধাতাই চান না যে, তুমি আমার হও, আমি তোমার হই। আমি যে তাই নিয়তির কাছে বন্দি হয়ে আছি। আচ্ছা তুমি ও তোমার বিধাতা কি এক সঙ্গে যুক্তি করে আমার সঙ্গে এমন করছ? তিনি পারলেও তুমি পারছ কি করে? আচ্ছা যাও, যা খুশি কর তোমার। তোমাদের দু’জনের তো অনেকই ক্ষমতা। আমার মতো অনেকেই এই ক্ষমতার কাছে অসহায়। তাই নালিশ নাই। নাই নাই একটুও নাই।
দূরে আছ তাতে কি? তুমি কি ভাবছ যে, তুমি আমার কাছ থেকে দূরে সরে আছ? থাকতে পারছ? তোমাকে আমি দেখি না? তোমার কথা আমার মনে পড়ে না? না সোনা, তোমার সে ভাবনা ভুল। একদম ভুল। বললেই কি বিশ্বাস করবে, রাতেও তুমি আমার পাশে থাক? হাত বাড়িয়ে আমি তোমাকে কাছে পাই। এই অনুভূতিও কাউকে বুঝিয়ে বলার নয়। কি এক সৌভাগ্যক্রমে তোমার কিছু ফটোগ্রাফ আমার কাছে এখনো আছে। ইচ্ছে হলে তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে থাকি। তোমাকে দেখি। বাস্তবের তোমাকে দেখতে পাই। তুমি তাকিয়ে আছ আমার দিকে। হাসছ, কথা বলছ। আর আমিও তোমার ছবির সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলি। সহজেই সবাই সবকিছু ভুল যায়। যেতে পারেও। কিন্তু আমি তোমার গায়ের গন্ধ, তোমার ভেজা চুলের গন্ধÑ কেন এখনো আমার পাই? নিশ্বাসের সঙ্গে পাই। জান, আমার হাত দুটো আজো তেমনিই আছেÑ কেন বলত? তুমি ছুঁয়ে ছিলে তাই। পথ চলি তোমার হাত ধরা থাকে আমার হাতে। একটা কথা জানতে ইচ্ছে করছে। আচ্ছা তোমার পায়ে কি আজো ধুলা লাগে? ওমন সুন্দর দুটি পায়ে ধুলা লাগবেই। কারণ পথের ধুলারও তো স্বাদ তোমার পায়ে জড়িয়ে থাকতে। তুমিই একদিন আমাকে বলেছিলে, পথের পাগল লোকটিও তোমার পথ আগলে দাঁড়ায়। তোমার কাছে আসে। তোমার বাড়ির পাশের ছেলেটি, যাকে মামা বলে ডাকÑ সেও তোমাকে ভালোবাসার কথা জানায়। তোমার যেন কোনোদিনই বিয়ে না হয় তার ব্যবস্থা করতেও দ্বিধা করে নাÑ তোমার মেহেদী মামা, তোমার স্যার বাবলু ডাক্তার। পুলিশ ভাইয়ের কথা কি আর বলব? সে বলে বেড়ায় তোমার সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা। এরা তো আদিম রক্তমাংসের মানুষ, এরা তো তোমাকে চাইতেই পারে। পথের ধুলার আর কি দোষ বল? মা বলে, বাবারে ওমন সুন্দর পা আর কারো নেই। তাই আর কাউকে পছন্দ করিস না। বিয়ে না করলে কি হয়, মাকে বলি আমি, মা আমার সায় দেয় তাতে। মেনে নেয় আমার কথা। পরী, তোমার পায়ের জুতোর ফিতা বাঁধার, তোমার পা ধুঁয়ে দেয়ার যোগ্যও আমি নই। এ কথা আমার জানা আছে।
তোমার ঐ কালো ছোট্ট তিলের মায়া যে আজো আমি কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এই তিলটার জন্য আমি সারা জীবন পরিশ্রম করে যেতে পারি। আর কী পারি, কী পারি না তার সুযোগই তো তুমি দিলে না। আর তাই আমি ভালোই আছি। তোমাকে নিয়েই আছি। আমি যে, তোমার কাছে, আমার কাছে, তোমার আমার ভালোবাসার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তুমি আর আমাকে ভালোবাস না। ভালো কথা। কিন্তু আমি তো বাসি। আর এই বাসাটা যেন চিরকাল বাসতে পারি।
পরী সোনা, আমাকে কাঁদিয়েছ, তুমিও কাঁদবে সারাজীবন। আমি যতটা কষ্ট পাচ্ছি, তারও বেশি তুমি কষ্ট পাবে। আমার ছায়া, গায়ের গন্ধ, ভালোবাসা, দীর্ঘশ্বাস, আমার চোখ তাড়া করে ফিরবে তোমাকে, যতদিন বেঁচে থাকবে। বাইরের সুন্দর রূপে সবাইকে মুগ্ধ করতে পারবে, ভোলোাতে পারবে, আল্লাহ্কে ভোলোাবে কি দিয়ে? তিনি দেখবেন তোমার ভেতরের রূপটা। আমাকে এপারে ফাঁকি দিলে, ওপারে আল্লাহ্কে ফাঁকি দেবে কি করে? পারবে? পারবে না, একটুও পারবে না, বুঝলে? শোন পরী, তুমি একজন পুরুষ পাবে, কিন্তু একজন মানুষ পাবে না। কারো শরীর পাবে, শরীরের প্রয়োজনে কিন্তু মন পাবে না। আদর পাবেÑ সময় হলে কিন্তু ভালোবাসা পাবে না। একটা ঘর পাবে দরকার হলে কিন্তু ছায়া পাবে না। সুন্দর মুখ দেখবে সকাল বিকাল কিন্তু প্রিয় মানুষের মুখ কোথায়? হাত বাড়িয়ে হাত ধরবে কিন্তু আস্থা পাবে না। তাকিয়ে দুটি চোখ দেখবে কিন্তু সে চোখে দেখবে না- বিশ্বাস, ভালোবাসা, মায়া। দেখবেÑ কোন কামুকের কামুক লাল চোখ। সুখ পাবে কিন্তু স্বস্তি পাবে না...। আর এটাই তোমার নিয়তি। নিয়তি থেকে কেউ কোনোদিন পালাতে পারেনি, তুমিও পারবে না। আমি আমার অভিমানের কথা, ক্ষোভের কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি। মাফ কর আমাকে। ঈশ্বরের কাছে আমার প্রার্থনা, “হে সৃষ্টিকর্তা তোমার সৃষ্টি পাথরের মতো কঠিন এই মেয়েটাকে তুমি ভালো রেখ সবসময়। যদি কখনো কোনো ভালো কাজ করে থাকি তার বিনিময়ে হলেও।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now