বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিশাচের রাত-০৯ (শেষ)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "পিশাচের রাত" লেখক : অনীশ দেব ------------------- শেষ পর্ব চিকু আর প্রিয়াঙ্কা এত ভয় পেয়ে গেল যে ভয় বোধটাই ওদের মন থেকে উবে গেল। ওরা হাঁ করে স্যারের পালটে যাওয়া দেখছিল। যেন মুগ্ধ হয়ে কোনও হরার ফিল্ম দেখছে। স্যারের দেহটা ফুলতে লাগল। চোয়াল লম্বাটে হয়ে গেল। ঠোঁট ফাঁক হয়ে পান চিবনো ছিবড়ে বেরিয়ে পড়ল। দাঁতগুলো হল অস্বাভাবিক শানিত আর লম্বা। ফুলে ওঠা শরীরের চাপে পাঞ্জাবিটা ফেটে গিয়ে আশপাশ থেকে ঝুলে রইল। সিলিঙ ফ্যানের হাওয়ায় পতাকার মতো উড়ছে। বর্ষায় আগাছা গজিয়ে ওঠার মতো স্যারের শরীরে বড় বড় লোম গজাতে লাগল। হাত পায়ের নখগুলো মাপে লম্বা হয়ে বাঁকানো ছুঁড়ির ফলার মতো হয়ে উঠল। চোখের সামনে হরিহরবাবু মানুষ থেকে অমানুষ হয়ে গেলেন। প্রিয়াঙ্কা ভয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়াল। চিকুর হাত ধরে প্রচন্ড এক টান মারল। চিকু অনেকক্ষণ ধরে একটা চিৎকার খুঁজে বেড়াচ্ছিল। স্বপ্নের মধ্যে যেমন দৌড়তে চাইলেও দৌড়নো যায় না, তেমনি সেই মূহুর্তে চিৎকারটাও চিকুকে নিয়ে সেইরকম খেলা খেলতে লাগল। ভয়ঙ্কর অমানুষটা উঠে দাঁড়িয়ে সজোরে মাথা ঝাঁকাল। লালা ছিটকে পড়ল ওটার মুখ থেকে। তারপর প্রচণ্ড গর্জন করে চিকুদের দিকে এক পা এগিয়ে এল। কোমরের কাছে ধুতিটা এলোমেলো ভাবে জড়িয়ে থাকায় প্রাণীটাকে ভারী অদ্ভুত দেখাচ্ছিল। হঠাৎ চিকুকে অবাক করে দিয়ে প্রিয়াঙ্কা প্রচণ্ড ভয়ার্তভাবে আর্তনাদ করে উঠল। যে প্রমাণ ওরা এতদিন ধরে খুঁজছিল, সেই প্রমাণ এখন ওদের চোখের সামনে! কি ভয়ঙ্কর প্রমাণ! এই অমানুষটাকেই তো চিকু জলাপুকুর থেকে সেদিন শ্যাওলা আর কচুরিপানা মাথায় নিয়ে উঠে আসতে দেখেছিল! অমানুষটা এক হিংস্র গর্জন করে উঠল। বাইরে কড়--কড়--কড়াৎ করে বাজ ডেকে উঠল। তারপরেই বাইরের দরজায় প্রচণ্ড দমাদ্দম আওয়াজ শুনতে পেল চিকু। কাকিমা পড়িমরি করে রান্নাঘর থেকে পড়ার ঘরে ছুটে এলেন। অমানুষটার দিকে অদ্ভুত চোখে তাকালেন। সঙ্গে সঙ্গে বাইরের দরজার ছিটকিনি ভাঙার আওয়াজ হল। তারপরেই দরজা ভেঙে হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়ল রোহণ আর ছোটকু। ওদের সারা শরীর জলে ভেজা। বড় বড় শ্বাস ফেলে হাঁফাচ্ছে। ওদের গায়ে বর্ষাতি বা পলিথিন শিট নেই। বাইরে কোথাও খুলে এসেছে। ওদের দেখেই কাকিমার মুখটা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেল। কোনওরকমে বললেন, " কে....কে তোমরা?" উত্তরে রোহণ শটগানটা বের করে উঁচিয়ে ধরল। চিকু আর প্রিয়াঙ্কা তখন ঘরের এক কোণে মিশে যেতে চাইছে। এ ওকে আঁকড়ে ধরে থরথর করে কাঁপছে। বিপুল চেহারার অমানুষটার ছায়া ঘরখানাকে অন্ধকার করে রেখেছে। ওটার হলদেটে সবুজ চোখদুটো রেডিয়াম দেওয়া ঘড়ির মতো ধকধক করে জ্বলছে। ওটা কি বুঝল কে জানে! চিকুদের দিক থেকে ফিরে রোহণদের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। ছোটকুর চোখ যেন ঠিকরে বাইরে বেড়িয়ে আসতে চাইছে। ওর মুখ হাঁ করা। সারা শরীর ঠকঠক করে কাঁপছে। কিন্তু রোহণের চোখে ঠাণ্ডা দৃষ্টি। ও যেন আগে থেকেই জানত, এরকম কিছু একটা হবে। রোহণ আর দেরী করল না। অমানুষটার মুখের দিকে শটগান তাক করে ঠাণ্ডা গলায় বলল, " তোমার আত্মাকে মুক্তি দিলাম।" তারপর ফায়ার করল। শব্দটা বদ্ধ ঘরে তেমন জোরাল শোনাল না। তবে দুটো গুলিই প্রাণীটার মুখে গিয়ে লাগল। একটা বাঁ চোখে আর একটা ওটার কপালে। একটা বুক কাঁপানো গর্জন করে অমানুষটা ভূমিকম্পে ধসে পড়া বিশাল বহুতলের মতো মেঝেয় পড়ে গেল। ওটার হাত কিছু একটা আঁকড়ে ধরতে চাইছিল। ওটার বাঁকান নখ গেঁথে গেল কাকিমার শাড়ির ভাঁজে; ফলে সেই টানে কাকিমাও পড়ে গেলেন মেঝেতে। ভয়ে চিৎকার করে উঠলেন তিনি। শটগানে নতুন গুলি ভরে নিল রোহণ। তারপর সতর্ক পায়ে প্রানীটার কাছে এগিয়ে গেল। চিকু আর প্রিয়াঙ্কাও নিজেদের সামলে নিয়ে কৌতূহলী হয়ে প্রাণীটাকে দেখতে লাগল। আর কাকিমা সেই লোমশ শরীরটাকে আঁকড়ে ধরে বিলাপ শুরু করলেন। সেই বুকফাটা কান্না পাথরকেও গলিয়ে দিতে পারে। অমানুষটার মুখের খানিকটা অংশ শটগানের গুলির দাপটে চুরমার হয়ে গেছে। মুখ আর কপাল রক্তে মাখামাখি। বোঝাই যাচ্ছিল, এরপর পূর্ণিমার রাতে জাঙ্গিকুলে কখনো আর কেউ খুন হবে না। হঠাৎই একটা অবাক কান্ড ওদের চোখের সামনে ঘটতে লাগল। অমানুষটার দেহের লোমগুলো ধীরে ধীরে দেহের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। বাঁকান লম্বা নখ আবার ঢুকে যাচ্ছে আঙুলের ভেতর। লম্বা দাঁতগুলো ছোট হতে হতে আবার মুখের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। ঠোঁটজোড়াও টান টান অবস্থা থেকে ক্রমশ ঢিলে হচ্ছে; ঢেকে দিচ্ছে দাঁতের পাটিকে। ধীরেধীরে মৃতদেহটা আবার বদলে গেল। মানুষ থেকে অমানুষ হয়ে গেল। ওদের চোখের সামনে এখন পড়ে আছে হরিহরবাবুর মৃতদেহ। সেই মৃতদেহ আঁকড়ে ধরে তাঁর স্ত্রী হাউহাউ করে কাঁদছেন। চিকু আর প্রিয়াঙ্কা কাছে এগিয়ে গেল। অস্বস্তি হলেও ওরা কাকিমাকে স্বান্তনা দিতে চাইল। " কাকিমা কাঁদবেন না। স্যারের শরীরে পিশাচ ভর করেছিল। স্যারের আত্মা এবার শান্তি পাবে", চিকু নরম গলায় বলল। উত্তরে কাকিমা স্বামীর মৃতদেহ থেকে মুখ তুললেন। ঘুরে তাকালেন চিকু আর প্রিয়াঙ্কার দিকে। ঠাণ্ডা গলায় বললেন, " কিন্তু আমায় শান্তি দেবে কে? আমিও তো হাতে উল্কি কেটে ছবি এঁকেছি।" চিকু অবাক হয়ে দেখল, কাকিমার দু চোখের মণিতে দু টুকরো লাল আগুন জ্বলছে। আর ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে এসেছে দুটো লম্বা শ্বদন্ত। খলখল করে হেসে কাকিমা উঠে দাঁড়ালেন। প্রিয়াঙ্কা চিৎকার করে উঠল। " আমরা দুজনে বেশ ছিলাম", কাকিমা বলতে লাগলেন, " পিশাচ বর আর পিশাচ বউ। ও শিকার করে রক্ত নিয়ে আসত আর আমি ওর থেকে রক্ত নিতাম। এমনি ছিল আমাদের রক্তের সম্পর্ক। এখন কি হবে? একা একা আমি থাকব কি করে?" রোহণ হতবাক হয়ে গিয়েছিল। চিকু, প্রিয়াঙ্কা আর ছোটকুরও একই দশা। এরকম একটা আশ্চর্য ঘটনার জন্য ওরা কেউই তৈরি ছিল না। কাকিমা হঠাৎ বনবেড়ালের মতো লাফ দিলেন। কিন্তু ছোটকু পলকে ছিটকে এসে রোহণকে আগলে দাঁড়াল। ফলে রাগে, শোকে অন্ধ পিশাচী খ্যাঁক করে ছোটকুর টুঁটি কামড়ে ধরল। ওর ধারাল দাঁতে ছোটকুর গলার নলি ছিঁড়ে গেল। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছিটল। চাপা ঘড়ঘড় শব্দ শোনা গেল। সম্মোহনের ঘোর কাটিয়ে রোহণ শটগান তুলে নিল। ছোটকুর ওপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকা কাকিমার ঘাড়ে নল ঠেকিয়ে ফায়ার করল। ছোটকু আর কাকিমা দুজনেই খসে পড়ে গেল মেঝেতে। পরমূহুর্তেই ছোটকুর নিথর শরীরটাকে ছেড়ে কাকিমা আহত কেউটের মতো রোহণকে ছোবল মারতে এলেন। শরীরটাকে দু পাক গড়িয়ে দিয়ে ধারাল দাঁতে রোহণের পা কামড়ে ধরলেন। রোহণ যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল। সেই চিৎকারে সকলের কানে তালা লেগে গেল। বাইরে বিকট শব্দে বাজ পড়ল। আর রোহণ অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে করতে শটগানের বাঁট হাতুড়ির মতো বসিয়ে দিলেন কাকিমার মাথায়। রোহণ যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল আর রাগে অন্ধ হয়ে শটগানের বাঁট দিয়ে পিশাচীর মাথা থেঁতো করছিল। একসময় কাকিমার দেহটা অসার হয়ে গেল। তার থেঁতলানো মাথাটা চুলে রক্তে মাখামাখি। হরিহরবাবুর মতোইই কাকিমার শ্বদন্ত দুটোও মাপে ছোট হয়ে স্বাভাবিক আকার ধারণ করল, চোখের মণির লাল বিন্দুদুটোও মিলিয়ে গেল। রক্তে ভেসে যাওয়া ঘরে তিন তিনটে লাশ পড়ে রইল। রোহণ ছোটকুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঁদছিল। ওর পা থেকে তখনো রক্ত ঝরছিল। প্রিয়াঙ্কা রোহণের পিঠে হাত রেখে স্বান্তনা দিতে চেষ্টা করল। তারপর খেয়াল হতে রুমাল দিয়ে রোহণের পায়ের কাটা জায়গাটা বাঁধতে লাগল। চিকু নিজেকে সামলে উঠে টলতে টলতে ভেতরের ঘরের দিকে এগোল। এখনি ফোন করে সবাইকে জানাতে হবে। ফাঁড়িতেও একটা খবর দেওয়া দরকার। বাইরে বৃষ্টির তেজ হঠাৎ আরো বেড়ে গেল। কান ফাটানো শব্দে বাজ পড়ল আবার কোথাও। ( সমাপ্ত) -------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পিশাচের রাত-০৯ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now