বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ৩

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ৩ ৩ আহমদ মুসার গাড়ি ব্যাংকক এয়ারপোর্ট থেকে ব্যাংকক শহরে প্রবেশ করে সেন্ট্রাল এভেনিউ ধরে সোজা পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছে। শহরের পশ্চিম প্রান্তে এই এভিনিউয়ের ধারে একটা ফ্যামিলি হোটেল আছে। একটা মুসলিম ফ্যামিলি হোটেল পরিচালনা করে। ঘরোয়া পরিবেশে চমৎকার খাওয়ার ব্যবস্থা আছে সেখানে। আহমদ মুসার ইচ্ছা সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে এসে উঠবে থাই-শেরাটন হোটেলে। তারপর লম্বা একটা ঘুম দিয়ে বিকেলে বেরুবে। গাড়ি এগুচ্ছে। আহমদ মুসার খুব ভাল লাগল মিৎসুবিশি জীপটা। নতুন গাড়ি এবং কমফোরটেবল। গাড়িতে যে দুর্দান্ত গতি আছে তা দেখলেই বোঝা যায়। স্পিডমিটারের দিকে তাকিয়ে এরই সমর্থন পেল আহমদ মুসা। আহমদ মুসা বসেছিল পেছনের সিটে। উর্দিপরা ক্যাব ড্রাইভার তরুণ বয়সের। ‘তোমার নাম কি ছেলে?’ পেছন থেকে ড্রাইভারকে লক্ষ্য করে জিজ্ঞাসা করল আহমদ মুসা। ‘ভূমিবল।’ বলল ড্রাইভার। ‘একেবারে রাজার নামে নাম। ভূমিবল তো তোমাদের রাজা ছিল।’ ‘জি স্যার তিনি রাজা ছিলেন। আমার বাপ-মা চেয়েছিলেন আমি রাজা হব না, কিন্তু রাজার মত হবো।’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘তুমি দেখতে রাজার মত, গাড়িও রাজার মতই।’ হাসল ড্রাইভার ছেলেটিও। বলল, ‘গাড়ি এখনও আমার নয় স্যার। ব্যাংকে বন্ধক আছে। ঋণ শোধ হবার পর গাড়ি আমার হবে।’ গাড়ি তখন মধ্য ব্যাংকক পার হয়েছে। বাঁ দিকে আদালতসমূহ রেখে অনেকখানি এগিয়েছে গাড়ি। হঠাৎ কিছুদূর সামনে আহমদ মুসা চোখের পলকে গাড়ির জ্যাম গড়ে উঠতে দেখল। তার পরেই বোম বিস্ফোরণ ও ব্রাশ ফায়ারের শব্দ। আহমদ মুসার ড্রাইভার ভূমিবল ব্যাপারটা বুঝতে দেরি করে ফেলেছিল। তাই সংগে সংগে গাড়িও থামাতে পারেনি।’ গাড়ি ঘটনাস্থলের প্রায় গা ঘেঁষে গিয়ে দাঁড়াল। ড্রাইভার মুখ ফিরিয়ে দেখতে দেখতে বলল, ‘স্যার গাড়িটা ব্যাক করি।’ কিন্তু তার কথা শেষ না হতেই দুধার থেকে দুজন পুলিশ এসে গাড়ির দরজায় নক করতে লাগল। পুলিশ অফিসার দুজনকে খুবই অস্থির ও অসহিষ্ণু দেখাল। তারা ঘটনাস্থলের ধোয়ার ভেতর থেকে ছুটে বেরিয়ে এসেছে। ড্রাইভার সুইচ টিপে দুদিকের দরজা আনলক করে দিল। দরজা খুলে যেতেই একজন পুলিশ অফিসার হাত ধরে টেনে ড্রাইভারকে তার সিট থেকে বের করতে করতে বলল, ‘গাড়ি আমাদের দরকার। সন্ত্রাসীদের ফলো করতে হবে।’ ড্রাইভারকে বের করে দিয়ে পুলিশ অফিসারটি ড্রাইভিং সিটে বসল। অন্যদিকের দরজা দিয়ে অন্য পুলিশ অফিসারটি পাশের সিটে উঠে বসল। গাড়ি ছুটতে শুরু করল। অস্থির উত্তেজিত পুলিশ অফিসার দুজন একবারও পেছনের দিকে ফিরে তাকায়নি। পেছনের সিটে যে আরেকজন লোক আহমদ মুসা বসে আছে তা জানতেই পারল না। ঘটনাস্থল অতিক্রম করার সময় আহমদ মুসা দেখল পুলিশের কয়েকটি গাড়ি বোম ও বুলেটে লন্ডভন্ড ও ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ে আছে। কোন কোনটিতে আগুন জ্বলছে। দরজা খোলা অবস্থায় আরেকটি প্রিজন ভ্যানকে দেখল আহমদ মুসা। আহমদ মুসা বুঝল, ‘সন্ত্রাসীরা তাহলে তাদের কোন বন্দী সহযোগীকে ছিনিয়ে নিয়ে পালাচ্ছে।’ সোজা রাস্তা। তীব্র বেগে ছুটে চলছিল গাড়ি। সামনের দুজন অফিসারের মধ্যে ড্রাইভিং সিটের পুলিশ অফিসারকে সাব ইন্সপেক্টর লেবেলের মনে হলো আহমদ মুসার কাছে। আর পাশের সিটের পুলিশ অফিসারটি যে খুবই উচ্চপদস্থ হবেন, তার কাঁধের ইনসিগনিয়া দেখেই তা বুঝল আহমদ মুসা। গাড়ি কিছুক্ষণ চলার পর আহমদ মুসা সামনেই দুটি মিটসুবিশি জীপ দেখতে পেল। ওদের পাগলের মত গতি দেখেই বুঝা যাচ্ছে ওরাই পলাতক। শহর থেকে পশ্চিমমুখী হাইওয়ে ধরে এগুচ্ছে গাড়ি। আগের গাড়ি দুটিও চলছিল ফুল স্পীডে। আহমদ মুসাদের জীপ কিছুতেই ওদের সাথে দূরত্ব কমাতে পারছে না। তখন গাড়ি শহর থেকে বেরিয়ে এসেছে। শহরতলির পরেই অনেকটা জনবিরল এলাকা। রাস্তার দু’দিকেই উঁচু-নিচু, এ্যাবড়ো-থেবড়ো জমি। মাঝে-মধ্যে বড় বড়, দীর্ঘ খাদ। আগাছা ও গাছ-গাছড়ায় ঢাকা জমি। এখান থেকে পশ্চিম দিকে সবচেয়ে কাছের শহর নাখোঁ, তাও তিরিশ চল্লিশ মাইল দূরে। এর পরের শহর ব্যান পং। ব্যান পং শহরটি থাইল্যান্ডের বিখ্যাত নর্থ-সাউথ হাইওয়ের উপর। এই হাইওয়ে থেকে পশ্চিমে সীমান্ত পর্যন্ত এলাকা ঘনবন আচ্ছাদিত পার্বত্যভূমি। এই পার্বত্যভূমিরই পশ্চিম ধার ঘেঁষে উত্তর-দক্ষিণে বিলম্বিত বিলাদতুংগ পর্বতশ্রেণী। সূর্য তখন মাথার উপরে। তীব্র বেগে ছুটছে গাড়ি। দুই পুলিশ অফিসারের মত আহমদ মুসারও দৃষ্টি সামনে। হঠাৎ বনের মাঝে দেখতে পেল সামনে কিছু দূরে রাস্তার ধারে একটা গাছ থেকে চলন্ত কিছু একটা নিচে পড়ল। সবুজের মধ্যে চলন্ত সাদাকে পরিষ্কার চোখে পড়েছে আহমদ মুসার। ভ্রু-কুচকে গেল আহমদ মুসার। বস্তুটি যে মানুষ এবং গাছ থেকে লাফ দিয়ে নেমেছে এতে তার কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কে সে এই জনশূন্য এলাকায়? পলাতকদের লোক? তাহলে তো একজন নয়! অনুসরণকারী গাড়ি আটকাবার জন্যে ওদের একটা পশ্চাত বাহিনীও হতে পারে। সামনেই রাস্তার এলটার্ন। এলটার্ন বলেই টার্নের ওপারে বেশ দূরে গাছ থেকে লাফিয়ে নামার ঘটনা ঘটলেও কৌণিক সংক্ষিপ্ত পথে তা সুন্দর দেখা গেছে। রাস্তা এলটার্ন হওয়ার কারণে সামনের গাড়ি দুটোকেও আর দেখা যাচ্ছে না। টার্গের গাড়ি চোখের আড়াল হবার পর পুলিশের গাড়ি বাঁকে এসে গতি আরও বেশি দ্রুত করবে এবং তাদের দৃষ্টি সামনের দিক নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। এই সুযোগে কি সন্ত্রাসীরা পুলিশের গাড়ির উপর চড়াও হতে চায়? গাড়ি তখন বাঁক পার হতে যাচ্ছিল। ‘স্যার সাবধান। এখানে শত্রু ওঁৎ পেতে থাকতে পারে।’ পেছন থেকে দ্রুত কণ্ঠে বলে উঠল আহমদ মুসা। বিদ্যুৎ স্পৃষ্টের মত চমকে ওঠে পেছনে তাকাল দুজন পুলিশ অফিসার। দুজনের হাতেই উঠে এসেছিল রিভলবার। গাড়ি ড্রাইভকারী পুলিশ অফিসার তার চোখ সামনে ফিরিয়ে নিলেও তার এক হাতে রিভলবার, অন্যহাতে ছিল ষ্টিয়ারিং হুইল। পাশের পুলিশ অফিসারটির রিভলবার আহমদ মুসার দিকে তাক করা। বলল, ‘কে তুমি? গাড়িতে ছিলে তুমি?’ ‘আমি এ গাড়ির যাত্রী। আমি ভাড়া করেছিলাম এ গাড়ি। আপনারা পেছনে তাকাননি, দেখতেও পাননি। সেসব কথা এখন নয়, পরে শুনবেন। আমি বলছি, আপনাদের গাড়ি যে কোন সময় আক্রান্ত হতে পারে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘তুমি কি করে জানলে?’ বলল পুলিশ অফিসারটি। তার চোখে সন্দেহের ছায়া। গাড়ি তখন এল টার্নটি পার হয়ে এসেছে। আহমদ মুসা জবাব দিতে শুরু করেছিল। কিন্তু কিছুই শোনা গেল না। গাড়ি দুদিক থেকে আসা ব্রাস ফায়ারের শব্দে ডুবে গিয়েছিল, সেই সাথে থেমেও গিয়েছিল আহমদ মুসার কণ্ঠ। অকস্মাৎ গুলীবর্ষণের মধ্যে পড়ে দুই পুলিশ অফিসারসহ আহমদ মুসা গাড়ির মেঝেয় শুয়ে পড়ল। পেছনের চাকায় গুলী খেয়ে গাড়িও দাঁড়িয়ে পড়েছে। গুলী বৃষ্টিতে আকস্মিক ছেদ পড়ায় আহমদ মুসা ও পুলিশ অফিসার দুজন মাথা তুলছিল। সেই সময়ই গাড়ির দুপাশের সবগুলো জানালা সশব্দে ভেঙে পড়ল। জানালা দিয়ে প্রবেশ করল ষ্টেনগানের চারটি ব্যারেল। চারটি মুখ উঁকি দিল তার সাথে। কালো হ্যাটধারী একজন বলল, ‘আল্লাহর শত্রুরা তোরা বেঁচে আছিল তাহলে? ভাল হলো। তোদের জীবিতই দরকার বেশি। তোদের কাছে আমাদের এক শতেরও বেশি মুজাহিদ বন্দী আছে। তোদের বিনিময়ে ওদের ছাড়িয়ে নেয়া যাবে।’ তার কথার মধ্যেই সবগুলো দরজার ছিটকিনি খুলে দেয়া হলো। টেনে খুলে ফেলল তারা দরজা। তারা টেনে বের করল দুজন পুলিশ অফিসার ও আহমদ মুসাকে। দুজন পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে রিভলবার তারা আগেই কেড়ে নিয়েছিল। আহমদ মুসাদের গাড়ি থেকে বের করেই পুলিশের গাড়ি ওরা রাস্তা থেকে উত্তর দিকের জংগলাকীর্ণ খাদের দিকে ঠেলে দিল। সংগে সংগেই দক্ষিণ দিকে জংগল ফুঁড়ে তিনটি গাড়ি বেরিয়ে আসতে দেখল। ওরা মোট আটজন। সবার হাতেই ছোট বাঁটের ছোট ব্যারেলের কারবাইন জাতীয় ষ্টেনগান। ওদের কারবাইনগুলো তাক করা দুজন পুলিশ অফিসারসহ আহমদ মুসার দিকে। হ্যাটপরা লোকটিই তাদের নেতা। সে তার রিভলবারের নল সিনিয়র পুলিশ অফিসারটির থুতনির নিচে ঠেকিয়ে বলল, ‘বড়শীতে এতবড় মাছ উঠবে ভাবিনি। একেবারে থাই গোয়েন্দা পুলিশের দ্বিতীয় ব্যক্তি। সেই সাথে সিটি পুলিশের কমিশনার!’ আর সন্দেহ নেই আমাদের সব পাত্তানীকে এবার ছাড়িয়ে নিতে পারব।’ আর এই ছেলেটি কে? দেখতে খুব ভদ্র মনে হচ্ছে, কিন্তু শরীরটা দেখছি সৈনিকের। সেনা বাহিনীর লোক নয়তো?’ আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে শেষ কথা কয়টি বলল হ্যাটধারী লোকটি। তার কথা শেষ হতেই আহমদ মুসা বলে উঠল, ‘আমি এই ট্যাক্সি ক্যাবের যাত্রী। ওঁদের গাড়ি নষ্ট হবার পর ওঁরা আমাদের ক্যাবটি দখল করেছেন।’ ‘ভাগ্য যখন তোমাকে আমাদের হাতে এনে দিয়েছে, তখন ধরে নাও তোমাদের ভাগ্যের এখানেই শেষ। আমরা একটা প্রিন্সিপাল মেনে চলি। সেটা হলো, বন্ধু যারা নয়, তারা সবাই আমাদের শত্রু। আর শত্রুকে জীবন্ত আমরা ছাড়ি না।’ বলল লোকটি। ‘বুঝলাম আমি বাঁচবো না। কিন্তু পুলিশ অফিসার দুজনকে তো বন্দীরা মুক্ত হবার পর ছাড়বেন বললেন।’ আহমদ মুসা বলল। জোরে হেসে উঠল হ্যাটধারী লোকটি। বলল, ‘আল্লাহর শত্রুদের দেয়া ওয়াদার মূল্য নেই। আমাদের লক্ষ্য কাজ উদ্ধার।’ আহমদ মুসার থেকে মাত্র এক মিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ষ্টেনগানধারীর ষ্টেনগানের কালো বাঁটে সাদা রংয়ে উৎকীর্ণ হিব্রু লেখা শুরুতেই চোখে পড়েছিল। তারপর যে লোকটি কথা বলছিল তার কালো হ্যাটে কালো রংয়ের একটা হিব্রু বর্ণ দেখা যাচ্ছে। বর্ণটায় হিব্রু ঈশ্বর শব্দের আদ্যাক্ষর। এই ছোট্ট দুটি দৃশ্য অনেক বড় কথা বলে দিল আহমদ মুসাকে। লেটেষ্ট ইসরাইলী অস্ত্রে সজ্জিত এই সন্ত্রাসীরা তাহলে কারা? এদের মুখে আল্লাহর নাম কেন? পাত্তানীদের মুক্ত করার কথা এরা বলছে কেন? পাত্তানীদের সাথে ব্যাংককের ইসরাইলী অস্ত্রধারী ও ইসরাইলী ক্যাপ পরা এই সন্ত্রাসীদের সম্পর্ক কি? এসব চিন্তায় যখন আহমদ মুসা হাবুডুবু খাচ্ছে, তিনটি গাড়ি এসে তখন পশ্চিমমুখী হয়ে ষ্টার্টের পজিশন নিয়ে দাঁড়াল এবং গাড়ি থেকে তিনজন বেরিয়ে এসে অন্যদের পাশে এসে দাঁড়াল। আহমদ মুসার ডান পাশে দুজন পুলিশ অফিসার। আর সামনে ওরা সারি বেধে দাঁড়িয়ে। হ্যাটধারী মাঝখানে পায়চারী করছে আর কথা বলছে। আহমদ মুসার বাঁ দিকে গজখানেক দূরে দাঁড়িয়েছিল যে ষ্টেনগানধারী সে তার ষ্টেনগানের ব্যারেল আহমদ মুসার দিক থেকে নামিয়ে ষ্টেনগানটি ডান হাতের কব্জিতে ঝুলিয়ে নিল। পকেট থেকে বের করল প্লাষ্টিকের সরু রশি। এগোলো পুলিশের দু’জন অফিসারের দিকে। প্রথমে পিছমোড়া করে বাঁধল পুলিশ কমিশনারকে। তারপর ঐভাবেই পিছমোড়া করে বাঁধতে লাগল সহকারী গোয়েন্দা প্রধানকে। সহকারী গোয়েন্দা প্রধান বলল, ‘তোমরা যাই কর। তোমাদের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। বন্দীদের তোমরা পাবে না।’ ‘না পেলেও চলবে। পাত্তানীর ইসলামী বিপ্লবীরা পুলিশের দু’জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে শেষ করেছে এটা কম বড় পাওয়া নয়।’ ঠান্ডা গলায় হাসতে হাসতে বলল হ্যাটধারী লোকটি। শিউরে উঠল আহমদ মুসা লোকটির কথা শুনে। এরা হত্যা করে সেটা চালিয়ে দেবে ইসলামী বিপ্লবীদের নামে! কারা এরা? যয়নব যোবায়দা কথিত এরাই কি সেই তৃতীয় শক্তি? সহকারী গোয়েন্দা প্রধানকে বাঁধা হয়ে গেছে। এবার এগিয়ে আসছে লোকটি আহমদ মুসার দিকে। তার হাতের কব্জীতে ঝুলছে বেঁটে-খাটো ভয়ংকর ষ্টেনগানটি। প্লাষ্টিকের বাঁটটি দুহাতে ধরে সে এগুচ্ছে। তার মুখে এক টুকরো বিজয়ীর হাসি। আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়াল। যেন সে লোকটির মুখোমুখি হচ্ছে। আসলে আহমদ মুসা চাইল, লোকটি যেন তার ডানদিক দিয়ে পিছনে না গিয়ে তার সামনে দিয়ে তার বাম দিক ঘুরে পেছনে যায়। তাই হলো। লোকটি আহমদ মুসার সম্মুখ ঘুরে পেছনে যাচ্ছিল। আহমদ মুসা এই সময়টারই অপেক্ষা করছিল। প্রতিটি স্নায়ুতন্ত্রী, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শক্ত হয়েছিল, ঠিক নেকড়ের শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পূর্বক্ষণের মত। লোকটি আহমদ মুসার বুক বরাবর আসতেই আহমদ মুসা দুই ধাপ এগুনোর সাথে সাথেই তার বাম হাত বিদ্যুৎ বেগে এগিয়ে সাপের মত পেঁচিয়ে ধরল তার গলা। সেই তাকে এক ঝটকায় ঘুরিয়ে নিয়ে লোকটির পিঠকে সেঁটে ধরল বুকের সাথে। সেই সময় আহমদ মুসার ডান হাত লোকটির হাত থেকে ষ্টেনগান কেড়ে নিয়েই গুলী করেছে হ্যাটধারীকে। তারপর লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকাদের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে নিল ভয়ংকর মিনি ষ্টেনগানটিকে। ওরাও মরিয়া হয়ে গুলী করেছিল আহমদ মুসাকে। তাদের সবগুলো গুলী গিয়ে বিদ্ধ করেছিল তাদের সাথী লোকটিকে। শুধু একটি মাত্র গুলী গিয়ে বিদ্ধ করল আহমদ মুসার ডান হাতকে কনুইয়ের নিচে। গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর মুহূর্তের জন্যে ছেদ নেমেছিল আহমদ মুসার গুলীতে। কিন্তু আহমদ মুসা বুকে ধরা লোকটিকে ছেড়ে দিয়ে শুয়ে পড়ে দুহাত দিয়ে ষ্টেনগান ধরে গুরী করা সম্পূর্ণ করেছিল, যাতে গুলী করার মত কেউ ওদের মধ্যে আর না থাকে। দুজন পুলিশ অফিসারের চোখ বিস্ময়ে ছানাবড়া। যেন সিনেমার কোন পরিকল্পিত দৃশ্য দেখছে তারা। কিন্তু সিনেমা এটা নয়। সন্ত্রাসীদের ১১টি লাশ তাদের সামনে পড়ে আছে। তাদের সাথের নায়ক যাত্রী যুবকটিও আহত। শিঘ্রই ওদের মুখ থেকে বিস্ময়ের ধাক্কা কেটে গেল। চোখে-মুখে ফুটে উঠল আনন্দ। ওরা আহমদ মুসার দিকে তাকাল এবং এগিয়ে এল তার দিকে। আহমদ মুসাও উঠে দাঁড়িয়েছে। ‘ওয়ান্ডারফুল ইয়ংম্যান। তুমি কল্পনাকেও হার মানিয়েছ। আমার গোটা চাকরি জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা তুমি আজ ঘটিয়েছ। কনগ্রাচুলেশনস।’ বলল সহকারী গোয়েন্দা প্রধান অফিসারটি। ‘স্যার আমি আপনাদের হাতের বাঁধন খুলে দিচ্ছি।’ বলে আহমদ মুসা সহকারী গোয়েন্দা প্রধানের হাতের বাঁধন খুলে দিল। বাঁধন মুক্ত হয়েই জড়িয়ে ধরল সে আহমদ মুসাকে। আহমদ মুসাকে আবার ধন্যবাদ দিয়ে সহকারী গোয়েন্দা প্রধান বলল, তুমি আহত ইয়ংম্যান, অফিসারকে আমি খুলে দিচ্ছি। সিটি পুলিশ কমিশনার বাঁধন থেকে মুক্ত হয়েই ছুটে গেল আহমদ মুসার কাছে। পকেট থেকে বের করল পকেট ফাষ্ট এইড। ইনভেলাপ ছিঁড়ে বের করল এ্যান্টিসেপটিক মেডিকেটেড প্যাডযুক্ত ব্যান্ডেজ। আহমদ মুসার ডান হাতের আস্তিন সরিয়ে ব্যান্ডেজের একাংশ ছিঁড়ে আহত স্থানে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিতে দিতে বলল, ‘ধন্যবাদ ইয়ংম্যান। তোমাকে মনে হচ্ছে রূপকথার রাজপুত্র। আর রাজপুত্রকে মনে হচ্ছে অতি অভিজ্ঞ একজন শিকারী। এই অপারেশনে তুমি একটিও ভুল করনি। কে তুমি জানতে পারি?’ ‘অফিসার এসব কথা এখন থাক। বেশ কিছু করণীয় আছে আমাদের এখন।’ বলল সহকারী গোয়েন্দা প্রধান সিটি পুলিশ কমিশনারকে লক্ষ্য করে। ‘ঠিক বলেছেন স্যার। যে গাড়িকে আপনারা অনুসরণ করছিলেন, তা এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আপনারা সামনের নাখো শহরের পুলিশকে গাড়ি দুটোকে আটকাতে বলতে পারেন।’ বলল আহমদ মুসা। ‘কিন্তু গাড়ির নাম্বার না হলে.......।’ সহকারী গোয়েন্দা প্রধানের কথার মাঝখানেই আহমদ মুসা বলে উঠল, ‘পেছনের গাড়িটার নম্বর আমি দেখেছি স্যার। তাছাড়া গাড়ির বিবরণ দিলেও কাজ হবে।’ ‘নাম্বার তোমার মুখস্ত আছে?’ সহকারী গোয়েন্দা প্রধান বলল। তার চোখে-মুখে বিস্ময়। আহমদ মুসা নাম্বার বলল। চোখ কপালে তুলেছে সিটি পুলিশ কমিশনার। বলল, ‘আমিও কয়েক ঝলক নাম্বার দেখেছি। কিন্তু মুখস্ত করিনি। মুখস্তের কথা মনেও হয়নি।’ সহকারী গোয়েন্দা প্রধান নাখো শহরের পুলিশের সাথে কথা বলছিল। পলাতক গাড়ির নাম্বার ওদেরকে দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিল। টেলিফোন শেষ করেই সহকারী গোয়েন্দা প্রধান সিটি পুলিশ কমিশনারকে লক্ষ্য করে বলল, ‘তুমি পুলিশকে আসতে বল লাশগুলো নিয়ে যেতে হবে। ততক্ষণে এসো আমরা ওদের বডি চেক করি।’ লাশগুলোর বডি চেকিং-এর কাজে আহমদ মুসাও শরীক হলো। হ্যাটওয়ালা নেতা লোকটির লাশ আহমদ মুসার সামনেই ছিল। আহমদ মুসা তাকে দিয়েই শুরু করল। তার গোটা দেহ সার্চ করে একটা মানিব্যাগ ও একটা মোবাইল ছাড়া কিছুই পেল না। মোবাইলের ফোন বুক ও সিমকার্ডে প্রচুর নাম ও টেলিফোন নাম্বার দেখল। সবগুলোই প্রায় মুসলিম নাম। ওনারস শিরোনামে নাম ‘ডি, দারায়ুস’। আর মানি ব্যাগে টাকা ছাড়া দেখল টোল ট্যাক্স ও লন্ড্রির স্লীপ। টোল ট্যাক্স ও লন্ড্রীর স্লীপ হাতে রেখে আহমদ মুসা মোবাইল ও মানিব্যাগ সহকারী গোয়েন্দা প্রধানের হাতে দিয়ে বলল, ‘স্যার যে মোবাইলগুলো পাওয়া যাবে তাতে পাওয়া টেলিফোন নাম্বারের একটা তালিকা হওয়া দরকার।’ ‘অবশ্যই ইয়ংম্যান। মনে করিয়ে দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ। কিন্তু মোবাইল ও মানিব্যাগ লাশের পকেটেই থাক আপাতত। লাশগুলোর আইডেনটিফিকেশনের সময় ওগুলোর প্রয়োজন হবে।’ ‘ঠিক স্যার।’ বলে আহমদ মুসা একটু থেমেই আবার বলা শুরু করল, ‘খাদে পড়ে যাওয়া ট্যাক্সি ক্যাবে যেতে চাই। আমার ব্যাগ ওখানে আছে। তাছাড়া গাড়ির কন্ডিশনটাও দেখে আসতে চাই। গাড়িটা বেচারা ট্যাক্সি-ক্যাব মালিকের ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কেনা।’ সহকারী গোয়েন্দা প্রধান আহমদ মুসার মুখের দিকে তাকিয়েছিল। মুখটা তার প্রসন্ন হয়ে উঠেছিল। বলল, ‘ধন্যবাদ ইয়ংম্যান। তোমার মনটা দেখছি খুবই সংবেদনশীল। চিন্তা করো না, আমাদের রেসকিউ টীম গাড়িটা ওখান থেকে উদ্ধার করবে। আর ট্যাক্সি-ক্যাব মালিককে নতুন গাড়ির দাম আমরা দিয়ে দেব।’ ‘ধন্যবাদ স্যার, গাড়ি থেকে ড্রাইভারের কাগজপত্রও নিয়ে আসবো।’ বলে আহমদ মুসা খাদের দিকে এগোলো। আর সহকারী গোয়েন্দা প্রধান লাশগুলোর বডিসার্চ করার কাজ শেষ করতে মনোযোগ দিল। পাশেই বডি সার্চরত সিটি পুলিশ কমিশনার সহকারী গোয়েন্দা প্রধানকে লক্ষ্য করে বলল, ‘স্যার ছেলেটাকে আমি বুঝতে পারছি না। দেখতে একেবারে সরল-স্বচ্ছ, আবার বুদ্ধি গোয়েন্দাদের মত। কমান্ডোদের মত ক্ষীপ্র, লড়াকু। আবার সৎ মানুষের মত দায়িত্বশীল। আশ্চর্যের বিষয়, ট্যাক্সি ক্যাবের সে আরোহী মাত্র ছিল। ট্যাক্সি-ক্যাব মালিকের ক্ষতির কথা তার মনে এল কি করে! বিষয়টা আমাদের ভাবার কথা!’ ‘আমিও তোমার মত আশ্চর্যান্বিত থানি। তোমার মত আমিও ভাবছি। সে কোন গোয়েন্দা হতে পারে। কমান্ডো বা সৈনিকও হতে পারে কোন দেশের। অথবা সুশিক্ষেত, প্রশিক্ষিত একজন সিভিলিয়ানও হতে পারে। তবে সে ক্রিমিনাল নয় এটা মনে করি।’ বলল সহকারী গোয়েন্দা প্রধান। সিটি পুলিশ কমিশনারের নাম উদয় থানি। আর ‘পুরসাত প্রজাদীপক’ হলো সহকারী গোয়েন্দা প্রধানের নাম। সহকারী গোয়েন্দা প্রধানের কথা শেষ হতেই সিটি পুলিশ কমিশনার উদন থানি বলল, ‘স্যার আমারও তাকে ক্রিমিনাল মনে হয়নি। ট্যাক্সি ক্যাব মালিকের প্রতি তার সহানুভূতিও তাকে ক্রিমিনাল সাইকোলজি থেকে বহুদূর নিয়ে গেছে।’ ‘ঠিক আছে, সবই জানা যাবে থানি। সেতো আমাদের সাথে আছে। গুলীটা তার হাতে খুব ডীপ হয়ে বসেছে অপারেশন দরকার হবে। পুলিশ হাসপাতালেই তাকে আমরা নেব।’ বলল সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপক। লাশগুলোর বডি সার্চ শেষ হয়েছে। আহমদ মুসা এল। ‘তোমার ব্যাগের কোন ক্ষতি হয়নি তো?’ আহমদ মুসাকে দেখেই বলে উঠল সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপক। ‘তেমন ক্ষতি হয়নি স্যার। তবে গাড়িটার বডি আস্ত নেই।’ কথা শেষ করে আহমদ মুসা হাতের এক গুচ্ছ কাগজ সহকারী গোয়েন্দা প্রধানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘এসব ক্যাব-ড্রাইভারের কাগজপত্র।’ ‘তার কাগজপত্র তুমিই রাখ। তার সাথে যোগাযোগে তুমি সাহায্য করলে ভাল হবে।’ বলল সহকারী গোয়েন্দা প্রধান। পুলিশের গাড়ির একটা বহর পৌছল সহকারী সিটি পুলিশ কমিশনার ও ব্যাংকক পশ্চিম জোনের এসপি’র নেতৃত্বে। সহকারী গোয়েন্দা প্রধান ও সিটি পুলিশ কমিশনার ওদের সব বুঝিয়ে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে আহমদ মুসাকে নিয়ে তারা একটি গাড়িতে উঠে বসল। পুলিশ ড্রাইভার ষ্টার্ট দিল গাড়ি। ছুঠল গাড়ি ব্যাংককের উদ্দেশ্যে। সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপক আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘ইয়ংম্যান, আমরা অনেক ঘটনা ঘটালাম, কিন্তু আমাদের পরিচয় এখনো হয়নি, পরষ্পরের নামও আমরা জানি না। তাছাড়া কথাও নিশ্চয় অনেক আছে। এসো আমরা সময়টা কাজে লাগাই।’ আহমদ মুসা খুশি হলো। কথা শুরু হলো। সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপকের বিশাল ড্রইংরুম। একটা সোফায় আহমদ মুসা বসে আছে। আহমদ মুসা এখন সুস্থ। হাতের আহত স্থানটা সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে, আহমদ মুসা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর একটা হোটেলে উঠেছে। হোটেল ঠিক করে দিয়েছে সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপক নিজেই। হোটেলটা পুরসাত প্রজাদীপকের বাড়ির কাছেই। পুরসাত প্রজাদীপকের বাড়ি শহরের ভিআইপি অফিসারদের রেসিডেন্সিয়ার এরিয়ার এক প্রান্তে। তার বাড়ির পরেই শহরের অভিজাত কমার্শিয়াল এলাকা। কমার্শিয়াল এলাকার শুরুতেই ব্যস্ত এভিনিউয়ের পাশে আহমদ মুসার অভিজাত হোটেলটি। আহমদ মুসাকে বসিয়ে ‘স্যার চা নিয়ে আসি’ বলে বেরিয়ে গেছে বেয়ারা। আহমদ মুসা হাত ঘড়ির দিকে তাকাল। বেলা ১২টা বাজতে যাচ্ছে। মিনিট পনের দেরী। ১২টায় আসার কথা বলেছেন পুরসাত প্রজাদীপক। তিনি অফিস থেকে আসবেন। খাবেনও আহমদ মুসাকে সাথে নিয়ে। আহমদ মুসা যোহরের নামায আগাম পড়ে বের হয়েছে। বিভেন বার্গম্যানের পরিচয় আহমদ মুসা এদের দিয়েছে। কিন্তু আহমদ মুসার পরিচয় এখনও এরা জানে না। আহমদ মুসা ব্যাংকক আসার আগে আন্দামানে ছিল এটাও এরা জেনে গেছে। ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের শুধু কয়েকজন আহমদ মুসার পরিচয় জানে বলে এ পরিচয় এদের কাছে প্রকাশ পায়নি। ব্যাংককের মার্কিন দূতাবাসও আহমদ মুসার ব্যাপারে থাই সরকারকে অবহিত করেছে। আহমদ মুসা বেশ খাতির পাচ্ছে এ সরকারের কাছ থেকে। বিশেষ করে সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপক আহমদ মুসাকে খুবই স্নেহ করে এবং সিটি পুলিশ কমিশনার উদন থানির কারণে পুলিশেরও দারুণ আনুকুল্য পাচ্ছে আহমদ মুসা। ঝুমুরের মিষ্টি পাতলা শব্দে মুখ তুলল আহমদ মুসা। দেখল ভেতর থেকে ড্রইংরুমে প্রবেশ করছে সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপকের মেয়ে সিরিত থানারতা। বিশ একুশ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী। পরনে ব্লাউজ ও স্কার্ট। পায়ে দুই ফিতার হাই হিল স্যান্ডেল। দুধে আলতা পায়ের সাথে মানানসই সোনার সোনালী ঝুমুর। হাঁটার তালে তালে পাতলা মিষ্টি শব্দ হচ্ছে। মেয়েটা এসে আহমদ মুসার পাশের সোফায় বসতে বসতে বলল, ‘স্যার, ভূজ বাহাদুর আপনাকে এভাবে একা ফেলে গিয়ে চা বানাচ্ছে এটা ঠিক করেনি।’ ‘না, আমিই ঠিক করিনি। আমি পনের মিনিট আগে এসে গেছি। তোমার আববার সাথে আমার এ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল ১২টায়।’ ‘না ঠিক করেছেন স্যার। যা ঘটার ছিল সেটাই ঘটেছে। আমারও কথা বলার সুযোগ হলো আপনার সাথে।’ কথায় ছেদ এনে মুহূর্তকাল থেমেই মেয়েটি আবার বলে উঠল, ‘আপনি সেদিন সাংঘাতিক কাজ করেছেন স্যার। আববা বলেন, তারা যা করতে সাহস করেনি, তাই আপনি করেছেন। আববা আরও কি বলেন জানেন, জীবনের মায়া যাদের আছে, তারা এমন কাজ করতে কখনই এগোয় না। জীবনের মায়া আপনার নেই?’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘জীবনের প্রতি মায়া থাকলেই কি কেউ মৃত্যু এড়াতে পারে?’ ‘পারে না। কিন্তু আমি তা বলছি না। আমি বলছি, মৃত্যুকে আলিংগণ করতে যাওয়ার কথা। মৃত্যু ভয় যার মধ্যে আছে, সে এটা পারে না।’ বলল সিরিত থানারতা। ‘আসলে সেদিন আমি মৃত্যুকে আলিংগণ করতে যাইনি। বরং মৃত্যুর হাত থেকে নিজে বাঁচা এবং দুজন শীর্ষ পুলিশ অফিসারকে বাঁচাবার জন্যেই আমি ওটা করেছিলাম।’ আহমদ মুসা বলল। ‘বুঝলাম না।’ বলল মেয়েটি। ‘কথায় কথায় সন্ত্রাসীরা এ কথা বলেছিল যে, যারাই তাদের হাতে ধরা পড়ে, তাদের আর তারা জীবন্ত ছাড়ে না। প্রয়োজনীয় কথা আদায় করা, কিংবা তাদের কাজে লাগিয়ে পরে তাদের তারা হত্যা করে ফেলে। তাদের হাতে বন্দী হওয়ার অর্থ মৃত্যুকে আলিংগন করে নেয়া। সুতরাং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মৃত্যুকে আলিংগন করার আগে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা আমার সফল হয়। ওরাই মৃত্যুকে আলিংগণ করে।’ মেয়েটির চোখে মুগ্ধ দৃষ্টি। বলল, ‘আতংকের কথাকে আপনি সুন্দর সাহিত্যের ভাষায় বলেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।’ থামল মেয়েটি। তার মুখ গম্ভীর হয়ে ওঠল। বলল আবার, ‘স্যার, আবার আববার কথায় ফিরে আসি। আববা বলেছেন যে, তাঁদের মত পুলিশেরা যা পারেনি, আপনি তাই পেরেছেন। তার অর্থ কার্যত আপনি আমাদের পুলিশদের চেয়েও বড়। তাহলে আপনি কে, এ প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই ওঠে। আববা বলেছেন, আপনি ‘বিভেন বার্গম্যান’। আমেরিকার নাগরিক। ‘সাকোথাই’ রাজবংশের পাত্তানী শাখার একজন শাহজাদীর আবেদনে আপনি তাদের সাহায্য করতে এসেছেন। কিন্তু এটা আপনার পরিচয় নয়। আসলে আপনি কে?’ আহমদ মুসার মুখে হঠাৎ গাম্ভীর্য নেমে এল। কিছুটা বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে তার মনে। বলল সে, ‘মিস সিরিত। তোমার পিতাও আমার পরিচয় এভাবে জিজ্ঞাসা করেনি। তুমি এতটা আগ্রহী কেন?’ ‘ধারালো ও বিস্ময়কর কাজ দেখে তার কথার ওজন পরিমাপ করা যায় না। তার পরিচয়ের সাথে তার কথার ওজন পরিমাপ করা যায়। আমি আপনার পরিচয় জেনে আপনার কথা সম্পর্কে চিন্তা করতে চাই।’ বলল সিরিত থানারতা। ‘আমার কোন কথা সম্পর্কে ভাবতে চাও?’ আহমদ মুসা বলল। ‘পাত্তানী শাহজাদা জাবের বাংগসা জহীর উদ্দিনকে তার সাথীরাই মুক্ত করে নিয়ে গেছে। কিন্তু আপনি বলেছেন যে, তৃতীয় একটা সন্ত্রাসী পক্ষ ধরে নিয়ে গেছে। আপনার কথা সত্য নয়, এটাই আমি ভাবতে চাই।’ বলল সিরিত থানারতা। গম্ভীর এবং সিরিয়াস কণ্ঠ সিরিত থানারতার। তার কণ্ঠে বিস্মিত হলো আহমদ মুসা। বলল, ‘দুই ধারণার মধ্যে একটা সত্য, একটা মিথ্যা হতেই পারে। কিন্তু তুমি এত সিরিয়াস কেন? তুমি এ নিয়ে এত ভাবছই বা কেন?’ ‘আমি চাই, তার সাথীরা তাকে মুক্ত করে নিয়ে গেছে। কিন্তু আপনি অন্যরকম বলছেন। শুনতে কষ্ট লাগছে আমার।’ বলল সিরিত থানারতা। তার কণ্ঠ এবার নরম, বিনীত। আহমদ মুসা গভীর দৃষ্টিতে তাকাল সিরিত থানারতার দিকে। তার মনে জিজ্ঞাসা, জাবের জহীর উদ্দিনের সাথে সিরিতের সম্পর্ক আছে? জাবের জহীর উদ্দিন ব্যাংককের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। তাদের মধ্যে পরিচয় হয়ত কোনওভাবে থাকতে পারে। কিন্তু নিছক পরিচয় কি জাবের জহীর উদ্দিনের নিরাপত্তা সম্পর্কে তাকে এতটা উতলা করতে পারে! আহমদ মুসা বুঝতে পারছে সিরিত চাচ্ছে জাবের জহীর উদ্দিন সাথীদের দ্বারা মুক্ত হয়ে এখন নিরাপদ। আহমদ মুসার ধারণা তাকে কষ্ট দিচ্ছে, কারণ; আহমদ মুসার কথা সত্য হলে জাবের জহীর উদ্দিন সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দী থাকে। এসব চিন্তা করে বলল আহমদ মুসা, ‘মিস সিরিত, বুঝতে পারছি জাবের জহীর উদ্দিনের মঙ্গল চাও। তাহলে আমার কথায় তোমার কষ্ট না পেয়ে খুশি হওয়া উচিত ছিল।’ চোখ ভরা প্রশ্ন নিয়ে সিরিত থানারতা তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘বুঝলাম না আপনার কথা স্যার।’ ‘জাবের জহীর উদ্দিনকে তার সাথীরা উদ্ধার করে নিয়ে গেছে একথা যদি সত্য হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের যে অভিযোগ এসেছে তাও সত্য প্রমাণ হয়। আর সেদিন ওরা চারজন পুলিশকে হত্যা করে জাবের জহীর উদ্দিনকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। আগের সেনা হত্যার দায়তো আছেই, এই পুলিশ হত্যার দায়ও বর্তাবে জাবের জহীর উদ্দিনের ঘাড়ে। এর অর্থ জাবের জহীর উদ্দিন পুরোপুরি একজন সন্ত্রাসী নেতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু আমি চাচ্ছি জাবের জহীর উদ্দিনকে নির্দোষ প্রমাণ করতে।’ আহমদ মুসা বলল। উদ্বেগ-আতংকে চুপসে গেছে সিরিত থানারতার মুখ। তার চিন্তার ভুল তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। কিন্তু আহমদ মুসা যা বলেছে, তাতে জাবের জহীর উদ্দিন কিভাবে নির্দোষ প্রমাণ হবে এটা সে বুঝতে পারছে না। বলল, ‘নির্দোষ প্রমাণ হবে কিভাবে?’ ‘আমি বলেছি, সন্ত্রাসী একটা তৃতীয় পক্ষ জাবের জহীর উদ্দিনকে বাগে নেবার জন্যে তাকে ছিনতাই করেছে। সন্ত্রাসী এই তৃতীয় পক্ষই পাত্তানী অঞ্চলে সন্ত্রাস করছে। সেনানিবাসে হামলা করছে, সেনা সদস্যদের হত্যা করছে এবং এসবের দায় জাবের জহীর উদ্দিনরাসহ শান্তিকামী মুসলমানদের উপর চাপাচ্ছে তাদের সন্ত্রাসী প্রমাণের উদ্দেশ্যে। জাবের জহীর উদ্দিনকে ওরা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বিশেষ মতলবেই।’ আহমদ মুসা বলল। সিরিত থানারতার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বলল, ‘ধন্যবাদ স্যার, আমি বুঝতে পেরেছি স্যার। কিন্তু আপনার কথা আপনার ধারণা, প্রমাণ হবে কি করে?’ ‘আমি তোমাদের থাই পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগকে এ বিষয়টা বলেছি। জাবের জহীর উদ্দিনের বোন যয়নব যোবায়দার চিঠি আমি তাদের দেখিয়েছি। পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ আমার কথাকে ইতিবাচক হিসাবে নিয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আজ বৈঠক হচ্ছে। দেখা যাক কি হয়।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করুন।’ বলল সিরিত থানারতা। মুহূর্ত কয়েক থেমেই সিরিত থানারতা বলল, ‘আগের প্রশ্নটাই আবার করতে ইচ্ছা করছে, আপনি আসলে কে স্যার? একজন আমেরিকান বিভেন বার্গম্যান কেন এভাবে ছুটে এসেছেন? কেন তিনি এমন আন্তরিকতার সাথে জাবের জহীর উদ্দিনের স্বার্থকে নিজের স্বার্থ হিসাবে গ্রহণ করেছেন?’ ‘আমার যে পরিচয় পেয়েছ, তা কি যথেষ্ট নয় আমার উপর আস্থার রাখার জনে, মিস সিরিত?’ আহমদ মুসা বলল। ‘স্যরি স্যার। আমি সে অর্থে বলিনি। কৌতুহল থেকেই এই প্রশ্ন করেছি। আপনার উপর আস্থার জন্যে আপনার কোন পরিচয়ের দরকার নেই।’ সিরিত থানারতার কথা শেষ হবার সংগে সংগেই গাড়ি বারান্দায় গাড়ি পার্ক করার শব্দ হলো। পরক্ষণেই জুতার শব্দ শোনা গেল। ড্রইংরুমে প্রবেশ করল থাইল্যান্ডের সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপক। ‘গুড মর্নিং বিভেন বার্গম্যান। আমি আসার পথে ভাবছিলাম, নিশ্চয় তুমি এসে বসে আছ। তুমি বরং আগেই আসবে, তোমার লেট হবার কথা নয়। কতক্ষণ এসেছ তুমি?’ ‘১২ মিনিট হলো এসেছি। একটু আগেই আসা হয়ে গেছে।’ ‘ভালো করেছ।’ বলে পুরসাত প্রজাদীপক তাকাল মেয়ে সিরিতের দিকে। বলল, ‘ধন্যবাদ মা, তুমি বিভেনকে সঙ্গ দিয়েছ।’ ‘এটা তো সৌভাগ্যের ব্যাপার ড্যাড। শুধু দুনিয়া নয়, দুনিয়ার বাইরের কথাও তাঁর কাছ থেকে জানা যায়।’ বলল সিরিত থানারতা। উঠে দাঁড়াল সিরিত থানারতা। বলল, ‘ড্যাড তুমি বস। আমি দেখি ভুজ বাহাদুর চা আনতে এত দেরি করছে কেন?’ ভেতরে চলে গেল সিরিত থানারতা। বসল আহমদ মুসার পাশের সোফায় পুরসাত প্রজাদীপক। ‘স্যার আপনি কাপড় ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে আসলে ভাল হতো না?’ আহমদ মুসা বলল। হাসল পুরসাত প্রজাদীপক। বলল, ‘মাঝে মাঝে ইউনিফরম ২৪ ঘণ্টাও গায়ে থাকে। সুতরাং ইউনিফরমে কোন সমস্যা নয়। আর আমি ফ্রেশ আছি। দীর্ঘ মির্টি থেকে বেরিয়ে হাত-মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিয়েছি।’ ‘ওকে স্যার।’ আহমদ মুসা বলল। পুরসাত প্রজাদীপক তাকাল নিজের হাত ঘড়ির দিকে। বলল, ‘আমরা একটার দিকে লাঞ্চ খাব।’ ‘ঠিক আছে স্যার।’ আহমদ মুসা বলল। সোফায় গা এলিয়ে দিল পুরসাত প্রজাদীপক। চোখটাও বন্ধ করল। কিন্তু মুহূর্ত কয়েক পরেই আবার সোজা হয়ে বসল। দুই হাঁটুর উপর দুই কনুই রেখে মুখটা একটু নিচু করল। বলল, ‘স্যরি বিভেন বার্গম্যান, তোমার কথা সরকার গ্রহণ করেননি। কোন তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতির বিষয় কোনদিক দিয়ে কোনভাবেই সামনে আসেনি। জাবের বাংগসা জহীর উদ্দিন যে ঘটনায় যেভাবে গ্রেফতার হয়েছে, যে প্রচন্ড ঝুঁকি নিয়ে তাকে উদ্ধার করা হলো, তাতে মাঝখানে তৃতীয় পক্ষের কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি এবং এর পক্ষে যুক্তিও যথেষ্ট নয়। থাই সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এটাই রায়। স্যরি, বিভেন বার্গম্যান, আমাদের কোন কথা কাজে আসেনি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি; তুমি যা ভেবেছ সেটাই সত্য। এখন কি করা যায় বল?’ ‘ওরা যা চিন্তা করেছেন ওদের জন্যে এটাই স্বাভাবিক। যয়নব যোবায়দার চিঠি, চিঠি পাওয়ার কাহিনী তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। অপরাধীদের একটা আত্মরক্ষার কৌশল একে তাঁরা মনে করতেই পারেন। বিশেষ করে জাবের জহীর উদ্দিনকে মুক্ত করে নিয়ে যাবার সময় রক্তক্ষয়ী ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা তাঁদের পক্ষে গ্রহণ করা কঠিন।’ ধীর কণ্ঠে আহমদ মুসা বলল। ভাবছিল সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপক। আহমদ মুসা কথা শেষ করার পরও কোন কথা সে বলল না। একটু পর সে মাথা তুলল। আবার সোফায় গা এলিয়ে বলল, ‘তুমি খুব বুদ্ধিমান। বিষয়টা তুমি ঠিক বুঝেছ। কিন্তু এখন তাহলে কি করবে বল।’ ‘এখন আমি আমার মত করে এগোব স্যার। আমি যয়নব যোবায়দা ও জাবের জহীর উদ্দিনদের সাহায্য করতে চাই।’ ‘কিন্তু একা কি করবে?’ ‘কি করতে পারব আমি জানি না। কিন্তু আমি মনে করি এই ভাল কাজে ঈশ্বর নিশ্চয় সাহায্য করবেন।’ ‘তোমার বিস্ময়কর দক্ষতা-যোগ্যতার সাথে তোমার বিশ্বাসের এই মিশ্রণ এক বিরাট শক্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এটা অভিজ্ঞতা যে, অনড় বিশ্বাসীরা যদি বুদ্ধি, দক্ষতা ও যোগ্যতার অস্ত্রে সজ্জিত হয়, তাহলে তারা অজেয় হয়ে ওঠে। গত কয়েকদিন ধরে তোমাকে দেখে আমার এই অভিজ্ঞতার কথাই বার বার মনে হয়েছে। আরেকটা কথা বলি বিভেন বার্গম্যান?’ ‘বলুন স্যার।’ সহকারী গোয়েন্দা প্রধান পুরসাত প্রজাদীপক সোজা হয়ে বসল। বলল, ‘বিভেন বার্গম্যান তুমি মুসলিম। তোমার বিভেন বার্গম্যান নামটা ঠিক কিনা জানি না, তবে তুমি আমেরিকান এবং তোমার আমেরিকান ভিআইপি পাসপোর্টে কোন ত্রুটি নেই।’ থামল পুরসাত প্রজাদীপক। আহমদ মুসা ম্লান হাসল। বলল, ‘আপনি অতি অভিজ্ঞ একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ছদ্মবেশ আপনার কাছে ধরা পড়বে এটা স্বাভাবিক। সংগত কারণেই আমাকে পরিচয় গোপন করতে হয়েছে, এটাও আপনি নিশ্চয় বুঝবেন।’ ‘এটা আমার কাছে পরিষ্কার ইয়ংম্যান।’ বলে একটু থেমেই আবার বলা শুরু করল, ‘নিষ্ঠাবান মুসলমানদের জন্যে পরিচয় গোপন করা কঠিন বিভেন বার্গম্যান। তোমার কপালে সিজদার চিহ্নই তোমার পরিচয় বলে দিয়েছে। আমি প্রথমে ওটাকে স্কিনের কোন প্রাকৃতিক স্পট মনে করেছিলাম। পরে বুঝেছি, ওটা প্রাকৃতিক নয় সিজদার দাগ।’ ‘পাসপোর্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হলেন কি করে?’ আহমদ মুসা বলল। ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের গোপন ওয়েব সাইট থেকে আমরা এটা জেনেছি। তাছাড়া ইন্ডিয়ার সিবিআই চীফ আমার বন্ধু। তুমি যেহেতু ইন্ডিয়ায় অনেকদিন ছিলে, তাই তাঁকেও আমি তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি তোমার উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন এবং তিনি একটি মূল্যবান তথ্য দিয়েছেন যে, তুমি মার্কিন প্রেসিডেন্টের খুব প্রিয়ভাজন লোক। ব্যাংককস্থ মার্কিন দূতাবাসের তোমার ব্যাপারে উদ্বিগ্নতা দেখেও আমি এটা বুঝেছি। তবে সিবিআই চীফ যশোবন্ত যশোরাজ তোমার ব্যাপারে একটা রহস্য রেখে দিয়েছেন। শেষ কথা হিসাবে বলেছেন, বিভেন বার্গম্যানের একটা মূল্যবান পরিচয় তোমাকে দিলাম না, সেটার তোমার প্রয়োজন নেই বলে।’ থামল পুরসাত প্রজাদীপক। ‘আমার পরিচয় আপনি যা জানেন, সবাই কি তা জেনেছে?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘আমি এবং আমাদের গোয়েন্দা বিভাগের চীফ ছাড়া আর কেউ জানে না। এটা জানানো হবে না।’ ‘ধন্যবাদ স্যার। বাড়তি ঝামেলা থেকে আমি বাঁচতে পারব।’ পুরসাত প্রজাদীপক একটু হাসল। বলল, ‘বিভেন বার্গম্যান, থাই মুসলমানদের কাছে আমি কিন্তু চরম বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ৫
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ৪
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ৩
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ২
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ১
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ৫ এর বাকি অংশ
→ পাত্তানীর সবুজ অরন্যে চ্যাপ্টার- ৬ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now