বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ এক ঘটকের সাথে দেখা।
ঘটক পানের পিক্ ফেলে আমারে জিগাইলো:
-তুমি মোল্লা বাড়ির পোলা না?
আমি কইলাম:
-হুম।
.
চশমার ফাঁক দিয়ে আমার আপাদমস্তক
পর্যবেক্ষণ করে ঘটক বললো:
-গায়ে গতরে তো বেশ বড় হইছো
মাশাআল্লাহ্! তো বিয়া সাদি করার আগে
পাত্রী দেখার জন্য আমারে খবর দিয়ো। জুটি
মিলায় দিমুনে।
-চাচা আমি বিয়া করার জন্য দুই পায়ে
খাড়া। আপনি পাত্রীর বাড়িতে খোঁজ
লাগান।
.
আমার কথা শুনে ঘটক আমারে জোর করে
মোখলেসের চাস্টলে বসাইলো।
-আসো বাজান চা খাইতে খাইতে কথা বলি।
.
-ঐ মোখলেইসসা! আমার আর বাজানের
লাইগা দুইডা চা দে কড়া লিকারের।
.
চা আসলো।
সুরুত সুরুত শব্দে চায়ের কাপে চুমুক দিতে
দিতে ঘটক আমারে প্রশ্ন করলো।
-তো বাজান তোমার কেমন মাইয়া পছন্দ?
-চাচা মেয়ে তো আমি পছন্দ করেই রাখছি।
আপনি শুধু ঘটকালি করবেন।
-মাইয়ার নাম, মাইয়ার বাপের নাম খুইল্লা
কও দেখি?
-মেয়ের নাম ইভাঙ্কা, বাপের নাম ডোনাল্ড
ট্রাম্প।
.
আমার কথাটা শুনে ঘটকের গলায় চা
আটকাইয়া গেল।
-কি নাম শুনাইলা বাজান!
.
-ঠিক আছে চাচা। এই মেয়ে বাদ দিলাম।
আরেকটা মেয়ের কথা বলি।
-কও বাজান।
-মেয়ের নাম সাশা। বাপের নাম বারাক
ওবামা।
.
ঘটক এবার আমার মুখের দিকে হা করে
তাকিয়ে রইলো।
-সাশা নাকি শশা! এইডা কোন নাম হইলো নি!
বাজান একটু আশেপাশের দুই চার গ্রামের
মাইয়ার নাম কও যাতে আমার চিনতে সুবিধা
হয়।
.
-আচ্ছা চাচা এবার একটা সহজ নাম বলি।
-বইলা ফালাও বাজান।
-মেয়ের নাম হলো সুহানা।
.
ঘটক এবার তার পান খাওয়া দুই পাটির লাল
দাঁতগুলো বেড় করলো।
-এই বার লাইনে আইছে আমার বাজান। উত্তর
পাড়ার কুদ্দুস বেপারির মাইয়া সুহানার কথা
কইতাছো তো। হে..হে.. দেখছো কেমন
কারেন্টের মত ধইরা ফালাইলাম। বিশ বছর এই
লাইনে আছি বাজান। আমারে প্রস্রাবের
ফেনা মনে কইরো না!
-না চাচা। মেয়ের নাম সুহানা এটা ঠিক আছে
কিন্তু মেয়ের বাপের নাম শাহরুখ খান।
.
অমনি ঘটকের মুখ কালো হয়ে গেল।
-ঐ মোখলেইসসা! চায়ে ভিত্রে এতো লিকার
দিছস কিয়ের লাইগা! এতো তিতা লাগে
ক্যা!
.
কথাটা বলেই চায়ের বিল চুকিয়ে ঘটক বগলের
নিচে ছাতা ফেলে পান চিবুতে চিবুতে হনহন
করে হাঁটতে থাকে।
আমি জোরে জোরে তাকে ডাকতে থাকি
কিন্তু সে আর পিছু ফিরে চায় না!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now