বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"""পাগলি বউ"""
লেখক:- রবিনূর রহমান রবিন
।।।
।।
বউ: তোমাকে কখন উঠতে বলেছি।
উঠতেছো না কেন,?
আমি: হুম।।।( ঘুমানোর ভান করে).
বউ: কি হল উঠবা নাকি গরম চায়ের
ভেতর আঙ্গুল চোবাবো?
আমি: দাঁড়াও একটু পরে উঠছি।
:- চুপ।
:- ওমাগো।।।।এটা কি করলা তুমি?
:- যা করেছি বেশ করছি।
:- তোমার মাথায় কি প্রবলেম আছে?
:- (মুখটা কালো করে) নাতো।
:- যাও বলছি,,,, আমার সামনে আর আসবা
না।।।
।
:- তোমার অফিসের সময় হয়ে গেছে?
:- যাইতে বলছি না।।।।( রাগান্বিত কন্ঠ)
:-
।
কিছু না বলে চুপচাপ চলে গেল।
গরম চায়ে সত্যি আমার আঙ্গুলটা
চুবাইছে।।।
তাই রাগটা কন্টোল করতে পারিনি।
এখন নিজেকেই খারাপ লাগছে।
এইভাবে বলা ঠিক হয়নি।।।।
।।।
না গিয়ে দেখি পাগলি টা কি
করছে?
তার আগে পরিচয় টা সেরে ফেলি।।।।।
।।
আমি নূর ইসলাম( ছদ্দ নাম)।
আর যাকে বকা দিলাম।।।।। সে আমার
দুষ্টু বউ সোমা।
।।।
।।।
অনেক হয়েছে গল্প,দেখি আমার বউটা
কি করছে।।।।
কম্বলের ভেতর থেকে উঠলাম।।।।চুপিচুপি
রান্না ঘরে উকি দিলাম।।।।দেখি
মায়ের সাথে রান্না করছে।।।।
এই সেরেছে,মা আছে এখন কি করি?
তাই বাথরুমে চলে গেলাম।।।।
ফ্রেস হয়ে টেবিলে এসে দেখি
খাবার আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে।
তাই গিয়ে খায়তে বসলাম।।।।
মা আছে তবুও ওর দিকে একবার
তাকালাম।।।
ওমা চোখের ভাষা বলছে আজ হবে
তোমার চান্দু।
।
তাই না তাকিয়ে খাওয়াতে মন
দিলাম।
।।।যাক বাবা খাওয়া শেষ।।।কোনো রকম
কিছু করেনি।।।ভাবছিলাম হয়তো
তরকারিতে লবণ বা মরিচ বেশি
দিয়েছে।।।।তা আর হয়নি।।।।সব কিছু
ঠিকঠাকি ছিল।
অফিসের জন্য রেডি হয়লাম।।।।কিন্তু
আমার বউটা একবারো কাছে আসলো
না।।।।
দরজার কাছে গিয়ে মাকে বলে চলে
এলাম।।।
অফিসে এসে কি আর কাজ করতে মন
বসে।।।।
পাগলিটার কথা খুব মনে পড়ছে।।।
একবার ফোনও দিল না।।।।
প্রতিদিন কতোবার ফোন দেয়।
আহারে একটু বেশি রাগ করছে মনে হয়।
।
এসব ভাবছি হঠাৎ পাগলিটার ফোন।।
ফোনটা recive করলাম।।।।
সোমা:- মা কথা বলবে????
বলেই ফোনটা মাকে দিয়ে দিল।।।
মা:- হ্যালো।বাবা শোন।।।
আমি:- হ্যা,মা বল?
:- আমি আর তোর বাবা তোর বড়
বোনের বাসায় যাচ্ছি
।
ওদের বাড়ি থেকে বার বার ফোন
করছে।।।।
:- আচ্ছা যাও।।।আর ভালো ভাবে যেও
:- হুম।।।তুই তাড়াতাড়ি বাসাই চলে
আসিস কেমন।।।বউমা একা বেশিক্ষণ
থাকতে পারবে না?
:- ওকে।
।।
।
বিকেল ৫টা।।।অফিস থেকে বের
হলাম।।।।
হঠাৎ আমার কাছের বন্ধু শুভ- এর সাথে
দেখা হয়ে গেল।
বন্ধুকে পেয়ে ভুলেই গেছি যে বাসাই
যায়তে হবে।।।
হাজার হলেও বন্ধু,তার পরে আবার
অনেকদিন পরে দেখা।।।।
গল্প করতে করতে কখন ৭টা বেজে
গেছে বুঝতেই পারিনি।।।।
হয়তো শীতের রাত বলে একটু ঠান্ডা
লাগাই বুঝতে পেরেছি।
বন্ধুর কাছে থেকে বিদায় নিলাম।।।।
উদ্দেশ্য বাসা।।।।
।
বাসায় আসার সময় মনে পড়ল আজতো মা
আমাকে তাড়াতাড়ি আসতে
বলেছিল।।।
আমার পাগলি বউটা তো একাই আছে।
না জানি কি করছে।।।।।আর আমার যে
কি হবে আজকে।।।।
এসব ভাবতে ভাবতে বাসার গেটে
চলে আসলাম।।।।।।।
কলিংবেলে চাপ দিলাম।।।।
আবার দিলাম।
আবার দিলাম।
কি বেপার ঘুমায় গেল নাকি।।।।
নাতো ও কেন এই সময় ঘমাবে।।।
১৫মিনিট হয়ে গেল।।।না তবুও দরজা
খুলছে না।।।।তাই দরজা ধাক্কাইতে
লাগলাম।।:
কিন্তু ওপার থেকে বউ বলছে।।।
বউ: যতই ধাক্কা দাও লাভ হবে না।।।।
আমি :- কেন?
:- আমি খুলবো না তাই।
:- কি হয়েছে জানু। খুলবা না কেন?
:- এটা তোমার শাস্তি।
:- কিসের শাস্তি গো?
:- আবার আদর করে জানু,গো ডাকা
হচ্ছে?
:- তাহলে কি বলে ডাকবো?
:- যতই ভালোবাসা দেখাও,কোনো
লাভ নাই।আমি খুলবো না।
:- জানু প্লিজ।
:- সকালে বকা দেয়ার সময় মনে
ছিলনা?
:- সকালে কই বকা দিলাম।
:- ভাবছিলাম খুলবো।।।।কিন্তু মিথ্যা
বলার জন্য আর খুলবোই না।।।
।
:না সোনা ওমন বলে না।।।খুলে দাও।।।
আর কখনো বকা দেবো না প্রমিস।
:- না পারবো না।
:- চুপ।
।।
প্রচন্ড ঠান্ডা লাগছে।।।।কি করি এখন।।।
হঠাৎ মাথায় একটা আইডিয়া এল।।।।
দেখি এটাতে কাজ হয় কিনা।।।
।।।
আমি:- তুমি থাকো? আমি চলে
যাচ্ছি।।।যতদিন মা- বাবা আসবে না
আমিও আসবো না।।।
:- যাও ধরে রেখেছি নাকি।
:- ওকে।
বলে কিছুক্ষণ দাড়াই থাকলাম।।।
দেখলাম ও দরজা খুলে ছে।
আমাকে দেখেই আমাকে জড়িয়ে
ধরেই কান্না শুরু করে দিল।।।।
বউ:- আমাকে একা রেখে কোথাই
যাচ্ছো তুমি?
আমি:- কোথাও না।।।
:- কি বললা তুমি?
:- না এমনি মানে,,,এই রাতে আবার
কোথাই যাবো?
দরজা খুলছিলেনা তাই ঐটা বললাম।
।।
বউ সাথে সাথে রাগে মুখটা লাল
করে ফেললো।
।।।
তারপর একটা কিস কর চলে গেল।আসলে
মেয়েদের যে কি দিয়ে বানাইছে।।।
কখন তাদের কি হয় বলা যায় না।
।।
একটু পরে,,,,,,
এই যে ফ্রেস হয়ে আসো?
:- হুম যাচ্ছি।।।।
ফ্রেশ হৃয়ে এসে দেখি ও টিভি
দেখছে।।।।
একটা কথা বলা ভাল,বউটা আমার অন্য
মেয়েদের মতো স্টার জলসা দেখার
পাগলি না।।।।
স্টার জলসার নামও শুনতে পারে না।।।
এইরকম বউ না হলে চলে বলেন।।।।
টিভি দেখতে দেখতে ৯টা বেজে
গেছে।।।।
।।।
বউ:হঠাৎ বউ বল আমি যদি এখন কিছু চায়
দিবা আমায়।
আমি:আচ্ছা বল আগে?
:-না আগে বল দিবা?
:-আচ্ছা দেব।
:- তুমি যখন অফিস থেকে আসলা তখন
দেখলাম আকাশে সুন্দর চাঁদ উঠেছে।
:- তো এখন আমি কি করব।
আকাশের চাঁদ এনে দেব।
পারব না।।।।শুধু আমি না কেউই পারবে
না।
:- না মানে আমি চাঁ চায়না।।।।
চাঁদটা দেখতে চায়।।।
:- ও।
:- চলো না ছাদে যায়।
:- না।।।বাহি রে প্রচন্ড ঠান্ডা।।।এখন
ছাদে যাওয়া যাবে না।।
তোমার ঠান্ডা লাগবে না।।।চলো না
প্লিজ।
:- উহু যাওয়া যাবে না।।।।
:- ( গাল ফুলিয়ে বসে আছে।।।)
:- (কি আর করব।।।এমনি সকালে একবার
রাগ করেছিল।।।এখন আবার মন খারাপ
করে বসে আছে।।।ও বোঝে না ওর কিছু
হলে আমি খুব কষ্ট পায়। তাই আর পারলাম
না।।।।)
আচ্ছা বাবা চল।।।।
:- খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরল।।।।
:- আর পটাইতে হবেনা চল।
।।।। ।।
দুজনে ছাদে বসে আছি।
আসলেই চাঁদ টা সুন্দর।
আর আমার পাগলিটাও।।।।
শীতের রতের চাঁদগুলোই সুন্দর হয়।
আবার আমার বউ বলল,,,,
একটা কথা বলি?
:- বল।
:- আমার না আর একটা ইচ্ছে হচ্ছে।
:- বলে ফেল।।।।আমি পূরণ করব।।।
:- একটা গান শোনাবে আমায়।।।না
বলবা না কিন্তু।।।
:-...... হুম।।।একটু কিনতু।
:- আচ্ছা।শুরু কর,,,,,,,,
,,,,,,,,,,
,,,,,,,,,,
আজ তোমার মন খারাপ মেেয়,
তুমি আনমনে বসে আছো।
আকাশ পানে দৃষ্টি উদাসসসসসসসস
আমি তোমার জন্য এনে দেব
মেঘ থেকে.....................
....................................
....................................
দেখলাম পাগলিটা মন দিয়ে আমার
কাধে মাথা রেখে শুনছে।।।।
পাগলিটা খুব ভালোবাসে আমায়।
আমি বাসিনা তা না।।।।
আমিও বাসি বলেই ভালবেসে বিয়ে
করেছি তাকে।।।।। অনেক সুখেও আছি।।।।
।।।ঘুমিয়ে পড়েছে।।।।আজকে ওকে
নিয়ে নিচে যায় কেমন।।।।
।।।।।
।।।।
ভালো থাকবেন সবাই।।।।
আর দোয়া করবেন এমন মিষ্টি বউ যেন
সবার কপালে জোটে।।।।
তার আগে আমার জন্য করেন।।।যাতে
আমারটাই আগে জোটে।।।।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now