বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাগল হয়ে গিয়েছিলেন

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ‘পাগল হয়ে গিয়েছিলেন তিনি হঠাৎ করেই। একদিন ঘুম থেকে উঠেই তিনি তার স্ত্রীকে বলেন, আমার আর কাপড়-চোপড় পরতে ইচ্ছে করছে না। আমি এখন থেকে কাপড় ছাড়া থাকব। গায়ে কাপড় থাকলেই কেমন যেন গরম লাগে, দমও বন্ধ হয়ে আসে আমার।’ ‘লোকটি কি তারপর থেকে কাপড়-চোপড় ছাড়াই থাকতেন?’ ‘হ্যাঁ। সম্পূর্ণ ন্যাংটো হয়েই একদিন এখানে এসেছিলেন। এখন অবশ্য একটা মানসিক হাসপাতালে আছেন তিনি। চিকিৎসা চলছে তার।’ ‘আমি যাদের কাছ থেকে এই জায়গাটা কিনেছি, তারাও তো এখানে বাড়ি করতে চেয়েছিলেন।’ ‘হ্যাঁ। কিন্তু তারাও পারেনি।’ ‘কেন?’ এবার সত্যি সত্যি কৌতূহলী হয়ে উঠি আমি। ঝট করে জবাব দিলেন না লোকটি। থুতনির কাছে চুলকাতে লাগলেন। এতক্ষণ তিনি আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন, এখন আমি তাকিয়ে আছি তার দিকে। পচা একটা গন্ধ আসছে যেন কোথা থেকে। চারপাশে নোংরা-ময়লা। কিন্তু এ গন্ধটা ওসবের না, কেমন পচা মাংসের। আমার হঠাৎ মনে হল, এই জায়গাটা কেমন যেন বিরান, হুহু করা, নিস্তব্ধ, এক কথায় ভুতুরে। ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল আমার। কিন্তু টের পেতে দিলাম না তাকে। বেশ কিছুক্ষণ পর শব্দ করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লেন লোকটি। চমকে উঠলাম আমি। মুচকি হাসলেন তিনি, ‘আসলে হয়েছে কী, তৃতীয় ওই লোকটি আত্মহত্যা করেছিলেন। কিন্তু কেন হঠাৎ তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন সেটা কেউ বলতে পারে না। তবে এটা জানা গেছে, তিনি এখানে একটা হোটেল বানাতে চেয়েছিলেন, কিছুটা নাইট ক্লাবের মতো।’ ‘ব্যাপারটা তো বেশ ভীতিজনক, অন্তত আমার জন্য। জমিটা হাত বদল হয়ে যার কাছেই যায়, তিনিই এখানে কিছু করতে আসেন। তারপরই কোনো কিছু হয়ে যায় তার। এবার তো আমি কিছু করতে এসেছি। আমার যদি-।’ কথাটা শেষ করার আগেই মাথায় একটা চিন্তা এসে যায় আমার। লোকটার দিকে ভালো করে তাকাই আমি। এবার পুরোপুরি ধূর্ত মনে হচ্ছে তাকে। যা ভেবেছিলাম তা-ই- লোকটি আসলে ওসব ইট-রড-সিমেন্টের দালাল না। সম্ভবত জায়গা-জমির দালাল। এ জায়গাটা অন্য কেউ পছন্দ করেছে, তাকে কিনে দিতে চাচ্ছেন তিনি। তার আগে আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন, যাতে এসব আজগুবি গল্প শুনে জায়গাটা বিক্রি করে ফেলি আমি, মাঝখান থেকে তিনি কিছু কমিশন পাবেন। মনটা খারাপ হয়ে গেল আমার। আমাকে অবাক করে দিয়ে লোকটি হঠাৎ শব্দ করে হেসে উঠলেন। সঙ্গে সঙ্গে খুকখুক করে কাশতে লাগলেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ এভাবে কাশার পর তিনি যখন আমার দিকে তাকালেন, চমকে ওঠলাম আমি। সারামুখ ঘেমে গেছে, বুকটা হাপরের মতো ওঠা-নামা করছে, মুখ দিয়ে ফোত ফোত করে বাতাসও ছাড়ছেন। কিন্তু মুখে আগের মতোই হাসি ঝুলিয়ে তিনি বললেন, ‘হাঁপানির মতো আছে তো আমার। যাই হোক-।’ আবার কেশে উঠলেন তিনি। কাশতে কাশতেই বললেন, ‘আমি টের পাচ্ছি, কোনো কারণে আপনার মনটা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু মন খারাপের কোনো কারণ তো আমি দেখছি না। আচ্ছা-।’ একটু থেমে লোকটা আমার দিকে ভালো করে তাকালেন, ‘আমি কি মন খারাপের কিছু করেছি?’ এ ধরনের প্রশ্নে সাধারণত ভদ্রতাবশত যা উত্তর দিতে হয় আমিও তাই দিলাম। লোকটি তাতে সন্তষ্ট হতে না পেরে বললেন, ‘কিন্তু আপনাকে দেখে কিন্তু মন খারাপই মনে হচ্ছে। যাক, আমি আর বেশি কিছু বলব না। আর দু’একটা কথা বলেই চলে যাব এখান থেকে।’ একটু থেমে কিছুটা ইতস্তত ভঙ্গিতে লোকটি বললেন, ‘এই যে এই জায়গাটায় বাড়ি করতে গিয়ে তিন তিনটা লোকের জীবন নষ্ট হয়ে গেল, সকলে কী বলে জানেন?’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পাগল হয়ে গিয়েছিলেন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now