বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অতৃপ্তি ৩-৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সুজিত বুঝেছে, এ বাড়ির বাসিন্দারা যতই তাকে গ্রহণ করুক না কেন, তারা ধরা দিতে চান না । সুজিত ও চায় না তারা ধরা দিক । এ যেন এক লুকোচুরি খেলা । তারা আছে, অথচ নেই । সুজিতের খুব ভালো লাগছে এসব । তার লেখা হচ্ছেই না বলতে গেলে । প্রথম দিন যা একটু লিখেছিল । তাও সেটা শুধু বাড়ির বিবরণ মানে জাকে লে-আউট বলে আর কি ! ব্যস, এর বেশি আর কিছু লিখতে পারেনি সে । তার জন্য তার অবশ্য কোনও আক্ষেপ নেই । রাত নটা । বাইরে ঝিঁঝিঁর ডাক । একটানা, অবিরাম । সুজিত সেদিনও চুপচাপ বসেছিল । মোমবাতি টা জ্বলছিল । সেটার দিকে তাকিয়ে বসেছিল । হঠাৎ সেদিনকার মত কে যেন আবার ডাকল, “কুমাআআআআর” । সেই একই সুর । একই রকম ডাকার ধরন । তবে সেদিন একবার ডেকে চুপ করে গিয়েছিল । আজ অনেকক্ষণ ধরে ডেকে চলেছে কেউ । ডাকটা অনেকটা সেইরকম যেমন ভাবে স্নেহময়ী মা তার আদরের ছেলেকে ডাকেন । সুজিত উঠে দাঁড়াল । কার উদ্দেশ্যে যেন বলল, “আসছি” । তারপর হেঁটে চলল বারান্দা ধরে ডাকটার উৎস লক্ষ্য করে । সুজিত হাঁটছে । অনেকদিনের জ্বালাযন্ত্রণা যেন ঘুচিয়ে দিচ্ছে সে । তার প্রতিটা পদক্ষেপ যেন জাদুকাঠির ছোঁয়া । জেগে উঠছে চার যুগ আগে ইতিহাস হয়ে যাওয়া মিত্রবাড়ি । সুজিত হেঁটে গিয়ে থামল একদম শেষের ঘরটায় । এই ঘরে তার ঢোকা উচিৎ । তাকে চাইছে এই ঘরের বাসিন্দারা । সুজিত দরজা খুলল... ৪ বাজারের মুখটায় দেখা হল স্থানীয় একজন সত্তরোর্ধব মানুষ, অবনীশ চৌধুরীর সঙ্গে । আসার দিন চায়ের দোকানে বসে চা খাওয়ার সময় এনার সাথে আলাপ হয়েছিল সুজিতের । স্থানীয় ইতিহাস ভালোই জানেন বলে এনার সাথে পরে যোগাযোগ করবে বলেছিল সুজিত । আজকে সুজিতকে দেখে তিনি বললেন, “সেকি, এর মধ্যেই চললেন নাকি ?” সুজিত বলল, “হ্যাঁ” । অবনীশ বাবু বললেন, “আপনার কাজ এর মধ্যে হয়ে গেল ? ওই মিত্রবাড়ির কাজ ?” সুজিত বলল, “হ্যাঁ, তা বলতে পারেন হয়ে গেল” । -“কে এত তথ্য দিল আপনাকে ? এখানে এক আমি ছাড়া আর তো কেউ সেরকম এখানকার সম্বন্ধে সেরকম কিছু জানে বলে মনে হয় না । দাঁড়ান, আপনি কি হালদার কাকার কাছে গিয়েছিলেন তথ্যের সংগ্রহে । ওনার নব্বইয়ের ওপর বয়স । উনি অনেক কিছু জানতে পারেন । কিন্তু আমি তো যদ্দুর জানি, তাঁর কথাবার্তা বলার সেরকম জোর নেই” । সুজিতের বিরক্তিকর লাগছিল । সে বলল, “আজ্ঞে না মশাই । হালদার বাবুকে আমি চিনি না । আমি কারও কাছে যাইনি । আমার কাজ সত্যিই হয়ে গেছে । এবং সেটা হতে সাহায্য করেছে কুমারজিৎ মিত্র । যাই হোক, আমি চলি । আমার ট্রেন মিস হয়ে যাবে” । নামটা শুনে চমকে উঠলেন অবনীশ বাবু । স্মৃতি ঝলক দিয়ে গেল সামান্য । সেটা সত্তর সাল । নকশাল আন্দোলন, ওপার বাংলার মুক্তিযুদ্ধ এরকম সরগরম পরিস্থিতির মধ্যে নিমতায় ঘটে গেলেই হাড় হিম করা ঘটনা । মাঝরাত্তিরে মাত্র দু ঘণ্টায় ৫২ জনের একান্নবর্তী জমজমাট মিত্র পরিবার পরিণত হল শ্মশানে । কাদের ষড়যন্ত্রে আগুন লাগানো হয়েছিল তা আজও জানা যায়নি । সে মামলার নিষ্পত্তি আজও ঘটেনি, ঘটবেও না । হবি তো হ, সেদিন-ই ছিল মিত্রবাড়ির সবচেয়ে খুদে সদস্য কুমারজিতের দু বছরের জন্মতিথি । সারাদিন উৎসব চলেছিল বাড়িতে । সন্ধেবেলা হাজার অতিথির আগমন, কাঙালি ভোজন । মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষগুলো মেতে উঠেছিল আনন্দে সকালে তাদের দগ্ধানো লাশ বের করে পুলিশ । তবে দু বছরের কোনও বাচ্ছার লাশ পুলিশ খুঁজে পায়নি । কুমারজিৎ কে নিয়ে পালিয়ে যায় তার ধাইমা এরকম একটা রটনা হয়েছিল তখন । তারপর চার দশক কেটে গেছে, এসব খবর আর তত প্রাসঙ্গিক ছিল না । সেই কুমারজিৎ সাহায্য করেছে কলকাতা থেকে আসা একজন সাংবাদিককে ? হঠাৎ ছোট হয়ে আসা সুজিতের গমনরত শরীরটাকে দেখতে একটু এগিয়ে গেলেন অবনীশ বাবু । হাঁটাটা কি একদম অবিকল তাঁর একসময়কার দাবার সঙ্গী, কুমারজিতের বাবা সমরজিতের মত নয় ?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অতৃপ্তি ৩-৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now