বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সন্ধে আটটা । সন্ধে না বলে রাত বলাই ভালো । নিমতাকে এখন মোটামুটি শহর-ই বলা যায় । কিন্তু এই বাড়িটা যেন সেই শহরে থেকেও শহর থেকে দুরের কোনও গ্রহের । সময়টা যেন এখানে কয়েক যুগ আগে থেমে গেছে । ইলেক্ট্রিসিটি কোনও এককালে থাকলেও এখন যে নেই সেটা বোঝাই যায় । গোটা বাড়িটা প্রেতপুরীর আকার নিয়েছে । কিন্তু সুজিতের কাছে সেই প্রেতপুরী, প্রেতপুরী বলে মোটেই মনে হচ্ছে না । তার কেবলই মনে হচ্ছে, কোনও এক জাদুবলে যেন বাড়িটা জেগে উঠেছে । অনেক বছর ধরে যেন ঘুমিয়েছিল । আরও একটা খটকা সুজিতের, সেটা হল ওর যেন অনেক কিছুই চেনা বলে মনে হচ্ছে বাড়িটার । গতকাল আসার পর থেকেই এটা মনে হচ্ছে । আজ সকালে একাই ঘুরে ঘুরে দেখছিল সুজিত । একাধিক জায়গায় তার মনে হয়েছে এই জায়গায় সে কোনওসময় ছিল, এই জায়গায় সে কোনওসময় ছিল । একতলার একটা ঘর সে চাবি দিয়ে যখন খুলছিল, তখন তার হঠাৎ মনে হয়েছিল, এই ঘরে একটা আরামকেদারা রাখা থাকত জানালার পাশে । সে ঢুকে অবাক-ও হয়েছিল একটু । এঘরে যে এককালে আরামকেদারা ছিল সেটা বোঝা গেল জানালার পাশে দেওয়ালে দাগ দেখে । এরকম দাগ সে আগেও দুটো এরকম বাড়িতে দেখেছিল । বারুইপুরের এক বাড়িতে এই দাগ তাকে চিনিয়ে দিয়েছিল একজন । তারপর আবার একটি ঘরে ঢোকার সময় তার মনে হল এই ঘরে পাংখা টানত । এবং কি আশ্চর্য, সে ঘরে সত্যি একটি পাংখা র দড়ি ঝুলছিল কড়িবরগা থেকে । সুজিতকে নেশার মত পেয়ে বসছিল এই খেলাটা । এরকম আরও অনেক ঘরের সম্বন্ধেই সে কিছু না কিছু একটা ভাবছিল । এবং সেটাই মিলে যাচ্ছিল । এবং এই ভাবনাটা সে খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই ভাবছিল ।
কি হচ্ছে এগুলো তার সাথে ! একটু আগে রাতের খাওয়া খেয়ছে সুজিত । দুখিরামের রান্নার হাত ভালোই । সে এঁটো থালা বাসন নিয়ে চলে যাবার পর সুজিত হাতমুখ ধুয়ে এসে ঘরে একা চুপচাপ বসেছিল । হঠাৎ তার মনে হল কে যেন খুব একটা প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলল । সুজিতের চমকে ওঠার কথা ছিল । তাও সে চমকে উঠল না । যেন এটা তার কাছে প্রত্যাশিত-ই ছিল । হঠাৎ যেন কে বলে উঠল, “কুমা-আ-আ-আ-র”
কুমার ? কে কুমার ? সুজিতের মনে যেন আসতে চেষ্টা করছিল কিছু একটা । কিন্তু এল না । অনেক চেষ্টাতেও এল না । এই ফাঁকা বাড়িতে একা সে আর দুখিরাম । দুখিরাম মনে হয়না কিছু অস্বাভাবিক টের পেয়েছে । অন্তত তার হাব ভাব দেখে তাই মনে হয় । এইরকম অবস্থায় সুজিতের অস্বস্তি হবার কথা কিন্তু হচ্ছে না তো । বরং তার খুব ভালো লাগছে । কিরকম ভালো লাগা এ, সুজিত বলে বোঝাতে পারবে না ।
কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল সুজিত জানে না । ধড়মড়িয়ে উঠে বসল তক্তাপোষে । উফফ, কি বীভৎস স্বপ্ন রে বাবা ! সুজিত দেখছিল, দাউ দাউ আগুন জ্বলছে, জ্বলেই চলেছে । একদল নিরীহ মানুষ পাগলের মত ছুটোছুটি করছে । কি ভয়ঙ্কর চিৎকার চারদিকে ! আর একদিকে দাঁড়িয়ে পৈশাচিক হাসি হেসে চলেছে এক বিশালধারী মানুষ । তার চোখ দিয়ে যেন আগুন বেরিয়ে আসছে । কে যেন আবার চেঁচাল, ওকে নিয়ে পালাও । ব্যস, তারপরেই আর দেখতে পারেনি সুজিত । আঁ-আঁ চিৎকার করে উঠে বসল খাটে । পাশের ঘর থেকে দুখিরাম কিছু শুনতে পায়নি । সুজিত উঠে চোখেমুখে জলের ঝাপটা দিল । বাথরুম পেয়েছে । টর্চ জ্বালতে গিয়েও জ্বালল না । তার হঠাৎ মনে হল, টর্চটা এখন জ্বালানো বোধহয় ঠিক নয় । অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে যেতে যেতে ভালো লাগছিল সুজিতের । দেওয়ালগুলো যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ওর হাতের ছোঁয়ায় । ওর-ও মনে হচ্ছিল যেন বহুদিন পরে কোনও চেনা কারও গায়ে হাত ঠেকছে যা বোধহয় এতদিন ওর কাঙ্ক্ষিত ছিল । প্রতিটা পদক্ষেপ যেন কত জমে থাকা কষ্ট, যন্ত্রণা, অভিমান এক নিমেষে ভুলিয়ে দিচ্ছে । বাড়িটা সুজিতকে বড় ভালবেসে ফেলেছে । সুজিত-ও বাড়িটাকে ।
পরদিন সকাল দশটায় ঘুম ভাঙল সুজিতের । গতকাল রাত্রের কথা তার মনে পড়ল । বাড়িটাকে সত্যিই সে খুব ভালোবেসে ফেলেছে । বাড়ির চিরন্তন বাসিন্দারা সুজিতের থাকাকে অনধিকার প্রবেশ বলে মনে করেনি, বরং পরম সাদরে গ্রহণ করেছে । কিন্তু এই বাসিন্দারা কারা ? কায়াহীন ছায়া তারা নয় । তাহলে সুজিত তাদের অস্তিত্ব বুঝতে পারত । বাড়িটাতে প্রথমদিন ঘোরার সময় সুজিতের মনে হয়েছিল, বাড়ির প্রতিটি কোণায় যেন কিরকম বিষণ্ণতার ছাপ । কিন্তু সেই বিষণ্ণতা অনেকটাই যেন কেটে গিয়েছে তার হাঁটাচলায়, তার কথাবার্তায়, তার ভাবনাচিন্তায় । বরং বেশ একটা সতেজ একটা ভাব এসেছে বাড়িটায় । সুজিতের দারুণ লাগছে এসব । তার আফসোস আগে কেন সে এ বাড়িতে আসেনি ।
দুখিরাম বাবুর পরিবর্তন লক্ষ করেছে ভালোই । কিন্তু সে একটু অবাক বাবুর পরিবর্তনের ধরন দেখে । কেমন একটা অন্যমনস্ক ঘোরে থাকেন ঠিকই তবে বেশ আনন্দেই থাকেন সেটা বোঝা যায় । এর মধ্যে আনন্দের কি আছে অবশ্য সে জানে না । মস্তিষ্কবিকৃতি হলে অবশ্য আলাদা কথা । সেটা মনে হয় হয়নি ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now