বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অতৃপ্তি -১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X কেয়ারটেকার ঘরগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিল । দোতলার লম্বা বারান্দার একদম প্রান্তে এসে সে শেষ ঘরটা খুলল । সবকটা ঘরেরই একই অবস্থা । সিলিং থেকে ঝুল নেমে এসেছে । কোনও কোনও ঘরে পলেস্তারা খসে পড়েছে । আসলে প্রায় চার যুগ ব্যবহার না করার ফলে যা হয়ে থাকে । সুজিত দেখল এ ঘরটার অবস্থা তাও সামান্য হলেও ভালো । সে কেয়ারটেকারকে বলল, “তাহলে এক কাজ করো, এ ঘরটাই একটু পরিষ্কার-টরিস্কার করে দাও । এটাতেই থাকা যাক” । কেয়ারটেকার ঘরে ঢুকে পরিষ্কার করতে লেগে গেল । সুজিত বাইরে এল । পড়ন্ত বিকেলের রোদটা বেশ মোলায়েম লাগছে । সিগারেট ধরাল । কলকাতা থেকে আসতে লাগলো ঘণ্টা দেড়েক । দুপুরেই পৌঁছে যেত । বাদ সাধল অফিস । নামী সংবাদপত্রের বড় রিপোর্টার । ক্রাইম বিভাগে । সকালেই রওনা দেবে ঠিক করেছিল । হঠাৎ সকালেই ফোন এল অফিস থেকে । নবীনচাঁদ বড়াল লেনে খুনের খবর । স্টোরি কভার করতে যেতে হবে সুজিতকেই । কেননা অন্য যিনি আরও একজন মেন ক্রাইম রিপোর্টার তিনি চিকেন পক্সে আপাতত ঘরবন্দি । বিরক্তিটা মনে চেপেই যতটা সম্ভব দ্রুততার সাথেই সুজিত স্টোরি টা কভার করেছে । ভাইয়ে-ভাইয়ে ঝামেলা । সেই থেকে রাগের মাথায় খুন । স্টোরি টা করতে করতে সুজিতের ই ইচ্ছা করছিল খুনি টাকে খুন করে দেওয়ার । না, ভাইকে মেরেছে বলে নয়, সুজিতের সময়মত বেরনোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় । বোঝ ! তবে সুজিতের একটি সুন্দর শখ আছে । সেটি হল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের উৎসাহেই পড়াশোনা করা, তারপর সেগুলো নিয়ে লেখালিখি । ইতিমধ্যে সে একজন সাহিত্যিক হয়ে উঠেছে । দুটো বই সে লিখেছে, একটা মায়াপুরের বিদেশী-বিদেশিনীদের নিয়ে আর একটা বিভিন্ন দেশের রুপকথা, উপকথা নিয়ে । এখন তার ইচ্ছা হয়েছে, কলকাতা ও কলকাতার আশেপাশের মফস্বল এলাকায় যেসব শতাব্দী-প্রাচীন বনেদি বাড়িগুলো আছে, তাও নামী কোনও পরিবারের বাড়ি নয়, যেগুলোর কথা সাধারনত শোনেনি কেউ, সেইরকম বাড়ি । কেননা সুজিতের মনে হয়েছে, এই বাড়িগুলির দেওয়াল, মেঝে, কড়িবরগা, সিলিং, বাগান এইসবের সঙ্গে যেসব ইতিহাস জড়িয়ে আছে, তা যেমন আকর্ষণীয় তেমনই রোমাঞ্চকর হবে মানুষের কাছে । তাই এরকম বহু বাড়ির নাম খুঁজে খুঁজে সে বার করছে, সেখানে গিয়ে পারলে থাকছে । স্থানীয় বৃদ্ধদের সঙ্গে যারা মোটামুটি বাড়ির ইতিহাস সম্পর্কে জানে, তাদের সাথে কথা বলে নিজের মত করে সেগুলো নোট করছে । সেই সূত্রেই নিমতার এই মিত্রবাড়িতে আসা । “হয়ে গেছে বাবু । একবার দেখে নিন” । কেয়ারটেকারের ডাকে সুজিত ঘরটায় এসে চোখ বোলাল । মোটামুটি চলনসই । থাকা যাবে । সে বলল, “বাঃ, ফাইন” । হঠাৎ তার মনে হল, আরে, ঘরে তো খাট-ফাট নেই । মাটিতে শুয়েছে সে, এই কাজের সূত্রেই দু-একবার । কিন্তু ইদানীং কোমরের ব্যথার জন্যে ডাক্তার মাটিতে শুতে বারণ করেছে । সে কেয়ারটেকার কে বলল, “আচ্ছা, খাট হবে না, না ?” কেয়ারটেকার কি যেন ভাবল একটু । তারপর বলল, “দাঁড়ান । হয়ে যাবে । আমার ঘরে দুটো তক্তাপোষ । একটায় আমি শুই । একটাতে আমার বউ । ও বাপের বাড়ি গেছে । আসবে সপ্তাহখানেক বাদে । ওর টা এনে দিচ্ছি আপনাকে । তক্তাপোষে অসুবিধা হবেনা তো আপনার ?” সুজিত বলল, “না, তা হবে না । তোমার বাড়ি কতদূরে ?” কেয়ারটেকার বলল, “এই কাছেই । কেন বলুন তো ?” সুজিত বলল, “না ভাবছিলাম তুমি একা আনতে পারবে নাকি আমি সঙ্গে যাব ?” কেয়ারটেকার বলল, “ধুর, কি যে বলেন বাবু ! এমন কিছু ভারী নয় । আপনি দাঁড়ান আমি এক্ষুনি এলে দিচ্ছি” । কেয়ারটেকার চলে যেতে সুজিত সুটকেস খুলে নিজের জিনিসপত্র বার করল । টর্চ, মশার তেল, ডায়রি, পেন, তোয়ালে, সাবান, দাড়ি কামানোর সরঞ্জাম ইত্যাদি । এসব যখন সে বার করছিল তখন যেন হঠাৎ সুজিতের মনে হল, কেউ যেন “হুঁ” বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল । একটু অবাক হলেও সে সামলে নিল । কিছুক্ষণ পর কেয়ারটেকার ফিরল । সঙ্গে একটি মধ্যবয়সী লোক । দুজনে মিলে তক্তাপোষটাকে ঘরের এক কোণায় রাখল । কেয়ারটেকার সুজিতকে বলল, “বাবু, এ হচ্ছে দুখিরাম । আপনার রান্না-বান্না সব করে দেবে । রাত্রে থাকবেও বলেছে” । সুজিত খুশি হল । বলল, “বাঃ, তাহলে তো খুবই ভালো । বেশ, আমি তো রান্নার জিনিস সঙ্গে এনেইছি । দুখিরাম, তুমি তাহলে এখন আমাদের সবার চা করে ফেলো তো” । কেয়ারটেকার কে সুজিত বলল, “ওকে নিয়ে তো এলে । ও থাকবে কোন ঘরে ?” কেয়ারটেকার বলল, “সে আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি । ভাববেন না” । ব্যবস্থা করে দিল সে । পাশের ঘরটায় । একটা মাদুরেই হয়ে যাবে বলল । সন্ধেবেলা বাড়ি যাওয়ার সময় কেয়ারটেকার সুজিতকে বলল, “বড় বাথরুম তো দেখলেন ই । রাত্রে যদি বাথরুম করতে যেতে হয় তো...” হঠাৎ সুজিত যেন আপনমনেই বলে উঠল, “পাশের দুটো ঘর পরে...” কেয়ারটেকার চমকে উঠল, বলল, “সেকি, আপনি জানলেন কি করে ? ওটা তো আমি আপনাকে দেখাইনি । ওটা বাথরুম বলে কেউ বুঝতেও পারবে না । আপনি কি আগে কখনও এসেছিলেন এ বাড়িতে ?” সুজিত অপ্রস্তুতে পড়ল । সে বুঝেছে, সে নিজে যেন কথাটা বলেনি, তাকে দিয়ে যেন কেউ বলাল । সে বলল, “কি জানি এমনিই মনে হল” । কেয়ারটেকার কি বুঝল কে জানে আর কথা বাড়াল না । সব বুঝিয়ে দিয়ে, চাবি সুজিতের হাতে দিয়ে চলে গেল । তবে তার মনে সন্দেহ যে থেকে গেল সেটা সুজিত বুঝল । সে চলে যেতে সুজিত দুখিরামকে জিজ্ঞাসা করল, “আচ্ছা দুখিরাম, অনেক পুরনো বনেদি বাড়ি । তা এরকম বাড়ি নিয়ে যেরকম বদনাম-টদনাম থাকে, সেরকম কিছু নেই তো ?” কথাটা তার মনে হয়েছিল একটু আগের সেই দীর্ঘশ্বাসটা মনে আসাতে । হতে পারে মনের ভুল, তাও জিজ্ঞাসা করল সে । দুখিরাম বলল, “ভূতের কথা বলছেন তো বাবু । না, সে বদনাম নেই এ বাড়ির । থাকলে কি আর আমি রাতে থাকতে রাজি হতুম ! আগেও দু-একজন রাত কাটিয়েছেন এখানে । কেউ কখনও কিছু খারাপ ব্যাপার বলেনি” ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অতৃপ্তি ৩-৪
→ অতৃপ্তি -২
→ অতৃপ্তি -১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now