বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অতিতের স্মৃতিচারণ

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান silent killer (০ পয়েন্ট)

X একটা সময় এমন ছিল বাবার পকেটে ১০০ টাকার ৩ টা, ২০ টাকার ১ টা আর অতি পুরাতন ৫ টাকার নোট অবশেষ থাকতো। মাসের মাঝখানে এসে বাবা পকেট থেকে টাকা বের করে টেবিলের উপর রাখা শুরু করতেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পকেটে নিয়ে বের হতেন। টেবিলের উপর রাখা টাকা দেখে আমরা বুঝে যেতাম, এই মাসে বাবার কাছে বেশি টাকা নেই। আমাদের কোন ব্যাঙ্কে টাকা ছিল না, কোন ডিপোসিট ছিল না, না ছিল বাবা দাদার জমি জমা, মামা চাচা খালুর কোন সাহায্যও ছিল না। গ্রামের বাড়ি থেকে কোন চাল আসতো না, মাঝে মাঝে দাদি এক দেড় কেজি চালের আটা দিয়ে পাঠাতো। সেই চালের আটার পিঠা বানিয়ে খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা লাগতো আরও কিছু দিন, খালি আটা দিয়ে তো আর পিঠে হয় না। রাজশাহী শহরে এসে প্রথম যে জিনিস টা দেখে অবাক হয়েছিলাম ছোট বেলায় সেটা ছিল সি এন্ড বি মোড়ের ওই ছোট্ট জেট বিমানটা। এর আগে আমি আর আমার ছোট ভাই কখনো বিমানের মত কিছু দেখি নি। ভেড়ী পাড়ায় এক বাড়িতে উঠেছিলাম। সেই বাড়ির বাড়িওয়ালার ও আমার মতই একটা ছেলে ছিল। দেখতে অনেক সুন্দর, সুন্দর কাপড় পরা, পায়ে জুতা পরে থাকতো। সেই ছেলেটাই আমাকে শিখিয়েছিল প্রথম গালি; জ্যারা। বাড়িটায় এক রুমে আমরা থাকতাম, আর বাকি ২ রুমে বাড়িআলা,আমাদের কোন রান্না ঘর নেই, রুমেই রান্না করা হতো ষ্টোভে। রুম টা বেশ বড় ছিল, আর আমরাও ছিলাম ৫ জন বাবা মা ছোট ভাই আর ফুপু। প্রথম দিন বাঁশের সিঁড়িতে চড়ে ছাদে উঠেছিলাম। পরের দিন বাবা একটা সাইকেল কিনে নিয়ে আসেন, আমার মার জন্য। মা তখন ব্র্যাকে চাকরি নিয়েছেন, বাবা তখনও বেকার,সালটা ১৯৯৯। এক সপ্তাহ পরে বাবা মার সাথে গেলাম, চিড়িয়া খানা। মানুষ জন কেন জানি খাঁচার পশু পাখি দেখার বদলে আমাদের দেখছিলেন। আমাদের কথা শুনে মুচকি হাসছিলেন। সেদিন প্রথম চিড়িয়া খানার সামনে খেলনা গাড়ি, প্লেন, রোবট, টিয়া পাখি, আর বেলুন দেখেছিলাম। কোন কিছু কেনার জেদ করি নাই, জানতামই না, এসব কি আর এসব দিয়ে কি হয়। সারাদিন কাদা নিয়ে খেলে, পুকুরে ডুব ঝাপ দিয়ে গোসল করে যার বেড়ে ওঠা তার শহরে এসে এসব খেলনা নিয়ে জেদ করা মানায় না। সেদিন আমি রিক্সা কিনতে চেয়েছিলাম, ও হ্যাঁ এটাও আমার কাছে অনেক বিস্ময়ের জিনিষ ছিল। আমদের দিন গুলো সারাদিন রুমে বন্ধ হয়ে কাটতো, রুমের বাইরে বের হওয়া নিষেধ ছিল, আমরা দু ভাই জানালার রড ধরে বাইরে তাকিয়ে থাকতাম চিড়িয়াখানায় দেখে আসা বানর দের মত। কখন সকাল কখন রাত বুঝতাম না, জানালার বাইরের সব কিছুই আমাদের কাছে অবাক করার মত ছিল, মানুষ, রিক্সা, গাড়ি, কুকুর, ল্যাম্পপোস্টের আলো টাও। বাইরের মানুষগুলো আমাদের চেয়ে বেশি সুন্দর মনে হতো। বাবা টিউশানি করাতেন আর মা অফিসে যেতেন। বাসায় আমরা তিনজন। মাঝে মাঝে ছাদে উঠতাম। প্রায় একমাস পরে একদিন বিকেলে বের হতে পেরেছিলাম, কিছুদুর হেটে গলির শেষ মাথায় অনেক বড় দেয়াল ঘেরা ফাকা যায়গা ছিল। সেখানে আমাদের বয়সী কিছু বাচ্চা ছেলে মেয়ে সাইকেল চালাচ্ছিল, ক্রিকেট নামক অদ্ভুত খেলা খেলছিল। সেদিন মার উপর ভালই রাগ হয়েছিল, আমাদের কিনে দেয় নি, নিজে কিনেছে। আমদের বাসায় কখন ভালো রান্না মানে মাছ মাংস রান্না হলে, আমরা কেমন জানি একটু বেশি ভাত খেতাম, একটা ছোট মুরগির তরকারি ৫ জন মানুষের ২ দিন চলে যেত। আমরা দু ভাই তখনও কোন স্কুল যেতাম না। সারদিন রুমেই থাকতাম, কার্নিশে উঠে বসে থাকতাম পা ঝুলিয়ে। রুমে উল্লেখ করার মত কিছুই ছিল না, শীতল পাটি হাড়ি পাতিল, দড়ীতে ঝুলানো কাপড়, একটা ছোট বাক্স আর ওই সাইকেল। একটা ফ্যান কেনা হয়েছিল ৩ মাস পরে। আস্তে আস্তে কেমন করে দিন গুলো চলে গেল, আমরা হামি থেকে আমি হলাম, সকাল সন্ধ্যা দুধ খেতে শুরু করলাম, ঘরের ফাকা যায়গা গুলো আস্তে আস্তে ভরতে শুরু করলো। এরপর শুরু হল বাসা পাল্টানো, কখনো লক্ষ্মীপুর কখনো, ভাটাপাড়া, নউহাটা থেকে বন্ধগেট। l লক্ষ্মীপুর মসজিদের পাশের সবচেয়ে পুরাতন বাড়িটায়, আমরা ৩ বছর ভাড়া ছিলাম। বাড়িটার ছাদে ওঠা নিষেধ , যদি ভেঙ্গে পড়ে। ২০০১ সাল, হটাৎ একদিন জানলাম দাদা মারা গেছেন। আমরা ছুটলাম গ্রামের বাড়ি। কেউ মারা গেছে সেটা বোঝার মত বয়স তখনও আমার হয় নি, আমি সেদিন গ্রামের বাড়ি যাওয়ার আনন্দে ছিলাম, সেদিন ঝুম বৃষ্টিতে পুকুরে গোসল করেছিলাম আমরা দু ভাই। বাবা তখন কোন এক প্রাইমারী স্কুলের হেডমাস্টার, মা তখনও চাকরি ছেড়ে দেন নি। টানাপোড়নের সংসার আমাদের ছিল না। কারন আমাদের দু ভাইয়ের কোন চাহিদা ছিল না, কোন দিন কোন খেলনা, কাপড় খাবারের জন্য জেদ করি নাই কেউ। কখনো বলি নাই এটা কেনাই লাগবে। ইচ্ছে হতো না তানা, ইচ্ছে গুলো নিজের মধ্যে দাবিয়ে নেয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেছিলো আমাদের সেই বয়সেই। আমাদের একজোড়া বাস কিনে দিয়েছিলেন মা, আমরা সেটা নিয়ে খেলতাম, টানা ৬ মাসের ঘেন ঘেনানির পর একটা ফুটবল পেয়েছিলাম। ওই একজোড়া বাস আর ফুটবল, এই ছিল আমাদের শৈশব, আর কিছু না। বড় হওয়ার পর একদিন ওই এক জোড়া বাস আর ফুটবল টা কাউকে দিতে চেয়েছিলাম, মা খুব যত্ন করে ওগুলো তুলে রেখেছেন। আমাদের একটা ক্যামেরা ছিল সে সময়, কোডাকের। সেই ক্যামেরায় আমাদের ওই এক রুমের সংসার জীবনের অনেক ছবি আছে। ছবিগুলো এতো জীবন্ত,মানুষ গুলো আমাদের অতীতের ছায়া আর পেছনের রঙ চটা দেয়ালে আমাদের ওই সময়ের বাস্তবতা। সেই সময় বাবা মা মেঝেতে আর আমরা দু ভাই খাটে ঘুমাতাম। আমাদের বাসায় কোন গেস্ট আসতে দেখতাম না, কেও আসলে রাত্রে থাকতে পারত না, যতদিন আমার বাব মার আর্থিক অবস্থা ২ রুমের বাসা ভাড়ার উপযুক্ত হয় নি। আমরা কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতাম না, গিফট দেয়ার অর্থ বের করা কষ্টের হয়ে যেত বলে, আমরা কারো বাসায় দাওয়াতে জেতে ভয় পেতাম হিন মন্নতায় ভুগতাম, নিজেদের অবস্থার কথা ভেবে। আমরা প্রত্যেক মাসে কাপড় কিনতে পারতাম না, বছরে ২ বার কাপড় কিনতাম্, শার্ট প্যান্ট আর জুতা স্যান্ডেল। আমার একটা বাটার স্যান্ডেল ছিল, খয়েরি রঙের, ৬ বছর ব্যাবহার করেছিলাম। এক মাসে ছোট ভাই কিনলে ২ মাস পরে আমার টা। আমরা দু ভাই কোনোদিন কোন দোকানে যেয়ে বলতাম না ওই শার্ট ওই প্যান্ট কিনবো। একটা শার্ট কিনতে যেতাম, দাম হতো ১৫০ টাকার মধ্যে,তার জন্য পুরো আর ডি এ মার্কেট বাবার হাত ধরে ঘুরতাম। আমি আর আমার ছোট ভাই কোনোদিন এস এস সি পাস করার আগ পর্যন্ত ৩০০ টাকার উপরে প্যান্ট পরি নি, এটাই আমাদের কাছে অনেক দামি ছিল, অনেক অপেক্ষার পর পেতাম। দোকানে যেয়ে যদি কখনো কোন দামি শার্ট প্যান্টের উপরে হাত দিয়ে ফেলতাম, বাবার চেহারার দিকে তাকানো যেত না, না বলতে পারতেন না, কিছু বলতেন না, কেমন একটা অদ্ভুত দৃষ্টি নিয়ে তাকাতেন। কি জানি ওই বয়সেই আমাদেরকে সৃষ্টি কর্তা অদ্ভুত এক ক্ষমতা দিয়েছিলেন, আমরা বুঝতাম এটা কিনে দেয়ার সামর্থ্য বাবার নেই। বাবার শার্ট দিয়ে গন্ধ আসতো ঘামের গন্ধ, শরীর থেকেও গন্ধ বেরত, একটা শার্ট প্যান্টে পুরো সপ্তাহ অফিসে যেতেন। কত হিসেব নিকেশ করে, মাঝে মাঝে আমাদের জন্য ১০০ গ্রাম করে আঙ্গুর কিনে আনতেন। আমরা কখনো আয়েস করে চকলেট আইসক্রিম খেতাম না, টাকা নষ্ট হবে বলে। আমার মা। এই মানুষ টা নিজে সাইকেল চালিয়েছিলেন বলে আমরা সেই সময় রাতের খাবার খেতাম, এই মানুষ টা সাইকেল চালিয়েছিলেন বলে তখন আমরা কাপড় পরতে পারতাম, আমাদের মাথার উপরে ছাদ ছিল। এই মানুষ টার বছরে একটা শাড়ি কেনা হতো, কোন সাদ আলহাদ ছিল না। শুধু কষ্ট করে গেছেন, আমাদের জন্য। আমার মায়ের চোখের নিচের দাগটা সেই ছোট বেলা থেকে দেখছি। আম্মুর কোন সোনার গহনা ছিল না। রুপা চাঁদিও না। এই মানুষটা আমাদের বুঝিয়ে রাখতেন, তোমার বাবার বেতন আসেনি এ মাসে, কিছু চেয় না বাবা। এই মানুষ টা আমাদের সংসার টা আগলে রেখেছিলেন ওই সময় টা। আমরা অনেক হিসেব করে খরচ কমিয়ে চলতাম , এখান থেকে ওখানে রিক্সাতে যেতাম না, যতদূর হেটে যাওয়া যায়। আমার বাবা খুব হাটতে পারেন বলেই তার কোন অসুখ নেই হয়তো। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে প্রাইভেট পড়াতেন, বেসরকারি একটা কলেজের শিক্ষকতা শুরু করার পর কিছুটা অবস্থা পরিবর্তন হয়েছিল আমাদের। আমরা যখন খুব ছোট তখনই মা চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন, আমাদের মানুষ করার জন্য। বাবা যতটুকু আয় করতেন তার পুরটাই আমদের জন্য খরচ করতেন, বাসা ভাড়া, প্রাইভেটের বেতন, খাবার খরচ, অন্যান্য খরচের পর পরিবারে আর টাকা থাকতো না। মাঝে মাঝে ধার করার দরকার হতো। আমরা নিয়মিত ভালো খাবার কাপড় হয়তো পাই নাই, তবে আমাদের বই খাতা, প্রাইভেটের বেতন কখনো বাকি থাকতো না, না চাইতেই বই খাতা কলম কিনে নিয়ে আসতো বাবা, পকেটে টাকা থাকলে শেষ হয়ে যাবে বলে। আমার বাবাকে ২ বার খুব কাছ থেকে কাঁদতে দেখেছি। তৃতীয় শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষায় সরকারী স্কুলে চাঞ্চ পাওয়ার পর বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ছিলেন, তখন আমরা এক রুমের ভাড়া বাড়িতে থাকতাম। এইচ এস সি পরীক্ষার সময়, বাবার চাকরি ছিল না, টিউশানি করিয়ে খরচ চালাচ্ছিলেন সংসারের। প্রথম যেদিন পরীক্ষা দিতে যাই বাবা আমার হাত ধরে ছোট বাচ্চার মত বলছিলেন, তোকে ভালো করে খাওয়াতে পারি নাই, তেমন যত্ন করতে পারি নাই, কিছু মনে রাখিস না বাপ, ভালো মত এক্সাম দিস। এক্সাম দিয়ে বের হয়ে আমার বাবা আমাকে একটা ডাব ওয়ালার সামনে নিয়ে গেলেন, ভীষণ গরমে আমার বাবা ঘেমে ধুয়ে গেছেন, একটা ডাবের দাম ৫০ টাকা চেয়ে বসলো ডাব ওয়ালা, বাবার চেহারা টা আবার কেমন কালো হয়ে গেল, আমি জানি সকালে বাবার পকেটে ৩ টা ১০ টাকার নোট ছিল। আমার ডাব খেতে সত্যি ইচ্ছে করে নি সেদিন, আমি বাবার হাত ধরে সামনে নিয়ে আসতে লাগলাম, বাসায় যাব খিদা লেগেছে আমার খুব। আমি যখন এয়ার পোর্টে বসে আছি কিছুক্ষণ পর প্লেনে উঠবো, তখন আমার বাবা চুপচাপ বসে আছেন , খুব মনোযোগ দিয়ে এয়ারপোর্ট দেখছেন, আর আমি দেখছি আমার বাবাকে। যখন ইমিগ্রেশানের জন্য যাব, জীবনে দ্বিতীয় বারের মত বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আমি ইমিগ্রেশান পার করে শুধু একবার বাবার দিকে ফিরে তাকালাম, তৃতীয় বারের মত বাবাকে দেখলাম কাঁদতে, এটা ছিল সুখের কান্না, সন্তানের সফলতায় আনন্দের কান্না, গর্বের কান্না। প্লেনে ওঠার পর বাবার দেয়া চিঠিটা খুল্লাম, খুব সযত্নে ক্ষমা চেয়েছেন, আমার স্কুল ড্রেসের জন্য, আমার ৩০০ টাকার প্যান্ট আর জামার জন্য, ছিঁড়ে যাওয়া সাদা কেডসের জন্য, একটা ডাবের জন্য, এক জোড়া খেলনা বাসের জন্য, সকাল সন্ধ্যা ডাল ভাতের জন্য, খয়েরি বাটার স্যান্ডেলের জন্য, হেটে স্কুল কলেজে যাওয়ার জন্য, একটা জন্মদিনের কেকের জন্য, একটা ব্যাট বলের জন্য আর অজস্র আজ নয় এখন নয়, কয় দিন পরের জন্য। বাবা , আমার বাবা, গায়ে গন্ধয়ালা শার্ট পরে হেটে হেটে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে প্রাইভেট পড়ানো সহজ সরল মানুষটা শেষ লাইনে লিখেছেন , এক সময় তোমাকে আমার ছেলে বলতো সবাই, আর এখন আমাকে তোমার বাবা বলে, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এটাই, ভালো থেকো বাবা। বাবার জন্য প্রথম একটা সেইন্ট লউরেন্তের ৩৫০ ডলারের শার্ট কিনে পাঠিয়েছিলাম, বাবা নাকি শার্ট টা রোজ একবার করে দেখেন তারপর ঘুমাতে যান, ছেলের দেয়া শার্ট, বাসায় কেও আসলে বের করে দেখান ছেলে পাঠিয়েছে। মা কে একটা জুয়েলারি দোকানে নিয়ে বসিয়েছিলাম, বলেছিলাম তোমার যত গুলো ইচ্ছে যা ইচ্ছে যত ইচ্ছে কিনো, মা দোকানে সবার সামনে বাচ্চা মেয়েদের মত কাঁদতে শুরু করেছিলেন। মা, আমার মা, রোজ একি খাবার খেতে খেতে যখন আর ভালো লাগতো না , মুখে তুলে খাওয়ায় দিত, একটা টাকা দু টাকা করে জমানো টাকায় ভীষণ শখ করে আমাদের দু ভাইকে আইসক্রিম কিনে খাওয়াতেন। আর খাওয়ানোর সময় খুব তৃপ্তি নিয়ে দেখতেন তার ছেলেরা আইসক্রিম খাচ্ছে। ভালো থাকুক সব বাবামায়েরা, একদিন আমি তাদের ছোট সন্তান ছিলাম, এখন তারা আমার সন্তান। #সংগ্রীহিত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অতিতের স্মৃতিচারণ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now