বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
,
শীতের বিকেলে শীর শীর হালকা
ঠান্ডা বাতাস বইছে। গাছপালা
এদিক থেকে ওদিক দোলছে,দূর
আকাশের পাখি গুলোও নীড়ে ফিরছে
কিন্তু কুয়াশার জন্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে
না। রাস্তার নেড়ি কুকুর গুলোও
ঠান্ডার জন্য শান্ত-শিষ্ট হয়ে গুটি-শুটি
মেরে বসে আছে। পাড়ার বৃদ্ধরা সবাই
একত্র হয়ে সারাদিনের একাকিত্ব টুকু
দূর করার চেষ্টায় মগ্ন। আর ছোট ছোট
বাচ্চারা এপার্টমেন্টের সামনে অল্প
জায়গাটুকুয় ছোটাছুটি আর খেলাধুলা
করছে। এসব কিছু আরিয়ানা
ব্যালকুনিতে দাড়িয়ে দাড়িয়ে পরখ
করছিল। অন্যদিন হলে আরিয়ানাও একটু
যেত ওই পিচ্চি গুলার কাছে,কিন্তু আজ
যেতে ইচ্ছে করছে না। কেননা
পরিবেশটা শান্ত থাকলেও
আরিয়ানার ভিতরে অশান্তি চলছিল।
আজ আরিয়ানার মনটা অনেক খারাপ।
মনের মধ্যে কেমন যেন কষ্ট নামক
যন্ত্রণাটা অনুভব করছিল। অবশ্য এই
অজানা কষ্টের জন্য দায়ী নাহিদ,
নাহিদের ওপর আরিয়ানার অনেক রাগ
হলো। ইদানীং নাহিদের কান্ড-
কারখানায় আরিয়ানার মনে অল্প অল্প
করে অনেক রাগ,অভিমান জমা হতে
হতে এখন তা বিরক্তিতে পরিণত হলো।
আরিয়ানা কি করবে কিছুই ভেবে
পাচ্ছে না, আরিয়ানা নাহিদকে
অনেক বেশি ভালবাসে, নাহিদও যে
কম ভালবাসে তাও না। কিন্তু কি
করবে তাদের মাঝে যে দূরত্ব ক্রমশ
বেড়েই চলছে। আরিয়ানা চায় নাহিদ
তাকে সব সময় ভালবাসুক,কেয়ার
করুক,তাকে সময় দিক,তার ছোট ছোট
আবদার গুলো পূরণ করুক। কিন্তু দিন দিন
নাহিদ কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে।
আরিয়ানাকে এড়িয়ে চলছে,ঠিক
মতো কথা বলছে না,দেখা করছে না,
কল দিলে কলও ধরছে না। সারাদিন কল
দিতে দিতে হঠাৎ ধরছে তাও দু মিনিট
ভাল করে কথা বলছে না। আরিয়ানার
কেয়ার করাতো দূরের কথা কদিন আগে
যে আরিয়ানা এতো অসুস্থ ছিল তারও
নিজ থেকে একবারো খুজ নেয়নি। এখন
দেখা করতে বললেও বলে ওর নাকি
অফিসে অনেক কাজ,অথচ বন্ধুদের ঠিকই
সময় দিচ্ছে।
আরিয়ানার ভাবতেই অবাক লাগে যে
ছেলেটা তাকে ছাড়া একটা দিনও
থাকতে পারত না,একটু পর পর না পেলে
অস্থির হয়ে যেত,বার বার কল দিয়ে
বিরক্ত করেই ফেলত,তার সাথে
সারাটা দিন থাকতে চাইত, তাকে
পাগলের মতো ভালবাসতো, সে এতো
তাড়াতাড়ি এতোটা বদলে গেল কি
করে??? হঠাৎ তার কি হলো?? আমারি
কি দোষ??? আমিতো এমন কিছু করিনি
যার জন্য আমাকে এভাবে শাস্তি
দেবে। কেনো আমাকে রাত দিন
কাঁদাচ্ছে,,, আমাকে কাঁদিয়ে কি সুখ
পাচ্ছে ও। ও ত আমার চোখের পানিও
সহ্য করতে পারেনা,ও আমায় কতটা
ভালবাসে সেটাত আমি জানি,,তবে
এমন করছে কেনো আমার সাথে।
আল্লাহ প্লিজ বলে দাও আমি এখন কি
করব??? -এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে
শীতের ঠান্ডা বাতাসে আরিয়ানার
শরীর বরফের মতো শীতল হয়ে গেছে
বুঝতেও পারেনি। সন্ধ্যা প্রায় ঘনিয়ে
এলো, চারিদিক অন্ধকার হতে শুরু করল।
.
************
.
আরিয়ানা সারা রাত ধরে অনেক
ভাবল। কিন্তু কি করবে কিছুই বুঝে
উঠতে পারছিল না। না পারছে
নাহিদকে ছাড়া থাকতে,না পারছে
নাহিদের অবহেলা সহ্য করতে। অনেক
ভাবনা চিন্তার পর শেষে আরিয়ানা
একটা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্যই
হলো।
.
-"এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। ও
আমায় ছাড়া হাসি অনন্দে থাকতে
পারে তাইলে আমি পারব না
কেনো,,,,আমি কেনো একা একা বদ্ধ
ঘরে কাঁদবো,,,, এমনটা আর চলতে দেওয়া
যায় না। এবার একটা ব্যবস্থা নিতেই
হবে।"
আরিয়ানা কথাগুলো নিজে নিজেই
বলতে থাকল। প্রায় ভোর হয়ে এলো।
এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে
ঘুমিয়ে পড়ল বুঝতেই পারেনি। সকালে
ঘুম ভাঙতেই নাহিদকে কল দিল,কিন্তু
বার বার কল দিয়েও পেল না। শেষে
টেক্সট দিয়ে বলে দিল যেন আজ যে
কোন উপায়ে বিকেলে দেখা করে।
.
**********
.
আরিয়ানা তার প্রিয় জায়গাটায়
আসল যেখানে নাহিদের সাথে প্রায়ই
আসত। দেখল নাহিদ আজ ওর আগেই এসে
গেছে,যদিও সব সময় নাহিদই লেট করত। এ জন্য আরিয়ানার কাছ থেকে কত বকা যে নাহিদকে শুনতে হইছে,তার কোন হিসেব নেই।
নাহিদকে বরাবরই সাদা শার্টে
হ্যান্ডসাম লাগে,আজ নাহিদকে আরো
বেশি সুন্দর লাগছে। আরিয়ানা
নাহিদের ওপর আর দূর্বল হতে চায় না
জন্য মনকে শক্ত করল।
দুজনেই একটা ব্রেঞ্চে বসল।আগে খুব
কাছাকাছি বসলেও আজ আরিয়ানা
খানিকটা দূরে বসল।
.
-"কেমন আছো আরু? (নাহিদ)
.
-"আছি যেমন রাখছ তেমনি আছি।
.
-"তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে।
ঠিক যেমনটা তোমায় প্রথমবার
দেখেছিলাম। নীল ড্রেসে সত্যি
তোমায় অনেক ভাল মানায়,,,,,,,,
.
-"থামো,,,,এখানে আমি এসব ফালতু কথা
শুনতে আসিনি। একটা কথা বলার জন্য
আসছি,বলেই চলে যাব।
.
-"কি এমন কথা শুনি?? আর তুমি এভাবে
কথা বলছ কেনো?
.
-" নাহিদ এখন আমি যা বলব তা মন
দিয়ে শুনবে। হেয়ালি করো না।
.
-"হুম বলো।
.
-"দেখো প্রতিটা মানুষই চায় সে ভাল
থাকুক,নিজের মতো বাঁচুক একটু প্রান
খুলে হাসিক। সো আমিও চাই আমি একটু
বাচার মতো বাঁচতে, একটু খানি
হাসতে। আর কষ্ট পেতে চাইনা। তুমি
বলতে নাহ আমি তোমায় বেধে রাখি
যাও আজ থেকে তুমি মুক্ত,আজ থেকে
তুমি স্বাধীন। তোমার স্বাধীনতা
তোমায় ফিরিয়ে দিলাম।
.
-"আরু এসব বলতেছ কেনো,,,,,আমি এমন
কিছু বলছি বা করছি??
.
-"নাহ তুমি কিচ্ছু করোনাই,সব আমি
করছি সব আমার দোষ। সব চেয়ে বড় দোষ
করছি তোমায় ভালবেসে।
.
-"আমায় ভালবেসে তুমি ভুল করছ??
.
-"হ্যা ভুল করছি অনেক বড় ভুল। তোমার
আমার জন্য সময় নাই,আমার সাথে কথা
বলতে তোমার বিরক্ত লাগে,দেখা
করতেও ভাল্লাগেনা তোমার,আগের
মতো আমায় ভালবাসো না,পাশে
থাকোনা,কাদলে আর চোখের পানি
মুছে দাও না উল্টো আরো বেশি
কাদাও। কেনো নাহিদ কেনো এসব
করছ??,,,, কথা বলছ না কেনো,ওহ বলবেই
না কি বলার মতো কিছু থাকলেত
বলবা। আমিতো এখন পুরনো হয়ে গেছি
আমাকে আর ভাল লাগবেই বা কি
করে।
.
-" আরু শাট আপ।
.
-"আমার সাথে চিৎকার করো না।
আমিত এখন বিরক্তি কর অসহ্যকর হয়ে
গেছি, তোমারত এখন নতুন কাউকে
চাই,,,,,,,,,
.
আরিয়ানার কথা শেষ হওয়ার আগেই
নাহিদ কিছু না বলে টাস করে
আরিয়ানাকে একটা চড় দিল।
আরিয়ানা কাদে ফেলল।
.
-"মারো আরো মারো,মেরে ফেলো
আমায়। আমায়ত শুধু মারতেই
পারবে,আমি আর বাঁচতে চাই না।
.
-" অকে ফাইন বলো কি চাও তুমি?
.
-"ব্রেকাপ,,,,,,,,,
.
-"কিহ,,,,,,ব্রেকাপ!
.
-"হুম ব্রেকাপ, এভাবে আর আমি এই
ভাংগা চুরা সম্পর্ক টানতে পারছি
না,আমি মুক্তি চাই।
.
-"হাহাহাহা আমি তোমায় সত্যি
ভালইবাসতে পারলাম না। আর এই যে
এসব বলতেছ নাহ,তুমিও আমার সাথে কম
করোনি।আমায় সারাটা দিন
জালাইছ,আমায় একটা মুহুর্তও শান্তিতে
থাকতে দাওনি। যখন যেখানে
যেভাবে দেখা করতে বলছ করছি সে
ভোর রাত বা গভীর রাত। যা বলছ তাই
করছি তাও তোমার সন্দেহ থেকে মুক্ত
হতে পারলাম না। তোমার প্রতি আমার
কোন অভিযোগ নাই,কিন্তু প্লিজ আরু
আমায় ছেড়ে যেও না। আমি তোমায়
ছাড়া বাঁচতে পারব না। তোমায়
ছাড়া আমি সত্যি নিঃস্ব।
.
-"আমি আর কষ্ট পেতে চাই না ব্যাস।
আমি আর তোমার সাথে জড়াতে চাই
না।
.
-"আরু প্লিজ আর একটি বার ভেবে দেখ।
আমি তোমায় ছাড়া থাকতে পারব
না। আমাকে ছেড়ে যেও না,,,,।
.
************
.
দুজন দুদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকল।
নাহিদের চোখে পানি চলে আসল।
নাহিদ আরিয়ানা কে কত ভালবাসে
তা আরিয়ানাও জানে,কিন্তু
আরিয়ানা দ্বিধায় পরে গেল কি
করবে। নাহিদকে ছাড়া আরিয়ানা
বাঁচতেও পারবে না আবার কষ্টও
পেতে চায় না। আরিয়ানা চিন্তায়
পরে গেল ওকে ছাড়াত এই পাগলটা
থাকতে পারেনা,সব কিছুতেই
খামখেয়ালি করে,নিজের যত্নও নেয়
না,ওকে ছাড়া ঠিক মতো খায় না
ঘুমায়না,আরিয়ানাকে ছাড়াত ও
থাকতে পারবে না আর না থাকতে
পারলে বাঁচবে কেমন করে।
.
-"বাবু!
.
-"হুম বলো।
.
-"বাবু আমি সরি। আমার এসব বলা ঠিক
হয়নি। আমায় মাফ করে দাও। আমি
তোমায় ছাড়া বাঁচতে পারব না। আমি
তোমায় ছেড়ে কোথাও যাব না।
আমায় মাফ করে দাও বাবু,,,,আমি
তোমায় কষ্ট দিতে চাইনি।আমি
আসলেই অনেক বাজে,,আমায় প্লিজ
মাফ করে দাও। আমি তোমার চোখের
পানি সহ্য করতে পারি না। আমি শুধু
তোমার ভালবাসা চাই,তোমার
অবহেলা কিছুতেই মানতে পারিনা
কিছুতেই না।
.
-"আরে পাগলি কাঁদছো কেন? আমিত
আছি,আমি জানি আমার আরু আমায়
ছেড়ে কোথাও যেতে পারে না।
মাফত আমি চাব আমি তোমায় অনেক
কষ্ট দিছি।
.
-"না বাবু সব আমার দোষ এর জন্য আমি
দায়ী। আমায় আর ছেড়ে যাবা
নাতো??
.
-"যাবো না,কিন্তু যদি আল্লাহ্ নিয়ে
যায় তখন কি করব,,,,,,,,,,,
.
নাহিদ কথাটা বলতে না বলতে
আরিয়ানা আরো জোড়ে কেঁদে দিল।
নাহিদ কি করবে বুঝতে পারছিল
না,মজা করতে যেয়ে কাদিয়েই দিল।
আরিয়ানার কাছে যেয়ে
আরিয়ানাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। আর
পাগলিটা কেঁদে কেদে নাহিদের
শার্টটাই ভিজিয়ে দিল।
.
-"আমায় কাঁদাতে খুব ভাল লাগে নাহ।
.
-"সরি নাহ,আমি মজা করছিলাম।
.
-"আজ থেকে আর আমায় কোন কষ্ট দিবা
নাত?
.
-"না দেবো না।
.
-"আমায় অনেক অনেক ভালবাসবা?
.
-"হুম বাসবো।
.
-"কখনো দুরে যাবা নাতো?
.
-"হুম যাবো না।
.
-"আজ থেকে আমি ছাড়া অন্য কোন
মেয়ের দিকে তাকাতে পারবা না।
.
-"তুমি থাকলে তাকাবো না,কিন্তু
তুমি না থাকলে তাকাবো।
.
-"কিহ,,,,,,খুন করে ফেলবো একদম।
.
-"বাপরে কি দাজ্জাল মেয়ে।
.
-"হুম দাজ্জালই,তোমায় কারো সাথে
শেয়ার করতে পারব না। ভালবাসি
বলো।
.
-"হুম আই লাভ ইউ,আই লাভ ইউ আই লাভ ইউ।
.
-"আই লাভ ইউ টু বাবু।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now