বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অতএব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "অতএব" মোঃ রুখসাদ খন্দকার প্রিয় (১) আজ সুয্যিমামা প্রচুর রাগ করেছে।বোধহয় মামীর সাথে ঝগড়া করেছে,আর তালটা ঝাড়ছে আমজনতার উপর।এত বেশি রাগ যে,রাস্তার পিচগুলোকেও গলিয়ে দিবে হয়তো।রাগের পরিমানটা এতটাই বেশি যে কুকুরগুলোও হাপাচ্ছে।মনে হয়,এই কুকুরগুলোর বড় জিহ্বা বের করে ধুকধুক করে হাপানোর দৃশ্যটা দেখলে হিটলারের মনেও মায়া লাগতো। মমিনের শার্টটা ভিজে চপচপে হয়ে আছে।কপাল থেকে ঘাম চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে।কোমর থেকে গামছাটা খুলে বারবার ঘাম মুছছে মমিন।তাতে ঘামের ধারা কমছেনা,বরংচো ঘাম আরও বেশি পরিমানে বের হচ্ছে।তবুও থেমে নেই তার পায়ের পেশি,থেমে নেই ওর বড় আদরের রিক্সার চাকা।বড় আদরের কারন এই রিক্সাটা পাঁচ বছর ধরে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।রিক্সাটা অনেক আগের,অনেক অনেক বছর আগের হয়তো।রিক্সাটার বয়স কত হবে,মমিনও ঠিক জানেনা।শফির বাজার থেকে বছর পাঁচেক আগে কিনেছে,পুরনো রিক্সাটা যার কাছে কিনেছে সেও হয়তো জানেনা ঠিক কোথায় এর উৎপত্তিস্থল। কয়েকদিন থেকে প্রচুর খাটনি করছে অলস মমিন,যেখানে আগে একটু রোদ দেখলেই ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতো,আর বারবার লেবুপানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতো,সেখানে তিন দিন থেকে মমিন এই কাঠফাটা রোদে প্রচুর পরিশ্রম করছে। এই অলস কাজের দাড়াই অলস মমিনের ভালই চলছিল।বুড়ো মা,আর বউকে নিয়ে বেশ সুখি ই ছিল।আজ এই প্রচন্ড গরমে মমিনের ভিতরটা হাসপাস করছে। রিক্সায় বসে এক জোড়া কপোত কপোতী।ঠিক তা নয়,বিয়ে হয়েছো হয়তো।তাদের কথাবার্তা শুনে মুচকি মুচকি হাসছে মমিন, আরিফার কথা ভীষন মনে পড়ে গেল ওর। আরিফা মমিনের বউ।বিয়ে হয়েছে মাস চারেক আগে।ভীষন লজ্জা পায় মমিনের বউটা।মাঝে মাঝে যখন আরিফার নাকে একটু করে ঘাম জমে,তখন ভীষন ভালো লাগে মমিনের।ওর সবচেয়ে ভাল লাগে যখন আরিফার গালে টোল পড়ে। মমিনের মনটা একটু দম নিতে চায়,কিন্তু মমিন থামেনা।ঘুরতে থাকে তার রিক্সার প্যাটেল।হঠাৎ পিছনের কিছু কথা শুনে অনেক বেশি খারাপ লাগে মমিনের। -শোনো,আমি কিন্তু তোমার বুড়ো বাপমায়ের অতো দেখভাল করতে পারবোনা।কয়দিন পর আমাদের কোলজুড়ে একটা ছোট্ট সোনা আসবে।তার যত্ন নিবো,নাকি বুড়োবুড়ির। কত আর বয়স হবে মেয়েটার।এইতো আরিফার থেকে একটু বড় হবে হয়তো।তার মুখে এরকম কথা শুনে একদম স্তব্ধ হয়ে যায়।তার চেয়ে আরও বেশি খারাপ লাগে ছেলেটার কথা শুনে।এরকম অভাগা ছেলের কথা শুনে পিছন ফিরে একবার দেখে নেয় অর্ক। -আর কিছুদিন পর অপেক্ষা করো সোনা, দুজনকেই বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে। কথাগুলো মমিনের এতটাই ঘৃনিত মনে হয় যে ছেলেটাকে কষে দুতিনটে থাপ্পর মারতে ইচ্ছে করছে ওর।কিন্তু উপরওয়ালা তো সবাইকে সবকিছু করার অধিকার দেয়না।সে যে সামান্য একজন রিক্সাচালক।রাস্তায় এক গাদা থুথু ফেলে ঘৃনা প্রকাশ করে মমিন। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছে যায় মমিন।ছেলেটার দিকে তাকাতেও ইচ্ছে করছেনা ওর।মমিনকে একটা বিশ টাকার নোট দেয়। -কত দিলেন? -কেনো চোখে দেখোনা।ভাড়া তো ত্রিশ টাকা। -কতদিন থেকে রিক্সা চালাও।ভাড়া ত্রিশ টাকা মানে,কতদিন থেকে রিক্সা চালাও মিয়া।ফাজলামি,মেডিকেল মোড় থেকে এইখানে ভাড়া ত্রিশ টাকা। কষে দুতিনটে থাপ্পর লাগিয়ে দিলে সোজা হবে। মেজাজ গরম হওয়ার কথা ছিল মমিনের।কিন্তু অভ্যেস হয়ে গেছে ওর।বড়লোকেরা সত্যিই নিকৃস্ট হয়।আর কেউ হলে একটা কথা ছিল।কিন্তু মমিন এর টাকা কিছুতেই ছাড়বেনা,কারন মমিনার চোখে এই পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃস্ট ব্যক্তি। -খামোখা,এই ছোটলোকের সাথে কেন ছগড়া করছো।দিয়েই দেওনা দশটা টাকা।দিয়ে বিদেয় করো, যত্তসব। মমিন মনে মনে বলতে থাকে, "ছোট লোক আমি না তুই,জোৎচোর কোথাকার।এতদিন যারা এত কস্ট করে বড় করলো তাদেরই দুরে সড়ায় দিলি,তোদের মতো ছোটলোকেদের.........." মমিনের রিক্সার সিটে অনেক মানুষই বসে।মানুষ সম্পর্কে একটা ধারনা হয়ে গেছে মমিনের।হাতের পাঁচ আঙ্গুল যেমন সমান নয়,তেমনি মানুষের মাঝেও আকাশপাতাল পার্থক্য।কেউ ভালো,কেউ নিকৃস্ট।এর রহস্যটা একমাত্র উপরওয়ালা ই জানেন... (২) সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর শফির বাজার থেকে চাল,শাক আর পুটি মাছ,আর একটা প্যাকেটে আরিফার জন্য লাল একটা শাড়ি নিয়ে বাড়িতে ফিরে মমিন।শহর থেকে একটু দুরে কাচা রাস্তার ধারে মমিনের বাড়ি।ঠিক বাড়ি বলা যায় না।ঠিক বাড়ি বলা যায়না,দুটো খড়ের ঘড়,আর একটা চালা।চারদিকে সুপারির ঢোনা দিয়ে ঘেরা।সুপারির গাছের ঢোনাগুলো গ্রামাঞ্চলে বাশের বেড়ার বিকল্প হিসেবে কাজ করে।একে গরীবের বাশ বলা যায়।রিক্সা থেকে নেমে বাজারের ব্যাগটা রেখে,ঐ ব্যাগটা নিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে মমিন।ঘর থেকে বেরিয়ে ছোট কল টার কাছে গিয়ে গায়ে দু তিন বদনা পানি ঢালে মমিন।আরিফা গামছা আর লুঙ্গী নিয়ে পাশে গিয়ে দাড়ায়।এতক্ষন শাশুড়ির সাথে টুকটাক গল্প করছিলো আরিফা।আরিফার সাথে কোন কথা না বলে মায়ের দেখা করতে ও ঘরের দিকে পা বাড়ায় মমিন।এদিকে আরিফা ওর স্বামীর জন্য ভাত বাড়ে। -মা,আপনের শরীর কেমন? ছেলের হাতদুখানা ধরে মমিনের মা বলে উঠে, -ভালা আছিরে বাপ। ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকেন আর টুকটাক কথা চলতে থাকে মা ছেলের। ওদিকে আরিফা ডাক দেয়, -আহেন,ভাত ঠান্ডা হয়া যাবো -যা বাপ,ভাত খায়া নে। -মা আপনে খাইছেন। -হ খাইছি। বিছানায় একটা ছোট কুপবাতির আলোতে খেতে বসে মমিন।আলোটা টিমটিম করে জ্বলছে।আরিফা দাড়িয়ে দাড়িয়ে হাতপাখা দিয়ে মমিনকে বাতাস করছে।কাসার প্লেটে ভাত,কলমি শাক আর বেগুন ভাজি।এগুলো খেয়েই যেন রাজ্যের সুখ পাচ্ছে মমিন।ভাত খাওয়া শেষ হয়ে মমিন যখন খাটে শুয়ে পড়লো।মমিন বলে উঠে, -বউ খাচিস? -তোমা না খাইলে মুই কোনদিন খাচুং। -আচ্ছা,খেয়া নে। -হ।তোমাক একখান কথা কওয়ার চাং? -বউ,বলি ফেল. -মাওয়ের শরীর বেশি ভাল্ যায়ছেনা।ঔষধ শেষ।কালকের ঔষধ নাই। -বলিস কি?আম্মার ঔষধ শ্যাষ। -হ -আচ্ছা আনা যাইবো।বউ,শফির বাজার থাকি তোর জন্য এখান জিনিস আনছুং। -কি জিনিস? -একখান শাড়ি।দেখতো পছন্দ হয়? -তোমা মোক ভাবেন কি?মাওয়ের অসুখ।ঔষধ কিনতে ম্যাল্লা টাকার দরকার।এলায় মোর সাড়ি নেওয়া সাজে।আর মোর তো ম্যাল্লা শাড়ি। -ঔষধ কিনার টাকা হইবে এলা।তুই শাড়িটা পিইন্দা আয় দেখোং কেমন নাগে? -না,মুই নেইম না।তোমা ওইটা ফেরৎ দিয়া অ্যালায় ঔষধ ধরি আইসো। আরিফাকে জোড় করার ইচ্ছা থাকলেও,কোন উপায় নেই মমিনের।কারন আল্লাহ তাকে সেই ক্ষমতা দেয়নি।শান্তির হাট গিয়ে শাড়িটা ফেরৎ দিয়ে মায়ের জন্য ঔষধ নিয়ে আসে মমিন।আসার সময় এক টাকা দিয়ে কয়েকটা বিড়ি নেয় মমিন।বিড়ি খাইকে নিষেধ করে আরিফা তবুও চুপ চুপ করে মাঝে মাঝে টান মারে মমিন। (৩) এখনও ঠিকমতো পরিষ্কারই হয়নি আকাশ।অন্ধকার ভাবটা রয়েই গেছে।তার আগেই উঠে পরে মমিন।আরিফা এখনও ঘুমে।ওর ঘুমন্ত মুখটাতে হালকা আলোর আভা এসে পড়ছে।মাধুর্যতা যেন ঠিকরে ঠিকরে বেরুচ্ছে।নিস্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে আছে মমিন।তার মনটা ভীষন খারাপ।মমিন ভাবছে,যাই বলুক না কেন আরিফা ঠিকই মন খারাপ করেছে।ওকে শাড়ি এনে দিতেই হবে।যতই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করুক। স্বামীর কল চাপার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় আরিফার।হাতমুখ ধোয়া হলে স্বামীর পান্তাভাত বেড়ে দেয় আরিফা। -বউ,একখান মরিচ দে। -ও মরিচ দেওয়ার ভুলি গেছিনুং।তা তোমা এলা দুপুরে আইসেন না কেনে?সারাদিন না খেয়া থাকলে হইবে?আসি একনা খেয়া যাইবেন। -নে,এক গাস খা। -যাও,মোর লজ্জা নাগে। জোড় করে আরিফার মুখে ভাত ঢুকিয়ে দেয় মমিন।মমিন আরিফার অতুলনীয় ভালবাসা দেখে হয়তো পাখিগুলোর কিচিরমিচির আরো বেড়ে যায়। খাওয়াদাওয়া শেষে মায়ের সাথে কথা বলে চলে যায় মমিন।আরিফা রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসে মমিনকে।তাকিয়ে থাকে মমিনের রিক্সায়।যতক্ষন পর্যন্ত মিলিয়ে না যায়,ততক্ষন সেখানেই দাড়িয়ে থাকে আরিফা। তার চোখ বেয়ে দুফোটা জল নামে।হয়তো এ কান্না ভালবাসার....... মমিন আর তার মাকে নিয়ে ভীষন খুশি আরিফা।কিন্তু মাঝে মাঝে ভয় হয় আরিফার,অধিক ভালবাসার জিনিসগুলো বেশিদিন থাকেনা।উপরওয়ালা কেড়ে নেন। (৪) কিছুদিন পরের কথা: রাস্তায় একটা জটলা দেখা যাচ্ছে।চারপাশে প্রচুর ভীর।মাঝখানে একটা লোক আর রিক্সা পড়ে আছে।লোকটা ভীষনভাবে কাতড়াচ্ছে।একটু আগে একটা ট্রাকের ধাক্কা খেয়ে এ অবস্থা।ট্রাকটা রয়ে গেছে,ড্রাইভার আর হেল্পার পালিয়ে গেছে।লোকটার প্রান যায় যায় অবস্থা।অথচ জনসাধারন নির্বাক।কেউ ট্রাক ভাঙছে,কেউ সমবেদনা জানাচ্ছে..."আহারে লোকটাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার"।কিন্তু কেউই এগিয়ে আসছেনা।মানুষ আসলে অনেক বেশি স্বার্থপর।কিন্তু হাতের পাচ আঙ্গুল তো সমান না।হঠাৎই একজন এসে লোকটাকে রিক্সায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।কিছুক্ষন পর পুলিশ এসে ট্রাক আর রিক্সাটা থানায় নিয়ে যায়।লোকদের জটলাও কমে যায়।পড়ে থাকে লোকটার কিছু রক্ত।ওগুলোও থাকবেনা হয়তো,যেভাবে কুকুর চাটছে।আসলেই দৃশ্যটা মর্মান্তিক আর স্পর্শকাতর।আর পড়ে আছে একটা লাল শাড়ি.......... এদিকে বিকেল থেকে মমিনের বাড়ির মাথার উপর কাক কাকা করছে। মমিনের মা আরিফাকে কাছে দেখে বললো, "বৌমা,কাক ডাকাইলে তো বিপদ হয়" আরিফা বলে,"হ মা মোরও বাও চোখটা কেমন যেন তরপায়ছে" লোকটার অবস্থা খুবই খারাপ।হাসপাতালে নিয়ে যেতে না যেতেই হারিয়ে যায় না ফেরার দেশে।এখনও জানেনা তার বাড়ির কেউ।তার উপর নির্ভর করে হয়তো পরিবার চলতো।এখন কি করে তারা চলবে?আসলেই বাস্তবতা নামক শব্দটার কোন মায়া থাকেনা।গ্রীস্মের সূয্যিমামার মতো নির্দয়...... অনেক রাত হয়ে গেল।এখনও আসছেনা মমিন।দুশ্চিন্তায় মমিনের মা ও উচপিচ করছে। হঠাৎ মমিনের ডাকে যেন প্রান খুজে পায় আরিফা। -তোমা এতক্ষন কোটে আছিলেন? -আরে বউ কইসনা আর।রহিম মুন্সীর ব্যাটাটাক ট্রাক চাপা দিছে। -কও কি? -হ,মইরা গ্যাছে। -হাসপাতালে নিয়া গেনুং।তায় দেরী হয়া গেল।লাল শাড়িটা গ্যানজামোত হারে গেইছে। -নাগবেনা মোর নাল শাড়ি।তোমা খালি ঠিক সময়ে বাড়ি আইসেন। আরিফার ঠোটে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে,আর চোখে এক ফোটা জল।সবাই তার প্রেয়সীর এই রূপ ই বুঝি দেখতে চায়। ................................................... ### মানুষ স্বপ্ন দেখে বলেই সে বেঁচে থাকে।আর স্বপ্ন সত্যি হয়না বলেই,মানুষ গেয়ে চলে জীবনের গান।বাস্তবতার পিস্টনে মিশে যায় অনেকের স্বপ্ন।একটাই রিকুয়েস্ট সবার কাছে,মানুষকে মানুষ ভাবতে শিখুন,আর অনুগ্রহসূচক নিজের বাবামায়ের কথা একটু হলেও ভাববেন......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অতএব
→ অতএব সাবধান!
→ অতএব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now