বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
[ ৪ ] " সারাদিন কিছু খান নি, কিছু একটা মুখে দিন। " মৌমিতা নিশ্চুপ,আমি বলেই যাচ্ছি " এভাবে না খেয়ে থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবেন " মৌমিতা চিৎকার করে উঠলো, " আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না। আপনি যান এখান থেকে " " কিছু একটা মুখে দেন প্লিজ " " কেনো বিরক্ত করছেন?" আর কিছু বললাম না, চুপচাপ বারান্দায় চলে এলাম। আমারই দোষ, কেনো মিছেমিছি বেচারিকে বিরক্ত করতে গেলাম। এখন নিজের খারাপ লাগছে, আমি বারান্দার গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে আছি। কারো পায়ের শব্দে ঘুরে তাকালাম, তাকিয়ে দেখি মৌমিতা সে বললো, " আমি আপনার সাথে থাকা আমার পক্ষে অসম্ভব। দয়া করে আমাদের ডিভোর্সের ব্যবস্থা করুন। আমি তূর্যের সাথে কথা বলেছি এ ব্যপারে " আমি কিছু বললাম না, নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলাম। কি বলার আছে, মেয়েটা তো আগেই আমাকে বলেছিলো। তখন যদি না করতাম তবে হয়তো কিছু একটা হতো। আমি ভেবেছিলাম, মৌমিতা হয়তো আমাকে মেনে নেবে কিন্তু কিছুই হলোনা। তার প্রশ্নে আমার চিন্তার ছেদ ঘটলো, "কি হলো, কথা বলেন না কেনো? " " আচ্ছা আমার অপরাধটা কি?" মৌমিতা কিছু বললো না, রুমে চলে গেলো সে। আমি সারাটা রাত জেগে রইলাম। চারিদিকের পরিবেশ খুব নিরব থাকলেও বুকের ভেতর জটিল হিসেব নিকেশের একটা মহাপ্রলয় চললো সারাটা রাত। [ ৫ ] " আপনি কি ভাবে জেনে শুনে এই কাজ করতে পারলেন? " মৌমিতার লাভার তূর্যের কথায় আমি নির্বাক। সেই কখন থেকে সে কথা বলে যাচ্ছে অবিরত,আমি শুধু গিলছি। " মৌমিতা মানা না করলে আমি আপনাকে খুন করতাম " এবার আমি একটু হাসলাম। এই প্রথম বারের মতো উত্তরে বললাম, " আপনার কি মনে হয়, আমি কি এখনো খুন হয়নি? " আমার প্রশ্নে বেচারা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। পাশে বসা মৌমিতার মধ্যেও ইতস্তত ভাব দেখতে পেলাম। আমি নিজে থেকেই তূর্যের সাথে দেখা করতে চেয়েছি। এতো সুন্দর একটা মেয়ে যার ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করেছে তাকে একবার দেখার ইচ্ছেটা বাদ দিতে পারলাম না কোন মতেই। কিছু সময়ের নিরবতা ভেঙ্গে আমি বললাম, " আমাকে কিছুদিন সময় দিতে হবে, বাসার ঝামেলা শেষ হয়ে গেলে স্পেশালী ভাইয়া আর ভাবী চলে যাওয়ার পর আমি আপনার মৌমিতাকে আপনার হাতেই তুলে দেবো। কিন্তু ততোটুক সময় মৌমিতাকে আমার স্ত্রী হিসেবে থাকতে হবে।" আমার কথা শুনে তূর্য সাহেবের চোখে মুখে অবিশ্বাসের ছাপ ফুটে উঠলো, সেটা বুঝতে পেরে আমি বেচারার #দ্বিধা ভেঙ্গে দিলাম। " কথা দিচ্ছি,আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন " কথাটা বলেই রেস্টুরেন্টের টেবিল ছেড়ে উঠে এলাম। বাইরে দাঁড়িয়ে আছি, গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে, অবশ্য বিকেল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিলো আজকে। আমি সিগারেট ফুঁকছি আর অপেক্ষা করছি মৌমিতার জন্য। এতো দেরি করছে কেনো মেয়েটা? বৃষ্টির বেগ বাড়ার আগেই বাসায় যেতে পারলে ভালো। ভালোবাসার মানুষের সাথে কাটানো অনেক দীর্ঘ সময়টাও হয়তো অনেক অল্প হয়। যদিও এ ব্যপারে আমার জ্ঞান শূন্যের কোটায়। জীবনে প্রেম করতে পারলাম না, আসলে ঠিক তা নয়। প্রেম করিনি আমি, ভয় ছিলো যদি জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারি। হঠাৎ করেই মেঘলার কথাটা মনে পড়লো, মেয়েটা হয়তো প্রচন্ড ভালোবাসতো আমায়। আমি কখনোই বুঝতে পারিনি। ভার্সিটিতে থাকতে এই মেয়েটা ভীষন কেয়ার করতো, নানা বাহানায় কথা বলতে চাইতো আমার সাথে। আমিও যে তাকে ভাবতামনা সেটা নয় কিন্তু কেনো জানি হয়নি। তখন হয়তো অর্ধপূর্ণ যান্ত্রিক মানব ছিলাম আর এখন পুরোটা। " আমি সিগারেটের গন্ধ একদম সহ্য করতে পারিনা " মৌমিতার কথায় ঘুরে তাকালাম, কিছু বললাম না। চোখের পলকে সিগারেটটা ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। রিক্সায় করে বাসায় ফিরছি, দুজনেই বৃষ্টির ছাটে পুরো কাকভেজা অবস্থা। কোন এক সময় চিন্তা করতাম, একদিন #রিক্সায় করে শহরের রাজপথ দাপিয়ে বেড়াবো পাশে থাকবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর একজন মনবী। অবশেষে আজ ইচ্ছেটা পূর্ণতা পেলো, এই অনাহুত জীবনে এতটুকুই বা কম কিসের। [ ৬ ] ভাইয়া ভাবীকে তুলে দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বেড়িয়ে এলাম। আজ দশ তারিখ, তূর্য সাহেবকে দেয়া কথাটা রাখার দিন। ফোন দিলাম আমার লয়্যার জনাব খালেদ আহমদ কে। তারপর তূর্য সাহেবকে আর মৌমিতা আমার সাথেই ছিলো। অফিসে পৌঁছতেই দেখি তূর্য সাহেবও উপস্থিত। কাগজ পত্র ঠিকঠাক করতে কিছুটা সময় লাগলো, বাকী শুধু সই করা। আমি মৌমিতার দিকে তাকিয়ে বললাম, " ছোট্ট একটা প্রশ্ন ছিলো? " আমার কথা শুনে মৌমিতা বললো, " জ্বী করেন " " আচ্ছা আমার অপরাধটা কি, একবার জানতে পারি ? " মৌমিতা নিশ্চুপ, কোন উত্তর দিলোনা সে। আমি একটু হাসলাম, চুপাচাপ ডিভোর্স পেপারে সাইন করে বেড়িয়ে এলাম অফিস থেকে। আসার সময় তাদের দেয়া আংটির বক্সটা মৌমিতার হাতে ধরিয়ে দিয়ে এসেছি যার মধ্যে আংটি আছে আর আছে ছোট্ট একটা চিরকুট " কখনো যদি নিজেকে প্রচন্ড একা ভাবো তবে চলে এসো তোমার পুরনো ঠিকানায়" হাটছি আমি, কেনো জানি রিক্সা নিতে ইচ্ছে করছেনা। ভেতরে কিসের যেনো একটা শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে। আসলে জোর করে কিছুই হয়না, আমি চাইলে মৌমিতাকে নিয়ে এক ছাদের নিচে থাকতে পারতাম কিন্তু তাতে লাভ? আমাদের দুটি সত্ত্বা কখনোই এক হতে পারতো না। জানি মানুষজন শুনলে আমাকে অপদার্থ গালি দেবে, হাজার রকমের প্রশ্ন করবে। কিন্তু জোর করে কাউকে কিছু চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়, সেটা কেউ বুঝতে চাইবেনা। সবারই নিজস্বতা বলতে কিছু জিনিস থাকে। মৌমিতারও আলাদা একটা পৃথিবী আছে যে পৃথিবীতে আমার কোন স্থান নেই আর হবেও না কখনো সেটা স্পষ্ট। তবে কেউ একজন তো তার ভালোবাসাকে পেয়েছে এটাই বা কম কিসের। দুজনের জয় কোন দিন সম্ভব নয় তাই আমিই না হয় হেরে গেলাম। আপাতত চিন্তা মাকে নিয়ে,উনাকে কিভাবে সামলাবো কিছুই বুঝতে পারছিনা। পকেট থেকে সিগারেট বের করে মুখে পুরতেই মনে হলো, মৌমিতা সিগারেটের গন্ধ সহ্য করতে পারেনা, ছুঁড়ে ফেলে দিলাম সিগারেটটা। ভীষণ অবাক হলাম আমার চোখে কয়েক ফোটা অশ্রু বিন্দুর উপস্থিতি বুঝতে পেরে। আচ্ছা এটা কি তীব্র একটা কষ্টের অশ্রুবিন্দু যা মৌমিতার প্রতি মাত্র কয়েকদিনে গড়ে উঠা আমার প্রথম ভালোবাসার প্রতিমূর্তি? ঠিক বুঝলাম না আমি। মাথার ভেতরে একটা শূন্যস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, অসম্ভব রকমের বিশাল একটা শূন্যতা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now