বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অসমাপ্ত কাব্য
-অমিত
[ ১ ]
" প্লিজ, আপনি আমার কাছে আসবেন না "
বিয়ের প্রথম রাতে নিজের বৌয়ের মুখ থেকে এই রকম কথা শুনে বিশাল একটা ধাক্কা খাওয়ার কথা আমার,কিন্তু আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই কথাটা নিলাম। কারণ এই রকম কিছু একটা হবে সেটা আমি আগেই আঁচ করতে পেরেছিলাম তাই এই অবস্থার জন্য মোটামুটি মানসিক প্রস্তুতি ছিলো আমার। তার কথা শুনে আমি বরং একটু হাসলাম। আস্তে আস্তে মাথার টোপর খুলে ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে বিছানা থেকে বালিশটা নিয়ে সোজা চলে গেলাম বারান্দায়। দরজা টেনে দিলাম যাতে ও ঘুমাতে অস্বস্তি বোধ না করে। হেলান দিয়ে বসে আছি বারান্দায়। নিশুতি রাত,বাইরে অপূর্ব জ্যোৎস্না সাথে ঝিঁঝিঁ পোকার বিরামহীন আহাজারি। আসলে সবকিছু মিলিয়ে ঠিক কোন অবস্থানে আমি আর সামনে কি হতে যাচ্ছে তা বোধগম্য হচ্ছেনা আমার। আমার ঘর, আমার সব অথছ আমাকেই এখন বারান্দায় ঘুমাতে হচ্ছে, বড্ড হাসি পাচ্ছে। সমগ্র ঘর জুড়ে এখন এই অপরিচিতার রাজত্ব, হ্যাঁ অপিচিতাইতো সে। আচ্ছা আদৌ কি সে রাজত্ব করতে চাইবে? নিজের করা প্রশ্নের কোন উত্তর দিলোনা মন। ভীষন ক্লান্ত আমি অথছ ঘুমাতে পারছিনা। অবশ্য কিচ্ছু করারও নেই, এখন এই রুমের বাইরে যাওয়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়। আমাদের বিয়েটা সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে হলেও কিছু মেহমান বাড়িতে এসেছেন, উনারা আমাকে বাইরে দেখলে কি ভাববেন।
হুট করে বিয়ে করা আমার স্ত্রী রূপে যে মেয়েটার এখন আমার পুরো সাম্রাজ্য শাসন করার কথা তার নাম মৌমিতা। নামের মতই অদ্ভুত রকমের সুন্দর সে, চোখ দুটো তার ভীষন মায়াময় তা ছবি দেখে বুঝেছি। ছবিতে তার ঠোঁটের বাম দিকের ছোট্ট তিলটাও আমার চোখ এড়াতে পারেনি। কিভাবে পারবে? কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, এই তিলটাই তার সৌন্দর্যের পূর্ণতা এনে দিয়েছে সম্পূর্ণ রুপে। আচ্ছা তার চুল গুলো কতটুকু লম্বা হবে? সে হাসলে কি তার গালে টোল পড়ে? প্রচুর জানতে ইচ্ছে করছে।
[ ২ ]
মৌমিতাদের বাড়ি হচ্ছে আমাদের পুরনো বাড়ীর কাছাকাছি। মফস্বল এড়িয়ায় আমার বেড়ে উঠা, দুই ভাইয়ের মধ্যে আমি ছোট। ছোট বেলায় বাবা মারা যান, তারপর নিজের চোখে দেখেছি আমাদের দুই ভাইকে নিয়ে মায়ের সংগ্রাম। বর্তমানে ভাইয়া উনার পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আছেন প্রায় ৬ বছর। বাড়িতে আমরা দুই ভাই আর মা থাকতাম। মৌমিতারা ঠিক কবে আমাদের পাড়ায় আসেন সেটা মনে নেই আমার তবে প্রায় দিন বিকেলে মৌমিতার মাকে আমাদের বাসায় দেখা যেতো। উনি নাকি মায়ের স্কুল জীবনের বান্ধবী ছিলেন। আমি তখন ইন্টার শেষ দিকে পড়ি, ভালো রেজাল্ট করতে হবে, ভালো ভার্সিটিতে চান্স পেতে হবে। সারা দিনরাত স্যারের বাসা আর পড়া নিয়ে থাকতাম। মৌমিতাকেও প্রায় সময় দেখা যেতো আমাদের বাসায় কিন্তু কখনোই কথা বলা হয়নি তার সাথে, খুব একটা প্রয়োজন না থাকলে আমি কারো সাথে তেমন একটা কথা বলতাম না। আসলে আমি একটু ঘরকুনো টাইপ ছেলে ছিলাম অবশ্য আজো এর থেকে খুব বেশি একটা উত্তরণ ঘটেনি আমার। তারপর ভাইয়ার স্কলারশিপ হয়ে যায় আর আমিও জাহাঙ্গীরনগরে চান্স পাই। বাড়িতে মাকে একলা রেখে আসা কোন উপয়ায়েই সম্ভব ছিলোনা তাই পুরনো বাড়ি বিক্রি করে আমরা ঢাকায় চলে আসি তাও প্রায় ৬ বছর। তারপর থেকে মৌমিতাদের সাথে কোন যোগাযোগ ছিলো না কিন্তু কয়েকদিন আগে মা হঠাৎ করেই আমাদের পুরনো এলাকায় যাওয়া কথা বলেন,কারণ মৌমিতার মা নাকি অনেক অসুস্থ। অনেক দিন যাওয়া হয়না তাই আমিও রাজি হয়ে যাই। তারপর যা হলো তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। মৌমিতার মাকে দেয়া আমার মায়ের কথা অনুযায়ী বাধ্য ছেলের মতো মৌমিতাকে বিয়ে করতে হলো আমার। অথছ আমার প্ল্যান ছিলো আর দুই বছর পর বিয়েটা করার। বিয়ের আগে মৌমিতার সাথে মাত্র একবার কথা বলেছিলাম,
" ভালো আছেন? "
" শুনেন, আপনাকে স্পষ্ট করে বলি। আমি একটা ছেলেকে প্রচন্ড ভালোবাসি আমি তাকেই বিয়ে করবো।"
" জ্বী, কিন্তু এই বিয়ে?"
" আমার মা অসুস্থ, তাই আমি যাস্ট মায়ের ইচ্ছা পুরনের জন্য আপনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি। মা সুস্থ হয়ে গেলে আমরা আলাদা হয়ে যাবো "
আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম, লাইন কেটে গেলো। আর কোন কথা হয়নি, ভারি মিষ্টি গলা মেয়েটার। আরেকটু কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো আমার কিন্তু সবকিছুর উর্দ্ধে তখন আমি কি করবো তা ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। মাকে কথাটা কি বলা ঠিক হবে? মা যদি মৌমিতার মাকে বলে দেন তখন কি হবে? উনি ভীষন অসুস্থ, আর এই ব্যাপারটা শুনে পরে যদি উল্টা পাল্ট কিছু হয়ে যায় তবে? তাই ব্যপারটা চেপে গেলাম। ভাবলাম এরকম রিলেশন থাকতেই পারে, বিয়ের পরে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে।
[ ৩ ]
" আর কতো ঘুমাবে? উঠো এখন। দেখোনা কতো সুন্দর রোদ উঠেছে "
মৌমিতা মাত্রই গোসল করে বারন্দায় এসেছে, ভেজা চুলের যেনো এক অপ্সরীকে দেখছি,কিন্তু মুখটা অস্পষ্ট তার। ঠিক তখনই মোবাইলের শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো, এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম। রাতে ফোন অফ করেই ঘুমিয়ে ছিলাম,এটা এলার্মের শব্দ। প্রতিদিন গদবাধা নিয়মানুযায়ী ৭ টায় আমাকে উঠতে হয়, তারপর অফিস। রাতে কখন ঘুমিয়েছি ঠিক বলতে পারিনা। আশে পাশে কিছু মশার উপস্থিতি লক্ষ করলাম,উনাদের আকৃতি ঢোল থেকে কোন অংশে কম নয়। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই মৌমিতা চোখে পড়লো। গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে সে। খুব নিঃশব্দে দরজাটা এটে দিয়ে জানালার পর্দা টেনে দিলাম। একটু ঘুমাক বেচারি, সারা রাত হয়তো ঘুমায়নি। আমি ফ্রেশ হয়ে নিচে নাস্তা করতে গেলাম। আমাকে টেবিলে একা দেখে মা প্রশ্ন করলেন,
" বৌ মা কোথায়? "
" ও ঘুমাচ্ছে, ডাকার দরকার নেই। ঘুমাক আরেকটু "
মা আর কিছু বললেন না, আমি নাস্তা সেরে পাড়ার মোড়ের দিকে গেলাম। অফিস থেকে ৭দিনের ছুটি নিয়েছি, আজ ৪র্থ দিন। একটা সিগারেট কিনে চায়ের স্টলের ভেতরে ঢুকলাম, হাতে পত্রিকা। আমাকে দেখেই পাড়ার শায়েক ভাই বেশ বড়সড় ডাক ছাড়লেন,
" আরে তন্ময় ভাই যে, তা সারা রাত কেমন কাটলো? "
কথাটা বলেই ফিক করে হাসলেন তিনি। আমিও যোগ দিলাম উনার সাথে।
" লজ্জা পাচ্ছেন কেনো। আরে মিয়া এই রাতের কথা সারাজীবন মনে রাখবেন। হাজার চাইলেও ভুলতে পারবেন না।"
আমি হেসে বললাম,
" তা অবশ্য বটে "
দুপুরে বাসায় ফিরে দেখি হুলস্থুল ব্যাপার। ভাইয়া আর ভাবী আমাকে না জানিয়েই চলে এসেছেন। ফ্লাইট দেরী করায় গতকাল রাতে আসতে পারেননি । মা ভীষন ব্যস্ত রান্না ঘরে। ভাইয়ার সাথে কথা বলে আমি আমার রুমে গেলাম। রুমে ঢুকতেই দেখি ভাবী মুখ কালো করে বসে আছেন পাশেই মৌমিতা। তবে কি মৌমিতা সব বলে দিয়েছে? বুকটা কেঁপে উঠলো একবার। নিজেকে সামলে নিলাম। ভাবী বললেন,
" কাল এসে পৌঁছানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। বড্ড খারাপ লাগছে"
" তাই বুঝি তোমার মন খারাপ ? "
প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিয়ে একটু থামলাম আমি, তিনি বললেন,
" হ্যাঁ,আচ্ছা তুমিই বলো একমাত্র দেবরের বিয়েতে থাকতে পারিনি মন খারাপ হবে না তো কি হবে?"
আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম, তার মানে মৌমিতা কিচ্ছু বলেনি ভাবী কে। অবশ্য বললে এতো সময়ে ভাবী বিচ্ছিরি একটা অবস্থা তৈরি করতেন। আর যাই হউক হয়তো মৌমিতাও #ব্যপারটা বুঝতে পেরেছে, চালাক আছে মেয়েটা। আমাদের বিয়ের দুই দিন পর মৌমিতার মা মার যান। আমাদের বাড়ীর সবাই যখন রিসিপশন নিয়ে তোড়জোড় করছিলেন তখনি মৃত্যুর সংবাদটা এলো । ভাইয়ার ইচ্ছে ছিলো রিসিপশনটা বড় করে দেয়ার কিন্তু মৌমিতার মা মারা যাওয়ার ফলে কিছুই সম্ভব হলো না। আসলে ভাগ্যদেবী সুপ্রসন্ন ছিলেন না আমার প্রতি তাই অবলীলায় একের পর এক অঘটন গুলো মেনে নিতে লাগলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now