বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুই যুগ শেষে নিজেকে নিয়ে বসছি হিসাব কষতে। কিসের হিসাব? জীবনের! যাপনের! কালের! কিছুই পারছি না। দুই চোখে ধূসরতা। মনে অশান্তির দাপাদাপি। বিগত ২২ বছরের ডায়েরিটা ধুলাবালির স্তূপে পরিণত হয়েছে। কয়েকটা ছারপোকা পুনর্জন্মের বাসনায় নিঃশেষের রেশ রেখে গেছে ডায়েরির অহেফাজতের কয়েক পৃষ্ঠায়। জীবন পাতার মূল প্রচ্ছদে ফুঁ দিলে কয়েক বছরের গৃহবাঁধা ধুলাগুলো আমার বিষণ্ন অবয়বকে গুহায় আশ্রিতার মতো অচেনা করে তোলে। আমি তখন নিজেকে চিনতে পারি না। ভেতর থেকে অদৃশ্য কেউ কুঁকড়ে ওঠে বলে, এ জীবনের সঙ্গে তোর কোনো সম্পর্ক নেই। এ জীবন নিতান্ত ব্যর্থ কঙ্কালের পরিহাস। জীবনের গতিবেগ আজ নিয়ন্ত্রণহীন। ক্ষণে ক্ষণে ব্রেক ফেল করছি। যেন হাজার বছর ধরে দণ্ডায়মান কোনো অনড় বৃক্ষ। চেতনা ফিরে এলে আবার হাঁটি। গন্তব্যহীন। তখন পথে নামতে ভুলে যায় মন্থর গতিতে। বাতাসের লোনা হাওয়ায় উচ্চারণ করে বলে, কোথায় যাচ্ছিস? মরার বুঝি খুব ইচ্ছা তোর? আমি নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়াই। পেছন ফিরে দেখি কেউ নেই। কোথাও কোনো মানুষের চিহ্ন নেই। দূরের শিমুলগাছ থেকে ক্ষীণ সুর আসছে। এ যেন ভায়োলিনের সুর। মিষ্টিমধুর অথচ বেদনাদায়ক কান্নাবিজড়িত। ভেতরজুড়ে তখন চলে অনাদিকালের ঝড়-সাইক্লোন। পেছন থেকে আওয়াজ আসছে। টং টং। রিকশার হুইসেল। আওয়াজটা টানা ও দীর্ঘ। আমি পথ ছেড়ে দাঁড়াই। রিকশা পাশ কেটে চলে যাচ্ছে। খানিক বাদে অদৃশ্যে মিলিয়ে গেল। আমি খুব সূক্ষ্মভাবে ঠাহর করলাম, রিকশাচালক আমার চেয়ে হাজার গুণ সুখে আছে। মহানন্দে আছে। আসলে কি সত্য? সে কি সুখী? নাকি এই শহরে সবার ভেতর কম-বেশি দুঃখ আছে! আমার আর হিসাব করা হলো না। হিসাবের শুরু-শেষ মেলাতে পারি না। সব কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যায়। ভেতর মানুষটা বলে, এ জীবনে তোর হিসাব শেষ হবে না।
*রায়হান রাশেদ
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
*ফেসবুক থেকে পাওয়া
সূত্র:- কালের কন্ঠ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now