বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অসম প্রেম
- সাব্বির আহমেদ শাওন
আরমান ক্লাস ১০ এ পড়ে। এলাকার সবচেয়ে সুন্দর ছেলে হিসাবে তাকে সাবাই চিনে। আরমানের ক্লাসের মেয়েদের মাঝে প্রায়ই আরমান কে নিয়ে ঝগড়া হয়। তার ক্লাসে ৪০জন মেয়ে আছে। তার মাঝে ৬টা মেয়ে আরমানের প্রেমে হাবুডুবু খায়। আর ৫জন দিনের বেলা ক্লাসে বসে রুমের ছাদে আরমান কে দেখে। তবে আরমান সে দিকে দৃষ্টিপাত ও কর্ণপাত কোনটাই করে না। কারন আরমানের হয়েছে অন্য সমস্যা। এমন এক সমস্যায় আরমান পড়েছে যা কাউ কে বলতেও পারছে না সহ্য ও করতে পারছে না। দিন দিন তার সমস্যার ভারে সে ক্লান্ত হয়ে পরছে। আরমান ভেবেই পায় না দুনিয়াতে এতো মেয়ে থাকতে সে কিভাবে পাশের বাড়ির রিহা আপুর প্রেমে ডুবে ডুবে জল খায়। যে কিনা তার চেয়ে কম করে হলেও ৪বছরের বড়। আরমান রিহার প্রেমে শুধু ডুবে ডুবে জল না রীতিমতো রাতের বেলা সূর্য আর দিনের বেলা তারা দেখে। আরমানের দেখা মতে রিহা এই দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে। কি তার হাসি। হাসি দিলে গালের বাম দিকে যখন ছোট্ট একটা ডিম্পল পরে তখন আরমান তা হা করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। আর এমন লম্বা ও সিল্কী চুল আরমান জীবনেও দেখে নি। আরমান রিহা কে যতোই দেখে ততোই তার প্রতি ফিদা হয়।
আরমান ছেলেটি রিহার সামনেই বড় হয়েছে। আরমান আর রিহা ছোটকালে একসাথেই খেলতো। আরমান ছোট হলেও রিহা আর আরমানের মাঝে ভালো একটা সম্পর্ক আছে। আরমান প্রায় ঈ রিহা দের বাসায় আসে। পড়া না পাড়লে রিহার কাছে এসে পড়া শিখে যায়। কিন্তু মাস ছয়েক হলো রিহা আরমানের মাঝে কেমন একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছে। সামনে আসলে যেতে চায় না। বাড়িয়ে বাড়িয়ে কথা বলে। এতে রিহার কোন সমস্যা ছিলো না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রাস্তায় দেখলে মজনু দের মতো হা করে তাকিয়ে থাকে। আরমানের লক্ষ্যন বেশি সুবিধার মনে হচ্ছে না রিহার। আরমান কে ব্যাপার টা জিজ্ঞেস করতে হবে তার আসোলে কি সমস্যা?।
আরমান রাস্তার পাশে চায়ের টং টায় দাড়িয়ে আছে। আরমান ক্লাস ফাকি দিয়ে পালিয়ে এসেছে। কারন এখন রিহার ভার্সিটিথেকে বাসায় জাওয়ার সময়। রিহা রিক্সা দিয়ে আসছে আরমান মজনু স্টাইলে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে রিহার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রিহা রিক্সাটা থামিয়ে আরমান কে ডাক দিলো।
-এই আরমান।
-জ্বী আপু।
-আয় রিক্সায় উঠ।
আরমান এর বুক কাঁপছে। রিহা আপু হটাত তাকে রিক্সায় ডাকলো কেন। সব কিছু জেনে যায় নি তো রিহা আপু। আরমান এগুলো ভাবতে ভাবতে রিক্সায় গিয়ে উঠে আরমান।
-আচ্ছা আরমান তো কি হয়েছে বল তো ভাই।
-না মানে আপু কিছু না।
-তোতলাচ্ছিস কেন।কি হয়েছে খুলে বল আপু কে। কি সমস্যা তোর?
-কই কোন সমস্যা নেই তো।
-তাহলে তুই এই সময় প্রতিদিন এখানে কি করিস এই সময় তো তোর ক্লাস চলে। তুই এখানে দাড়িয়ে আমার দিকে ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকিস কেন।
-না আপু এমনি। মানে তুমি অনেক সুন্দর।
-কিসব বলছিস এগুলো। আর এভাবে ঘামছিস কেন।
-আপু কি হয়েছে তা বললে তুমি আমাকে মারবা।
-মারবো না। বল
-না বলবো না।
-অর্ধেক বললি কেন। এখন পুরাটা বলতে হবে। না হয় ধাক্কা দিয়ে রিক্সা থেকে ফেলে দিবো বলে দিলাম।
-আপু তোমাকে আমার অনেক পছন্দ হয়।তুমি অনেক সুন্দর।
-হ্যা জানি তো এগুলো না বলে আসল কথা বল।
-এটাই আসল কথা আপু। মানে তুমি বুঝতেছো না।এই পছন্দ সেই পছন্দ না।অন্য রকম পছন্দ
-বুঝছি।বিয়ে করবি আমাকে? হা হা হা
-যাও আপু। খালি দুষ্টুমি করো।
-হা হা হা। রিহা কি বুঝলো কে জানে। আরান কে কাছে টেনে আরমান এর মুখের ঘাম গুলো তার ওরনা দিয়ে মুছে দিলো। আর আরমান এই প্রথম তার দেহে অন্য রকম অনুভূতি অনুভব করলো।এটাই মনে হয় ভালোবাসার প্রথম অনুভূতি। আরমানের বড্ড জানতে ইচ্ছা করছে রিহা ও কি এমন অনুভূতি অনুভব করছে।!!!!
-আপু তুমি উত্তর দিলে না।
-কিসের উত্তর?
-ওই যে আমি যে বললাম তোমাকে পছন্দ করি।
-হ্যা। তুই তো বলেছিস। কিছু তো আর জিজ্ঞেস করিস নি যে উত্তর দিবো।
-আপু আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি। তোমাকে আর আপু বলে ডাকতে চাই না।
-তাহলে কি বলে ডাকতে চাস? বউ? চল কাজী অফিসে যাই।
-ধুর আপু খালি দুষ্টুমি করো কেন।
-ওমা আমি তো সত্যিই বললাম। তুই আমাকে পছন্দ করিস বললি। তার মানে প্রেম করতে চাস। প্রেম করতে চাস আর বিয়ে করতে চাস না তা কি হয় নাকি। তুই তো ছেলে ভালো না রে আরমান।
-যাও আমি কি তা বলেছি নাকি। বিয়ে তো করবোই। আগে বড় হয়ে নেই।
-কিন্তু আমি তো অনেক বড় হয়ে গেছি। বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে।চল বিয়েটা করে আসি।
-আপু তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করতে পারবা না?
-না পারবো না। আমি কি বুড়ী হয়ে বিয়ে করবো নাকি।
-ওহ।
-কিরে আরমান তোর চোখ টলটল করছে কেন? তুই কি সত্যিই সিরিয়াস নাকি?
-হ্যা আপু। আমি সত্যিই তোমাকে অনেক পছন্দ করি।
-কি বলিস এই সব । পাগল হলি নাকি।
-হ্যা তোমাকে দেখলে সত্যিই পাগল হয়ে যাই।
-কিরে আরমান তুই এত্তো কথা শিখলি কবে। তুই তো সত্যিই বড় হয়ে গেছিস। চল বিয়ে টা করে আসি।
-রিহা আপু দেখ তুমি একটু বুঝো। আমি সিরিয়াস এতো মজা করো ক্যান।
-আচ্ছা আমিও সিরিয়াস হলাম। শোন পাগল এটা সম্ভব না।
-কেন! কেন সম্ভব না।
-আমি তোর থেকে ৪ বছরের বড়। কেউ এটা মেনে নিবে না বুঝলি। তাছাড়া আমি তোকে নিয়ে এগুলো কোন দিন ভাবি নাই।
-বড় তো এখন কোন ফ্যাক্ট না। ঐশ্বরিয়া ও তো অভিষেক এর চেয়ে ৪বছরের বড়। তারা তো বিয়ে করেছে।
-দেখ আমি তো ঐশ্বরিয়া না। আর তুই ও অভিষেক না। আর এটা বলিউড না।এটা জীবন।এটা বাংলাদেশ। এটা সমাজ কেউ মানবে না বুঝলি।
-কিন্তু আমি তোমাকে পছন্দ করি।আর তুমি তো ঐশ্বরিয়ার চেয়ে কম সুন্দর না।
-কিন্তু আমি ঐশ্বরিয়া না রে ভাই যে এতো দিন আমার অভিষেক এর জন্য খালি থাকবো।
-মানে কি?
-মানে আমি প্রেম করি। কাউকে বলিস না। তোকে বাধ্য হয়ে বললাম। দেখ তোর দুলাভাই এর ছবি।
-হুম সুন্দর।
-চেঞ্জ কর আরো ছবি আছে।
-থাক আর দেখবো না। তবে মিস রিহা আপনাকে বাংলা ছবির স্টাইলে একটা কথা বলতে চাই "আমার মনের টেলিভিশনে তুমি ই থাকবা। তোমারে নিয়া ঘর করমু। সংসার করমু। বাচ্চা কাচ্চা হইইবো। সারা দিন তোমারেই দেখমু। দেখি কেমনে আটকাও। দেখি তোমার সমাজ তোমার জামাই কি করতে পারে আমার। গেলাম ।আসসালামু ওয়ালাইকুম।
আরমান হেটে চলে যাচ্ছে। কথা গুলো বলে নিজেকে খুব হালকা লাগছে। তাও খুব কষ্ট হচ্ছে। আরমান ভাবছে না জানি কতো ছেলের জীবন নষ্ট হইছে এই সুন্দরী বড় বোন এর পাল্লায় পরে। বড় বোন গুলো এতো সুন্দর হয় কেরে। এগুলো ভাবতে ভাবতে আরমান আবেগে কাইন্দা দিছে। আর অন্য দিকে ঘটনার আকস্মিকতায় রিহা পুরাই থমকে গেছে। এখনো হা করে আছে। কিছুই বলার ভাষা খুজে পাচ্ছে না রিহা।এতোটুকুন একটা পুচকে ছেলে কি শুনিয়ে গেলো এগুলো। কথা গুলো এখনো রিহার কানে বাজতেছে। আজকাল পোলাপান খুব এডভান্স হয়ে গেছে। রিহা তাকিয়ে তাকিয়ে আরমানের নায়কের স্টাইলে হেটে যাওয়া দেখছে। আর ভাবছে কি বলে গেলো এগুলো।
আরমানের মনটা ৩দিনেও ভলো হয় নি। নিজের কাছে নিজেকে খুব লজ্জিত মনে হচ্ছে। রিহা আপুর সাথে এভাবে কথা বলা ঠিক হয় নি।পরক্ষনে আবার মনে হয় যা হইছে ভালোই হইছে। এতো চিন্তা করে লাভ নাই। আরমান এগুলো ভাবতে স্কুল থেকে বাড়িতে যাচ্ছে। হটাত পিছন থেকে রিহা ডাক দেয় আরমান কে।
-এই আরমান দাড়া।
-কি হয়েছে বলো।
-ওমা দেখ কথা বলার কি স্টাইল ।ভাব নিচ্ছিস কেন নিজেকে খুব বড় ভাবিস নাকি
-না ভাব নিবো কেন।
-কি ওই দিন এগুলো কি বললি সাহস খুব বড় হয়ে গেছে তাই না।
-না সাহস বড় হবে কেন যা সত্যি তাই বলেছি।
-তাই তারপর আমাকে এমন ডায়লগ শুনালি কেন। একটু ভয় লাগলো না আমি যদি তোর আম্মুর কাছে গিয়ে বিচার দেই এখন।
-তাই যাও দাও। তোমার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না।সবাই তোমাকে পাগল বলবে। চার বছরের বড় মেয়ে কে আমি অফার করেছি তা বললে সবাই হেসেই মরে যাবে। তাছাড়া তোমার কাছে তার কোন প্রমান ও নেই।কিন্তু আমি যদি বলি তুমি অন্য ছেলের সাথে প্রেম করো। তোমার মোবাইলে তার ছবিও আছে। তাহলে তোমার কি হবে চিন্তা করেছ?
-হা হা হা। তুই আমাকে ভয় দেখাস? যা বল গিয়ে পুঁচকে ছেলে। তোর কথা শুনলেও সবাই হাসতে হাসতে শেষ হবে।
-মানে কি?
-মানে হলো আমি প্রেম ট্রেম কিছুই করি না।ওইদিন তোকে আমার খালাতো ভাই সফিকের ছবি দেখাইছি।
-ওই দিন মিথ্যে বললে কেনো
-বুঝিস না কেনো?
-না।তুমি বলো।
-কারন তুই যেটা বলছিস তা কোন দিন সম্ভব না।
-কেন সম্ভব না।তুমি ওয়ারফেজ এর অসামাজিক গানটা শোন নাই।আমি তোমার জন্য অমন অসামাজিক হবো।
-ওয়ারফেজ কে?
-ও মোর খোদা।তুমি ওয়ারফেজ চিনো না।বাদ দেও না চিনলে নাই।
-হুম।সেটাই।শোন তুই যা বলছিস তা হবে না।তাই ওইসব চিন্তা বাদ দে।
-আচ্ছা।
রিহার কি হয়েছে কে জানে। আগেও এমন অনেক ছেলে রিহা কে অফার করেছে। কিন্তু তা নিয়ে কোন সমস্যা হয় নি। কিন্তু আরমান টা অনেক জ্বালাচ্ছে।ঘুরে ফিরে খালি আরামানের কথাই মনে পড়ছে রিহার। রিহার কি হলো নিজেই বুঝতে পাড়ছে না। তবে কি? না না এ হতে পারে না। এ অসম্ভব। কাল ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে আরমান ইচ্ছে মতো বকা যেতে পারে আবার স্কুল চুরি করে রিহার জন্য দাড়িয়ে থাকার অপরাধে। তাহলে হয়তো আরমানকে ভুলা যেতে পারে।রিহা তাই ঠিক করলো।
রিহা ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে একনাগারে চায়ের টং টার দিকে তাকিয়ে আছে।কিন্তু আরমানের কোন নামগন্ধ ই নেই। ৫টা দিন ধরে রিহা আরমান কে খুজছে কিন্তু আরমান এখন তাকে দেখতে আসে না কেন। রিহা একটা নজর আরমানকে দেখার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে গেছে।একি শুধুই আরামানকে বকার জন্য নাকি অন্য কিছু তা রিহার জানা নেই।রিহা আর না পেরে আরমানের স্কুলে যায়।আরমান কে নিয়ে এসেছে রিহা।
-কি ব্যাপার আপু তুমি আমাকে নিয়ে আসলা কেন?
-তোর সাথে কিছু কথা আছে।
-কিসের কথা আবার। তুমি সব বাদ দিতে বলেছো। আমি বাদ দিয়েছি। আবার কি বলবে নতুন করে।
-তুই আমাকে দেখার জন্য চায়ের টং টায় যাস না কেন আর।
-তুমি বলেছো এগুলো ভুলে যেতে তাই ভুলে যাচ্ছি।আর কোনদিন ঈ যাবো না ওখানে।তোমাকে আর জ্বলাবো না।তাকিয়ে থাকবো না তোমার দিকে।
-না।
-না মানে কি?
-মানে কিছু বাদ দিবি না। প্রতিদিন আমার জন্য চায়ের টং টায় দাড়িয়ে থাকবি।
-মানে কি। কেনো।
-জানিনা। কিছু জানিনা। যা বলেছি তাই করবি বুঝলি পুচকে ছেলে।না হয় তোর কপালে মাইর আছে।গেলাম।
রিহা হেটে হেটে চলে যাচ্ছে। আরমান হা করে বসে আছে। কি বলে গেলো এগুলো। আর রিহাই জানে রিহা কেন আরমানের সামনে থেকে উঠে এসেছে। উঠে না আসলে যে রিহা আরমানের সামনেই কেঁদে দিতো। রিহা নিজের কান্না আরমানের সামনে লুকিয়ে এখন বাচ্চাদের মতো কেঁদে চলেছে। চোখ থেকে টপটপ করে পানি ঝড়ে পড়ছে। এই কান্নার নাম কি রিহা জানেনা? কেনো এই কান্না তাও সে জানেনা। শুধু জানে তার বুক ফেটে কান্না আসছে। আর রিহা এটাও জানে সে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছে।যার জন্য একদিন তাকে খুব পস্তাতে হবে।
রিহা আরমানের সাথে কথা বলে সোজা বাসায় চলে এসেছে। রিহা আজ নিজের আবেগের কাছে পরাজিত এক অসহায় যোদ্ধা। আরমানের মতো পুচকে ছেলে তার পুরোটা জীবন উল্টাপাল্টা করে দিলো।নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না রিহা। এই সমাজ যে বড়ই নিষ্ঠুর। রিহা ঠিক করে ফেলেছে তার সমাজ চাইনা।আরমান কে চাই।কিভাবে কি হবে তা জানেনা রিহা শুধু জানে পুচকে আরমান তাকে খুব ভালো ভাবে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। সে আরমান কে ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছে না।শুধুই ওকে নিয়ে অবান্তর স্বপ্ন দেখতে থাকে তা কি কোন দিন পূরণ হবে।কে জানে।
রিহা চায়ের টংটায় এসে দাড়িয়ে আছে।যেখানে প্রতিদিন আরমান তার জন্য দাড়িয়ে থাকতো।পাক্কা ১ঘন্টা হলো আরমানের নাম গন্ধ ও নেই।রিহার মেজাজ চরম খারাপ হচ্ছে। ছেলেটা অনেক বেয়াদব। কথা শুনেনা।আজ ওর বাসায় গিয়ে সাইজ করতে হবে।
-আরমান এই আরমান উঠ।আর কতো ঘুমাবি।এই বিকালে কেউ এমনে ঘুমায়।
-আরে আপু। কখন আসলে তুমি।
-এইতো আসলাম।তোকে না বলেছিলাম আজ চায়ের টং এ দাঁড়াতে। তুই থাকলি না কেন।
-আজ পরীক্ষা ছিলো তাই ক্লাস থেকে বের হতে পারিনি
-ও আচ্ছা।কাল পরীক্ষা আছে?
-নাহ নেই।
-তাহলে কাল ওখানে থাকবি
-কিন্তু কাল তো স্কুল বন্ধ।
-কাল আবার কিসের বন্ধ।
-কাল তো হরতাল।
-এতো কিছু জানিনা। কাল আমার প্রাইভেট শেষ হবে ১১টায়। আমি তখন তোকে ওখানে চাই।
-আচ্ছা।
-আচ্ছা বললে হবে না।না গেলে খবর আছে।
-ওকে।
রিহা প্রাইভেট পরে দোকানের সামনে চলে এসেছে।কিন্তু আরমান আজও আসে নাই।মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে রিহার। পিচ্চি টা শুরু করলো কি।একটু ও কথা শুনে না। আজ বাসায় গিয়ে ইচ্ছা মতোতো মাইর দিতে হবে বেয়াদব টাকে।
রিহা বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে চুল ঠিক করছে। রিহার মা এসে রিহাকে বললো
-কিরে খবর শুনেছিস নাকি?
-কিসের খবর মা
-পাশের বাড়ির আরমানের তো অবস্থা খারাপ।ঢাকা মেডিকেল এর বার্ন ইউনিটে আছে।
-(রিহার চোখে পানি চলে এসেছে) কেন কি হয়েছে।
-সিএনজি দিয়ে কোথায় জানি যেতে নিয়েছিলো।কিছু লোক এসে সিএনজি তে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।সারা শরীর ঈ নাকি পুড়ে গেছে।বাচার সম্ভাবনা নাকি খুবই কম।
রিহা আর কিছু বলতে পারে না। কান্না করতে করতে ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে চলে আসে ঢাকা মেডিকেল এ। কিন্তু ততোক্ষনে যে অনেক দেরি হয়ে গেছে। রাজপুত্রের মতো নিষ্পাপ আরমান যে ঝলসে গেছে ভয়ানক রাজনীতির থাবায়। যুদ্ধ করতে করতে যে মৃত্যুর কাছে হার মেনে গেছে ছোট্ট আরমান।এতোটুকুন ছেলের আর কতোইবা যুদ্ধ করার শক্তি আছে। এই বয়সে তো কেউ মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করেনা। আরমানের মা রিহাকে দেখে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। আর বলে বল তো মা কি দোষ ছিলো আমার বাবাটার।রিহা কি বলবে খুঁজে পায় না। এই মাকে যে শান্তনা দেবার মতো কিছুই নেই রিহার কাছে।রিহা মনেনে মনে আরমানকে খুব বকছে। ছেলে টা আসোলেই খুব বেয়াদব। নিজে আমাকে পরাজিত করে এখন নিজেই মৃত্যুর কাছে পরাজিত হয়ে আমাকে একা রেখে চলে গেলো সামনে পেলে ঈচ্ছা মতো মাইর দেয়া যেতো।কিন্তু আরমান যে আর কোন দিনই রিহার সামনে আসবে না।এটা ভেবেই রিহার বুক ফেটে কান্না আসে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now