বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অসাধ্য ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X . . . সন্ধ্যার আকাশে চাতক পাখির মত তাকিয়ে আছে শুভ। কোন কিছুতে মন বসছে না তার। কিছু স্মৃতি বার বার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ভেসে উঠছে। অনুভূতিরা এখনও শিহরন জাগায় বুকের ভেতরটায়। অসহ্য এক যন্ত্রনায় ছটফট করছে সে। যেন কলিজাটা কেউ চিপে ধরেছে তার। হাহাকারে ফেটে যাচ্ছে বুকের পাজর। কষ্ট গুলো যেন বুক ফেটে একেবারেই বেরিয়ে আসতে চাইছে কিন্তু পারছে না। হৃদয় জুড়ে এক ঝাক বোবা কষ্ট বাসা বেঁধেছে বুকের খাচায়। সব, সব কিছু অসহ্য আর যন্ত্রনাময় মনে হচ্ছে শুভর। . ঐদিকে বাড়ি ভর্তি লোকজন আর কত্ত খুশির আমেজ। অথচ ছাদে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যার আকাশে রক্তিম সূর্যটার দিকে অপলকে তাকিয়ে আছে শুভ। চোখ থেকে ঝর্ণার বেগে গড়াতে লাগল কিছু অশ্রুজল। হাতের হালকা স্পর্শে চোখ জোড়া মুছে নেয় শুভ। মাঝে মাঝে বাচ্চাদের মত হঠাৎ চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠে। কি করবে ঠিক ভেবে পায় না সে। নিরবে চোখের জল ফেলে আর খোদার কাছে করুন কন্ঠে বিলাপ করে "হে আল্লাহ এ কেমন খেলা তোমার" . কিছুক্ষন পর পিছন থেকে কেউ একজন এসে কাঁধে হাত রাখে শুভর। হঠাৎ চমকে উঠে সে। পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখল ইতি এসে দাঁড়িয়েছে। তারাতারি চোখ জোড়া মুছেই কাঁন্না লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে লাগল সে। দুজনেরই চোখ জোড়া লাল রক্তবর্ণ হয়ে আছে। দুজন দুজনার দিকে অপলকে তাকিয়ে আছে। উভয়ের হৃদপিন্ড বার বার কেঁপে উঠছে। শিহরিত হচ্ছে দুটি হৃদয়। আরও কাছে এগিয়ে এলো ইতি। তারপর হঠাৎ বলে উঠল, --শুভ তোকে কিছু বলতে চাই! --হুম.... (আস্তে মাথা নেড়ে) --চল না আমরা কোথাও পালিয়ে যাই... . কথাটি বলেই ইতি তার চোখের পানি ছেড়ে দিল। তারপর কাঁন্না মাখা কন্ঠে আবারও সে বলল, --তোকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না শুভ। চল না আমরা পালিয়ে দূরে কোথাও চলে যাই! --না, এ হয়না ইতি। --কেন হয়না? --আমাদের পরিবার এটা কখনই মেনে নিবে না। --তাই বলে কি আমাদের ভালবাসা মিথ্যে? --নাহ ভালবাসাটা সত্যিই। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। --আমি এত কিছু বুঝিনা শুভ। আমি তোকে চাই! --পাগলামি করিস না ইতি। তুই এখান থেকে চলে যা প্লিজ! কেউ দেখে ফেললে সর্বনাশ হয়ে যাবে। --ঠিক আছে যাচ্ছি। কিন্তু কথা দে, তুই আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবি? --বললাম তো পাগলামি করিস না! তুই অবুঝ নয়। --শুভ আমি সত্যি বলছি, বিশ্বাস কর তোকে ছাড়া আমি সত্যিই থাকতে পারবো না! --থাকতে তোকে হবেই ইতি! যা বলছি পাগলামি করিস না। কেউ দেখে ফেলবে, প্লিজ যা! --বেশ! কিন্তু আবার আসবো বলে গেলাম। . অতঃপর ইতি বাধ্য মেয়ের মত ছাদ থেকে নেমে চলে গেল। শুভ আবারও আকাশের দিকে অপলকে তাকিয়ে রইল। মাঝে মাঝে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে কষ্টের এক দীর্ঘশ্বাষ! হঠাৎ শুভর ফোন ক্রিং ক্রিং শব্দে বেজে উঠল, --হ্যালো রাজ! --হুম কেমন আছিস শুভ? --হ্যাঁ ভাল। তোর কি খবর? --নাহ! তোর কন্ঠস্বর তো তা বলছে না। কি হইছে রে তোর? --নাহ কিছু না এমনিতেই! --তুই আমার কাছে লুকাচ্ছিস শুভ? --নাহ রে কিচ্ছু লুকাচ্ছিনা! --তাহলে? --কিচ্ছু ভাল লাগছে না রে! কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি যে বড্ড অসহায় হয়ে গেলাম রে দোস্ত! . কথাটি শেষ হতেই ফোনের ওপাস থেকে শুভর কাঁন্নার আওয়াজ স্পস্ট শুনতে পেল রাজ। রাজ ঠিকই বুঝতে পারে শুভকে। সেই ছোট্ট বেলা থেকে রাজ আর শুভর বন্ধুত্ব। সব কিছু একে অপরের কাছে শেয়ার করে তারা। কিন্তু রাজ তার কাজের জন্য কানাডা গিয়েছে মাত্র কয়েক দিন আগে। শুভরও যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু কোন একটা কারনে এখনও যাওয়া হয়নি। যা হোক, রাজকে যেদিন এয়ারপোর্টে এগিয়ে দিতে গিয়েছিল সেদিন ওরা প্রায় সব বন্ধুরাই এসেছিল। আর সেদিনই শুভর টলমলে চোখ জোড়া দেখে রাজ সব কিছু বুঝে গিয়েছিল। ** তবুও সে শুভকে জিজ্ঞেস করেছিলো কী হয়েছে? কিন্তু শুভ তখন বলেছিলো যে, তুই চলে যাচ্ছিস বলে আমার খারাপ লাগছে। রাজ তখন বলেছিলো আমি কাজ দ্রুত শেষ করেই দেশে ফিরবো। মন খারাপ করিস না। কিন্তু রাজ বুঝতে পেরেছিলো এখানে অন্য একটা ব্যাপার আছে যা শুভ লুকাচ্ছে । যাইহোক রাজ বলল, --কি হয়েছে তোর? ইতির ব্যাপারে কোন সমস্যা? -- হ্যা। ইতির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে । --তুই বাসায় বলিসনি যে, তুই ওকে ভালোবাসিস? --আমি কোন মুখে বলবো? ইতি তো আমরা কাজিন! আর ফ্যামিলিতে নিজেদের মধ্যে সম্বন্ধ হবে বলে মনে হয়না । তাছাড়া আমিতো কিছুই করিনা। কিন্তু ঐ ছেলে তো একজন ডাক্তার। --তো কি হয়েছে? তোর সাথে বিয়ে হলেতো ইতি সুখেই থাকবে। তাছাড়া ঘরের মেয়ে ঘরেই থাকবে। তোরা না হয় রুলস ব্রেক করলি। একবার তো বলে দেখ নাকি? --নাহ রে! এখন আর কোন মুখে বলবো? আর এক সপ্তাহ পরেই তো ওর বিয়ে। এখন বিয়ে ভেঙ্গে দিলে আমার জন্য চাচাকে ছোট হতে হবে। ঐদিকে ইতিও পালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে কিন্তু তা আমার পক্ষে সম্ভব না। --আচ্ছা ছেলের সাথে যোগাযোগ করে বিয়েটা ভেঙ্গে দিতে বললে কেমন হয়? --কে যোগাযোগ করবে? আর বিয়েটা ভেঙ্গে দিব বললেই কি ভাঙ্গা সম্ভব? তাছাড়া ইতিতো কোন দিক থেকে কম না, যে পছন্দ হয়নি বলে বিয়েটা ভাঙ্গে যাবে। --তোর কিছুই বলতে হবে না। তুই শুধু ছেলের ফোন নাম্বারটা আমাকে জোগাড় করে দে। যা বলার আমি বলবো । --আচ্ছা দেখি... --এখন আর মন খারাপ করে বসে না থেকে নাম্বারটা জোগাড় করার কাজে লেগে যা। আমি রাখছি পড়ে আবার ফোন দিবো। এখন বাই..... --বাই.... . ফোনটা রেখে শুভ সামনে তাকাতেই দেখলো মা দাড়িয়ে আছে। শুভ একটু হকচকিয়ে গেলো! মা কি তাহলে সব কথা শুনে ফেলল? নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করে উঠল শুভ.. --মা তুমি এখানে? --সেই কখন থেকে তোকে ডাকছি। তোর কোন সাড়া শব্দ নেই। ইতির কাছে শুনলাম তুই ছাদে। তাই তোকে ডাকতে আসলাম। তাড়াতাড়ি নিচে আয়। অনেক কাজ আছে। . কথাটা বলেই মা চলে গেল। শুভ একটু হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাষ ফেলল যে ব্যাপারটা মা জানে না। জানলে অনেক কষ্ট পেত। শুভ ছাদ থেকে নিচে নামল। যেভাবেই হোক ছেলের নাম্বারটা জোগাড় করে কথা বলে বিয়েটা ভাঙ্গতে হবে। রাতের খাবার শেষে বিছানায় শুয়ে আছে শুভ। পুরানো দিনের কথা গুলো মনে পড়ছে তার। ইতি আর শুভ ছয় মাসের বড় ছোট হওয়ার কারনে ইতি কখনই শুভকে ভাইয়া বলে ডাকত না । তুই তুকারি সর্ম্পক ছিলো ওদের। দুইজনে ঝগড়া আর মারামারি করে সারাটা দিন কাটাতো। একসাথে স্কুল পালিয়ে ঘুরে বেড়ানো, সিনেমা দেখতে যাওয়া, ছাদে উঠে কানামাছি খেলা, বৃষ্টিতে ভেজা ইত্যাদি ছিল তাদের নিত্য দিনের কাজ। কিন্তু কিভাবে হঠাৎ কখন যে তারা দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলল তা তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনি। কিন্তু যখন বুঝতে পারলো তখন সাথে সাথেই ইতিকে প্রপোজ করলো শুভ। ইতিও না করলো না। কারন তখন ওদের দুজনের মধ্যেই অন্য রকম একটা অনুভূতি কাজ করতো। কিন্তু তখন তো তারা নিজেরা ও জানতো না যে, এই সর্ম্পকের শেষ পরিনতি কী হবে। . যাইহোক, এভাবে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে শুভর ভাবনায় ছেদ পড়লো। দেখল মা দরজায় দাড়ানো। --তোর সাথে কিছু কথা ছিলো.. --বল মা। --দেখ বাবা তুই ভালো মত জানিস যে বাড়ির সবাই ইতির বিয়ে নিয়ে অনেক খুশি। --জানি মা.. --আশা করি তুই এমন কিছু করবি না যাতে বিয়েটা ভেঙ্গে যায়। --মা তুমি কি বলছো এসব? --ঠিকই বলছি। আমি তোর ফোনের সব কথা শুনেছি। তাই তোকে সাবধান করে গেলাম বাবা। --সবই যেহেতু জেনে গেছ তাহলে আমার মনের অবস্থা কি সেটাও নিশ্চই বুঝতে পেরেছো মা? --আমি জানি তোর কি অবস্থা। কিন্তু তুই শুধু একবার এই পরিবারের কথা ভাব? আজ বাদে কাল যদি তুই ইতিকে নিয়ে এরকম একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলিস তাহলে তো পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে যাবে বাবা। আর তুই তো খুব ভাল করেই জানিস, তোর বড় কাকা (ইতির বাবা) তোদের এই সম্পর্ক কখনই মেনে নিবে না! --না মা এমন কাজ আমি করবোনা। --আমার দিব্যি খেয়ে বল। ইতির বিয়েতে তুই কোনো বাধা সৃষ্টি করবিনা তো? --ঠিক আছে মা। কথা দিলাম। . মায়ের কাছে শুভ কথা দিলো। ইতির বিয়ে যেখানে ঠিক হয়েছে সেখানেই হবে। শুভ এই বিয়েতে কোন প্রকার ঝামেলা করবে না। পরিবারের সবার খুশির জন্য শুভকে এটুকু করতেই হবে। মা রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর পরই রাজের ফোন আসে, --হ্যালো রাজ! --কিরে নাম্বার জোগাড় করেছিস? --নারে দোস্ত। --কেনো? --মা আমাদের ফোনের সব কথা শুনেছে। মা দিব্যি দিয়েছে যেনো আমি ইতির বিয়েতে কোন ঝামেলা না করি। --তোদের ভালোবাসার কী হবে তাহলে? --পরিবারের সুখের জন্য তা না হয় বলি দিলাম। এখন রাখি রে দোস্ত। মাথায় প্রচুর পেইন হচ্ছে। পড়ে কথা হবে। . এই বলে শুভ ফোন কেটে দিলো। বাহিরে অঝড় ধারায় বৃষ্টি ঝড়ছে। আর ঘরে শুভর দু'চোখ বেয়ে গলগলিয়ে ঝড়ছে অশ্রুধারা। যারা ভালোবাসে তারা অমর হয়, বৃষ্টির মতো ফিরে আসে বারবার। শুভর ভালোবাসা অসাধ্য। তবু সে বৃষ্টির মত বারবার ইতির কাছে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু পরিবারের জন্য তা বাধা পাবে। কিছু কিছু ভালবাসার শেষ পরিনতি হয়ত এমনই হয়। যেখানে থাকে শুধু না পাওয়ার বেদনা। অসহ্য যন্ত্রনায় অতিবাহিত হতে থাকে জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত। ঠিক তেমনই এক অসাধ্য ভালবাসার দহনে জর্জরিত আজকের গল্প নায়ক শুভ। . রাত অনেক গভীর। চারিদিক নিস্তব্ধ। এমন সময় বিছানায় ছটফট করছে শুভ। নাহ ইতিকে ছাড়া কোন কিছু ভাবতে পারেনা সে। কিভাবে থাকবে ইতিকে ছাড়া? কেঁদে কেঁদে চোখ দুটি ফুলে লাল হয়ে আছে শুভর। সারা রাত এভাবেই নির্ঘুমে কাটল। সকালে ধীরে ধীরে বাড়িটাও সাজানো হলো। অনেকের আগমন হতে লাগল। গায় হলুদের আয়োজন শুরু হল। কিন্তু মন কিছুতেই মানছেনা শুভর। বিয়ে বাড়ির এত আয়োজনের ভিড়ে নিজেকে যেন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। শুভ একাকী তার রুমে এসে বিছানায় শুয়ে রইল। হঠাৎ দরজার কড়া নেড়ে কে যেন ডাক দিল। শুভ দরজা খুলে দিল! --কিরে তোরা? --হুম তুই এখানে কি করছিস? --ভাল লাগছে না রে! --হুম জানি। আয় আমাদের সাথে। --কোথায়? --গেলেই বুঝবি! . কথাটি বলেই ওর বন্ধুরা অনু, শামা, টিনা, রনি আর রাজু সবাই মিলে শুভকে টেনে ইতির ঘরে নিয়ে গেল। অবশ্য ইতির গায়ে হলুদের পর্বটা দুপুরেই শেষ হয়েছে। আর এখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলল। কাল ওর বিয়ে। শুভর বন্ধুরা শুভকে ইতির কাছে পৌছে দিয়ে চলে আসলো। কারন শুভকে ইতি ডেকেছিল তার অনেক কিছু বলার আছে তাই। যাইহোক, রুমে এভাবে ইতিকে পেয়ে শুভ নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেনি। কেঁদে উঠল সে। ইতিও খুব কাঁদলো। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই তাদের। নিয়তির দ্বার প্রান্তে এসে তারা আজ নিরুপায়। গুটি গুটি পায়ে একে অপরের দিকে এগিয়ে এলো। দুজনেরই চোখে বইছে অঝোড় প্লাবন। হঠাৎ ইতি বলে উঠল, . --শুভ তুই আমাকে এড়িয়ে চলছিস তাইনা? (কাঁন্না মাখা কন্ঠে) --নাহ এড়িয়ে চলবো কেন? --হুম কাকি মা হয়ত সব কিছু জেনে গেছে তাই। --তোকে কে বলল? --কাল রাতেই কাকি মা বলেছে আমরা যেন কোন প্রকার পাগলামি না করি। --হুম আমাকেও তাই বলছে। --কিন্তু আমি যে তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না শুভ বিশ্বাস কর? --পাগলামি করিস না ইতি। নিয়তি মেনে নে। --না শুভ! আমি পারবো না। --পারতে তোকে হবেই! --আমি মরে যাব। --চুপ! এরকম অলুক্ষনে কথা আর বলবি না। --সত্যি বলছি, তোকে না পেলে আমি সত্যি মরে যাবো। তখন আমার লাশটা কাঁধে নিতে পারবি তো? --ইতি চুপ কর! এভাবে বলিস না? --তাহলে আমাকে বিয়ে কর? --উফ তুই থাক! আমি আসি। অনেক কাজ আছে। (কথাটা বলেই শুভ চলে যাচ্ছিল ঠিক এমন সময় পিছন থেকে হাত টেনে ধরল ইতি) --শুভ একটা কথা বাকি ছিল! --কি কথা বল তারাতারি? --আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবি প্লিজ? . কথাটি শুনেই বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল শুভর। অপলকে ইতির দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষন। বলার মত কোন ভাষা পাচ্ছিল না সে। তাই আস্তে মাথা নেড়ে "হ্যাঁ" সূচক উত্তর দিয়ে হাত দুটো বাড়িয়ে দিল শুভ। অমনি বুকের উপর ঝাপিয়ে পড়ল ইতি। শক্ত করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠল। নাহ ইতি আর শুভই শুধু কাঁদল না, এতক্ষন বাহিরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে ওর বন্ধু অনু, শামা, টিনা, রনি, রাজু সবাই ঝরঝর করে চোখের পানি ছেড়ে দিল। হায় রে প্রেম! হায় রে অসাধ্য ভালবাসা! যা কেবল কষ্টই দিতে জানে। পরিস্থিতির কারনে এরকম অসংখ্য ভালবাসা অসাধ্যই থেকে যায়। নিরবে কুঁড়ে মরে পৃথিবীতে অসাধ্য ভালবাসার সমস্ত ইতিহাস। . যাইহোক, পরদিন বিয়ে হয়ে যায় ইতির। কষ্ট গুলো চেপে রেখে মুখে এক চিলতে হাঁসি ফুটিয়ে হলেও হাঁসিখুশি মুখে বিদায় দিতে হয় ইতিকে। এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিই বা হতে পারে? জীবনের প্রতিটা সুখের উৎস হিসেবে যার বিচরণ সর্বদা বিস্তৃত থাকার কথা, আজ তাকেই নিজ হাতে অন্যের ঘরে তুলে দিতে হচ্ছে! প্রতিটি অসাধ্য ভালবাসার শেষ পরিনতি বুঝি এমনই হয়! হায় রে অসাধ্য ভালবাসা! তুমিই করতে পারো সর্বহারা! → The End → → লেখাঃ মেহেদী হাসান শুভ & অপ্সরী অপরাজিতা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অসাধ্য ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now