বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
< সূর্য আজ কোন দিক থেকে উঠলো। (আম্মু)
.
> কেন আম্মু। কি হয়েছে। (আমি)
.
< তুই 6 টায় ঘুম থেকে উঠছিস।
.
> হ্যাঁ আজ কলেজের প্রথম দিন তাই নিজেকে তৈরি করছি।
.
< তোর কলেজ দশটায় । আর তুই রেডি হচ্ছিস ছয়টায়। জীবনে 9 টা 10 টার আগে ঘুম থেকে উঠেছিস।
.
> মা আগে উঠি নাই। তাই বলে কি এখনো উঠবো না। যাও গিয়ে খাবার তৈরি কর।
.
< যাচ্ছি।
.
রাকিব কে ফোন দিলাম।
.
> হ্যালো রাকিব কই তুই।
.
< ডোনাল ট্রাম্পের সাথে হাডুডু খেলি।
.
> শালা মজা করিস।
.
< আমি মজা করছি নাকি তুই করছিস। সকাল ছয়টায় ফোন দিছিস কেন।
.
> কলেজে যাবি না।
.
< কলেজ দশটায় আর তুই ফোন দিছিস ছয়টায়। হারামী ফোন কাট।
.
এই কি হলো ফোনটা কেটে দিলো। আসলে এতদিন বয়েজ স্কুলে পড়েছি । আর আজ থেকে ছেলে মেয়ে একসাথে পড়বো। কত সুন্দরী আমার ফ্রেন্ড হবে। ভাবতেই যেন কেমন লাগছে। নয়টায় রাকিব আর আমি কলেজে গেলাম। সব বন্ধুরা আড্ডা দিতে বসলাম। অনেক মেয়ের সাথে পরিচিত হলাম। আমার আগে কোন মেয়ে ফ্রেন্ড ছিল না। 10 টায় ক্লাস শুরু হলো, স্যার সবার সাথে পরিচিত হলো। 10 মিনিট পরে
.
> আসবো স্যার।
.
< দেরি কেন।
.
> স্যার আর হবেনা।
.
< প্রথম দিন তাই কিছু বলছি না। আর যেন দেরি না হয়।
.
> জি স্যার।
.
< কি নাম তোমার।
.
> এশা।
.
< আসো।
.
ক্লাস শেষে,
.
> মাফি এই হচ্ছে এশা আমার ফ্রেন্ড। (রাকিব)
.
> হাই আমি মাফি।
.
< আমি এশা।
.
কিছু দিনের মধ্যে আমরা ভালো বন্ধুতে পরিনিত হলাম। কিন্তু ঐ যে কথায় আছে না একটা ছেলে আর একটা মেয়ে একসাথে মিশলে একটা সময় প্রেমে পরবেই। আমারও তাই হয়েছে। কিন্তু বন্ধুত্ব শেষ হবার ভয়ে কিছু বলতে পারিনি। তবে বলতে তো একদিন হবেই। 6 মাস পরে এশার জন্মদিনের রাত 12 টায়।
.
> হ্যালো পেত্নী।
.
< ওই হনুমান আমাকে পেত্নী বললে তোর খবর আছে।
.
> আচ্ছা খবর করিস এখন বাইরে আয়। আমি নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
.
< তুই পাগল নাকি। এত রাতে বাইরে আসবো আমি।
.
> আসবি প্লিজ।
.
< আচ্ছা আসছি তুই দাঁড়া।
.
> ওকে আয়।
.
10 মিনিট পরে
.
< ওই ছাগল এত রাতে তুই এখানে কেন।
.
< হ্যাপি বার্থডে পেত্নী।
.
< এই কথা বলতে তুই এত রাতে আসছিস। বাবা জানলে কি হবে জানিস তুই।
.
> সে যাই হোক আগে কেকটা কাট।
.
< কাটছি।
.
> এশা তোকে একটা কথা বলি ।
.
< হ্যাঁ বল। এমন ভয় পাচ্ছিস কেন।
.
আমি আংটি হাতে নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পরলাম।
.
> কিভাবে প্রপোজ করতে হয় আমি জানিনা। কিভাবে ভালবাসতে হয় তাও জানি না। শুধু এতোটুকু জানি তোকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না। যতটুকু সময় আমি তোর সাথে থাকি মনে হয় স্বর্গে আছি। আমাকে ফিরিয়ে দিস না। শুধু একটা বার বল তুই আমাকে ভালবাসিস। আই লাভ ইউ পেত্নী। (চোখ বন্ধ করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলাম)
.
< কথাটা বলতে তুই 6 মাস লাগিয়ে দিলি। আরে পাগল আমিও তোকে ভালবাসি। আই লাভ ইউ টু। এখন আংটি পড়িয়ে দিবি না।
.
> হাত দে পড়িয়ে দিচ্ছি।
.
< এখন যা বাবা জেগে গেলে সমস্যা হবে ।
.
> আচ্ছা তার আগে একবার জড়িয়ে ধরবি।
.
< জুতা চিনিস।
.
> হ্যাঁ দরকার হলে কালকে কিনে দেব। এখন জড়িয়ে ধর না প্লিজ।
.
< এখন যদি তুই না যাস তাহলে তোকে সত্যি সত্যি জুতা-পেটা করব।
.
> আচ্ছা যাচ্ছি আই লাভ ইউ পেত্নী।
.
< আই লাভ ইউ টু পাগল একটা।
.
তারপর শুরু হলো মিষ্টি প্রেম কাহিনী। এভাবে ছয় মাস চলে গেল। ইদানীং এশা যেন কেমন হয় গেছে। আমাকে তেমন সময় দিচ্ছে না। ফোনটা সব সময় বিজি থাকে। কিছু বললে রেগে যায়। আমি কিছু বলি না। ইয়ার ফাইনালের রেজাল্টের দিন
.
> এশা দাঁড়াও।
.
< হ্যাঁ কিছু বলবা।
.
> কি মনে হয় তুমি যা করবে আমার তাই মেনে নিতে হবে।
.
< সেটা তোমার ইচ্ছা মানলে মানবে না মানলে মানবে না।
.
> তুমি এমনটা কেন করছো আমার সাথে।
.
< কেমন করছি।
.
> তুমি আমাকে ইগনোর কেন করছ।
.
< সত্যি কথা বললে মেনে নিতে পারবে তো।
.
> হ্যাঁ বল।
.
< আমি এই রিলেশনশিপ কন্টিনিউ করতে পারবো না।
.
> কিন্তু কেন। আমার কি দোষ আমি তো নিজেকে তোমার মত সাজিয়েছি।
.
< আমি বিরক্ত হচ্ছি মাফি। এই ধরো তোমার আংটি।
.
> আমি তোমাকে আটকাবো না। শুধু সত্যিটা বলো কেন তুমি এমন টা করছো ।
.
< আমার বিয়ে ঠিক। ইন্টার শেষ করার আগে বিয়ে হয়ে যাবে। ছেলের নিজের বাড়ি গাড়ি টাকা সব আছে। এই কয়দিন তুমি কিছু করতে পারবে না। বাই ভালো থেকো।
.
এশা চলে যাচ্ছে আর আমি দাড়িয়ে রইলাম। এইতো কয়দিন আগের কথা আমার হাত ধরে বলেছিলে। আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না আমাকে ছাড়া নাকি তুমি কিছু ভাবতে পারো না। আর আজ তুমি টাকা ছাড়া কিছু ভাবতে পারছনা। আচ্ছা টাকা নাকি সব পারে। আমার এই ভাঙ্গা মন জোড়া দিতে পারবে। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না বসে পড়লাম। ইচ্ছা করছে প্রচুর কান্না করি কিন্তু কেন জানি না কান্না করতে পারছিনা। বাসায় এসে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পরে আম্মু রুমে আসলো।
.
< মাফি মাফি।
.
> আম্মু কিছু বলবে।
.
< রাকিব আমাকে ফোন করে সব বলেছে।
আম্মুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করলাম।
.
< যা হবার হয়ে গেছে কান্না করিস না বাবা।
.
> আমার কি দোষ ছিল। আমার ভালোবাসার কমতি ছিল না।
.
< ও তোর ভালোবাসার মূল্য বোঝে নি তাই এমন করেছে। ও যদি তোকে ছাড়া সুখী হতে পারে তুই কেন পারবি না।
.
> আম্মু।
.
< হ্যাঁ আমাদের ভালোবাসার জন্য তোকে নতুন করে বাঁচতে হবে। দেখিয়ে দিতে হবে যে কারো জন্য জীবন থেমে থাকে না।
.
অতঃপর কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিলাম। প্রচুর পড়াশুনা করতাম। ইন্টার পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলাম। এর মধ্যে এশার বিয়ে হয়ে গেল। আর আমি ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য চলে গেলাম দেশের বাইরে। 6 বছর পরে এয়ারপোর্টে
.
> রাকিব কেমন আছিস।
.
< এই তো ভালো। তুই তো মোটা হয়ে গেছিস।
.
> বাসায় চল দেখবি আম্মু বলবে যে আমি চিকন হয়ে গেছি।
.
< হ্যাঁ এখন কি দেশে থাকবি নাকি চলে যাবি।
.
> দেশে থাকবো। আচ্ছা এশার খবর কি।............... চুপ করে আছিস কেন বল।
.
< কি বলবো যে ও আর নেই।
.
> মানে। (অবাক হয়)
.
> তুই জানিস একটা বড়লোকের ছেলের সাথে ওর বিয়ে হয়েছিল। ছেলেটা ভালো ছিলো না মেয়েদের সাথে রাত কাটাতো। মদ খেত আর এশাকে মারতো। হঠাৎ একদিন এশা সুইসাইড করে। কেন করে তার জানা যায়নি।
.
আমি গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলাম। দুচোখ বেয়ে পানি পড়ছে। পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে তাকিয়ে রইলাম ওই মায়া ভরা মুখটার দিকে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now