বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

--অপেক্ষার প্রহর---(পর্ব - 1)

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X আমি আমার লাইফে আম্মু-আব্বুর সাথে খুব অল্প সময় ই কাটিয়েছি কারনঃ তারা দুজন ই প্রাবাসি । তার মানে তো বুঝতে ই পারছেন অর্থ আর বিলাসিতার ভান্ডারে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছি আমি । তারপর ও মাঝে-মাঝে এসব কিছুর বিনিময়ে ও আমি আমার আম্মু-আব্বুকে সব-সময় পাশে রাখতে মন চায় কিন্তু তা আর সম্ভব হয়ে উঠলো না । আমার জিবনের বিশেষ মানুষ গুলো হলোঃ আমার আম্মু-আব্বু, নানা-নানি, আমার মামা আরেক জন আছে সে হলো আমার ছোট বেলার বান্ধবি (নিজুম) । আমার পুরো ছোট বেলাটা ওর সাথে খেলা-ধুলা করে কেটেছে । তাই মেয়েটার সাথে আমার অনেক সৃতি জড়িয়ে আছে । . এই কথা গুলো ছাদে একা বসে-বসে চিন্তা করছি । এমন সময় নিজুম আলতো করে আমার পাশে বসে পরলো । . আমিঃ কিরে পাগলি . মুখটা এত্তো ঘোমরা-ঘোমরা লাগছে যে কি হইছে বল ? নিজুমঃ কিছু না রে ! আমিঃ তাই ! তুই বললেই হব্বে কি হইছে ? বল । নিজুমঃ ইরাদ . সবাই তো আজকে ঘুরতে যাচ্ছে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে। আমিঃ তো ! নিজুমঃ তো ! তোর মাথা ! আমরা কি ঘুরতে যেতে পারি না । আরে তুই কি ঘুরতে যাবি তুই তো একটা ক্ষেত । আমিঃ এই । নিজু (আমি নিজুম কে ভালোবেসে নিজু বলে ডাকি ) আমি ক্ষেত ? ওকে যা যাওয়ার প্লান ছিল এখন যাবো না সিন্ধান্ত নিলাম । নিজুমঃ ওফফফ । মেরি ইরু (নিজুম ও আমাকে ভালোবেসে ইরু বলে ডাকে ) আমি রেডি হয়ে আসছি তাহলে । আমিঃ ওক্কে যা । তাড়া-তাড়ি আসবি কিন্তু । . নিজুম তো খুশিতে এক দৌড় । মেয়েটাকে গুমরা মুখে একটু ও ভালো- লাগে না । তাই ওর মায়া মাখা মুখের এক ফালি হাসির জন্য আমার কাছে ঘুরতে যাওয়া বেপারটা তেমন কিছু না । মেয়েটা যদি আকাশের চাদটা ও আমার কাছে চায় না হয়তো জানি এনে দিতে পারবো না কিন্তু আমার মুখ দিয়ে না শব্দটা ও তখন বের করতে পারবো না আমি কারনঃ মেয়েটাকে প্রচুন্ড ভালোবাসি যে । মেয়েটার ছোট্ট-ছোট্ট রাগ আভিমান গুলো দূর করাটা আজকাল আমার একটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে যা না করলে নিজেটা নিজের ই ভালো লাগে না । . কিছুক্ষন পর মেয়েটা ছাদে এসে হাজির । মেয়েটাকে দেখার পর আমার চোখে ছাড়াবোরা হয়ে গেল যেমনঃ কাল্পনিক গল্পের কোন এক নীল পরী নেমে এসেছে আমার এই ছাদে তাও আমার সামনে । পুরো কাল্পনিক গল্পের পরীদের মতো চোখ গুলো হরিনের চোখের ন্যায় । ঠোট গুলোতে যেন রংধনুর নীল রঙের প্রলেপ পড়েছে আর কিছু চুল হিমেল হাওয়া উড়ছে বাতাসে । চেহেরার সুন্দরর্য আমাকে কোন কবির ললনার কবিতার কাব্যর মতো মুগ্ধ করেছে । আমি ভেবে পাচ্ছি না যে ওর সুন্দরর্য কিভাবে বর্ননা করবো কি ভাষা দিয়ে বর্ননা করবো । . নিজুমঃ ইরু । এই ইরু হা করে কি দেখছিস এখনো রেডি হস নাই কেন ? ইরু। নিজুমের কথা শুনে আমার হুশ আসলো । হে মানে হচ্ছি । তুই ২ মিনিট অপেক্ষা কর । আসোলে মেয়েরা (আল্লাহ) পাকের অদ্ভুত এক সৃষ্টি যা বুঝে ওঠা মুশকিল । আমি ও একটা নীল পাঞ্চাবী পরে আসলাম পুরো মেচ করে । তো দুজনে ঘুরা-ঘুরি শেষ করে বাসায় আসবো এমন সময় নিজুম বললোঃ ইরু । এই আকাশ বাতাস তারা চাদ প্রকৃতিকে সাক্ষি রেখে বলছি তোকে আমি সত্যি খুব ভালোবাসি রে । খুব ভালোবাসি তোকে । আমিঃ আমি ও তোকে খুব ভালোবাসি রে । কিন্তু তুই কি পারবি আমার জন্য অপেক্ষার চাদর জড়িয়ে এই কন-কনে শীত পেরোতে । পারবি কি ? আমার জন্য অপেক্ষার পথ চেয়ে থাকতে । নিজুমঃ হে পারবো ! হে পারবো ! হে পারবো ! আমিঃ সত্যি তুই পারবি । বলে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলাম । নিজুম যদি ও কখনো হারিয়ে যাছ এই প্রকৃতির গর্বে শীতের কুয়াশায়া হয়ে । তাহলে জেনে রাখ আমি তোর এই কুয়াশার চাদর জড়িয়ে কাটিয়ে দিব সারাটা জীবন তোর অপেক্ষার প্রহরে । রাত্রে বাসায় এসে বিছনায় বসে একটু বিশ্রাম করছি । এমন সময় আম্মুর ফোন লন্ডন থেকে . আমি ফোনটা রিসিভ করলামঃ আম্মুঃ ইরাদ কেমন আছো বাবা ? আমিঃ জ্বী "মা" ভালো আপনি আব্বু কেমন আছেন ? আম্মুঃ আমি ভালো আছি তোর আব্বু শরীরটা ভালো নেই বাবা । লাইফে তো তোর থেকে কিছু চাইনি তোকে কষ্ট কি জিনিস তা ও বুঝতে দেই নি । বাবা আজকে আমরা তোর কাছ থেকে কিচ্ছু চাচ্ছি না করিছ না । আমিঃ জানি মা তুমি কি চাও । আমি টিকিট কেটেছি খুব শিঘ্রই চলে আসবো এই Week এর ভিতরে । আম্মুঃ সত্যি বাবা । তুই আসবি তাহলে । আমিঃ হুম বলে ফোনটা রেখে দিই । . আজকে চলে যাবোঃ তাই বাসায় সবাইকে আমাকে দেখতে এসেছে । সবাইকে দেখতে পারছি কিন্তু আজকে সারাদিনে ও নিজুম একবার ও আমার কাছে আসে নি । ওর কথা চিন্তা করে বুকের বাম পাশটার ধুপ- ধুপানি জেনো আগের চেয়ে বেড়ে গিয়েছে । খুজ নিয়ে দেখি রুমের দড়জা বন্ধ করে করে রেখেছে সারাটি দিন সকাল থেক কিচ্ছু খায়নি । আমি ওর রুমে গিয়ে নিজু বলে নক করতেই দড়জা খুলে আমাকে জড়িয়ে দরে কান্না করতে লাগলো । আর আমি ওকে বললাম আরে পাগলি কান্না করোছ কেন । আমি বলেছি না আমি আবার আসবো তোর জন্য । তখন তোকে আমার বউ বানিয়ে নিয়ে যাবো । শুধু তুই বল যে তুই আমার অপেক্ষা থাকবি ততোদিন-যতোদিন আমি না আসি ফিরে । কি পারবি না ? আমি আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবি না তুই? হে পারবো । ওক্কে যাই রে তাহলে । বলে চলে আসলামঃ দুটি চোখে ভরে কান্নার নোনা জল আর বুক ভরে কষ্ট নিয়ে । রওনা দিলাম আমার আব্বু- আম্মুর কাছ......... . গল্প (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ --অপেক্ষার প্রহর---(পর্ব - 1)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now