বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি আমার লাইফে আম্মু-আব্বুর
সাথে খুব অল্প সময় ই কাটিয়েছি
কারনঃ তারা দুজন ই প্রাবাসি । তার
মানে তো বুঝতে ই পারছেন অর্থ আর
বিলাসিতার ভান্ডারে সোনার চামচ
মুখে নিয়ে জন্মেছি আমি । তারপর ও
মাঝে-মাঝে এসব কিছুর বিনিময়ে ও
আমি আমার আম্মু-আব্বুকে সব-সময়
পাশে রাখতে মন চায় কিন্তু তা আর
সম্ভব হয়ে উঠলো না । আমার জিবনের
বিশেষ মানুষ গুলো হলোঃ আমার
আম্মু-আব্বু, নানা-নানি, আমার মামা
আরেক জন আছে সে হলো আমার ছোট
বেলার বান্ধবি (নিজুম) । আমার পুরো
ছোট বেলাটা ওর সাথে খেলা-ধুলা
করে কেটেছে । তাই মেয়েটার সাথে
আমার অনেক সৃতি জড়িয়ে আছে ।
.
এই কথা গুলো ছাদে একা বসে-বসে
চিন্তা করছি । এমন সময় নিজুম
আলতো করে আমার পাশে বসে পরলো
।
.
আমিঃ কিরে পাগলি . মুখটা এত্তো
ঘোমরা-ঘোমরা লাগছে যে কি হইছে
বল ?
নিজুমঃ কিছু না রে !
আমিঃ তাই ! তুই বললেই হব্বে কি
হইছে ? বল ।
নিজুমঃ ইরাদ . সবাই তো আজকে
ঘুরতে যাচ্ছে ভালোবাসা দিবস
উপলক্ষে।
আমিঃ তো !
নিজুমঃ তো ! তোর মাথা ! আমরা কি
ঘুরতে যেতে পারি না । আরে তুই কি
ঘুরতে যাবি তুই তো একটা ক্ষেত ।
আমিঃ এই । নিজু (আমি নিজুম কে
ভালোবেসে নিজু বলে ডাকি ) আমি
ক্ষেত ? ওকে যা যাওয়ার প্লান ছিল
এখন যাবো না সিন্ধান্ত নিলাম ।
নিজুমঃ ওফফফ । মেরি ইরু (নিজুম ও
আমাকে ভালোবেসে ইরু বলে ডাকে )
আমি রেডি হয়ে আসছি তাহলে ।
আমিঃ ওক্কে যা । তাড়া-তাড়ি
আসবি কিন্তু ।
.
নিজুম তো খুশিতে এক দৌড় ।
মেয়েটাকে গুমরা মুখে একটু ও ভালো-
লাগে না । তাই ওর মায়া মাখা
মুখের এক ফালি হাসির জন্য আমার
কাছে ঘুরতে যাওয়া বেপারটা তেমন
কিছু না ।
মেয়েটা যদি আকাশের চাদটা ও
আমার কাছে চায় না হয়তো জানি
এনে দিতে পারবো না কিন্তু আমার
মুখ দিয়ে না শব্দটা ও তখন বের করতে
পারবো না আমি কারনঃ মেয়েটাকে
প্রচুন্ড ভালোবাসি যে । মেয়েটার
ছোট্ট-ছোট্ট রাগ আভিমান গুলো দূর
করাটা আজকাল আমার একটা
অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে যা না
করলে নিজেটা নিজের ই ভালো
লাগে না ।
.
কিছুক্ষন পর মেয়েটা ছাদে এসে
হাজির । মেয়েটাকে দেখার পর
আমার চোখে ছাড়াবোরা হয়ে গেল
যেমনঃ কাল্পনিক গল্পের কোন এক
নীল পরী নেমে এসেছে আমার এই
ছাদে তাও আমার সামনে । পুরো
কাল্পনিক গল্পের পরীদের মতো চোখ
গুলো হরিনের চোখের ন্যায় । ঠোট
গুলোতে যেন রংধনুর নীল রঙের
প্রলেপ পড়েছে আর কিছু চুল হিমেল
হাওয়া উড়ছে বাতাসে । চেহেরার
সুন্দরর্য আমাকে কোন কবির ললনার
কবিতার কাব্যর মতো মুগ্ধ করেছে ।
আমি ভেবে পাচ্ছি না যে ওর সুন্দরর্য
কিভাবে বর্ননা করবো কি ভাষা
দিয়ে বর্ননা করবো ।
.
নিজুমঃ ইরু । এই ইরু হা করে কি
দেখছিস এখনো রেডি হস নাই কেন ?
ইরু।
নিজুমের কথা শুনে আমার হুশ আসলো
। হে মানে হচ্ছি । তুই ২ মিনিট
অপেক্ষা কর । আসোলে মেয়েরা
(আল্লাহ) পাকের অদ্ভুত এক সৃষ্টি যা
বুঝে ওঠা মুশকিল । আমি ও একটা নীল
পাঞ্চাবী পরে আসলাম পুরো মেচ
করে । তো দুজনে ঘুরা-ঘুরি শেষ করে
বাসায় আসবো এমন সময়
নিজুম বললোঃ ইরু । এই আকাশ বাতাস
তারা চাদ প্রকৃতিকে সাক্ষি রেখে
বলছি তোকে আমি সত্যি খুব
ভালোবাসি রে । খুব ভালোবাসি
তোকে ।
আমিঃ আমি ও তোকে খুব
ভালোবাসি রে ।
কিন্তু তুই কি পারবি আমার জন্য
অপেক্ষার চাদর জড়িয়ে এই কন-কনে
শীত পেরোতে । পারবি কি ? আমার
জন্য অপেক্ষার পথ চেয়ে থাকতে ।
নিজুমঃ হে পারবো ! হে পারবো ! হে
পারবো !
আমিঃ সত্যি তুই পারবি । বলে
জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলাম । নিজুম
যদি ও কখনো হারিয়ে যাছ এই
প্রকৃতির গর্বে শীতের কুয়াশায়া হয়ে
। তাহলে জেনে রাখ আমি তোর এই
কুয়াশার চাদর জড়িয়ে কাটিয়ে দিব
সারাটা জীবন তোর অপেক্ষার প্রহরে
।
রাত্রে বাসায় এসে বিছনায় বসে একটু
বিশ্রাম করছি । এমন সময় আম্মুর ফোন
লন্ডন থেকে . আমি ফোনটা রিসিভ
করলামঃ
আম্মুঃ ইরাদ কেমন আছো বাবা ?
আমিঃ জ্বী "মা" ভালো আপনি আব্বু
কেমন আছেন ?
আম্মুঃ আমি ভালো আছি তোর আব্বু
শরীরটা ভালো নেই বাবা । লাইফে
তো তোর থেকে কিছু চাইনি তোকে
কষ্ট কি জিনিস তা ও বুঝতে দেই নি ।
বাবা আজকে আমরা তোর কাছ থেকে
কিচ্ছু চাচ্ছি না করিছ না ।
আমিঃ জানি মা তুমি কি চাও ।
আমি টিকিট কেটেছি খুব শিঘ্রই চলে
আসবো এই Week এর ভিতরে ।
আম্মুঃ সত্যি বাবা । তুই আসবি
তাহলে ।
আমিঃ হুম বলে ফোনটা রেখে দিই ।
.
আজকে চলে যাবোঃ তাই বাসায়
সবাইকে আমাকে দেখতে এসেছে ।
সবাইকে দেখতে পারছি কিন্তু
আজকে সারাদিনে ও নিজুম একবার ও
আমার কাছে আসে নি । ওর কথা
চিন্তা করে বুকের বাম পাশটার ধুপ-
ধুপানি জেনো আগের চেয়ে বেড়ে
গিয়েছে । খুজ নিয়ে দেখি রুমের
দড়জা বন্ধ করে করে রেখেছে
সারাটি দিন সকাল থেক কিচ্ছু
খায়নি । আমি ওর রুমে গিয়ে নিজু
বলে নক করতেই দড়জা খুলে আমাকে
জড়িয়ে দরে কান্না করতে লাগলো ।
আর আমি ওকে বললাম আরে পাগলি
কান্না করোছ কেন । আমি বলেছি না
আমি আবার আসবো তোর জন্য । তখন
তোকে আমার বউ বানিয়ে নিয়ে
যাবো । শুধু তুই বল যে তুই আমার
অপেক্ষা থাকবি ততোদিন-যতোদিন
আমি না আসি ফিরে । কি পারবি
না ? আমি আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা
করতে পারবি না তুই?
হে পারবো । ওক্কে যাই রে তাহলে ।
বলে চলে আসলামঃ দুটি চোখে ভরে
কান্নার নোনা জল আর বুক ভরে কষ্ট
নিয়ে । রওনা দিলাম আমার আব্বু-
আম্মুর কাছ.........
.
গল্প (চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now