বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.................................................
-মেঘা,তোকে একটা কথা বলার ছিল....
-তো বলে ফেল....
-হ্যাঁ,বলতে তো চাইছি,বাট পারতেছি না....
-ধ্যাত মদন,সেই কবে থেকে একই ডায়লগ দিয়ে যাচ্ছিস....বলতেচাইলে তাড়াতাড়ি বল...নইলে গেলাম....!!
-আচ্ছা যা.....!!!পরে বলব!!!!
.
ধ্যাত....সেদিনও বলা হল না...বলি বলি করে সেদিনও মেঘাকে আমার ভালোবাসার কথাটা বলা হলো না।এভাবে সময়গুলো কেটে যেতে থাকে আপন মনে....
একদিন অনেক ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম মেঘাকে যে করেই হোক বলতেই হবে।।
পরের দিন ক্যাম্পাসে গিয়ে মেঘাকে খুঁজছিলাম।।হঠাৎ পেছন থেকে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করলাম।।পেছনে তাকিয়ে দেখি বালিকা দুষ্টু মিস্টি লুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।।
-কিরে কাকে এত্ত মনোযোগ দিয়ে খুঁজিস?? হুমম??
-না,মানে একজন কে....
-সেইটাই তো জানতে চাইছি সেই একজন টা কে??
-একটা মেয়েকে!!!
-কি বললি তুই?? (রেগে গিয়ে)
-এই না না,,,মানে তোকেই খুঁজতেছিলাম।
-হুমম,তাহলে ঠিক আছে।।তা কেনো খুঁজতেছিলেন??
-এমনি একটা কথা বলার ছিলো!!!
-তো বলে ফেলুন স্যার!!!
-না মানে বলছিলাম যে..........
-ওই শোন,আজ যদি না বলেছিস তো খবর আছে......
-না,মানে বলছিলাম কি,,,,,,,,
আমি না তোকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি রে..... (চোখ বন্ধ করে)
-তো,এই কথা বলতে এত সময় নিলি কেনো??
-না,মানে ভেবেছিলাম তুই রেগে যাবি, তাই আর কি!!!!
-ভালোবাসার মানুষের উপর কেও রাগ করতে পারে??
অনেকদিন ধরেই তোর এই কথাটার অপেক্ষায় ছিলাম।
-মেঘা তুইও আমাকে.........
-হুমম।আমিও তোকে ভালোবাসি রে।অনেক ভালোবাসি।আর ভালোবেসেই যাবো।
-তাহলে তুই কখনো বলিস নি তো!!
-ধুর পাগলা, মেয়েরা কখনো আগে মনের কথা বলে নাকি??
-কখনো ছেড়ে যাবিনা তো??
-না রে,তোকে আমি কখনোই ছেড়ে যাতে পারবনা।কেমন যেন একটা বাঁধনে তুই আমাকে বেঁধে ফেলেছিস।
.
কথাটি বলেই মেঘা আমাকে জড়িয়ে ধরে।আমিও সেদিন ওকে শক্ত করে জরিয়ে ধরেছিলাম।হুমম যাতে কখনো ও আমাকে আমাকে ছেড়ে হারিয়ে না যায়!!অনেক ঘোরাঘুরি করেছিলাম সেদিন!!একসাথে কফি খাওয়া, রাস্তার পাশে ফুচকাওয়ালা মামার ফুচকা খাওয়া।।দুজনে পাশাপাশি বসে সিনেমাও দেখেছিলাম সেদিন।।
জীবণের রঙিন মূহুর্তগুলো বুঝি সেদিনই চিনেছিলাম।।
.
সেদিনই আমাদের একসাথে হাতে হাত রেখে আমাদের পথ চলা।গ্র্যাজুয়েশন কম্পলিট করে আমার খুব ভালো একটা চাকরিও হয়ে যায়।বাসায় জানানোর পর দুই পরিবারের সম্মতিতেই ধুম ধাম করে আমাদের বিয়ে হয়।।
ভালবাসার ফুলঝুড়ি,দুস্টমি,অভিমানী সময় আর কিছু ভালোবাসার খুনসুটিতে ভালোই যাচ্ছিলো সময়গুলো।।আমাদের কোলজুড়ে ফুটফুটে এক সন্তানের আগমণের খবর আমাদের দিনগুলোকে আরো বেশি আলোকিত করে তোলে।
.
সেদিনের নীল আকাশটা তো নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলো কালো চাঁদড়ের এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবিতে।।শ্রাবণের রাত।।শ্রাবনের দমকা হওয়া বইছিলো উত্তর দিক থেকে।।
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে মেঘা।।প্রচন্ড ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলো মেঘা।।আমি ক্রমশ বেশি চিন্তিত হয়ে পরছিলাম।।বাহিরে ঝড়ের গতি ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। এদিকে মেঘার খুব কষ্ট হচ্ছিলো।।আমি আসলে বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করব।।প্রচন্ড গতিতে বাতাস বইছে।।আমি মেঘাকে কোলে তুলে নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওনা হলাম।।রাস্তায় রিক্সা ভ্যান কিছুই ছিলো না।।আমি ওকে কোলে নিয়েই হাঁটতে থাকলাম।। খুব কষ্টে অবশেষে হাসপাতালে পৌঁছালাম।।দ্রুত একটি পেসেন্ট ভ্যানে করে ওকে ইমারজেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হলো।।খুব চিন্তিত ছিলাম আমি।।চোখের পলকে ওকে এক নজর দেখলাম অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো।।কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিলো আমার।।
প্রায় ঘন্টাখানেক হয়েগেলো মেঘা আমার চোখের সামনে নেই।।কেমন আছে ও কে জানে!! আমি শুধু বাহিরে রাখা একটা চেয়ারে বসে আল্লাহকে ডাকছিলাম।।
হঠাৎ অপারেশন থিয়েটার থেকে ডাক্তারকে আসতে দেখলাম।।আমি তোতলা তোতলা ভাষায় জিজ্ঞাস করলাম.............
-ডা....ক্তার আ....আমার মে.....ঘা!!!আমার মেঘা কেমন আছে??
-কনগ্রাচুলাশান......আপনার একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান হয়েছে!!!আল্লাহের রহমতে আপনার মেঘাও ভালো আছে।
-আমি সাথে সাথে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম।ডাক্তার আমি কি ওকে দেখতে পারব??
-সিওর,,,,নার্স উনাকে নিয়ে যান।
.
কেবিনে ঢুকেই আমার প্রথম চোখ পরে মেঘার পাশে ছোট্ট জায়গা জুরে মিট মিট করে তাকিয়ে থাকা শিশুটির দিকে। মাসাল্লাহ,খুব সুন্দর হয়েছে ও,,,ঠিক ওর মায়ের মতই!!!
মেঘার মুখে মুচকি হাসি!! আমাকে দেখে যেন মেয়েটা যেন একটু বেশীই লজ্জা পেল।আমি আস্তে করে গিয়ে ওর কপালে একটি চুমু দিলাম।।ততক্ষনে ফোনে আমজ সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি।।
মেঘা কিছুটা সুস্থ হলেই আমি বাসা থেকে আমার গাড়িটি নিয়ে আসি।।সব কাজ শেষে মেঘা আর আমাদের কোল আলোকিত করে আসা পরীটাকে নিয়ে গাড়িরে বসলাম।।সেদিন আমি নিজেই ড্রাইভ করছিলাম।।সেদিন কেনো জানিনা খুব ভালো লাগছিল নিজের মধ্যে।।
আমিরা হাসছি,গল্প করছি আর মনের আনন্দে বাড়ি ফিরছি।।
বাড়ির দিকে ফিরতে পথে একটা মোর,,মোর ঘুরছিলাম,,,,হঠাৎ অপর পাশ থেকে আসা একটি ট্রাক ধাক্কা দেয় আমার গাড়িতে।।জানালা দিয়ে ছিটকে পড়ে যাই আমি।।
সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।।
হাসপাতালে জ্ঞান ফেরে আমার।।ততক্ষনে আমার বাবা মা এসে হাজির।।আমি পাগলের মতো কিছু একটা খুঁজছিলাম।।মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছিলাম,,তাই মনে করতে পারছিলাম না।।বাবা মার চোখে পানি!!আমি কেনো জানি চিৎকার করে উঠি।।
মনে পরে যায় মেঘার কথা, মনে পড়ে যায় পরীর কথা!!
বাবা মাকে জিজ্ঞাস করতেই ওরা কেমন স্তব্ধ হয়ে গেলো।।কারো মুখে কথা নেই!!!!শুধু চোখের কোণে জমে থাকা পানি লক্ষ্য করলাম।।
বুঝেছি আমার উপর নিশ্চয় ওরা রাগ করেছে মেঘা।খুব তাড়াতাড়ি আমাকে বাসায় যেতে হবে.....।।নইলে আজ আমার খবর হয়ে যাবে।।আমি বিছানা থেকে উঠতে চাইলাম।।কি আশ্চর্য আমাকে ধরে শুইয়ে দিলো ওরা।
আমার পাগলামি দেখে ডাক্তার কি একটা আমার গায়ে পুশ করা হলো।।আমি ভেতরের ব্যাথাটা কাওকে বোঝাতে পারছিলাম না।।শুধু অনুভব করছিলাম।।খুব কষ্ট হচ্ছিলো একটিবার মেঘা আর আমার পরীটাকে দেখার জন্য।।ধীরে ধিরে চোখের পাতা ভারী হয়ে যাচ্ছিলো।।চোখ বেয়ে পানি আসছিলো আমার।।আমার মেঘা আমাকে ছেড়ে চলে গেলো??মেঘা তো কথা দিয়েছিলো কোনোদিন ছেড়ে যাবেনা!! তবে কেনো চলে গেলো মেঘা??পরীটাকে দেখার জন্য নিরবে কেমন একটা ছটফট করছিলাম।।
-ওইতো আমার মেঘা!!!কোথায় যাচ্ছে মেঘা??মেঘা!!!
মেঘা তুমি কখন আসবে?? মেঘা!!কথা বলছো না কেনো!!!
মেঘা আমাকে টাটা দিয়ে ধীরে ধীরে কোথায় যেনো চলে যাচ্ছে।।
পরনে একখানা সাদা কাপড়।।আমি ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে পরছিলাম।মেঘাকে ডাকবার মতো শক্তি পাচ্ছিলাম না।।নিস্তেজ এই আমি তবুও নিরবে ডেকে যাচ্ছিলাম মেঘাকে।।।
(মে,,,,,,ঘা,,,,,মেঘা,,,,,,কোথায় তুমি!!!!!!
মেঘা,,,,,,,,, প......রীটাকে দাওনা আমার কাছে একটু প্লি.......জ।।।মেঘা....এই মে..... ঘা.......)
.
আজ প্রায় কয়েক বছর কেটে গেল মেঘা আমার পাশে নেই....ঐ সন্ধ্যার নীল আকাশটায় যেন জ্বলজ্বল করে জ্বলা তারা হয়ে জ্বলছে......দুপুর গরিয়ে বিকেল হলেই আমি দৌঁড়ে যাই বাসার ছাদে...মেঘা বুঝি আমার লেটের জন্য অভিমানী মুখ করে বসে আছে ছাদের এক কোণায় থাকা দোলনাটায়.....কিন্তু গিয়ে দেখি দোলনাটা ফাঁকা পরে আছে....সন্ধ্যার আকাশটায় জ্বলে থাকা তারাগুলোকে আজ বড় অদ্ভুদ লাগে....অপলোক চেয়ে দেখি তারাগুলোকে.....টেবিলটা ঠিক জানালার পাশেই....ইচ্ছে হলেই চেয়ারটা হেলিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখি মেঘাকে....ভালবাসার সুরে ডাকি ওকে,কিন্তু ও আসেনা....সূর্য মামাটার সাথেও আজকাল সম্পর্কটা ভালো নেই....সূর্যের আলো সারাটাদিন তারাগুলোকে ঢেকে রাখে.....তবুও আমি অপেক্ষা করে যাই পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার.....ছুঁটে যাই বারান্দায়,সন্ধ্যা হলেই ওকে দেখা যাবে যে....!!!
মাঝে মাঝে সেই দিনগুলির কথা খুব মনে পরে...।কত সুন্দরই না ছিল সেই দিনগুলি...।যে দিনগুলি আজ হারিয়ে গিয়েছে প্রকৃতির ভীরে...।সময়ের ভীরে আপন মনে লুকিয়ে পরেছে সেই মূহুর্তগুলো...।মনের জানালার পাশে দাঁড়ালে আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে যায় ফেলে আসা সেই হাজারো স্মৃতি...।
.
একটা সময় আমার জীবনে এসেছিল রংধনুর সাত রঙে রাঙানো কিছু রঙিন মূহুর্ত,আজ সে জীবনটা পরিনত হয়েছে রঙহীন এক সাদাকালো জীবনে...।একটা সময় এসেছিল আমার জীবনে,যে জীবনটা ছিল হাসি আনন্দ দিয়ে ঘেরা,আর আজ..?শত চেষ্টা করেও হাসতে ব্যার্থ হই...।।
একটা সময়ে নিজেকে বার বার আয়নায় দেখতাম,আর আজ নিজের কথা তো প্রায় ভুলেই গিয়েছি...।।
.
রোজ রোজ তোমার কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা,অপলোক চোখে তাকিয়ে থাকা,হাত ইশারায় কিছু একটা বোঝানো,কখনও আবার কলেজ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে সেই নদীর ধারটায় দেখা করার সময়গুলো আমাকে আরো বেশী মনে করিয়ে দেয় আমার ভেঙে যাওয়া চুর্ণ-বিচুর্ণ ক্ষত হয়ে যাওয়া হৃদয়ে তোমার অনুপস্হিতি...।।
.
তোমার মুখের কোণে ফুটে ওঠা এক চিলতে হাসি দেখতে কত বাহানাই না করতাম...।।সবচেয়ে বেশী মনে পরে তোমার হাতের স্পর্শের সেই মূহুর্তগুলো,মনে পরে নদীর ধারে একই পথে হাতে হাত রেখে হেঁটে চলার সেই মিষ্টি মূহুর্তগুলোর কথা,
মনে পরে যায় সেই বৃক্ষ ছায়ায় বসে কাটানো সময়গুলোর কথা...মনে পরে কাশফুলের আঁড়ালে লুকিয়ে পরা ভালোবাসার কথা...তুমি লুকোতে কোন এক কোণে...খুঁজে বের করতাম আমি...।অজানা এক ভালোবাসার আবেশে হারিয়ে যেতাম আমরা...।খুব মনে পরে সেই বৃষ্টি ভেজা মূহুর্তগুলোকে...মনে পরে সন্ধ্যাবেলার সেই জোসনা ভরা আকাশটাকে...।মনে পরে সমুদ্রের পারের সেই সূর্য ডোবার মূহুর্তটাকে...।মনে পরে আঁকা বাঁকা মেঠোপথ ধরে গ্রামের পথে হেঁটে যাওয়ার সেই সময়টাকে...।মনে পরে দিঘীর ধারে তোমার কাঁধে মাথা রেখে কোনো এক অজানা রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার সেই সময়গুলোকে.......
.
দিঘীর ধার টা ঠিক আগের মতোই আছে,সেই ব্রেঞ্চটিও আছে ঠিক আগের যায়গায়...আছি আমিও,শুধু অনুপস্হিত তুমি...।আজও আমি সন্ধ্যার জোসনা ভরা আকাশটাকে দেখি,শুধু পাশের জায়গাটা অপূর্ণ হয়েই পরে আছে....আজও আমি আমার সময়ের কিছু অংশ কাটাই সেই নদীর ধারটায়,নিজের চারপাশটা কেমন শূণ্য শূণ্য অনুভব হয় বার বার.....নিজেকে আবিষ্কার করি এক ভিন্ন রূপে....।
.
সেই সময় আর সময়ের আড়ালের মূহুর্তগুলোকে আজ বড় অচেনা বলে মনে হয়...।।বড় অদ্ভুদ হিসেবে আবিষ্কার করি নিজেকে...।মাঝে মাঝে স্মৃতির জানালা দিয়ে সময়ের ভীরে হারিয়ে ফেলা হাজারো স্মৃতি উঁকি দিয়ে যায়....
অপেক্ষায় থাকি প্রতিটি সময়ে,তুমি আসবে বলে..........।।
........................অপেক্ষাগুলো অপেক্ষাই রয়ে যায়,প্রতিক্ষাগুলো যেন শুধুই প্রতিক্ষামান.....।।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now