বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অপেক্ষা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X [প্রথম অংশ] .... রিয়ানা অনেক্ষন ধরে নাস্তা বানাচ্ছে। বিভিন্ন আইটেমের নাস্তা। নাস্তা বানানো তার কাছে বেশ আনন্দের। প্রতিদিনের সকালটা শুরু হয় এই আনন্দময় কাজের মাধ্যমে। অদ্ভুত স্বাদ হয় রিয়ানার হাতে বানানো নাস্তাগুলো। নিজের কাছেও স্বাদ লাগে। রায়হানের কাছেও মনে হয় এই নাস্তাগুলোর স্বাদ অতুলনীয়। খুব আয়েশ করে খেতে পারে সে। তার নাস্তা খাওয়ার ভঙ্গিমাটাই রিয়ানা বেসি পছন্দ করে। মাঝে মাঝে সে নিজেও রায়হানের মতো করে খাওয়ার চেষ্টা করে। বার বার ব্যর্থ হওয়ার পর এক সময় হাল ছেরে দিতে হয়। রায়হানের মতো করে কেউই হয়তো খেতে পারেনা। এই অর্জনটা কেবলই রায়হানের। এখন তার উপর সামান্য অভিমান হচ্ছে। বাসায় ফিরেনি আজ অনেকদিন ধরে। কি আজব একটা মানুষ। কিভাবে পারে বৌ বাচ্চা ছেরে এভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে? থাক,যতোদিন পারে থাক। একসময় ঠিকই এসে পরবে। তখন ইচ্ছামতো বকা দিতে হবে। বোকার মতো চেয়ে থাকলেও কাজ হবেনা। অনেকগুলো কথা একসাথে শুনিয়ে দিবে রিয়ানা। সাংসারিক জীবনে বৌ'এর বকা খাওয়ার অনেক ভালো দিক আছে। এটা ভিটামিনের মতো কাজ করে। রিয়ানা নাস্তা বানানো শেষ করেছে। এখন সোজা রুহির কাছে যেতে হবে। বাচ্চা মানুষ দেরি করে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করলে বিপদ। একসময় দেখা যাবে দিনটা ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই শেষ করেছে। এত বেশি আস্কারা দেওয়া যাবেনা। আস্কারা পেলে মানুষ কাঁধে উঠে যায়। মানুষের একটা অদৃশ্য বদ অভ্যাস এটি। রুহি আস্কারা পেলে ঘুমানোর অভ্যাস শুরু করবে। কাঁধে উঠার মতো হাত পা লম্বা হয়নি এখনো। রিয়ানা রুহির পাশে গিয়ে বসেছে। জাগাতে ইচ্ছা করছেনা একদমই। রুহি অদ্ভুত ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছে। উপুর হয়ে দু হাত পেটের নিচে দিয়ে রেখেছে। পিতা পুত্রের মধ্যে এখানেই বেস মিল আছে। একজন অদ্ভুত ভঙ্গি করে নাস্তা খায়,আরেকজন অদ্ভুত ভঙ্গিতে ঘুমায়। রুহির মতো করে অদ্ভুত ভঙ্গিমায় ঘুমানোর চেষ্টা অবশ্য রিয়ানা করেনি। করার ইচ্ছাও নেই। চেহারাটা পুরোপুরি দেখা যাচ্ছেনা রুহির। রিয়ানা হালকা স্পর্ষ করলো রুহির শরীরে। মুহুর্তটা খুব ভালো লাগছে তার কাছে। এখনো দ্বিধায় আছে সে। জাগানোর ইচ্ছা না থাকা সত্বেও ডাকতে শুরু করলো। --রুহি,উঠো বাবা। --উউউ --উঠো দেরি হয়ে যাচ্ছেতো। --উউউউ -- না উঠলে কিন্তু গাল টিপে দিবো। রুহি এক মুহুর্তও দেরি করলোনা। গাল ধরে কেউ জোরে টিপাটিপি করলে তার বাথরুম চাপে। এই জিনিসটা রুহির কাছে চরম বিরক্তিকর। তবে একজনের হাতে টিপা খেলে তার বথরুম চাপে না। সে হলো রায়হান। এই বিষয় টা নিয়ে রুহি মাঝে মাঝে চিন্তা করে। বাবার হাতে নিশ্চয় যাদু আছে। রুহির খুব ভালো লাগে তখন। প্রতিবার বাবা আসলে রুহি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। রায়হান সুযোগ পেলেই রুহির তুলতুলে গাল ধরে টানাটানি করে। কখনো কখনো ঠোট লাগিয়ে আদর করে দেয়। রুহি ঠিক করেছে, এবার বাবা আসলে সেও বাবার গালে আদর করে দিবে। বাবা তখন অনেক খুশি হবে। .... রিয়ানা টেবিলে নাস্তা সাজানোয় ব্যস্ত। নাস্তা বানাতে আনন্দ। সাজাতেও আনন্দ। রায়হানের সামনে বসে তার অদ্ভুত ভঙ্গিমায় খাওয়ার দৃশ্যটা দেখতেও আনন্দ। রুহিকে কোলে বসিয়ে নিজ হাতে নাস্তা খাওয়াতেও রিয়ানার অনেক আনন্দ লাগে। সংসার জীবনটাই আসলে আনন্দের। এই আনন্দটাকে খুঁচিয়ে বের করে নিতে হয়। রিয়ানা বের করতে পেরেছে। তাইতো এত আনন্দ তার এই ছোট্ট সংসারে। রুহি চেয়ারে এসে বসেছে। রিয়ানা তার দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। খুব সুন্দর দেখাচ্ছে তার ফুটফুটে ছেলেটাকে!! কি মায়াবী একটা তুলতুলে চেহারা! রিয়ানার ইচ্ছে করছে ওকে কোলে তুলে তুলতুলে গালে চুমু খেতে। বুকে জড়িয়ে আদর করতে ইচ্ছে করছে। অনেক্ষন ধরে আদর করবে। -রুহি, আমার কোলে এসে বসো। -না, পারবোনা। -পারবেনা কেন? -তুমি গাল টেনে দিবে বলেছিলে। -দেরি করে ঘুম থেকে উঠলেতো গাল টানবোই। -তুমি পঁচা। এত্তগুলা পঁচা। রিয়ানা বিশ্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে রুহির দিকে। ছেলেটা দুষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাত্রাতিরিক্তভাবে দুষ্ট হওয়ার মতো দশা। আস্কারা দেওয়া যাবেনা একটুও। রিয়ানার কান্না চলে আসছে। নিজেকে রুহির অনেক অপরিচিত মনে হচ্ছে। চোখের জলগুলো আটকানো যাচ্ছেনা। রিয়ানা অশ্রুগুলো লুকানোর চেষ্টা করছে। রুহির সামনে কান্না করা একদমই ঠিক হবেনা। কান্না করার জন্য নির্জনতা প্রয়োজন। এখন সেই নির্জনতা নেই। রুহি ঘুমানোর সময় কান্না করা যেতো। কেউ টের পেতোনা। রায়হানের কথা চিন্তা করে কান্না করার মুহুর্তটাকে আরও আবেগময় করা যেতো। এখন কান্না করার কোন যৌক্তিকতা নেই। বাচ্চা একটা ছেলের কথায় কান্না করা আরও অযৌক্তিক। রিয়ানা নিঃশব্দে খাচ্ছে। রুহির সাথে এক ঘন্টা অভিমান করে থাকবে সে। একদমই কথা বলবেনা। তার বুঝা উচিৎ,এ পৃথিবীতে মায়ের অনুপস্থিতি কতটা অসহায় করে দেয় একজন সন্তানকে। বাবার অনুপস্থিতিও অনুভব করছে সে। এখন মায়েরটা ও করুক। এক ঘন্টার জন্য এতিমের মতো থাকুক। জীবনে সব কিছুরই টেস্ট নেওয়া দরকার। কিছু জিনিষের টেস্ট আগে থেকে নিতে পারলে ভালো। সজাগ হওয়া যায়। জীবনকে বুঝা যায়। সকালের নাস্তা বানানোর সময় রিয়ানা এ কাজটি করে। ভালো ফল পাওয়া যায়। সুস্বাদু নাস্তা তৈরী হয়। তাছাড়া সবার আগেই একবার নাস্তার স্বাদ নেওয়া যায়। .... রুহি রিয়ানার কোলে বসে নিঃশব্দে নাস্তা খাচ্ছে। রিয়ানা ব্যাপারটা এখনো খেয়াল করেনি। এখনো ভাবনার জগতে পরে আছে সে।... (চলবে.....)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ ট্রেনের অপেক্ষায় ????
→ তোমার জন্য অপেক্ষা
→ তোমার জন্য অপেক্ষা
→ অপেক্ষা ( সিজন ২)
→ অপেক্ষা
→ অপেক্ষার অবসান
→ তোমায় এক পলক দেখার জন্য অপেক্ষা
→ তোমার অপেক্ষা/ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
→ মৃত্যুর অপেক্ষা!
→ অপেক্ষার অবসান
→ "এখনও আমি অপেক্ষা করছি তোমার জন্য!!!" পর্ব-১
→ বিবাহের অপেক্ষা
→ অসমাপ্ত অপেক্ষা
→ অপেক্ষা
→ অপেক্ষা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now