বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
**অপেক্ষা **
অপেক্ষা বড় কঠিন, অপেক্ষা আনন্দ ময়,আবার অপেক্ষাই মহাকাল।যাইহোক আমি আমার জীবনের একটা ছোট্ট গল্প আপনাদের মাঝে বলতে চাই । এখন গল্প বলা যাক আমি মোঃ H খাঁন ,আমরা দুই ভাই আমি বড় । আমার পিতা মোঃ HL খাঁন ও মাতা NH খাঁন ।বাসা রাজবাড়ি, তবে বর্তমানে ঢাকা মিরপুর থাকা হয় আমাদের নিজেদের আরেকটা বাসাতে।এখানে আমার মুনি কাকু থাকে ,আমার আব্বুরা চার ভাই আমার দাদু GH খাঁন।যাইহোক নিজের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরলাম ।এবার মূল গল্পে আসি ,যদিও আমার গল্পটা একটু পাগলামি, তবে সত্য ঘটনা অবলম্বনে বলছি।আমি H খাঁন এসএসসি পরীক্ষা পাশের পর কয়েকটি কলেজে চান্স পাই, লোকসমস্যা কারণে কলেজের নাম টা নাই বল্লাম ।ধীরে ধীরে আমার ভর্তির সময় ঘনিয়ে আসছে, বাসা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল এমন একটা কলেজে আমাকে ভর্তি করা হবে যেখানে থাকলে আমি নিরাপদ ও রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখাই তাদের মুখ্য বিষয় ।যদিও আমি রাজনীতি পরিবারের সন্তান ।যাইহোক আমাকে ঢাকার কাছেই একটি কলেজে ভর্তি করার জন্য সিদ্ধান্ত নিল।তখন ছিল রমজান মাস । আমি ও আমার বাবা আমাকে ভর্তি করার জন্য রওনা হলাম । আমরা দুজনেই রোজা, খুব গরম ও শরীর খুব কান্ত বোধ করলাম । আব্বু আর আমি গল্পে গল্পে সেই কলেজে উপস্থিত হলাম ।ভর্তির ফরম নেওয়ার সময় দেখি এলাহী কান্ড কারখানা, প্রচুর স্টুডেন্ট ভর্তির জন্য ভিড় জমায়ছে।আমার আব্বু ইংরেজি বিভাগের একজন ছ্যারের কাছে আমার ভর্তির জন্য দ্রুত সাহায্য চাইলেন, যদিও ছ্যারের নামটা আমি জানিনা । ছ্যার আমাকে বল্লেন ফর্ম পূরণ করে দিতে ও ফি । শত ভীড়ের মধ্যে আমাকে দ্রুত ভর্তি করে দিলেন ।মাশাল্লাহ হাফ ছেড়ে বাছলাম ,একে গরম তারপর আমি আর বাবা দুজনেই রোজা । এরপর বাবা বল্ল তুই কলেজ পার ঘোরাঘুরি কর তোর চিনতে শুবিধা হবে, আমি ততক্ষণে মিরপুর থেকে ঘুরে আসি এসে দুজন একসাথে হোটেলে ইফতার করে বাসার দিকে রওনা দিবো।আমি বল্লাম ঠিক আছে বাবা এইবলে কলেজের ভিতরে ঢুকে পড়লাম । আবার সেই ভর্তির ওখানে গিয়ে এমন একটা অদ্ভুত সিচুয়েশনে পড়লাম। আর সেটা নিয়েই আমার মুল গল্প । আমি ওখানে একটি মেয়েকে দেখতে পেলাম যদিও বাজে কিছু মনে করবেন না । আমি মনে মনে চিন্তা করলাম কিভাবে এই মেয়েটার সাথে কথা বলা যায় । কিন্তু আমার দূর্বলতা যে আমি মেয়েদের সাথে কথা বলতে ভয় পাই, এমন কি আগেও এরকম কোন মেয়ে বন্ধু তো দূরে থাক মেয়েদের কে আমি এখনো ভয় পাই আমি ওকে বারবার দেখলাম; একসময়ে ওর ভর্তি শেষ এবং কোন পলকে হারিয়ে গেল ।কিন্তু আমি মনে মনে ঠিককরলাম ভর্তি যেহেতু এই কলেজে কোন না কোন ভাবে দেখা হবেই,এটা ভাবতে ভাবতে কলেজ থেকে বের হলাম ।কিছুক্ষণের মধ্যেই বাবা আসলেন, আমরা ইফতার করলাম ও নামাজ শেষ করে বাসার দিকে রওনা দিলাম । রমজান মাস বিদায় নিল হাসিখুশি ঈদ উদযাপন করলাম ।এবার কলেজের ক্লাস শুরুর পালা। বাবা আমার সাথে করে আবার কলেজের দিকে রওনা দিল কারণ আমার ক্লাস শুরু হবে বাসা নেওয়ার পালা।এসে আব্বুর পরিচিত এক আংকেলের বাসা কথা হলো, কিন্তু এখানে আমার পরের রুমে কিছু আপু থাকে এটা দেখে আমি লজ্জা ও ভয় দুটোই পেলাম তাই আব্বুকে সিদ্ধান্ত দিলাম আপাতত ম্যাচেই থাকি এক দু মাসের মধ্যে আমি নিজেই বাসা নিতে পারবো ।ম্যাচে খাবার দাবার ঝামেলা জন্য আমাকে বাসায় রাখার কথা হচ্ছিলো । যাইহোক বাবা আমার সিদ্ধান্ত সম্মতি দিলেন ।কলেজের কাছাকাছি একটা ম্যাছ পেয়ে গেলাম ।খুব মজা হলো ,তবে রাতে যখন ঘুমাতে গেলাম মশার কি কামর রে ভাই সে যন্তনা আজও ভুলতে পারবো না ।বাড়ির কথা বারবার মনে হচ্ছিল ।পরের দিন সব ঠিক করে নিলাম ।কলেজের ক্লাস শুরু হল আমি কলেজের যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ।কলেজে প্রথম প্রথম তাই ক্লাস রুম খুঁজে পাচ্ছিলাম না ।যখন ক্লাস রুম খুঁজে পেলাম সেটা দেখি আমাদের কলেজের হল রুম ।আমাদের ক শাখার 400জন ছাত্র ছাত্রী সেখানে এক জনসভায় মেতে উঠেছে । আমিও সেই জনসভায় যোগ দিলাম ।আমি গিয়েই প্রথম বেঞ্চে জায়গা পেয়েই বসে পড়লাম ।পরিচিত হলাম কয়েক জনের সাথে , এমতবস্থায় আমার চোখের পলক পড়লো মেয়েদের বেঞ্চের দিকে হঠাৎই সেই মেয়েটি ।আমি নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না ।মনে মনে খুব খুশি হলাম । এমন সময়ে পাশে জায়গা পেয়ে মোঃ তুরযো নামে এক বন্ধু বসে পড়লো ।ধীরে ধীরে ক্লাস শুরু হলো, একদিন দুদিন এভাবে একমাস দুমাস করে তুরযোর সাথে আমার বেষ্ট বন্ধুত্ব হলো ।ততদিনে আমিও ম্যাচ ছেড়ে বাসা পেলাম ।তুরযো কে একদিন আমি সব খুলে বল্লাম ওই মেয়েটির ব্যাপারে, ধীরে ধীরে ওই মেয়ের নাম, লাইফ স্টোরি চোদ্দ গোষ্ঠীর খবর বের করলাম । আমি ওকে কিছু বলতে চাইলাম কিন্তু তুরযো আমাকে বল্লো এখন না পরে বলা যাবে সামনে পরীক্ষা । আমি ওর কথায় সারা দিলাম ।আর আমি এমনিতেই মেয়েদের দেখে ভীতু । এভাবে আর একমাস পার হল দেখা হলো জুয়েল নামের এক বন্ধুর সাথে যদিও আমাদের বিভাগের ছাত্র না ।বিজ্ঞানের খুব মেধাবী ছাত্র ।ওর সাথে আমার কঠিন বন্ধুত্ব হলো । এভাবে আমার বাসায় দুজন একসাথে থাকা ধরলাম ।ধীরে ধীরে আরো বেশ কিছু ভালো বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব হলো তার মধ্যে শাকিব, বেনজির, শাহ আলম, শাওন,রাটুল,প্রসেনজিৎ সহ আরো অনেকের সাথে । পরীক্ষার কিছুদিন আগে আমাদের হলরুমে পড়াশুনা করা ঝামেলার জন্য আমি সহ কয়েক জন বন্ধু মিলে রুম পরিবর্তন করার জন্য আমরা পেনসিপালের কাছে দরখাস্ত পেশ করলাম । সেদিন যখন দরখাস্ত দিতে যাই সেই মেয়েটি আমাদের সাথে যায় । আমি কিছু বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভয়ে বলতে পারি নাই ।দরখাস্ত মনজুর হল অন্য ভবনে ক্লাস শুরু হলো । একদিন ক্লাসে তুরযো সেই মেয়েকে বল্ল H খাঁন তোকে পছন্দ করে ।সেই মেয়ে মানে D বল্ল আমি তো Hকে চিনিনা । কে ওকে দেখতে চাই । আমি ভয়ে রুমের দিকেগেলাম না ।পরে অবশ্য দেখেছে; একটা ক্লাস হচ্ছিল আমি আর তুরযো তখন বের হচ্ছি আমি একটু পিছিয়ে ওকে আবার দেখি। বের হয়ে সাওন নামের বন্ধুর সাথে দেখা ওকে আর জুয়েল কে সব খুলে বল্লাম । আমি সিদ্ধান্ত নিলাম Dকে কিছু বলবো ওরা দু’জনেই বল্ল কলেজে আছে এখানে থেকে বল ,আমি বল্লাম না ওদের বাড়ি দেখবো । আর ঠিক ওই মুহূর্তে তুষার নামে এক বন্ধুর সাথে কথা যার কাছে আমি সাহায্য প্রার্থনা করলাম কারণ ও D এর ছোট বেলার বন্ধু । এরপর বাসায় আসলাম বিকালে D এর বাড়ির দিকে আমি সাওন ও জুয়েল তিনজন ওদের বাসার সামনে গিয়ে নামলাম, আর সব ঘুরে দেখলাম । আমি ভাবছি এখন যদি ওর সাথে দেখা হতো কি যে ভালো হতো । এই ভেবে যখন বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম এমতবস্থায় D ওদের গেটের সামনে কলেজ থেকে আসলো । আমি ওকে আকাশ ভেঙ্গে পড়লো । আমি সমস্ত ভয় বিসর্জন দিয়ে ওর সামনে গিয়ে বল্লাম আমি তোমাকে পছন্দ করি, ও বল্লো তো কি । আমি বল্লাম তোমার কাছ থেকে তো একটা কিছু আশা করি,ও বল্লো না এটা হয় না আমরা সেম ইয়ার ।আমি বল্লাম তাতে কিতুমি যখন ভর্তি হও আমি তো জানতাম না তুমি আমাদের সাথে ।ও তখন বল্ল বন্ধু করতে পারে আমার ম্যাজাজ টা বিগরে গেল । ও বল্লো বাসার মধ্যে আস, আমি বল্লাম না আর বল্লাম তোমাদের এখানে গাড়ী পাচ্ছি না হেটে যেতে হবে । ও বল্ল ভিতর আস একটু দারাও গাড়ী পাবে । এর মধ্যে আমি রেগে গেছি আর ওকে বল্লাম তোমার বোন জাহাঙ্গীর নগর পরে আচ্ছা ঠিক আছে । আমার ইচ্ছা হচ্ছিল ওর বোনকে বলি । যাইহোক রেগে চলে আসলাম । D এর fb তে ম্যাসেজ করলাম কয়েক দিন পর ও আমাকে ব্লক মারলো। এর মধ্যে তুরযো ওকে বল্লো আর আমার সাথে কথা হল কলেজে একবার বল্লো ও কারো সাথে প্রেম করবে না আবার বল্লো ভার্সিটি উঠে । আমি দিধায় পরে গেলাম । এরমাঝে দুই তিন দিন কথা হয়েছে এখন ও মতে অবিচল। কিন্তু আমি আর সহ্য করতে পারছি না সব বন্ধুরা আমার দিকে ও একা একদিকে । আমি যেন এক অপেক্ষার মধ্যে বাস করছি ।জানি না শেষ পরিণতি কি? তবে আমার পন আমার বিশ্বাস আমি ওকে পাবোই। জানি না ওকে না পেলে আমার কি অবস্থা হবে? এ অপেক্ষা বীরহ মান ,তবে নিশ্চয়ই আমি অথবা ও কিংবা পরিবেশ ও কে বাধ্য করবে ।আমি চেয়েছি কেন পাব না আজ ও উত্তর পাচ্ছি না ।অপেক্ষা খুব কষ্টের আর সেই অপেক্ষা আমাকে লক্ষ্য স্থানে পৌঁছে দেবে ●●●
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now