বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
→--শুভ একটু হেল্প করবি?(আকাশ)
-বল(আমি)
-বৃষ্টির সাথে একটু ঝগড়া হয়েছিল।তাই দুদিন
ধরে ওর
সাথে যোগাযোগ করতে পারছিনা।এমনকি
কাছেও
ঘেষতে পারছি না।
-তো আমি কি করবো?
-এই চিঠিটা বৃষ্টির বইয়ের ভিতরে দিয়ে আয়
না প্লিজ
-বৃষ্টি কোথায়?
-ঐ লাইব্রেরীতে বসে আছে
-ঠিক আছে দে দিয়ে আসছি
লাইব্রেরীতে গিয়ে দেখি মেঘা ও বৃষ্টি
গল্প
করছে।মেঘা ও বৃষ্টির মাঝখানে একটা বই
ছিল।
তাদের সাথে কথা বলতে বলতে ঐ বইয়ের
মধ্যে চিঠিটা রেখে দিলাম।তারপর বিদায়
নিয়ে চলে
এলাম।
.
-কিরে ঠিক মতো দিলি?(আকাশ)
-হুমম।ওর বইয়ের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছি।(আমি)
-থ্যাংকস দোস্ত
-ওয়েলকাম
.
রাতে মেঘা পড়ছিল।তখন মেঘার বাবা মা
মেঘার ঘরে
ঢুকলেন।
-কিছু বলবে বাবা?(মেঘা)
-এইটা কি(চিঠিটা মেঘাকে দেখালেন
মেঘার বাবা)
-কি এটা?
-এই লাভ লেটার তোমার বইয়ের ভিতরে এলো
কি
করে?
-কি বলছো তুমি?লাভ লেটার কোথা থেকে
আসবে?(অবাক হয়ে)
-সেটাতো তোমার জানার কথা।তোমার
বইয়ের
ভিতরে তোমার মা এটা পেয়েছেন।
-বাবা আমি সত্যি জানিনা এটা কি করে এল।
-থাক আমাকে আর বোঝাতে হবে না।আমি
তোমার বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি অন্য যায়গায়।
মেঘাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সেখান
থেকে মেঘার বাবা মা চলে গেলেন।
মেঘা রাতে অনেক কান্নাকাটি করলো।
রাতে
অনেক চিন্তা করলো যে চিঠিটা কি করে
এলো
ওর বইয়ে।অনেক ক্ষন চিন্তা করার পর হঠাৎ
মনে
পড়লো আমার কথা যে আমি ওদের সাথে
লাইব্রেরীতে কথা কথা বলেছিলাম।তখন খুব
রাগ
হচ্ছিল মেঘার।
.
পরেরদিন কলেজে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা
দিচ্ছিলাম।হঠাৎ মেঘা আমাকে ডাকল।একটা
আলাদা
জায়গায় নিয়ে মেঘা আমাকে বলল,
-কেন করলে এমনটা?(মেঘা)
-মানে?(আমি)
-এইটা কি?(চিঠিটা দেখিয়ে)
-এটা তোমার কাছে কি করে গেল?এটা
আকাশ
বৃষ্টিকে দিতে বলেছিল।
-তুমি এটা আমার বইয়ের মধ্যে রেখে
দিয়েছিলে
আর মা বাবা এটা দেখে মনে করছে আমার
কারো
সাথে সম্পর্ক আছে।আর তাি তারা আমার
বিয়ের
প্রস্তুতি নিচ্ছেন।কিন্তু আমি এখন বিয়ে
করতে চাই
না।একজন অজানা,অচেনা মানুষের সাথে
কিভাবে
থাকবো আমি বলতে পারো।কেন করলে
এমনটা?
তুমি আমার লাইফটা শেষ করে দিলে।আমার
স্বপ্নগুলো সব স্বপ্নই রয়ে গেল
-আচ্ছা আমি যদি তোমার বাবাকে গিয়ে
বলি আমি এটা
ভুল করে তোমার বইয়ের মধ্যে ঢুকিয়ে
দিয়েছিলাম।
-আর কোনো লাভ হবে না।বাবা একবার যা
বলে তাই
করে।আমার এই অবস্থার জন্য তুমি দায়ী
থাকবে।
বলেই মেঘা চলে গেল।
.
মনখারাপ করে আকাশের পাশে গিয়ে
বসলাম।
-কিরে কি হইছে?(আকাশ)
-আমার জন্য মেঘার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।(শুভ)
-কি হইছে বল?
সব কথা খুলে বললাম আকাশকে
-তুই ওকে বিয়ে করে নে(আকাশ)
-তর মাথা খারাপ হইছে(আমি)
-দেখ ওর স্বপ্নগুলো সাজানোর দায়িত্ব তুই
নিয়ে
নে
আমি কিছু না বলে সেখান থেকে বাসায়
চলে
আসলাম।
.
নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল।মনে মনে
ভাবলাম ওর স্বপ্নগুলো কি আমি সাজিয়ে
দিতে
পারবো?মেঘা কি রাজি হবে।আপনাদের তো
বলাই
হয়নি মেঘার স্বপ্ন লেখাপড়া শেষ করে
একটা
সরকারি চাকুরী করবে।
হঠাৎ মা এসে জানতে চাইলেন কি হয়ছে?
মায়ের
সাথে আমার সম্পর্কটা একদম ফ্রি ছিল।তাই
মাকে সব
কথা বললাম।
-তুই ওর সব দায়িত্ব নিয়ে নে(মা)
-মানে?(আমি)
-তুই ওকে বিয়ে কর
-এ কেমন কথা বলছো তুমি?
-দেখ তর জন্য ওর স্বপ্নগুলো ভেঙে
গেছে।তুই ওর স্বপ্ন পূরনের দায়িত্বটা নিবি।
তাছাড়া ও
তো তকে চিনে।তাই অসুবিধা নেই।
-তা হয় না
-কেন হয়না?
-ও আমাকে বিয়ে করবে না।
-এই দায়িত্বটা আমার আর তর বাবার ওপর
ছেড়ে দে।
.
আজ আমার আর মেঘার বিয়ে হয়ে গেল।মা-
বাবাই
সব ম্যানেজ করেছে।মেঘাদের বাড়িতে
বিয়ের
প্রস্তাব নিয়ে মা-বাবা গিয়েছিলেন।সব
কথা মেঘার
বাবা-মাকে বললেন।কিন্তু তারা প্রথমে
রাজি হলেন না
কারন আমি কালো ছিলাম বলে।যেহেতু
আমাদেন
পরিবার ভাল সেহেতু একটু জোর করতেই
মেঘার
বাবা-মা রাজি হয়ে গেলেন।কিন্তু মেঘা
জানে না যে
আমার সাথে ওর বিয়ে হচ্ছে।
.
রাতে ভয়ে ভয়ে ফুলশয্যার ঘরে ঢুকলাম।দেখি
মেঘা লম্বা ঘুমটা দিয়ে বসে আছে।আমি
বিছানার
পাশে যেতেই
-দেখুন আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে মেনে
নিতে পারবো না।আমি নিজের ইচ্ছায়
আপনাকে
বিয়ে করিনি।(মেঘা)
-জানি(আমি)
মেঘা ঘোমটা তুলে আমার দিকে তাঁকিয়ে
অবাক
হয়ে বলল
-তুমি!!!
-হ্যাঁ আমি।তোমার স্বপ্নগুলো সাজানোর
দায়িত্ব
নিলাম।
-কিন্তু আমি চাই না।
-কেন?
-নিজেকে কি ভাবো তুমি?আমাকে বিয়ে
করলেই
আমার স্বপ্নগুলো সাজানো হয়ে যাবে?
একবার ও
জানতে চাইলে না আমার তোমাকে পছন্দ কি
না?
আগে যদি জানতাম তোমার সাথে আমার
বিয়ে
হচ্ছে,তাহলে গলায় দড়ি দিতাম।তবুও
তোমাকে
বিয়ে করতাম না।তোমার মতো কালো
ছেলেকে আমার কোনো দিনও পছন্দ হবে না।
-দেখো মেঘা আমাকে তোমার পছন্দ নাই
হতে
পারে।যেহেতু তোমার স্বপ্নগুলো আমিই
ভেঙে দিয়েছিলাম তাই সাজিয়ে দেবার
দায়িত্ব টাও
আমি নিতে চেয়েছি।
-আমি চাই না আমার স্বপ্নগুলো সাজিয়ে
নেওয়ার
দায়িত্ব তুমি নাও।আমাকে করুনা দেখাতে
এখন তাইনা?
সেদিন মেঘা আমাকে আরও অনেক কথা
বলেছিল।
আমি কিছু মনে করিনি।ভেবে নিলাম এটা
আমার
কৃতকর্মের ফল।
বিছানা থেকে একটা বালিশ নিয়ে নিচে
শুয়ে পড়লাম
আর মেঘাকে বললাম বিছানায় শুতে।কিন্তু
কিছুতেই
আমার ঘুম আসছিল না।শোয়া থেকে উঠে
দেখি
মেঘা ঘুমিয়ে গেছে।চুলগুলো ওর মুখের ওপর
পড়েছিল।এক অপরুপ সুন্দর লাগছিল মেঘাকে।
আমি
যেন চোখ ফেরাতে পারছিলাম না।ইচ্ছে
করছিল
ওর মুখের ওপর থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিতে।
কিন্তু ওর গায়ে হাত দেয়ার সাহস
পাচ্ছিলামনা যদি এর ঘুম
ভেঙে যায়।কিন্তু চুলের জন্য ওর মায়াবী
মুখটা
ভালভাবে দেখতে পারছিলাম না।ভয়
উপেক্ষা করে
যেই মুখের ওপর থেকে ওর
চুলটা সরাতে গেলাম এমন সময় মেঘা জেগে
গেল।ঠিক এই ভয়টাই আমি পাচ্ছিলাম।
-আমার গায়ে দিচ্ছ কেন?(মেঘা)
-কই নাতো?(আমি)
-একদম মিথ্যা বলবে না
-তোমার চুলগুলো মুখের ওপর এসে পড়ছিল তাই
সরিয়ে দিচ্ছিলাম
-আমার গায়ে হাত দেয়ার পারমিশন
তোমাকে কে
দিয়েছে?
-না...মানে না
-এবার বুঝতে পারছি তোমার অন্য কোনো
মতলব
আছে?
-বিশ্বাস করো আমার অন্য কিছু মনে করে এ
কাজ
করিনি।
-তোমরা ছেলেদের ভালো করে চেনা
আছে।আমাকে স্পর্শ করার সাহস দেখাবেন
না।আর
স্বামীর অধিকার আমার উপরে দেখাতে
আসবেন
না
-হুমম
আমি নিচে গিয়ে আবার শুয়ে পড়লাম।কখন
যে
ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতেই পারিনি।সকালে ঘুম
ভাঙল।
কিন্তু মেঘাকে বিছানায় দেখতে পেলাম
না।মনে
মনে বললাম বাপের বাড়ি চলে গেল নাকি।
হঠাৎ.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now