বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অনুভূতি

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X -আওয়াজ কিসের ? সাহেদ কিছুক্ষন কি বলবে কিছু বুঝতে পারলো না । চারিদিকে এতো আওয়াজ । তার উপর পাশের জন্যও ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছে । কিন্তু এতো জোরে বলছে সাহেদের ইচ্ছে হল বলে ভাই ফোন ব্যবহার করার কি দরকার আপনি এতো জোরে বলছেন জানলা দিয়ে মুখ বের করে বলেন ওপাশ থেকে এমনিতেই শুনতে পাবে ! সাহেদ ফোনের কাছে একটা হাত নিয়ে যথা সম্ভব মুখ ঢেকে বলল এই তো বাইরে আছি তো তাই ! -ও আচ্ছা অফিস থেকে বাসায় যাচ্ছেন বুঝি ! -তুমিও তো যাচ্ছো, তাই না ? - কিভাবে বুঝলেন ? এই প্রশ্নের চট করে উত্তর সাহেদ দিতে পারলো না ! কেবল বাসের মহিলা সিটের একেবারে কোনায় বসা ফোন কানে মেয়েটার দিকে আরেকবার তাকালো । সাহেদ এমন জায়গায় বসেছে যেখান থেকে মেয়েটাকে পরিস্কার দেখা যায় কিন্তু মেয়েটা চট করেই চাইলেই তাকে দেখতে পারবে না ! সাহেদ তবুও একটু আমতা আমতা করে বলল -না মানে এখন তো তোমার অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার সময় তাই না ? - হুম ! ঠিক ধরেছেন ! কোথায় আছে এখন ? -এখন .....উমমম ! এখন ....... -বুঝতে পারছেন না এখন কোথায় আছেন ? -এই কাটাবনের কাছে । -কাটাবন ? আপনি না খিলগাওয়ের দিকে থাকেন ! -ও হ্যা ! কাটাবন না ! কাকরাইল ! -তাই !! সাহেদের নিজে কে একটা চড় মারতে ইচ্ছে হল । ঠিক মত একটা মিথ্যা কথাও বলতে পারে না ! সাহেদ আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো তখনই বাস টা ব্রেক করলো ! ফোনের ওপাশ থেকে মিমি বলল -আচ্ছা আমার স্টপেজ চলে এসেছে । আমি নেমে পড়বো ! সাহেদ প্রায় বলেই ফেলেছিল যে তোমার বাসাতো মোহাম্মাদ পুর ! এখনও তো আসে নাই কিন্তু শেষ মুহুর্তে নিজেকে আটকে নিল ! -আচ্ছা এই বলে ফোন টা রেখে দিল ! তাকিয়ে দেখলো সামনের বসা মিমি বাসের সামনের গেট দিয়ে নেমে পড়লো । সাহেদ নেমে পড়লো এরেকটু পরেই । তাকিয়ে দেখে মিমি ততক্ষনে পনের নাম্বারের গলির দিকে হাটা শুরু করেছে । কি ব্যাপার মিমি আজকে এখানে নামলো কেন ? আর ওকে মিথ্যাই বা বলল কেন ? সাহেদ অনিশ্চিত পায়ে মিমির পেছন পেছন হাটতে লাগলো ! মিমির সাথে সপ্তাহ খানেক আগে বিয়ে হয়েছে । ঠিক ধুমধাম করে বিয়ে না । কেবল কলমা পড়িয়ে রাখা হয়েছে । আরও কিছু দিন পরে উঠিয়ে আনা হবে ! কিন্তু এই কদিনেই মিমির উপর একটা অদ্ভুদ মায়া জন্মে গেছে । বাসররাতে যখন মিমি ওর পাশে ঘুমাচ্ছিল অদ্ভুদ একটা বুক ধড়ফড়ানী কাজ করছিল ওর ভেতর । রাতের ডিম লাইট জ্বালানো ছিল । উঠে গিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুটা সময় । আশ্চার্য হয়ে গেল এইটা দেখে যে মেয়েটাকে সপ্তাহে খানেক আগে ঠিক মত চিনতোও না । আজকে মনে হচ্ছে যেন কত দিনের চেনা ! তারপর গত কয়েক দিন থেকে সাহেদ একটা অদ্ভুদ কাজ করা শুরু করেছে । অফিস ছুটির পরেই মিমির অফিসের সামনে চলে যায় । সেখানে ওর জন্য অপেক্ষা করে । তারপর মিমি যখন বের হয় ওর পিছ নেয় । কেন ও নিজেই জানে না । সামনে হেটে যাওয়া মেয়েটি ওর নিজের বউ অথচ ও ওকে ডাকতে পারে না । কেবল পেছন পেছন ওর বাড়ি পর্যন্ত আছে । তারপর চলে যায় ! মাঝে মাঝে পথেই মাঝেই ওকে ফোন দেয় । অল্প কয়েকটা কথা বলে ফোন রেখে দেয় ! আরও কথা বলতে ইচ্ছে করে কিন্তু একটু সংকোচ হয় ! ও আবার কি না কি ভেবে বসবে ! আজকেও তেমন টাই পিছু নিয়েছিল । অফিসে পর ও যেই বাসে উঠেছিল সেই বাসের পেছনের দরজা দিয়ে ও উঠে পেছনের দিকে বসে ওকে দেখছিল ! কিন্তু আজকে মেয়েটা এতো তাড়াতাড়ি নেমে গেল কেন ? কোন বন্ধুর বাসায় যাবে ? হয়তো ? সাহেদ হাটতে লাগলো ! মিমি সামনের একটা গলির ভেতরে আড়ালো হয়ে গেল আবার ! সাহেদ আরও দ্রুত পা বাড়ালো ! ঠিক যখন গলির মাথায় পৌছে ঢুকতে যাবে ঠিক তখনই ওকে অবাক করে দিয়ে মিমি বেরিয়ে এল । একেবারে ওর মুখোমুখি ! সাহেদ কি বলবে বুঝতে পারলো না । কেবল অপ্রস্তুতের মত তাকিয়ে রইলো মিমির দিকে ! -আপনি আমাকে ফলো করছেন কেন ? -না মানে.... সাহেদ কি বলবে ঠিক খুজে পেল না । কিছু বলার মত কোন কথা নেইও ওর সাথে । ওর পিছু পিছু আসতে যে ওর ভাল লাগার অনুভুতিটা সেটা সে কোন ভাবেই মিমিকে বোঝাতে পারবে না ! মিমি বলল -আপনি কালকেও এসেছিলেন ! তাই না ? -হুম ! -কেন ? -জানি না ! কেবল তোমাকে দেখতে ইচ্ছে হল তাই ! -তা আমাকে বলা যেত না ? সরাসরি আমাকে ফোন করলে কি সমস্যা ছিল শুনি ? সাহেদ কি বলবে ঠিক বুঝতে পারলো না ! মিমি বলল -আজকে যে বাসে দৌড়ে উঠতে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পেয়েছেন সেটা যদি বড় কিছু হত তখন ? সাহেদ অবাক হয়ে গেল । মিমি তাহলে তাকে ভাল করেই দেখেছে ! -তুমি দেখেছো ? -নিজেকে কি মনে করেন ? সিআইএর এজেন্ট ? হ্যাবলার মত ফলো করলে মানুষ তো দেখে ফেলবেই ! সাহেদ আবারও বোকার মত তাকিয়ে রইলো মিমির দিকে । ধরা পরে ওর মোটেই খারাপ লাগছে না । বরং খানিকটা ভালই লাগছে । মিমি খানিকটা রাগ দেখিয়ে বলল -এর পর থেকে আমাকে সরাসরি ফোন দিবে ! বাসে পিছনে না পাশাপাশি বসে যাবো ঠিক আছে ! -আচ্ছা ! -আচ্ছা এখন চল আমাকে বাসায় পৌছে দাও ! তোমার সাথে রিক্সা করে যাবো বলে একটু আগেই নেমে পড়েছি । সাহেদ লক্ষ্য করলো মিমি ওকে তুমি করে বলা শুরু করেছে । যখন ওদের রিক্সা চলতে শুরু করলো মিমি যেন একটা ওয়াকিং রেডিও হয়ে গেল ! কত কথা ননস্টপ বলে চলেছে । সাহেদ কেবল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো ! ওর সারা মন জুড়ে একটা অদ্ভুদ ভাল লাগা কাজ করছিল !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রথম অনুভূতি
→ চুক্তি নিয়ে তালেবান আমীরের আহবান ও অনুভূতি
→ ক্লান্তহীন অনুভূতি
→ ভালোবাসার অনুভূতি
→ নীরব অনুভূতি
→ অনুভূতির শেষটুকু,,
→ অন্য অনুভূতি
→ "অনুভূতি"
→ নিরব অনুভূতি (part-1)
→ ভালোবাসার মিষ্টি অনুভূতি
→ কিছু অনুভূতি
→ অনুভূতি
→ নিঃশব্দ অনুভূতি
→ *ভালোলাগার অনুভূতি*
→ অনুভূতির কারিগর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now