বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনু এবার ইন্টার কমপ্লিট করেছে। ভার্সিটি এডমিশন টেষ্ট দিবে। গতবছরই ওর ব্রেকাপ হয়েছে। ছেলেটিকে খুব বেশি ভালোবাসতো অনু। কিন্তু ছেলেটি ওকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখিয়ে সম্পর্কের ৫মাসের মাথায় অন্য মেয়েকে ভালোবেসে ফেলে। ছেড়ে চলে যায় অনুকে।
ব্রেকাপের পর অনেক বড় ধাক্কা খায় আর ভেঙ্গে পড়ে অনু। কোনভাবে নিজেকে সামলে নেয় ওর বাবা মায়ের জন্য। আর এই ব্রেকাপে পর প্রতিজ্ঞা করে জীবনে কোনদিন আর প্রেম নামক ভালোবাসায় জড়াবে না।
আতিক অনুর ফেসবুকের ফ্রেন্ড। দুজনের মধ্যে বেশ ভালোই বন্ধুত্ব। মাঝেমধ্যে ফোনেও কথা বলে। কিন্তু প্রায় ১সপ্তাহ আতিক অনুকে কোন ফোন দেয়না। অনুও আগবাড়িয়ে খোঁজ নেয়না। মেয়েটা একটু একা থাকতে বেশি পছন্দ করে। একদিন ফেসবুকে আতিকের মেসেজ আসে…
→ছলনাময়ী…
→কে?
→তুমি…
→কেন?
→কেন, সেটা একবার নিজেকে প্রশ্ন করে দেখো!
→বলো!?
→কি বলবো? আর কি বলার আছে?
→মানে কি?
→কি, মানে কি ? তুমি কি কিচ্ছু বোঝ না?
→না, সত্যিই বুঝতেছি না। আচ্ছা কি হইছে তোমার???
→আমি পাগল হইছি।
→কেন? কি হইছে বলবা তো?
→কিছু হয়নি, একটু সময়ের জন্য ভালোবেসে ফেলেছি।
→কাকে?
→তোমাকে…
→মানে কি?
→প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলেছি তোমায়…
→পাগল হইছো?
→হুম, তোমার ভালোবাসার পাগল।
→হিহিহিহিহিহি কাল পাবনায় যেও।
→আমি জানতাম তুমি মজা করবা।
→তুমি তো মজা করার কথাই বলছো।
→একবার আমাকে দেখলে বুঝতে, এই কয়টা দিন কিভাবে থেকেছি তুমি জানো? এই প্রথম কাউকে এত ভালোবেসেছি।
→তুমি নাকি অসুস্থ? ঔষধ খেয়েছো?
→হুম, প্রচন্ড পরিমানে অসুস্থ আর খাবো না ঔষধ । এখন নদীর পাড়ে বসে আছি । সারা রাত থাকব এখানে।
→মানে? ওই পাগল হইছো? বাসায় যাও।
→যাবো না । তাতে তোমার কি?
→বাসায় যাও, নইলে অসুস্থ হয়ে যাবা।
→না যাবো না । জানো মেঘের আড়ালে চাঁদটাও কেমন করে উঁকি দিচ্ছে।
→হুম দিক, আগে বাসায় যাও। গিয়ে ডিনার করে ঔষধ খাও।
→ঔষধ খেয়ে কি হবে?
→সুস্থ হবা।
→সুস্থ হয়ে কি হবে? এর চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।
→কেন? কি হইছে???
→I want to love u.
→তুমি পাগল হইছো। পাগলামি করো না, বাসায় যাও।
→আমি কোন কথাই শুনবো না । দেখি কয়দিন এখানে থাকতে দাও তুমি!
→এমন কেন করছো?
→Because I really love u…
→এটা পাগলামী ছাড়া কিছুই না আর তাছাড়া এসব সম্ভব না।
→কেন সম্ভব না বল ?
→কারন আমরা সমবয়সী আর সমবয়সীদের প্রেম সম্ভব না।
→কি সমবয়সী । যদি তাই হয় তাহলে এটা কোন ব্যাপার না।
→দেখো পাগলামী বন্ধ করো। আচ্ছা বলোতো এসব পাগলামী করার মানে আছে? আর শোনো আমি এখন প্রেম / ভালোবাসায় বিশ্বাসী না তাই এসব থেকে দুরে আছি। তুমি আমার বন্ধু তাই বন্ধু হয়েই থাকো।
→তোমাকে ছাড়া আমি মরে যাবো।
→দেখো, পাগলামী অফ করো বুঝছো? জীবন আবেগ দিয়ে চলে না
→আবেগ ছাড়া এই জীবনে অনেক কিছুই করেছি। এখন একটু আবেগ দরকার ।
→নাহ, বাস্তবতা বুঝার চেষ্টা করো। পাগলামী অফ করো।
→হুম । আমি পাগল অনেক বড় পাগল । তোমার ভালবাসার পাগল ।
→এসব বলবা না, প্লিজ। ভালোবাসা আমি এখন ঘৃনা করি কারন এই ভালোবাসা আমার জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে অনেক কিছু।
→পৃথিবীর সব মানুষগুলোই যদি এক হতো তাহলে সভ্যতাটা অনেক আগেই নষ্ট হয়ে যেত।
→হুম তবুও ভালোবাসা ভালোনা।
→আরেকটিবার হাতটি বাড়িয়ে দেখ । হাত কেটে যাবে কিন্তু ছাড়বে না তোমার হাত।
→আমি এখন আর ভালোবাসায় বিশ্বাসী না তবে হ্যাঁ, প্রেম আবার করবো আর সেটা বিয়ের পর।
→শুধু একটিবার দেখ।
→আমি প্রেম করবো না, বিয়ে করবে আমায়???
→হুম । কবে কখন ? তবে একটু ওয়েট করো।
→হুম বুঝলাম। বাট ওয়েট করা মানেই প্রেম / ভালোবাসা নামের মিছে আশা / স্বপ্ন দেখানো। বাট আমি কাউকে স্বপ্ন দেখাতে চাইনা তাই এসব ভুলে যাও। কোনদিন যদি বিয়ে করতে পারো সেদিন বলো, আমার বিয়ে না হলে বাবা মাকে তোমার কথা বলবো।
→আচ্ছা ভয় পেও না । আমি কখনো তোমার নাম্বারে ফোন দিব না । আইডিটা ডিয়েক্টিভ করে চলে যাচ্ছি বহুদূর যেখানে আর খুঁজলেও আমাকে পাবে না।
→হুহ, বিয়ের কথা বলাতে পালাচ্ছো???
অনু মেসেজের রিপ্লাই দিতে যাবে ঠিক তখনি "You cannot reply to this conversation." লেখা দেখায়। বুঝতে বাকি রইলোনা আতিক আইডি ডিয়েক্টিভ করেছে অথবা অনুকে ব্লক করেছে।
অনু ফেসবুকে লগ আউট করে দেয়। ল্যাপটপ অফ করে গায়ে চাদর জড়িয়ে ব্যালকুনিতে গিয়ে বসে। কনকনে শীত, এবার আকাশের দিকে তাকায়। একা একা ভাবতে থাকে আসলে ভুলটা কার? ওর নাকি পৃথিবীর নাকি এই পৃথিবীর মানুষগুলোর???
উত্তর পায়না, এর কোন উত্তর নেই। চোখের কোনের জলটা মুছে আবার একা একা অন্ধকারে মিশে যায়।
[বিঃদ্রঃ এই পৃথিবীটা এখন এমন রুপ ধারন করেছে যেখানে প্রেম সবাই করতে চায় কিন্তু বিয়ের কথা শুনলে সবাই লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়। এটাই এখন এই পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতা। আসলে ভুল কার? পৃথিবীর নাকি পৃথিবীর মানুষগুলোর? আছে কোন উত্তর???]
[] অভিমানী ছোঁয়া(ছোঁয়া মুহতাসিন) []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now