বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অমিয়েন্দ্র!!!(পর্ব৪)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☫☤Ꮶℳ ЅᎯᎫU Ꭿℋℳℰⅅ ℛᎾᏦℐℬ ☢☣ (০ পয়েন্ট)

X “নে।” প্লাস্টিকের ব্যাগটা রিক্সা থেকে নেমেই এগিয়ে দিল অমিতের দিকে নূসরাত। অমিত সাইকেলের চেইন ঠিক করছিল, চেইন পড়ে গেছে। মুখ তুলে অবাক হয়ে তাকাল, “কি আছে?” “খুলেই দ্যাখ।” বাড়িয়ে ধরল প্যাকেটটা। উঠে দাঁড়াল অমিত। সন্দিহান চোখে প্যাকেটটা দেখল এক নজর, হাতে নিল। নূসরাত মুখটিপে হাসছে কেবল। প্যাকেটটা খুলতেই অবাক হয়ে গেল অমিত। নীল রঙের উলের একটা সোয়েটার। বিস্মিত গলায় বলল, “ওরে সর্বনাশ! আমার জন্য নাকি?” “নাহ। আমার হবু জামাইয়ের জন্য। তোকে দেখাতে আনলাম। এখন নিয়ে গিফট করে আসবো তাকে।” “তোর হবু জামাই তো তোর সামনেই আছে…… হুম, ভাল জিনিস!” অবাক চোখে সোয়েটারটা নেড়ে চেড়ে দেখছে। বাচ্চাদেরকে হঠাৎ করে নতুন খেলনা কিনে দিলে যেমন সেটা ধরে দেখে – ঠিক তেমন। নূসরাত এক দৃষ্টিতে অমিতের দিকে চেয়ে আছে। সেই দৃষ্টিতে মমতা প্রকাশ পাচ্ছে ছেলেটার জন্য। “কোত্থেকে কিনেছিস? শীতের দিনে পরতে অনেক আরাম হবে।” গম্ভীর গলায় বলল অমিত। ফোঁস করে একয়াত নিঃশ্বাস ফেলল নূসরাত, বিরক্ত হলো, “ওরে গরু, এটা আমি বানিয়েছি! পুরো দেড় মাস লেগেছে!” চোখ কপালে উঠে গেল অমিতের। নূসরাতের দিকে অবিশ্বাস ভরা দৃষ্টিতে তাকাল, “সত্যি? নাকি চাপা? যে মেয়ে নিজে নোট পত্র করতে চায় না, অন্যেরটা মেরে দেয়ার তালে থাকে – সে করবে সোয়েটার বোনার কাজ? তাও অন্যের জন্য!” “একটা ঘুসি মেরে নাকের বারান্দা ফাটিয়ে দিবো! তুই না বলেছিলি তোকে একটা সোয়েটার বুনে দিতে? তাই দিলাম। সি.এন.জি. ডেকে দিয়েছিলি মনে নেই? সে দিনই তো বলেছিলি।” চোখ পাকালো। “ওরে সর্বনাশ!” শিস দিয়ে উঠল, “সেই ঋণ শোধ করছিস?” “হু। মুঝপার এক এহসান কারনা, কে মুঝপার কোয়ি না এহসান কারনা।” গম্ভীর মুখে বডিগার্ড ছবিতে সালমান খানের ডায়লোগটা বলতে গিয়ে ফিক করে হেসে দিল। “তেরি মেরি, মেরি তেরি প্রেম কাহানী হ্যায় মুশকিল…. দো লাভজো মে ইয়্যা বায়া না হো পায়্যে!” হাসতে লাগল অমিত। সোয়েটারটা ওখানেই শার্টের ওপর পরে ফেলল। নূসরাত হাসি থামিয়ে চোখ গোল গোল করে বলল, “এই কাক মরা রোদের মধ্যে সোয়েটার পরলি ক্যান! শীতে পরার জন্য দিয়েছি, গরমে না!” চোখ টিপল অমিত, “তোর হাতের জিনিস। গায়ে থাকলে বারো মাসই নাতিশীতোষ্ণ লাগবে। মনে হবে তুই জড়িয়ে আছিস।” উদার গলায় বলল। হা হয়ে গেল নূসরাত। ঘুসি পাকাতে পাকাতে ততক্ষণে অমিত হাওয়া হয়ে গেছে। হেসে ফেলল হঠাৎ নূসরাত। ক্যাম্পাসের সেই কুকুরটা অমিতের সাইকেলটার কাছে শুয়ে দু হাতের ওপর মুখ রেখে ঝিমাচ্ছে। তাকিয়ে আছে ঝিমানো চোখে নূসরাতের দিকে। “কি? তোর মালিকের সাইকেল পাহারা দিস নাকি এভাবে ঝিমাতে ঝিমাতে? ফাকিবাজ পাহারাদার।” কুকুরটা কেবল একটা কান সামান্য নাড়াল। মাছি বসেছিল। ফিরে তাকাল নূসরাত। দূরে দেখা যাচ্ছে অমিত অন্যদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। গায়ে নীল সোয়েটার। এত গরমের মাঝেও যে কেউ পাগলামী করে সোয়েটার পরতে পারে – সেটা অমিতকে না দেখলে জানতো না কখনো নূসরাত। একটা নিঃশ্বাস ফেলে হাটতে লাগল ক্লাসের দিকে। হঠাৎ কেন যেন মনে হল পেছন থেকে একটা বাইক ধীর গতিতে অনেক্ষণ ধরে ওপ্র পেছন পেছন আসছে। ফিরে তাকালো নূসরাত। লাল একটা সুজুকিতে কালো সানগ্লাস পরা খুব সুদর্শন একটা ছেলেকে দেখা গেল। ও তাকানো মাত্রই ছেলেটা বাইক থামিয়ে দূর থেকে ওর দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসল। নূসরাত একটু অবাক হয়ে আবিষ্কার করল যে সে ছেলেটার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। এর আগে কখনো কোনো ছেলের দিকে সে এভাবে তাকায়নি। বাইকের কালারের সঙ্গে মিলিয়ে লাল শার্ট পরেছে আর কালো জিন্স। শার্টের হাতা গোটানো। হঠাৎ করে দেখলে যে কোনো মেয়ের দৃষ্টি আটকে যাওয়ার মতই সুন্দর। এত রোদের মধ্যেও ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইল অবাক হয়ে। ছেলেটা কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল বাইক নিয়ে, তারপর ঘুরে চলে গেল অন্য দিকে। নূসরাতের মনে পরল বাসা থেকে বের হবার সময়েও এই বাইকটা ওদের বাসার সামনের রাস্তার অন্য পাশে দেখেছিল। ক্লাসের দিকে হাটতে লাগল আবার। কেন যেন ঘুরে ফিরে বারবার বাইকের ছেলেটার চেহারা মনে পরছে….. অমিতের সোয়েটার পরার কথা ভুলে গেছে অল্প কয়েক মিনিটেই। মানুষের প্রকৃতি বড় অদ্ভূত। অপরিচিত মানুষদের মনে রাখে এবং তাদের নিয়ে ভাবতে ভালবাসে। সে নিজেও জানে না সেটা। আমরা স্ব-প্রকৃতি থেকে অজ্ঞাত। আরো দু সপ্তাহ পরের ঘটনা। ভার্সিটি থেকে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা করে ফেলল নূসরাত। বাহিরে বৃষ্টি খুব। ভিজে গেছে একদম। বাসায় এসে শোনে মেহমান এসেছে।রাহেলা খাতুন মেয়েকে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে এলেন। ভেজা কাপড়ে মেহমানদের সামনে যাওয়ার দরকার নেই। “বসার ঘরে এত মেহমান কেন? কারা এসেছে মা?” সামান্য অবাক হল নূসরাত। “তোকে দেখতে এসেছে। তোর বাবার পুরনো কলিগের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে চায় তোর বাবা।” আকাশ থেকে পড়ল নূসরাত, “মানে! আমাকে কি জানানোর কোনো প্রয়োজন মনে করনি?” রাহেলা খাতুন অস্বস্তি মেশানো গলায় বললেন, “তোকে নাকি ছেলেটা আগেই দেখেছে। ভার্সিটিতে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকবার দেখেছে। ছেলে তোকে দেখেই পছন্দ করে ফেলেছে। এ জন্য তোর বাবাকে চেপে ধরেছে মেয়েকে দিতেই হবে। তোর বাবাও হ্যাঁ না হ্যাঁ না করে শেষে রাজী হয়ে গেছে।” নূসরাত নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। বুলবুল সাহেব পুরনো খেয়ালের মানুষ জানতো- তাই বলে মেয়েকে একেবারে জিজ্ঞেসই করবে না ভাবেনি। ওয়াড রোব ধরে কোনো মতে দাঁড়িয়ে রইল। রাহেলা খাতুন শুঁকনো তোয়ালে এনে মেয়ের মাথা মুছে দিতে লাগলেন। ঠান্ডা লাগিয়ে ফেলবে এভাবে বেশিক্ষণ ভেজা গায়ে থাকলে। নূসরাত একদম চুপ হয়ে আছে। কোনো কিছু ভাবতেও পারছিল না। সব কেমন যেন অবাস্তব লাগছে। রাহেলা খাতুন মেয়ের অবস্থা বুঝতে পারলেন। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, “দ্যাখ, মেয়ে হয়ে জন্মেছিস- আগে হোক পরে হোক- অন্যের ঘরে যেতেই হবে। মন খারাপ করছিস কেন?” নূসরাত বিড়বিড় করে বলল, “আমাকে একটা বার জানানোর প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করলে না? ডিসিশন একটা নিয়ে নিলে?” “তোর বাবা ওদের কথা ফেলতে পারেনি। তাছাড়া ছেলেটা অনেক ভাল। ডাক্তার ছেলে। দুটো বাড়ি আছে ওদের। টুকটাক মঞ্চ নাটকও নাকি করে ছেলেটা…..” নূসরাতের কানে কোনো কথাই ঢুকছিল না। বিমূঢ়ের মত বলল, “অমিত অনেক কষ্ট পাবে মা….” রাহেলা খাতুন হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন, আপন মনেই বললেন, “অন্য সময় হলে আমি নিজে হয়ত ওর কথা তুলতাম। কিন্তু ছেলেটা এখনো ছাত্র। তারওপর তোর ক্লাস মেট। তোর বাবা মেনে নেবে না। ছেলেটা ভাল স্বীকার করছি, কিন্তু চাকরী বাকরী করে না। মা বাবাও নেই। চাচার সংসারে উটকো মানুষ হিসেবে বড় হয়েছে – এ ধরণের ছেলের কাছে আসলে কেউ মেয়ে দিতে চাবে না। শুনতে খারাপ লাগলেও করার কিছু নেই।” নূসরাতের কান্না পাচ্ছে। কিন্তু অবাক হয়ে আবিষ্কার করল ওর চোখে পানি আসছে না। বরং অদ্ভূত একটা রাগ লাগছে। কার ওপর সে নিজেও জানে না। “তাড়াতাড়ি ভেজা কাপড় ছেড়ে একটা শাড়ি পরে না। ছেলের বাবা- মা দেখতে এসেছে। ছেলে আসেনি। পরে দেখা করবে তোর সাথে। অবশ্য ছবি দিয়েছে ছেলের। তোর ড্রেসিং টেবিলে রাখা আছে। দেখে নিস।” বলে চলে গেলেন রাহেলা খাতুন। নূসরাত আস্তে আস্তে ওর ঘরে চলে এলো। মাথা ব্যথা করছে ভীষণ। ঠিক মত কিছু চিন্তা করতে পারছে না। ড্রাসিং টেবিলের ওপর একটা সাদা খাম রাখা। আয়নার সামনে টুল টেনে বসল। ছবিটা দেখতে ইচ্ছে করছে না। জানে ছেলেটা কে। তবু নিজের অজান্তেই খামটা হাতে নিয়ে ভেতর থেকে দুটো ছবি বের করল। সেই বাইকের লাল শার্ট, সানগ্লাস পরা ছেলেটা। অন্য ছবিতে কোট প্যান্ট পরা, চোখে নরমাল চশমা দেয়া। অসম্ভব সুন্দর লাগছে ছেলেটাকে। ছবির কোনায় ছোট ছোট অক্ষরে কেউ লিখেছে ‘মোনেম চৌধুরী’। নূসরাত ছবিগুলো রেখে দিল আগের মত। কেমন দম আটকানো কান্না পাচ্ছে ওর। কেন যেন অমিতের কথা মনে পরছে হঠাৎ। শাড়ি পরার কথা ভুলে গেল। ভেজা কাপড়েই বসে ব্যাগ হাতড়ে মোবাইলটা বের করল। অমিতের নাম্বারটা খুঁজে সবে ডায়াল করতে যাবে – বেজে উঠল মোবাইলটা। অবাক হয়ে দেখল অমিত ফোন দিয়েছে! “হ-হ্যালো?” সামান্য কাঁপা গলায় বলল নূসরাত। “কিরে? আমার কথা মনে করে দেখি গঙ্গা-যমুনা রচনা করতে যাচ্ছিস!” অমিতের হাসি হাসি গলা শোনা গেল। নূসরাত অবাক হয়ে বলল, “তোর কথা ভাবছিলাম- তুই কেমন করে জানিস!” “আমার সিক্সথ সেন্স খুব ভাল। তার মানে সত্যি সত্যি ভাবছিলি? কান্না কাটিও শুরু করে দিয়েছিস নাকি?” নূসরাতের কেমন যেন সন্দেহ হল। ঘরের এদিক ওদিক তাকাল, “তুই কি আমার ঘরের ভেতর আছিস? এত কথা বলছিস কি করে?” উদার গলায় বলল, “বললাম না, আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় খুব ভাল। এ জন্যই তো ফোন দিলাম। যাতে হাউ মাউ করে কান্দা শুরু না করিস। হবু বৌ বলে কথা।” নূসরাত হেসে ফেলল হঠাৎ, “তোর হবু বৌ অন্য জায়গায় পার্সেল হয়ে যাচ্ছে অমিয়েন্দ্র সাহেব।” অমিত বিস্মিত গলায় বলল, “বিয়ের প্রস্তাব এসেছে? সেটা তো আসবেই। ঘরের উঠানে বরই গাছ থাকলে ঢিল দু একটা মারা হবেই। সেটা নিয়ে ভাবি না আমি। আগে বল অমিয়েন্দ্র মানে কি?” “জানি না। আন্দাজে বললাম। তোর ‘ইন্দ্রিয়’ আর নামের ‘অমি’ থেকে ‘অমিয়েন্দ্র’ বললাম। কোনো মানে নেই শব্দটার।” “বাহ! আমার পছন্দ হয়েছে খুব।” খুশি হল অমিত। “যা তোর নাম দিলাম অমিয়েত্রা।” “এটার মানে কি?” “জানি না। মাথায় এসেছে তাই বলে দিলাম। অমিয়েন্দ্রের প্রেমিকা অমিয়েত্রা।” “বলে লাভ নেই আর। প্রেমিকাই থেকে যাবো। বৌ আর হওয়া লাগবে না।” একয়াট নিঃশ্বাস ফেলে বলল নূসরাত। “কেন?” “বাবার কলিগের ছেলে আমাকে বিয়ে করার জন্য উঠে পরে লেগেছে। সব প্রায় ঠিক ঠাক।” “বাহ! আমার ভালবাসায় দেখি ভিলেনও আছে!” হাসতে লাগল অমিত। নূসরাত রাগ চেপে বলল, “তোর হাসি পাচ্ছে? আমার বিয়ে হয়ে যাবে আর তোর হাসি পাচ্ছে?” “খুশিতে হাসি পাচ্ছে। কারণ তুই এই চাপে না পড়লে কোনো দিন হয়ত স্বীকার করতি না যে আমাকে তোর ভাল লাগে।” নূসরাত চুপ হয়ে গেল। অমিত হেসে বলল, “ভাবিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি আছি না? থুড়ি ম্যায় হু না? মোবাইলে টাকা নাই। রাখলাম আমি।” লাইন কেটে গেল। নূসরাত মোবাইলটা কান থেকে ধীরে ধীরে নামালো। অমিতের কথাটা কানে বাজছে – আসলেই কি আজ এ অবস্থায় না পড়লে অমিতের প্রয়োজনটা বুঝতে পারতো না? খুব অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তেই বোধ হয় নিজের প্রয়োজনের মানুষটার অস্তিত্ব ধরা পরে। নিজের চাওয়াটা কারো কাছে স্বীকার করে ফেলে দূর্বল মুহূর্তে। অমিয়েন্দ্রদের কাছে অমিয়েত্রারা এভাবেই হয়ত আত্মপ্রকাশ করে। নূসরাত নিঃশব্দে কাঁদছে আয়নার সামনে বসে। কেন কাঁদছে সে নিজেও জানে না। মেহমানদের কাছে না গিয়ে দরজা বন্ধ করে লাইট নিভিয়ে কাঁদছে একা একা। বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে খুব। বিদ্যুতের আলো আসছে জানালা দিয়ে। গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল নূসরাতের। দু বছর আগের স্মৃতিগুলো এখনো স্বপ্নের মাঝে ঘুরপাক খায়। আস্তে আস্তে উঠে বসল। বাহিরে ঝড় হচ্ছে। জানালা দিয়ে বিদ্যুতের আলো আসছে ঠিক স্বপ্নের মতই। দু বছর আগের সেই সন্ধ্যাটাও এরকম বৃষ্টির ছিল। অমিতের সঙ্গে কথা বলার মুহূর্তগুলো মনে পরল আবার। অন্ধকারে দু হাতে হাটু জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল নূসরাত। আগে যখন কাঁদতো- তখন সেটার কারণ জানা থাকত না ওর। কিন্তু আজ কেন কাঁদছে ও জানে। অমিতের হারিয়ে যাওয়াটা আজো বুকের ভেতর দগ দগে ঘাঁ হয়ে থেকে গেছে। শুঁকায়নি। অমিতের কবিতার লাইনগুলো অনেকটাই ভুলে গেছে নূসরাত। কিন্তু কেন যেন মনে হল এই অন্ধকার ঘরটাতে অমিত ঘুরে বেড়াচ্ছে- নূসরাতের কান্না দেখছে নীরব দৃষ্টিতে। কেবল ওর কন্ঠস্বরটা আবছা ভাবে শুনতে পাচ্ছে নূসরাত। এক বছরের ব্যবধানে অনেকখানি ভুলে গেছে। “ গভীর নিশীথে একাকী যখন বসিয়া মলিন প্রাণে চমকি উঠিয়া দেখিবি তরাসে আমিও রয়েছি বসে তোর পাশে চেয়ে তোর মুখপানে…..” কেঁদে যাচ্ছে নূসরাত। অনুভব করছে বরফ শীতল একটা মাটি মাখা হাত ওর কাঁধে আলতো করে চাপ দিল। অন্ধকারের মাঝেই শুনতে পাচ্ছে একটা ফিসফিসানো কন্ঠ – “ অমিয়েত্রা……. আমি তোমার পাশেই আছি……. অমিয়েন্দ্র কোথায় যায়নি…..” নূসরাত কল্পনা আর বাস্তব আলাদা করতে পারছে না। কেঁদেই যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিচিত্র একটা ভয়ও পেতে শুরু করেছে। ওর কেন যেন মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি ওর কাঁধে ঠান্ডা একটা মাটি মাখা হাত রেখেছে কেউ! অন্ধকারের মাঝ থেকে ফিসফিসানো কন্ঠটা ভেসে এলো আবার – “ সময় ঘড়ির প্রহর চলে থামতে না সে জানে, বাড়ছে শুধুই ভালবাসা অচিন কোনো টানে……” (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now