বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।। অলৌকিক জল্লাদ - ৪র্থ পর্ব ।।
কাহিনীঃ মানবেন্দ্র পাল
।। আরও কান্ড ।।
সেদিন আবার একটা কান্ড হল।
দুপুরবেলা। আমি আমার ঘরে একা বিছানায় বসে
লিখছি। মাথার ওপর পাখা ঘুরছে। হঠাৎ মনে হল
ফ্যানের হাওয়াটা কিরকম এলোমেলো হয়ে
যাচ্ছে। একভাবে গায়ে লাগছে না। ওপরের
দিকে তাকিয়ে দেখি পাখাটা এদিক থেকে ওদিকে
দুলছে।
অবাক হলাম। এ আবার কি! ফ্যানটা এমন দুলছে
কেন? ভাবলাম নিশ্চয় ভূমিকম্প হচ্ছে। কিন্তু
ভূমিকম্প হলে খাটও তো নড়বে। কিন্তু খাট বা
ঘরের অন্যান্য আসবাব তো নড়ছে না। উঠে ঘর
থেকে বেরিয়ে ব্যাপারটা সবাইকে জানাতে
গেলাম, আর ঠিক তখনিই পাখাটা ভীষণ শব্দ করে
আমার বিছানার ওপর খুলে পড়ল। সেই শব্দে সবাই
ছুটে এল আমার ঘরে। সবাই বলল, খুব ভাগ্যের
জোরে বেঁচে গেছি। এরকম একটা আকস্মিক
আর আশ্চর্য ঘটনায় সবাই খুব হতবাক হয়ে গেল।
আমি লক্ষ্য করলাম, সবাই ছুটে এসেছে। আসেনি
শুধু রাজু।
কি মনে হল জিজ্ঞেস করলাম, " সুব্বা কোথায়?"
কেউ বলতে পারল না। আমি তখনিই ছাদে উঠে
গেলাম। দেখি হতভাগা সরু পাঁচিলের ওপর দিয়ে
হাঁটতে হাঁটতে পেয়ারা খাচ্ছে। পেয়ারা তো সব
ছেলেই খায়। কিন্তু ও গোটা পেয়ারাটা মুখে
পুরে ছাগলের মতো চিবোচ্ছে। আর সারা মুখে
পেয়ারার বিচিগুলো বিচ্ছিরিভাবে লেগে রয়েছে।
" এখানে কি করছ?" মেজাজ গরম করেই ওকে
জিজ্ঞেস করলাম।
ও কোনও উত্তর না দিয়ে পাঁচিল থেকে নেমে
বাঁদরের মতো ছাদের ওপর দিয়ে লাফাতে
লাফাতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল।
ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ডাকা হল। সে তো দেখে
অবাক। বলল, " যে আঁকশিতে পাখাটা ঝুলছে সেটা
ঠিকই আছে। পাখাও খারাপ হয়নি। তা হলে পড়ল কি
করে?"
পড়ল কি করে সে কথা আলাদা। আমার কিন্তু মনে
হল আমাকে মারবার জন্যই যেন কোনও অদৃশ্য
শক্তি একাজ করেছিল। আবার কোনও শুভ শক্তি
আমাকে এ যাত্রা বাঁচিয়ে দিল।
___________________=__________
_______
ছোট ভাইরা ছেলেমেয়ে নিয়ে চলে গেলে
বাড়িটা অনেকখানি ফাঁকা হয়ে গেল। ওদের জন্য
হঠাৎ মন কেমন করতে লাগল। মনে হল ওরা না
গেলেই ভাল হত। আর তো মাত্র সপ্তাহ দুয়েক
আছি। একসঙ্গে থাকলে ভালোই হত। বিশেষ
করে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ঐ যে আমায় চুপিচুপি
সাবধানে থাকার কথা বলে দিয়ে গিয়েছে, সে
কথা মনে হতেই আমার অস্বস্তি হতে লাগল। যাক,
ক'দিন পরেই তো ওরা আসছে। তাছাড়া বাড়িতে
আমার স্ত্রী, নোটন ছাড়াও মেজো ভাই,
মেজো ভাইয়ের স্ত্রী রয়েছে। কাজেই
আমার কোনও অসুবিধা নেই।
সুব্বা বড়ো একটা এদিকে আসে না। আমার ঘরের
সামনের বারান্দা দিয়ে যখন যায় তখন একবার ঘাড়
ঘুরিয়ে এমনভাবে আমায় দেখে যেন আমি ওর
দু'চক্ষের বিষ। আমার মনেও একটা পৈশাচিক ভাবের
উদয় হয়। ইচ্ছে করে ওর সরু গলাটা টিপে ধরি।
মাত্র দু'দিন পরেই মেজো বৌমার বাপের বাড়ি
থেকে এবার জরুরী তার এল....ওর বাপের বাড়ির
জমিজমা ভাগ হচ্ছে। সেইজন্য কয়েক দিনের
জন্য মেজো বৌমাকে যেতে হবে। পরের
দিনই মেজো ভাই, মেজো বৌমা ছেলেমেয়ে
নিয়ে চলে গেল। যাবার সময় মেজো বৌমা
হেসে বলে গেল, "দিদি তো রইলেন। আপনার
অসুবিধা হবে না। এক সপ্তাহের মধ্যেই চলে
আসব। "
এবার মেজো ভাইরাও চলে গেল। এত বড় বাড়িটা
এখন যেন আমায় গিলতে আসছে। এখন শুধু আমার
স্ত্রী আর নোটন। রাজু তো দিব্যি বহাল
তবিয়তেই আছে।
ওরা না থাকায় আমার স্ত্রী 'র কোনও অসুবিধে
হচ্ছে বলে মনে হল না। এত বড় বাড়িটা খালি হয়ে
গেল, তার জন্য কোন কষ্টও নেই। জোড়া
বটতলায় শিগগিরই মেলা বসবে, অনেক সাধু
সন্ন্যাসী আসবে। তাদের দেখতে যাবে...এই
আনন্দেই মশগুল।
আর নোটন? সে তো রাজুর সাথে দিব্যি ঘুড়ি
ওড়াচ্ছে।
কিন্তু আমি? আমার যে শুধু খারাপই লাগছে তাই
নয়...সত্যি কথা বলব, পুলিশের লোক হয়েও
আমার কেমন ভয় করছে। কিসের ভয় তা ঠিক
বুঝতে পারি না। ঐ একফোঁটা ছেলে রাজু
সুব্বাকে? পাগল হয়ে গেলাম নাকি? ওকে ভয়
পেতে যাব কেন? ওর সাধ্য কি আমার ধারেকাছে
ঘেঁষে!
* * * * * রহস্যময় রাজু * * * * *
আমাদের এই গ্রামে বারো মাসে তেরো
পার্বণ লেগেই আছে। বিশেষ করে এইসময়
জোড়া বটতলায় বিরাট ' মোচ্ছব ' হয়। ' মোচ্ছব
' চলতি কথা। আসল কথা হচ্ছে মহোৎসব ( মহা
উৎসব)। বহুকাল থেকে এই জোড়া বটতলায় এক
পক্ষ কাল ধরে মেলা বসে। জোড়া বটগাছের
নিচে একটা ঠাকুর আছে। ঠাকুরের কোনও
বিশেষ মূর্তি নেই। একটা পাথর আগাগোড়া সিঁদুর
মাখানো।
এই মেলা উপলক্ষ্যে পাশাপাশি গ্রাম-গঞ্জ থেকে
বহু লোক আসে। কাছেই বিরাট একটা দীঘি।
সেখানে স্নান করে সবাই জোড়া বটতলায় পূজো
দেয়। সেদিন সবাই দীঘির পাড়েই রাঁধাবাড়া করে
খায়। মেলায় নাগরদোলা, সার্কাস, ম্যাজিক থেকে
শুরু করে বাদামভাজা, পাঁপরভাজা সবই থাকে। মিষ্টির
দোকানের তো ছড়াছড়ি। সবচেয়ে
আকর্ষণের ব্যাপার, এই মেলায় দূর দূরান্ত
থেকে দুর্গম পথ পেরিয়ে সাধু সন্ন্যাসীরা
আসেন। ভস্মমাখা দেহে, কপনিমাত্র পরে তাঁরা ধুনি
জ্বালিয়ে সারারাত ধ্যান করেন। মাঝেমাঝে নাগা
সন্ন্যাসীদেরও দেখা যায়। শোনা যায় তাঁরা হিমালয়
থেকে নেমে আসেন।
এইসব ভিড়ভাট্টা, মেলা, ঠাকুরদর্শন, সাধু-সন্ন্যাসী
এসব আমার ভাল লাগে না। আমি পুলিশ অফিসার।
আগেই বলেছি, আমরা সন্দিগ্ধ স্বভাবের হই।
পুলিশের কাজ করতে করতে মনের কোমল
বৃত্তি, ভাবাবেগ সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন
সবকিছুই হাস্যকর মনে হয়। কিন্তু আমার স্ত্রী 'র
আবার উল্টো। ও বাচ্চা মেয়েদের মতো মেলা
দেখতে ভালবাসে। পূজো না দিলে তার তৃপ্তি
নেই। সাধু সন্ন্যাসী দেখলেই তাঁদের পায়ে
আছড়ে পড়ে।
এখানে মেলা বসছে শুনে স্ত্রী বললে, "
আমি যাব।"
বললাম, " যাও। দয়া করে আমায় সঙ্গে যেতে
বোলো না।"
স্ত্রী হেসে বলল, " তোমায় যাবার দরকার
নেই। আমি নোটন আর সুব্বাকে নিয়ে যাব।"
.... " সেই ভাল", বলে লেখায় মন দিলাম। একটু
পরে গৃহিণী ফিরে এসে বলল, " সুব্বা যেতে
চাইছে না।"
বললাম, " না গেল তো নাই গেল।"
" বাঃ! ছেলেটা এখানকার মেলা দেখেনি।
দেখবে না?"
বললাম, " ওর যদি যেতে ইচ্ছে না করে তো কি
করবে?"
স্ত্রী বলল, " তুমি একটু গিয়ে বলো না ওকে।"
বিরক্ত হয়ে বললাম, " ওকে আমি কিছু বলতে
পারব না।"
অগত্যা গৃহিণী বিমর্ষমুখে চলে গেল।
হঠাৎই আমার মনে হল, " রাজু যেতে চাইল না
কেন? বাড়িতে এখন ওর এমন কি রাজকার্য
আছে?"
বিকেলে গৃহিণী ফিরে এসে ঘটা করে মেলা
দেখার কথা বলল। কতজন সাধু সন্ন্যাসী
দেখেছে, গুনে গুনে পঞ্চাশ জন সাধুর পায়ের
ধুলো নিয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি । খুব ভালো
লেগেছে। পরে গলার স্বর খাটো করে বলল,
" সুব্বা তো যাব না বলল। কিন্তু ও গিয়েছিল। আমি
ওকে দেখেছি। কিন্তু ও আমায় দেখেও এড়িয়ে
গেল।"
এর উত্তর আমি আর কি দেব? চুপ করে রইলাম।
শুধু বললাম, " ও বড়ো পাকা ছেলে। দিনদিন
বেয়াড়া হয়ে উঠছে।"
গৃহিণী আর কিছু বলল না। চলে গেল।
মেজো, ছোট ভাই-রা কেউ নেই। বাড়িটা বড্ড
খালি খালি লাগছে। কলকাতায় দু-খানা মাত্র ঘরে আমার
সঙ্গে শুধু নোটন আর নোটনের মা থাকে।
মাত্র তিনজন। সে একরকম সয়ে গিয়েছে। কিন্তু
এখানে এত বড় বাড়িতে মাত্র আমরা তিনজন আর ঐ
হতচ্ছাড়া রাজুটা....মোট চারজন। বড্ড ফাঁকা লাগে।
এইসময় প্রণবেশ যদি এসে পড়ত তাহলে খুব ভাল
হত। বলেও ছিল আসবে। কিন্তু কই এল?
সেদিন বিকেলে ছাদে পায়চারি করছিলাম। সূর্য
ডুবে গেছে। কিন্তু অন্ধকার হয়নি। হঠাৎ বাড়ির
পেছনের জঙ্গল থেকে এক ঝাঁক পাখির ভয়ার্ত
চেঁচামেচি শুনে চমকে উঠলাম। পাখিগুলো অমন
করে চেঁচাচ্ছে কেন দেখবার জন্য আমি
ছাদের ঐদিকে গিয়ে দাঁড়ালাম।
আমাদের বাড়ির পেছন দিয়ে একটা সরু ধূলোভরা
রাস্তা এঁকেবেঁকে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সেই
দীঘির দিকে গেছে। ছাদের কার্নিশের কাছে
গিয়ে দেখলাম রাজু ঐ রাস্তা দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি
যাচ্ছে। আর গাছে গাছে যত পাখি ছিল সব ওর মাথার
ওপর গোল হয়ে ঘুরছে আর কিচমিচ করছে।
রাজু কিন্তু সেদিকে তাকাচ্ছে না। হনহন করে
হেঁটে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে গেল।
আমি অবাক হলাম। এই ভর সন্ধেবেলা রাজু
জঙ্গলের মধ্যে গেল কেন? কেনই বা
পাখিগুলো অমন করে আর্তস্বর চিৎকার করছিল?
অনেক ভেবেও কোনও যুতসই উত্তর খুঁজে
পেলাম না।
নিচে নেমে এসে স্ত্রী 'কে জিজ্ঞেস
করলাম, " রাজুকে কোথাও পাঠিয়েছ?"
স্ত্রী বলল, " না তো।"
বললাম, " তাহলে ওকে জঙ্গলে ঢুকতে
দেখলাম কেন?"
স্ত্রী অবাক হয়ে বলল, " জঙ্গলে! জঙ্গলে
কেন যাবে?"
..... " সেটাই তো আমার প্রশ্ন। আর ও যখন
ঐদিকে যাচ্ছিল তখন এক ঝাঁক পাখি ওর মাথার ওপর
উড়ছিল আর ভয়ার্তভাবে চিৎকার করছিল।"
..... " কি যে বল!"
..... " ঠিক আছে। ও এলে আমার সঙ্গে দেখা
করতে বোলো।"
..... " ও তো বাড়িতেই ছিল। দাঁড়াও দেখছি। "
বলে স্ত্রী ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। পাঁচ
মিনিটের মধ্যে রাজুকে নিয়ে ফিরে এসে বলল,
" এই তো। ও তো এখানেই রয়েছে।"
আমি তো অবাক। দশ মিনিট আগে ছাদ থেকে
ওকে আমি স্বচক্ষে জঙ্গলে ঢুকতে
দেখেছি। এর মধ্যে কখন ফিরে এল? তবে কি
আমি ভুল দেখলাম? এতখানি ভুল হওয়া সম্ভব?
তবু ওকে জিজ্ঞেস করলাম, " তুই কোথায় ছিলি?"
ও ভাঙা হিন্দিতে বলল, " আমার ঘরে"।
আমি এবার জিজ্ঞেস করলাম, " তুই পেছনের
রাস্তা দিয়ে জঙ্গলের দিকে যাসনি? "
ও খুব সংক্ষেপে রুক্ষ গলায় বলল, " নেহি।"
আমার বেজায় রাগ হল। আর সঙ্গে সঙ্গেই রাগ
প্রকাশের ছুতোও খুঁজে পেলাম। বললাম,
"সেদিন তোর মাইজি ওদের সঙ্গে মেলায়
যেতে বলল। তুই বললি যাবি না। কিন্তু লুকিয়ে
লুকিয়ে একা গিয়েছিলি। অথচ সেকথা বলিসনি।
কেন? কেন একা একা মেলায় গিয়েছিলি?"
ও আগের মতোই ঘাড় শক্ত করে শুধু বলল, "
নেহি।"
আমার স্ত্রী এবার চেঁচিয়ে উঠে বলল, " তুই
তো আচ্ছা মিথ্যেবাদী! আমি নিজের চোখে
দেখলাম যেখানে সাধুরা বসেছিল সেখানে
বসেছিলি তুই। আর বলছিস কিনা......"
ও ফের ঘাড় নাড়ল...." নেহি"।
স্ত্রী বলল, " তুই ডাহা মিথ্যেবাদী। নোটনকে
জিজ্ঞেস কর। সে'ও দেখেছে।"
" নেহি.....নেহি" বলতে বলতে রাজু যেন
পালিয়ে গেল।
সেদিন রাত্রে স্ত্রী প্রথম বলল, " শোনো,
রাজুকে আমার কেমন যেন লাগছে।"
আমি চুপ করে রইলাম।
স্ত্রী আবার বলল, " কিছু বলছ না যে?"
......" কি আর বলব? আমিও টের পাচ্ছি। ওর ঐ
চোখের নিমেষে কাজ করা, ছাদ থেকে
লাফিয়ে অত দূরের গাছের ডাল ধরা, ছাদের সরু
পাঁচিলের ওপর দিয়ে অনায়াসে হাঁটা, মস্ত বড় হাঁ
করে গোটা পেয়ারা চিবোনো, ওর অস্বাভাবিক
চোখ আর অদ্ভুত তাকানো, সন্ধ্যেবেলায় একা
একা দীঘির পথে জঙ্গলে ঢোকা, ওকে
দেখে ভয় পেয়ে পাখির ঝাঁকের তাড়া
করা....অথচ ওকে পরমূহুর্তেই বাড়িতেই পাওয়া
গেল, ও নাকি বাইরে জঙ্গলের পথে
যায়ইনি.......এসবই রহস্যময়। "
স্ত্রী শিউরে উঠে বলল, " কি হবে গো!
আমার যে কেমন ভয় করছে। ওকে তাড়াও। "
...... " ও নিজে থেকে চলে না গেলে কি
তাড়ানো যায়? কোথায় যাবে একা একা ঐটুকু
ছেলে?"
স্ত্রী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, " এত
বড় বাড়িতে এভাবে থাকতে আমার খুব ভয় করছে।
কেবলই মনে হচ্ছে খারাপ কিছু ঘটবে। কবে
যে ওরা সবাই আসবে......."
ঠিক পরের দিন সকালে আমার স্ত্রী 'র বাপের
বাড়ি থেকে ওর এক ভাই এল। ওর মা অর্থাৎ আমার
শাশুড়ি খুব অসুস্থ। এখুনি আমার স্ত্রী 'কে নিয়ে
যেতে হবে। তাই নিয়ে যেতে এসেছে।
শুনে চমকে উঠলাম। ওর মা অসুস্থ বলে নয়,
আমায় এত বড় বাড়িতে সম্পূর্ণ একা থাকতে হবে
বলে।
যাবার সময় স্ত্রী ব্যাকুল হয়ে বলল, " বাধ্য হয়ে
যেতে হচ্ছে। তোমায় একা রেখে যেতে
কিছুতেই মন সরছে না। খুব সাবধানে থেকো।
যত তাড়াতাড়ি পারি চলে আসব।"
আমি মুখে হাসি টেনে বললাম, " কিচ্ছু ভেবো
না। আমি একজন পুলিশ অফিসার। কেউ না থাক সঙ্গে
রিভলভার আছে।"
বললাম বটে ' কিচ্ছু ভেবো না' কিন্তু নিজেই
কিরকম দূর্বল হয়ে পড়ছি।
রিভলভার? রিভলভার কি সব ক্ষেত্রে কাজ দেয়?
নোটনকে নিয়ে আমার স্ত্রী চলে যাবার পরই
আমি যেন কিরকম অসহায় হয়ে পড়লাম। আমি
কিছুতেই আর এ বাড়িতে টিকতে পারছি না। কেবলই
মনে হচ্ছে ভয়ঙ্কর কিছু যেন ঘটতে যাচ্ছে।
একটা কথা ভেবে অবাক হলাম....কি অদ্ভুতভাবে
একে একে সবাইকে চলে যেতে হল! ছোট
ভাই-রা গেল, মেজো ভাই-রা গেল,
শেষপর্যন্ত আমার স্ত্রী -পুত্র'ও গেল।
ব্যাপারটা কি? মনে হল কোনও অশুভ শক্তি যেন
পরিষ্কার মতলব করে একে একে সবাইকে
সরিয়ে দিল। একটি মাত্রই উদ্দেশ্য.... আমায় একা
রাখা। আর তখনিই আমার জীবনহানির ব্যাপারে
হেরম্ব জ্যাঠার সাবধানবাণী মনে পড়ে
গেল......এক মাসের মধ্যে আমার জীবন সংশয়
হতে পারে। এই সময়টার মধ্যে আমি যেন
কখনো একা না থাকি।
কথাটায় তখন গুরুত্ব দিইনি। এখন দিতে হচ্ছে। ভয়
পাচ্ছি।
আবার এটাও পরিষ্কার নয়....কিসের জন্য এত ভয়?
এখানে আপাতত একা থাকলেও পাড়া প্রতিবেশী
আছে। তারা দু'বেলা আমার খবর নেয়। আমিও যাই
তাদের বাড়ি। কোথাও কোনও অস্বাভাবিকতা নেই।
যত ভয় সব যেন আমার বাড়ির ভেতরেই। এটুকু
নিশ্চিতভাবে বুঝেছি যে ঐ নেপালি ছোঁড়াটাই
আমার কাছে অস্বস্তির কারণ। ওর হাবভাব, চালচলন
কেমন যেন অদ্ভুত। তার চোখ দুটো ঠিক
মানুষের চোখ নয়। ওরকম মড়ার মতো
উল্টানো, সাদা.... কখনো মানুষের চোখ হতে
পারে না। অথচ সে বাড়ির কাজকাম করে, আমার
ছেলের সাথে খেলা করে, ঘুড়ি ওড়ায়।
তাহলে? তাহলে তাকে ভয় কিসের জন্য?
এ প্রশ্নের মীমাংসা করতে পারি না। কিন্তু বেশ
বুঝতে পারছি আমি এই শ্রীযুক্ত সুশান্তকুমার
সরকার, কলকাতার পুলিশ অফিসার.....এই খালি বাড়িতে
টিকতে পারছি না। প্রতি মূহুর্তে এখন অকাল
অপমৃত্যুর ভয় পাচ্ছি। স্পষ্ট দেখছি মৃত্যুর কালো
ছায়া আমায় ঘিরে রয়েছে।
ভয় পাচ্ছি। বড় ভয় পাচ্ছি আমি।
-চলবে ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now