বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অদৃশ্য কুঁড়ে ঘর

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ঘটনাটা আমার এক আঙ্কেলের কাছে শোনা, উনার নাম মফিজুর রহমান । উনি ১৯৭১-এ যুদ্ধ করেছেন । যুদ্ধ শেষ হবে এমন সময় কোন একটা অপারেশনে উনাদের একজন যোদ্ধা সাথী মারা যান কপালে গুলি খেয়ে, যার নাম সফি উল্লাহ্ । কয়েকদিন বাদেই যুদ্ধ শেষ হলো । আঙ্কেল ঠিক করলেন সফি উল্লাহ্র বাড়িতে যাবেন উনার মৃত্যুর খবর দিতে । সফি উল্লাহ্র কিছু ব্যক্তিগত চিঠি থেকে উনার স্ত্রীর ঠিকানা জোগাড় করা হলো । জায়গাটা বাগেরহাটের খান জাহান আলীর ষাট গম্বুজ মসজিদের আশেপাশে কোন একটা গ্রাম । কোন একদিন আঙ্কেল রওনা দিলেন, একে তো রাস্তার অবস্থা খারাপ তারপর যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা । অনেক কষ্টে সন্ধ্যায় গিয়ে পৌঁছালেন ওই গ্রামে, মানুষ জনকে জিজ্ঞেস করে সফি উল্লাহ্র বাড়িও খুঁজে পেলেন । ছনের কুঁড়ে ঘরের মত ছোট্ট ঘর, বাইরে থেকেই দেখলেন ভিতরে কুপির আলো জ্বলছে । উনি সফি উল্লাহ্র স্ত্রী ও মেয়ের সাথে দেখা করলেন আর তাদের জানালেন মৃত্যুর খবরটা । খবরটা শুনে ওদের মধ্যে কোন ভাবান্তর হলো না । সফি উল্লাহ্র স্ত্রী বলল হঠাৎ “আপনি অপেক্ষা করেন উনি আইসে পরবিনে ।” আঙ্কেল বুঝতে পারলেন না, ভাবলেন ওদের কোন আত্মীয়র কথা বলছে । রাতের খাবার তিনি ওখানেই খেলেন, পরে বাইরে উঠানে সিগারেট ধরালেন আর সারাদিনের কথা চিন্তা করলেন । কেন সফির স্ত্রী আর মেয়ে কোন রকম কান্নাকাটি করল না, কেনই বা এরকম ভাব করল । তখনই হঠাৎ একটা কণ্ঠস্বর বলল আরে মফিজ ভাই কেমন আছেন ? কণ্ঠস্বর শুনেই আঙ্কেল বুঝেছিলেন এটা সফির গলা । অন্ধকারে সফির অবয়বটাও ভালোই বোঝা যাচ্ছে । তিনি আর অপেক্ষা না করে পিছনের মাঠ দিয়ে দৌড়াতে লাগলেন । পালানোর সময় পিছন দিক দিয়ে বিকট আর অদ্ভুত আওয়াজ পাচ্ছিলেন, এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান । সকালের দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন তিনি খান জাহান আলীর দীঘির পাশে পড়ে আছেন । আশেপাশে লোকজন, তিনি সবাইকে ঘটনা খুলে বলেন । ওরা জানায় কিছুদিন আগে পাকিস্তানিরা ওই বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় আর মা ও মেয়ে মারা যায় । উনি পরে গিয়ে ওখানে কোন বাড়ি দেখতে পাননি । যেই লোক বাড়ির পথ দেখিয়েছিল তাকেও পাননি খুঁজে । পড়ে তিনি ফিরে আসেন । সফি উল্লাহ্ একটা অপারেশনে মারা যান, উনার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অদৃশ্য কুঁড়ে ঘর
→ অদৃশ্য কুঁড়ে ঘর
→ অদৃশ্য কুঁড়ে ঘর
→ অদৃশ্য কুঁড়ে ঘর

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now