বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
................................
গ্রামের ছেলে মৃদুল। তার বাবা অন্যের জমিতে কাজ করে নিজেদের সংসার চালান। মৃদুল গ্রামের একটি হাই-স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। রেজাল্ট খুব ভালো ৪.৮৮। তার বাবা রেজাল্ট দেখে আগ্রহী হয়ে উঠলেন ছেলেটিকে মানুষের মতো মানুষ গড়ে তোলার জন্য। তার বড় চাচা থাকে শহরে। সেখানে একটি ভালো কলেজে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিলেন মৃদুলের বাবাকে। তার বাবা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন কষ্ট করে হলেও ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাবেন তিনি। যাতে তিনি গ্রামে মাথা উঁচু করে জীবন-যাপন করতে পারেন। আল্লহর নাম নিয়ে ছেলেকে পাঠিয়ে দিলেন তার চাচার কাছে। মৃদুল চাচার বাসায় পড়াশোনা করে। দেখতে দেখতে ১ম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা এগিয়ে এলো। ক্লাসে সহপঠীরা পুরো ক্লাস আনন্দ উল্লাসে মাতিয়ে তোলে। কিন্তু মৃদুল ছেলেটি চুপচাপ ক্লাসেসে এসে এক কোণায় বসে থাকে। সে ভাবে,তার ও যদি এমন বন্ধু থাকতো। তাহলে আমিও অনেক আনন্দ করতাম। কিন্তু বাবা'র কড়া নির্দেশ কোনো বাজে ছেলের সাথে মিশবি না। সে বাবা'র কথার অবাধ্য হয়নি। তার সব সহপঠীরা মৃদুলকে নিয়ে আলোচনা করে,ঠাট্টা-মশকরা করে। মৃদুলের খুব কষ্ট হয়। কেকেউ তাকে সাহায্য করেনা বরং শুধু আঘাত দেয়। বেচারা, নিরবে চোখের জল ফেলে ।
১ম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। সবাই খুব ভালো করলো। শুধু মৃদুল নামক ছেলেটি কোনোমতে পাশ নম্বর তুললো। তার রেজাল্ট দেখে সে খুবই হতাশা অনুভব করলো। নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে করতে ইচ্ছে হলো। নিজেকে তার অপদার্থ মনে হচ্ছে। দূরে কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করছে লজ্জায়,হতাশায়। এসব কিছু ভাবতে ভাবতে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। তার কান্না দেখে তার চাচা এগিয়ে আসলো তাকে সান্ত্বনা দিতে। আর বললো,
- কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায় করো। সফলতা তোমাকে ছুয়ে যাবে। তোর তো নিশ্চয় মনে আছে সেই রাজা এবং মাকড়শার গল্প। মাকড়শার অধ্যাবসায় এবং পরিশ্রম দেখে উৎসাহ,সাহস পেয়েছিলেন ২য় বার যুদ্ধ করার। পরবর্তীতে তিনি সফলতা লাভ করেন। তুইও কঠিন পরিশ্রম কর সফলতা তোর জন্য অপেক্ষা করছে।
এতক্ষন মৃদুল চাচার কথা মনযোগ দিয়ে শুনছিলো। তারমধ্যে এখন ধীরে ধীরে সাহস বাড়ছে, সে এখন নিজেকে প্রস্তুত করছে সবকিছু ভালো করে পড়ার এবং এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষার জন্যে ভালো করে পড়া শুরু করলো। আর মনে মনে কঠোর অঙ্গীকার করলো,ওরা পারলে আমি পারবনা কেন? আমাকে পারতেই হবে। এই চিন্তা মাথায় রেখে সে খুব মনযোগ সহকারে পড়তে লাগলো।
.
এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষার পর ঘটল এক অবাক কান্ড। সবাইকে আবাক করে দিয়ে মৃদুল সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সিলেক্ট হলো। এরপর কয়েক নম্বর কম পেয়ে পিছিয়ে আছে মৃদুলের সহপাঠী অরণ্য। অরণ্য তার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলো মৃদুলের দিকে। একদিন অরণ্য বলল,
- আমরা কেউ কল্পনা করতে পারিনি এতজন কে পিছিয়ে ফেলে তুমি বেশি নম্বর পাবে।
- আমার অধ্যাবসায় এবং আল্লাহ'র মমেহেরবানি। তুমি এইচএসসি'র জন্যে ভালোভাবে প্রস্তুতি নাও যাতে এ+ তুলতে পারো।
এরপর থেকে সবাই মৃদুলকে ভালোবাসে। সব সহপাঠীরা এখন মৃদুলের বন্ধু। আর কিছুদিন পরই ফাইনাল পরীক্ষা সবাই খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। মৃদুল কঠোর পরিশ্রম করছে। এই পরিশ্রমের ফলে একদিন সে খুব বড় হবে। ঠিক আমরাও বাধা-বিপত্তি কে উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায় করলে অবশ্যই সাফল্য পাবো। আর অধ্যাবসায় তো এমনই সবাইকে সাফল্যের শীর্ষ স্থানে পৌঁছে দেয়,যার জ্বলন্ত প্রমাণ মৃদুল নিজেই।
আপনি নিজেও কোনো একদিন অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে অন্য কারও আইডল হয়ে যেতে পারেন।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now