বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সকাল সকাল ফোনের শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে
গেল।
মোবাইলের স্কীনে তাকিয়ে দেখি
ঝাড়িওয়ালির
ফোন,রিসিভ না করে আবার ঘুম যাওয়ার
চেষ্টা করলাম কিন্তু না
মোবাইল আবার বে বে শুরু করল।
কী যে করি ফোন যতক্ষন রিসিভ করবনা
ততক্ষন ফোন
দিতে থাকবে এক প্রকার বাধ্য হয়ে ফোনটা
রিসিভ করলাম।
রিসিভ করার সাথে সাথে ঝাড়ি শুরু
.
-ঔ কুত্তা প্রথমবার ফোন কেটে দিলি কেন
-আরে না ঘুমের ঘোরে টের পাইনি(মিথ্যা)
-মানে তুই এখনো ঘুমাচ্ছিস।
-না না আকাশে ডানা মেলে উড়ছি।
-একদম ফাজলামি করবি না।
-এত সকাল সকাল ফোন করার কোন মানে
আছে কি বলবি বল
আমার কিন্তু প্রচুর ঘুম পাচ্ছে।
-এত সকাল সকাল না ঘড়ির দিকে তাকিয়ে
দেখ
কয়টা বাঝে।
-আরে মাএ ত সাড়ে আটটা।
-এখন তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে নয়টার
মধ্যে ক্যাম্পাসে
আসবি।
-আরে আমি পারবনা
-তুই পারবি কিনা না পারবি আমি জানি না
তুই নয়টার মধ্যে আসবি এটাই
ব্যাস আমি অপেক্ষা করছি।
.
এই বলে ফোনটা কেটে দিল।আরে
ঝাড়িওয়ালি মেয়েটা হল নদী।আমার
গার্লফ্রেন্ড থুক্কু বেষ্ট
ফ্রেন্ড।
খালি সারাক্ষন ঝাড়ি আর ঝাড়ি।এইটা
করবি না
ঔইটা করবি না ওদের সাথে মিশবি না ব্লা
ব্লা ব্লা।
কোন দু:খে এই মাইয়াটারে ফ্রেন্ড
বানাইয়ছি।
যেন হেতি রাজা আমি প্রজা খালি হুকুম আর
হুকুম।আরে ভাই
প্রজাদের ত স্বাধীনতা বলে কিছু আছে
কিন্তু হেটা আমার
নাই।
এহন আমি কিতা করাম।ভাবছিলাম আজ ক্লাস
নেই তাই আরামে একটা লং টাইম ঘুম দিমু
কিন্তু
তা স্বয়ং ঝাড়িত্তয়ালি তা হতে দে নাই।
আবার না গেলে আরেক দশা।সোজা
আমাদের
বাসায় চলে আসবে।মাকে উল্টা পাল্টা
বোঝাবে।
আমি নাকি খারাপ ছেলেদের সাথে
মিশি,ক্লাস না
করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয় ব্লা ব্লা
ব্লা।
মা ও তখন স্বয়ং ঝাড়িওয়ালির সাথে ঝাড়ি
শুরু
করবে যা আমার পক্ষে হজম করা বড়ই দুষ্কর।
তাই তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে ক্যাম্পাসের
উদ্দেশ্য রত্তনা
দিলাম।দেরি হলে আবার কপালে খারাপ
কিছু
আছে।নয়টা দশে পোছলাম দেখি নদী থুক্কু
ঝাড়িওয়ালি বসে আছে।
.
-এই তুই এত লেট করলি কেন।
.
আরে এত তাড়াহুড়ো করে আসলাম কোথায়
বসতে
বলবে তা না যাওয়ার সাথে সাথে ঝাড়ি শুরু।
.
-এইত দশমিনিট লেট হল।
-দশ মিনিট না কান ধর
-আরে আমার মানসম্মানের একটা ব্যাপার
আছে না।
-ধরবি কিনা বল।
-সরি ত
-ওকে আচ্ছা চল আজ কোথাও ঘুরতে যাই
ওমা ঝাড়িওয়ালি এত রোমান্টিক হলি কবে
(মনে মনে)
-আমি যাব না।
.
কথাটা বলার কারণ ঘুরতে যাওয়া মানে এটা
কিনবে
সেটা কিনবে সেটা খাবে যার ফলস্বরুপ
আমার
পকেট ব্লা ব্লা।
.
-কি (রেগে)
-আচ্ছা চল চল।
.
দাড়া যাব কিন্তু ঠীক আছে আজ তুর পকেট
ব্লা ব্লা
করুম।নিজের পকেট থেকে টাকা বের করা
কত যে কষ্টকর
আজ বুঝবি।
হেটেই যাচ্ছি মাঝপথে ফুচকা ফুচকা বলে
লাফাতে শুরু করল।
.
-আরে কী হয়ছে ফুচকা ফুচকা বলে
লাফাচ্ছিস ক্যারে তুরে
ফুচকা জিনে পাইছে নি না ফুচকা পানিতে
পরছে।
-ফাজলামি বাদ দে চল ফুচকা খামু
-ফুচকা খাবি এটা বললেত হয় এত বানরের
লাফালাফি করতে হয়
নাকি।
.
দুজন মিলে ফুচকা খাচ্ছি।খাত্তয়াত এক
পর্যায়ে নদী
বলল।
.
-বিলটা দিয়ে দেয়।
-আমি কেন দিব তুই দিবি তুর জন্যত খেলাম
যে বাদরামি শুরু
করলি।
-আচ্ছা আমি যদি তুর গার্লফ্রেন্ড হতাম
তাহলে দিতি না।
.
কথাটা শুনার পর আমার মনে এক ধরনের ঝড়
বয়ে গেল।আর
কথা না বাড়িয়ে বিল টা দিয়ে দিলাম।
সেদিনের মত নদীকে নিয়ে অনেক জায়গায়
ঘুরলাম।রিক্সা
করে তাকে বাড়িতে পৌছে দিয়ে বাড়িতে
চলে এলাম।
ফইন্নী আজ আমার পকেট পুরাই ফাকা
করে দিল।এর শোধ আমি নিয়ে ছাড়ব।
.
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে নাস্তা
দিতে বললাম মা
নাস্তা নিয়ে এসে বলল নীলাকে ফোন করতে
কেন
জ্ঞিজেস করায় মা কিছু না বলে
চলে গেল।তাড়াতাড়ি নীলাকে ফোন করলাম
.
-হ্যালো নীল তুই কোথায়।
-বাসায়
-তুই আমার সাথে দেখা করতে পারবি।
.
নদী কন্ঠটা এরকম শুনাচ্ছে কেন।কাপা কাপা
মনে হচ্ছে মেয়েটা অনেক কেঁদেছে।নদীর
থেকে
কোথায় দেখা করতে হবে কয়টায় সব জেনে
নিলাম।
সময়মত পৌছে গেলাম নিদিষ্ট জায়গায়।
গিয়ে দেখি
নদী দাঁড়িয়ে আছে।নদীর মুখটা আজ নিষন্ন
দেখাচ্ছে যা
আমি আগে কখনো দেখিনি।আমি নদীর
সামনে যেতে ও
আমাকে দেখে কেঁদে দিল।
.
-কি হয়েছে নদী কাঁদছ কেন।
.
কিছু বলছেন এখনো কেঁদে যাচ্ছে।আমি আর
ওর কান্না সহ্য করতে পারছি নানা আমি ওর
হাত ধরে হালকা ঝাড়ি
দিয়ে বললাম।
.
-আরে কি হয়েছে বলনা তুই এইভাবে কান্না
করলে
আমার যে আর....
-আব্বা আমার বিয়ে ঠীক করে ফেলেছে।
আমি একজন
কে ভালবাসি তাকে ছাড়া আর কাউকে
বিয়ে করতে পারবনা।
.
কথাটা শুনে আমি থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।এ
অবস্থায় কি বলা উচিত
আমি ভেবে পাচ্ছি না।
.
-নীল তুই কি এখনো চুপ হয়ে থাকবি।
আমি যে বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
-তুই কি সারাজীবন এভাবে চুপ হয়ে থাকবি।
তুই
কি বুজস না।আচ্ছা তুই বাসায় চলে যা তোকে
এখানে ডাকাটা আমার ভুল হয়েছে(কেঁদে
কেঁদে)
.
আমি ভাবলাম যা হবার হোক আজ এই সুযোগ
টা হাত ছাড়া করা
যাবে না।আমি জানি নদী আমাকে
ভালবাসে
যা ও আমার প্রতি কেয়ারিং এর মধ্যে ফুটে
ওঠে।কোনদিন মেয়েত দূরের কথা মেয়ের
সাথেও মিশতে দেয়নি।সারাক্ষন দৌড়ের
উপর রাখে।হয়ত এটাই ভালবাসা।
আমি বাসিনা তা নয়।এতদিন সাহস
হয়ে উঠেনি।কিন্তু আজ যা হবার হোক
বলব বলবই।আজ না বললে আর
কোনদিন বলার সুযোগ পাব না।
তাই অতিরিক্ত সাহস নিয়ে হাটু গেড়ে
বসে পড়লাম।
.
-সত্যি নদী আমি তোকে অনেক অনেক
ভালবাসি।
কথাটা বলার পর নদী আমাকে জড়িয়ে ধরে
কান্না শুরু করল।
আমার কাতুকুতু লাগে ক্যারে।আসলেই
মেয়েটা আমাকে
অনেক বেশি ভালবাসে।তাকে ছাড়া আমার
লাইফটা অর্থহীন।
অত:পর দুজনের গন্তব্য স্থল কাজী অফিস।
বাকিটা আর কমু না।
।
।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now