বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মানুষ মাত্রই চায়, ইস! যদি আরেকটু বেশী পেতাম। একজন স্ত্রী এবং সাত সন্তানের মা হিসেবে আমি সবসময়ই ভাবতাম যদি আরেকটু সময় পেতাম, তাহলে …..। তাহলে কী করতাম? এখানেই নিহিত অবসর সময় সম্পর্কিত একটি বিশ্বজনীন সত্য। অবসর সময় দুইভাবে ব্যয় হতে পারে। এই সময় হয় কোনো কল্যাণকর কাজে ব্যয় হয়, নয়তো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাপ কর্মের মধ্য দিয়ে এই সময়ের অপচয় করা হয়। নিশ্চিতভাবেই আমাদের সবাই স্বীকার করব যে, অবসর সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার হবে যদি সেই সময়কে কিছু ইবাদত কর্মের মধ্য দিয়ে কাটানো যায়। তবে অধিকাংশ সময় আমাদের মনেই থাকে না যে, আমাদের পার্থিব জীবনের লক্ষ্যই হলো আল্লাহ্র ইবাদত করা। আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) বলেন: “আমি জিন এবং মানুষকে এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা (শুধু) আমার ইবাদতই করবে।” [সূরা জারিয়াত ৫১: ৫৬]
কোনো উদ্দেশ্য বা কারণ ছাড়াই আল্লাহ্ আমাদের সৃষ্টি করেননি। অর্থহীন কাজকর্মে সময় নষ্ট করার জন্যও তিনি মানুষ সৃষ্টি করেননি। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন পরিপূর্ণ অর্থে ইবাদত বলতে যা বুঝায় তা-ই করার জন্য — সমগ্র সৃষ্টি জগতের একমাত্র সর্বশক্তিমান প্রতিপালক হিসেবে শুধু তাঁরই ইবাদত করার জন্য। শুধু ধর্মীয়, শারীরিক কিংবা মানসিক ব্যাপারগুলোই যে ইবাদত তা কিন্তু নয়। সালাত, সাওম, যাকাত এবং হাজ্জ এগুলো হচ্ছে ইবাদতের আরকান বা মূল খুঁটি। তবে ইবাদতের প্রকৃত অর্থ আরও ব্যাপক। ইবনু তাইমিয়্যাহর মতে, ইবাদত “একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ এবং আল্লাহ্ তা‘আলা যা কিছু পছন্দ করেন এবং যা কিছু তাঁকে সন্তুষ্ট করে তার সবই ইবাদত।”
কথা হলো, এতক্ষন যা বললাম তার সাথে একজন নারীর অবসর সময়ের সম্পর্ক কী? একজন নারীর জীবনে ইবাদত কর্মগুলো কীভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে সেদিকে একটু নিবিড়ভাবে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে যে, নারীদের “অবসর সময়” কাটানোর আগ্রহ এক নতুন দিকে মোড় নেবে।আসমা বিনতু ইয়াযীদ ইবনু আস-সাকান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তিনি একবার নবীর (সা কাছে গেলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হউক। আমি নারীদের পক্ষ থেকে আপনার কাছে এসেছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আপনাকে নারী-পুরুষ সকলের জন্যই পাঠিয়েছেন। আমরা আপনার উপর ঈমান এনেছি। এজন্য আমরা ঘর থেকে বের হই না। আমরা আপনাদের শারীরিক সুখের উৎস। আমরা আপনাদের সন্তানদের গর্ভে ধারণ করি। একজন পুরুষ বাইরে গিয়ে জুম‘আ এবং জামা‘আতে সালাত আদায় করতে এবং জানাযায় অংশগ্রহণ করতে পারে। আবার আপনারা যখন হাজ্জ, উমরা কিংবা জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হন, আমরা তখন আপনাদের ঘর-বাড়ীর দেখাশোনা করি। আমরা আপনাদের কাপড় ধুয়ে দিই। আমরা আপনাদের সন্তানদের বড় করে তুলি। আমরা কি (আপনাদের উল্লিখিত ইবাদতগুলোর) সাওয়াবের ভাগীদার হবো না? নবী (সা সাহাবাদের উদ্দেশে বললেন: “তোমরা কি আর কখনও কোনো মহিলাকে এর চেয়ে ভালো কিছু বলতে শুনেছ?” এরপর তিনি তাকে বললেন, “হে নারী! ভালো করে শুনে নাও আর অন্য নারীদেরকেও জানিয়ে দাও, স্বামীর সাথে একজন নারীর যথাযথ সম্পর্ক, স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য তার (স্ত্রীর) চেষ্টা করা এবং সে (স্বামী) যা করতে অনুমতি দেয় তা করাই হলো ওই সমস্ত কিছুর (পুরুষদের সকল ইবাদত কর্মের) সমতুল্য।” একথা শুনে আস্মা প্রফুল্ল চিত্তে বলে উঠলেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।”
উল্লিখিত হাদীসে নবী (সা ইবাদতের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের কথা বলেছেন যা কেবল নারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি আমাদের জানিয়ে দিলেন যে, মেয়েরা কীভাবে সফলতা অর্জন করতে পারবে এবং কীভাবে পুরষদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ইবাদত, যা নিয়ে মেয়েরা সাধারণত অভিযোগ করে থাকে তার মাধ্যমেও তারা সমানভাবে সাওয়াবের ভাগীদার হবে। মেয়েদের এই ইবাদত পুরুষদের জিহাদ, হাজ্জ এবং জুম‘আ, জাম‘আত ও জানাযায় সালাত আদায়ের সমতুল্য। স্বামীর মন ভালো রাখা, তাকে মান্য করা এবং তার অনুমতি ছাড়া কিছু না করা, ঘর-সংসার এবং নিজের সন্তানের দেখাশোনা করা – এ সকল ইবাদতের মাধ্যমে স্বামীর সাথে স্ত্রীর ভালোবাসার সম্পর্ক পূর্ণতা লাভ করে। পুরুষরা সাধারণত যে সকল কাজ করে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর অসীম দয়ার মাধ্যমে মেয়েদের জন্য অনুরূপ অন্যান্য ইবাদাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যার মাধ্যমে তারাও সমান পরিমাণ সাওয়াব অর্জন করতে পারে।
অনেকেই হয়তো বলবেন, এসব তো নারীদের নিত্য নৈমিত্তিক কাজ, এমনকি অমুসলিম নারীরাও প্রতিদিন এসব কাজই করছে। কিন্তু এসব কাজ করার পেছনে মুসলিম নারীদের উদ্দেশ্য থাকে আর সবার থেকে মহত্তর। প্রতিটি কর্মের প্রতিই একজন মুসলিম নারীর দৃষ্টি থাকে সর্বোচ্চে। তিনি জানেন ইসলামের বিধান অনুযায়ী করা হলে প্রতিটি কর্মই হবে আল্লাহ্র (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) প্রতি অনুগত্যের (ইবাদত) বহিঃপ্রকাশ। কোন কোন ক্ষেত্রে একজন নারী অবসর সময় পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন? মানুষ সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে সময় দেওয়ার জন্য কিংবা করতে ভালো লাগে এবং করে আনন্দ পাওয়া যায় এমন কাজ করার জন্যই অবসর সময় প্রত্যাশা করেন। এতে দোষের কিছু নেই; বরং সেই কাজগুলোও যদি বিশুদ্ধ এবং সঠিক নিয়তে করা যায়, তাহলে সেগুলোও ইবাদতের শ্রেণীভুক্ত হয়ে যায়। তবে সময়ের অপচয় করা একটি গুরুতর দোষ যার শিকার আমরা অনেকেই। সময় নষ্ট করার হাজারো সুযোগ দিয়ে দুনিয়াটা ভরা। আমাদের মনের নিয়ত ভালো থাকলেও, শয়তানের কুমন্ত্রণার শিকারে পরিণত হই এবং নিয়ত অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হই। আমাদের সবার মধ্যেই সময় নষ্ট করার প্রবণতা রয়েছে এবং সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করার সুযোগকে কাজে লাগাতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now