বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
[একটি মেয়ের আত্মকাহিনি]
স্তার ধারের কোনো
ডাস্টবিনে
না, নর্দমার বর্জ্যতে না,
টয়লেটে ফ্লাশ
করেও না--আমার সন্তানকে
আমি
সবচেয়ে সুন্দরভাবে বিদায়
জানালাম।
হুজুর ডেকেওর দাফন সম্পন্ন
হলো, আমি
বাদে বাকিরা সবাই নামাজ
পড়লো।
যে শিশুর মৃত্যু লেখা আছে, সে
মারা
যাবেই। বাবা-মা হয়ে
নিজের হাতে
সন্তানকে খুন করা তো
জানোয়ারও
পারে না। আর মানুষ শরীরের
ক্ষুধা,
প্রেমের তৃষ্ণা মেটাতে
গিয়ে
শেষমেশ সেটাই করে…
এক সপ্তাহ হাসপাতালে
থাকার পর আমি
বাসায় ফিরে গেলাম।
মানসিকভাবে
বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে
রিকাভার করতে
অনেক সময় লাগছিল। বাসা
থেকে মিতু
বুদ্ধি করে আগেই বাচ্চার
জিনিসগুলো
সরিয়ে ফেলেছে। যেন আমার
চোখে
পড়লে আমি দুঃখ না পাই, অবশ্য
এতোকিছুর দরকার ছিল না।
আমি
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি আর
আল্লাহকে
মেনে চলি। এখন আমার সাথে
যেটাই
হোক, আমি আর ভয় পাই না।
ভেঙেও পড়ি
না। রোকসানা আপু বদলি হয়ে
গেছেন
শুনলাম, আমারও এই বাসা
থেকে
বেরোনোর সময় হয়ে গেছে।
নিজের
বাবা-মায়ের কাছে ফিরে
যেতে
হবে এবার…
মনে হলো যেন একটা যুদ্ধ শেষ
হলো।
কিন্তু ফিরতে হলো খালি
হাতে।
আসলে খালি হাতে না,
হাতে
ইসলামের আলো নিয়ে
ফিরছি - এটাই
তো সবচেয়ে বড়ো পাওয়া!
বাসায় বাবা-মা আমাকে
প্রায় তিন
মাস পর দেখছেন। আমার
পরিবর্তনে খুব
হতবাক সবাই। যেন আমাকে
চিনতে
পারছে না কেউ।
এর প্রায় দুই মাস পরে হঠাৎ
একদিন সুমন
ফোন দিয়েছিল। গলা শুনে
মনে হলো
যেন খুব কান্নাকাটি করেছে।
ভেক
ভেক করে হেঁচকি তুলে
আমাকে বললো,
সে ‘মেইক আপ’ করতে চায়! যতো
সব
ভণ্ডামি। পুরো প্রেগন্যান্সির
সময়
আমাকে মাঝ সমুদ্রে ফেলে
দিয়ে এখন
এসেছে আবার আমার শরীর
এনজয় করতে!
মানুষই পারে এতোটা নির্লজ্জ
হতে।
আজ ভাবছিলাম, আল্লাহ যা
করেন
ভালোর জন্যই করেন। পৃথিবীর
প্রতিটা
ঘটনার পেছনে অনেকগুলো
কারণ আছে।
এক একটা পরিস্থিতি তৈরি
করে তিনি
যেন আমাদেরকে তাঁর কাছে
আসার
সুযোগ করে দেন। কেউ সেই
সুযোগটা
কাজে লাগায়, আর কেউ ছুঁড়ে
ফেলে।
প্রথমে বাচ্চা রাখার কোনো
ইচ্ছাই
ছিল না, অথচ বাচ্চা জন্ম
দেওয়া ছাড়া
আর কোনো উপায়ও ছিল না।
এরপর
আল্লাহর ভয়ে বাচ্চাটা
রাখার
সিদ্ধান্ত নিলাম। তখন আল্লাহ
অন্য ইচ্ছা
করলেন। আর একদিক থেকে
ভাবলে
এভাবেই আল্লাহ আমাকে
বেইজ্জত হওয়া
থেকে রক্ষা করলেন। মাঝখান
দিয়ে
সুমন আর সুমনের মতো সব ছেলের
চেহারা
স্পষ্ট করে দিলেন। বিয়ের
আগে
প্রেমগুলো কতো সস্তা, কতো
ঠুনকো,
কতো মেকি! অথচ
ছেলেমেয়েরা
অন্ধের মতো এর পিছেই ছুটতে
থাকে…
মিতু এখনও আগের মতোই আছে।
কিছু মানুষ
কখনোই শিক্ষা নেয় না। আমার
এতো
বড়ো ঘটনার পরেও ও ঠিক
আগের মতো
রয়ে গেলো। ছেলে ঘুরিয়ে
মজা
নিচ্ছে। খোলামেলা ঘুরে
বেড়াচ্ছে।
যখন যার সাথে ইচ্ছা শুয়ে
পড়ছে। ওর
সাথে আগের মতো আর মিশতে
পারিনা,
বন্ধুত্ব আছে কিন্তু অশ্লীল
রসিকতা নেই।
ছেলেদের সাথে বসে আড্ডা
দেই না
দেখে দেখাসাক্ষাতও কম হয়।
রোকসানা আপুর খবর অনেকদিন
জানিনা। তবে মৌমিতা আপুর
কথা
মিতুর মুখেই শুনেছি, পাঁচ
বছরের সেই
ফার্স্ট লাভকে ছেড়ে তিনি
কানাডার
আরও উচ্চশিক্ষিত এক পাত্রকে
বিয়ে করে
এখন কানাডায় যাওয়ার
প্রস্তুতি
নিচ্ছে। হায়রে ফার্স্ট লাভ!
হায়রে
মরার প্রেম!
রাহেলার সাথে বন্ধুত্ব আরও
গভীর
হয়েছে। যদিও ও আমার
ছোটবোনের
মতো। সামনের মাসে ওর
বিয়ে।
ছেলে ছাত্র, একই সাথে
ব্যবসাও করছে।
কম বয়সেই বিয়ে করতে চায়,
রাহেলার
দ্বীনদারিতা দেখে ওকে
বিয়ের
প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
রাহেলা বলে,
একবার বিয়েটা করি, এরপর
বরের সাথে
মিলে তোর ঘটকালি করবো…
হি হি।
আমি অনেক বদলে গেছি। অ-
নে-ক। এখন
রাহেলার মতোই হাত মোজা-
পা
মোজা পরি। দূর থেকে দেখে
একদিন
মিতু বলেছিল, তোকে দেখে
ভেবেছি
রাহেলা কী করে এইখানে!
সো
কনফিউজিং!
আমি মনে মনে হাসি। আল্লাহ
আমাকে
অনেক দিলেন। এক জীবনে
আল্লাহকে
খুঁজে পেলে আর কী চাওয়ার
থাকতে
পারে…??
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now