বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
[একটা মেয়ের জীবনের গল্প]
রাহেলা আমার ওপর বেশ
প্রভাব
ফেলছিল। একদিন বাইরে
যাওয়ার সময়
ওর থেকে চেয়ে একটা
বোরকা
নিলাম। মিতু, আমার বান্ধবী,
মাঝে
একদিন এসেছিল। আমার
বোরকা ধরার
কাহিনি শুনে চোখ কপালে
তুলে
বললো, কীরে হুজুর হয়ে গেলি
নাকি?
আমি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে
লজ্জা
পেয়ে বললাম, না, না, পেটটা
বড়ো
হয়ে যাচ্ছিলো। আসলে পেট
বড়ো হয়ে
যাওয়াটাই একমাত্র কারণ ছিল
না,
কিন্তু কেন যে মুখ ফসকে
মিথ্যে কথাটা
বের হয়ে আসলো! বাসার
বাকি সদস্যরা
ধরেই নিলো পেট ঢাকার জন্যই
বোরকা পরে বেরোচ্ছি। অবশ্য
ওদের
এই ভুল দ্রুতই ভাঙতে যাচ্ছিল…
দেখতে দেখতে
ডেলিভারির দিন
ঘনিয়ে আসলো। আমার মাথার
মধ্যে
দুঃস্বপ্নও চেপে বসতে
লাগলো। কী
করবো এই বাচ্চাকে নিয়ে?
কোথাও
ফেলে দিবো? নাকি মেরে
ফেলবো?
ভালোবাসার এই চিহ্ন এখন
আমার জন্য
অভিশাপের চিহ্নে পরিণত
হয়েছে।
একে কোথাও পুঁতে ফেলতে
পারলেম
আমার শান্তি লাগতো। কিন্তু
মাঝেই
মাঝেই বেয়াড়া মা-বোধটা
মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
রাহেলার
দেখাদেখি আমিও নামাজ
ধরেছি। ফজর
বাদে বাকি চার ওয়াক্ত-ই
নিয়ম মতো
পড়ছি। ফজরে রাহেলা
ঠেলেঠুলে
উঠিয়ে দেয়, ও না ডাকলে
উঠতে
পারিনা। গত আড়াই মাস
বাসায় যাই
নি, এই দুর্দিনে মায়ের কথা খুব
মনে
পড়ছে। যদিও আমি মায়ের
সাথে তেমন
ক্লোজ না, তবু তো মা!
আজকাল মায়ের
জন্য মনটা খুব আনচান করে।
এমন বিপদের মধ্যে হঠাৎ একদিন
সুমনের
ফোন এলো। বেশ সাধারণ
ভাবে কথা
বলছিল ও। আমিও এতোদিনে
নিজেকে
সামলে নিয়েছি। আগের
মতো
কান্নাকাটি আর করলাম না,
নিজেকে
আর কতোই বা নিচু করবো। শীতল
স্বরে
শুধু বললাম, বলো কী বলবে।
আমার গলার
আওয়াজেই বোধ হয়, ও বেশি
কিছু বলার
সাহস করতে পারলো না। শুধু
বললো,
যদি কোনো দরকার হয় ডেকো।
আমার
পরিচিত এতিমখানার লোক
আছে, সে
ব্যবস্থা করতে পারবে। যদিও
আমাদের
জন্য এই বাচ্চার কোনো সাইন
না
রাখাটাই বেস্ট।
আমার মাথায় ধাই করে রক্ত
চড়ে
গেলো। কতো বড়ো দুঃসাহস
যে
আমাদের কথা বলতে এসেছে।
দায়িত্ব
নেবে না, আবার দেখাতে
এসেছে সে
আমাদের ব্যাপারে কতোই না
চিন্তিত! কী পেয়েছে এই
পশুটা? আমার
বাচ্চার কোনো দায়িত্ব তো
নেয়ই
নি, এখন এসেছে আমার
বাচ্চাকে খুন
করতে! তোমার থেকে আমি
কোনো
অ্যাডভাইস চাই নি, বলে মুখের
ওপর
ফোনটা খট করে কেটে
দিলাম।
এতোদিন মনের মধ্যে যা
দ্বিধাদ্বন্দ্ব
ছিল এখন সেটাও দূর হয়ে
গেলো। এই
বাচ্চা আমার বাচ্চা। ওকে
আমি মেরে
ফেলতে পারি না, না-না-
না। আমার
মন কিছুতেই সায় দিচ্ছে না। এই
শিশুকে
মেরে ফেলা হবে ঘোরতর
পাপ। এক
গুনাহর ভার এখনও বইছি, সন্তান-
হত্যা
করে আরেকটা জঘন্যতম
অপরাধের
ভাগীদার আমি হতে চাই না।
কিন্তু কোথায় যাবো এই শিশু
নিয়ে,
কী করবো? বাবা-মায়ের
সামনে কী
জবাব দেবো? মিতু, রাহেলা,
রোকসানা আপু, কেউই
সন্তোষজনক
কোনো সমাধান দিতে
পারলো না।
জীবনের এক একটা পর্যায় এতো
জটিল,
যার সমাধান কোনো মানুষের
কাছেই
থাকে না। রাহেলা শুধু
বললো, আপা,
দুয়া করেন। আপনি আল্লাহর
দিকে পা
বাড়াইসেন, আল্লাহ আপনাকে
কখনও
ফেলে দিবে না।
আমি শুধু দুয়াই করলাম। ফজরের
নামাজ এখন
নিয়মিত পড়ি। রাতের বেলা
ঘুমও আসতে
চায় না এখন আর, তীব্র
ব্যাকপেইন আর
মাথাব্যথা নিয়ে জেগেই
থাকা হয়।
ভোর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে
থাকে,
আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদি
আর আল্লাহর
দরবারে দুয়া চাই।
বাচ্চাটাকে
মারতে চাই না ইয়া আল্লাহ!
তুমি
আমাদের জন্য উত্তম ব্যবস্থা
করে দাও।
ঘুরেফিরে এই একই দুয়া
পাগলের মতো
চাইতে থাকি…
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now