বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
>এই শুনুন আপনি একদম কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।
-হুম আসবো না।
>আমার থেকে সব সময় দূরে দূরে থাকবেন।
-হুম থাকবো।
>আমার দিকে ভুল করেও কখনো তাকাবেন না।
-হুম তাকাবো না।
>এখন বের হন এখান থেকে।
-এতো রাতে কোথায় যাবো?আর তাছাড়া আজ আমাদের বাসর। এখন যদি বের হয়ে যাই সবাই কি ভাববে বলুন।
-ইসস এটা আগে মনে ছিলো না আপনার?আমাকে বিয়ে করতে বলছে কে আপনাকে?আপনার জন্য রোহান ভুল বুঝে আমাকে ছেড়ে চলে গেল।
>আসলে এটা তো একটা এক্সিডেন্ট।
.
এতক্ষন কথা হচ্ছিলো রাসেল আর আলিয়ার সাথে।ওদের আজই বিয়ে হয়েছে।তবে রাসেল এর সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো মিম এর।মিম বিয়ের দিন তার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে পালিয়ে যায় তাই সম্মান বাচাতে মিম এর জায়গায় বিয়ে করতে হয় আলিয়া কে।আলিয়া এ বিয়েতে কোনো মত ছিলো না দুই পরিবারের চাপে রাসেলকে বিয়ে করতে হয় আলিয়ার।আর তা দেখে আলিয়ার বয়ফ্রেন্ড রোহান আলিয়া কে যা নয় তা বলে চলে যায়।তার জন্য রাসেল এর উপর আলিয়ার এতো রাগ।
.
>এই যে মিস্টার হাবলু,আজ ঘরে জায়গা দিলাম কিন্তু খাটে নয় নিচে বিছানা করে সুয়ে পরেন।আর সাবধান যা বলছি সব যেন মাথায় থাকে।
-আচ্ছা মনে থাকবে।
.
-এই মেয়েটা এমন কেন?আমি তো কিছু করিনি। আমাকে এতো কথা শুনায় কেন? ওর বোনের জন্যই তো এমন হলো তা আমার কি দোষ।ইচ্ছে করে মেরে নাক ফাটিয়ে দেই,কিন্তু এতো মায়াবিনী চেহারার দিকে তাকালে সব ভুলে যাই।কিছু বলতেও পারিনা। তাই আমাকে হাবলুও বলে গেল।আবার বলে ওর দিকে তাকাবো না।আমার ঘরে আমাকেই ফ্লোরে সুয়াচ্ছে।কি পাজি মেয়ে।ভাবতে ভাবতে সুয়ে পরলাম।
.
>এইযে মিস্টার হাবলু উঠোন।
-কে?অহ আপনি?
>হুম আমি। ফ্রেস হবো।
-তো আমি কি করবো?ঘুম ঘুম চোখে বলছি।
>আপনি কি করবেন মানে ? ওয়াসরুম কোন দিকে দেখিয়ে দিবেন।
-একটু ঘুমাই।পরে দেখিয়ে দেই প্লিজ।
>মার চিনেন?
-(এ মেয়ে কি বলে। নতুন বউ হয়ে বরকে মারতে চায়।আবার বলে তার থেকে দূরে থাকতে)না না নতুন বউয়ের হাতে মার খাওয়ার ইচ্ছে নেই।আমি আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি।
>উফফ বউ বউ করবেন না তো।চলুন
-হুম চলুন।(বউ কে বউ ও বলা যাবে না হায় কপাল) .
-এইযে শুনুন
>এইযে মানে কি? আমার একটা নাম আছে।
-হুম, কি যেন নাম আপনার ভুলে গেছি।
>আমার নাম অনন্যা ইসলাম আলিয়া ।আপনি আমাকে আলিয়া বলেই ডাকবেন।
-আচ্ছা আলিয়া খেতে আসুন মা ডাকছে।
>আমি যাবোনা।আর খাবো ও না।
-এ মা কেন?দোষ তো আমি করেছি। খাবার তো কোনো দোষ করেনি ।
>চুপ করে এখান থেকে যান।
-না খেলে শরীর খারাপ করবে আপনার।
>তাতে আপনার সমস্যা কি?
-না মানে আপনি অসুস্থ হলে তো পরে আপনারই কষ্ট হবে আর আপনার সেবাও তো আমি করতে পারবো না বারন আছে আপনার কাছে যাওয়ার তাই বলছি।
>এতো ভাবতে হবে না আপনার। আপনি গিয়ে খান।
-ওকে যাচ্ছি।কি আর করা এতো করে বললাম কিন্তু অভিমানীটা খাবে না।আমার উপর অভিমান করে নিজে না খেয়ে থাকবে। সত্যি খুব খারাপ লাগছে এখন।বিয়া টা না করলেই ভালো হতো।
.
সারাদিন পার হয়ে গেল।এখনো অভিমানীটা না খেয়ে আছে।তাই রাতে খাবার নিয়ে রুমে গেলাম।রুমে গিয়ে দেখি ও ঘুমিয়ে পড়েছে।ঘুমপরীকে দেখে প্রেমে পরে গেলাম।কি মায়াবী লাগছে আমার অভিমানী বউটাকে।এতো মিষ্টি একটা মেয়ের কি অভিমান।ওর অভিমানটা কমাতেই হবে আমার।
.
কখনো প্রেম করা হয়নি আমার,পড়াশুনার চাপ আর তারপর ফ্যামিলি বিজনেস নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারনে প্রেমটা করা হয়নি।মায়ের পছন্দে মিমকে বিয়ে করতে রাজি ছিলাম।মিম চলে যাওয়ায় ভালোই হইছে।একটা অভিমানী বউ পেলাম।
.
>এইযে মিস্টার হাবলু কি দেখছেন এমন করে হুম(ক্লান্তি স্বরে)
-(এই মেয়ের দেখি ঘুম ভেঙ্গে গেছে, এখন কি হবে।ওর দিকে তাকানো নিষেদ। তাও তাকিয়ে আছি।)
না মানে আপনার জন্য খাবার এনেছি সারাদিন তো কিছু খাননি।
>এবার উঠে বসলো আলিয়া ।আর বললো,
আপনাকে না বলেছি আমাকে নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না।আর এখানে কেন এসেছেন? আপনাকে না দূরে দূরে থাকতে বলছি।
-এটা আমার রুম।আমি আসবো না তো কে আসবে? আর আমি তো..
>এই চুপ করুন। বেশি কথা বললে নাক ফাটিয়ে দিবো।
-আচ্ছা খেতে হবে না।কারো ভালো করাই ঠিক না।
>আপনাকে ভালো করতে বলছে কে হা।
-ভুল হয়ে গেছে মাফ চাই।(কি পাজি মেয়ে রে ভাই,একে সামলাবো কি করে আল্লাহ ই জানে)
>যান ঘুমাতে দিন।
-আমি কি আপনাকে ধরে রেখেছি নাকি।ঘুমান আপনি।
>ওকে, বলে অভিমানী টা সুয়ে পরলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now