বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি অফিসে যাচ্ছি|
- হুমম
.
- সাবধানে থাকবা|
- হুমম
.
- কোনোরকম অসুবিধা হইলে আমাকে
সাথে সাথে ফোন দিবা|
- হুমম
.
- কি ব্যাপার মন খারাপ নাকি?
- কই নাতো
.
- তাহলে শুধু হুমম হুমম করতেছো কেন?
- এমনি| আচ্ছা এখন অফিসে যাও|
সাবধানে যাবা| আর তারাতারি
বাসায় ফিরবা| ঠিক আছে?
- ওকে জানপাখি
.
এই বলে বউকে কাছে টেনে এনে ওর
কপালে আলতো করে একটা চুমু এঁকে
দিলাম| ওকেও একটা দিতে বললাম
কিন্তু দিলো না| মুখটা বাকা করে
রান্না ঘরের দিকে চলে গেলো| ওর
মন খারাপের কারনটা বুঝলাম না| এই
মেয়েটা যে এত্তো জিনিস
নিজের মধ্যে কিভাবে লুকায়
রাখে বুঝি না| আবার কারন
জিজ্ঞাসা করলেও বলে না| কি যে
করি মেয়েটাকে নিয়ে|
.
অফিসে বসে ফাইল গুলা চেক
করতেছি| কিন্তু কোনোমতেই কাজে
মন বসাতে পারতেছি না| সবকিছু
গরমিল হয়ে যাইতেছে| কাজে মন না
বসার কারনটাও আমি বুঝতে
পারতেছি, মিমের এই মন খারাপের
ব্যাপারটাই হলো কারন|
.
আচ্ছা আজ তো কোনো স্পেশাল
দিনও না, আবার মিমের বার্থডেও না, ওর
বার্থডে হলো আগামীকাল| তাহলে
ওর এরকম হয়ে থাকার কারনটা কি|
নাহ কিচ্ছু মাথায় ঢুকতেছে না|
.
আচ্ছা মীমকে তো একটা ফোন দেওয়া
যায়| এখন নিশ্চই ওর মনটা খারাপ নাই|
সিরিয়াল টিরিয়াল দেখে মন
ভালো করে ফেলছে| আমি জানি ওর
ফেবারিট একটা সিরিয়াল একটু
আগেই শেষ হয়ে গেছে| ফোনটা
হাতে নিয়ে ফোনবুকে ওর নামটা
বের করতেছি, হঠাৎ দেখি শাওনের
কল| শাওন আমার ছোটবেলার বন্ধু|
ছোটবেলা থেকেই আমরা দুইজনই
সবকিছু একে অপরকে শেয়ার করি|
.
- কিরে কি খবর?
- এইতো ভালো দোস্ত... কিন্তু
ভাবীর মন খারাপ ক্যান?
.
- মানে? তুই বুঝলি কেমনে?
- আরে একটু আগে ভাবীরে বার্থডে
উইশ করার জন্য ফোন দিলাম, উইশও
করলাম| কিন্তু ভাবী কোনো গুরুত্বই
দিলো না| আর সন্ধ্যায় বাসায়
যাওয়ার জন্য দাওয়াতও দেয়নাই| তাই
তোর কাছে ফোন দিলাম দাওয়াত
পাওয়ার জন্য| তোদের কি কোনো
ঝগড়া হইছে মামা?
.
- হা হা হা.... শালা ফকির দাওয়াত
কি কেউ কোনোদিন এইভাবে চায়
রে?? সেই ছোটবেলার শাওনই রয়ে
গেলি| একটুও পাল্টালি না তুই|
- ধুর ব্যাটা তোর সাথে আবার
কিসের ফরমালিটি রে?? আগে বল
কখন তোর বাসায় যাবো বার্থডের
দাওয়াত খাইতে?
.
- কিসের বার্থডে? আজকে তুই মীমকে
উইশ করতে গেছিস ক্যান? ওর বার্থডে
তো কালকে
- মানে? পচিশ তারিখ ওর বার্থডে
না?
.
- হ্যা পচিশ তারিখই তো ওর বার্থডে|
আজ তো চব্বিশ তারিখ|
- আরে ছাগল আজ আজকেই পচিশ
তারিখ| আর আজই ভাবীর বার্থডে|
বিশ্বাস না হইলে ক্যালেন্ডার দেখ
.
ও মাই গড... কান দিয়ে আর কোনো শব্দ
যাইতেছে না| আমিতো দুনিয়ার
ন্যাচারাল টাইম থেকে দীর্ঘ একদিন
পিছায় আছি| এইরকম ভুল আমি যে
করতে পারি বিশ্বাসই হইতেছে না|
নিজেকে মধ্যযুগের বাসিন্দা মনে
হইতেছে| এখন কি হবে?? এখন বুঝতে
পারতেছি মীম কেন এরকম করতেছে|
এখন কিভাবে ওর অভিমান
ভাঙাবো আমি....
.
কিছুক্ষন ঝিম মেরে বসে থাকলাম|
বাসায় গেলে মিমের রিঅ্যাকশন কেমন
হতে পারে তা পুরাপুরি চোখের
সামনে দেখতে পাইতেছি আমি|
তারপর কোনোমতে সিচুয়েশনটা
কন্ট্রোল করার ধাপগুলা মাথার মধ্যে
সেট করে নিলাম শাওনের সাথে
কথা বলে| ওকে বুঝতেই দেওয়া
যাবে না যে, ওর বার্থডের
ব্যাপারটা আমার মনে ছিলো না|
যেকোনো ভাবে ওকে বুঝাতে হবে
ওকে আমি সারপ্রাইজ দিতে চাইছি|
এইটা যদি সম্ভব হয় তবেই আজকের মিশন
আমার সাকসেস|
.
দিনের বাকী সময়টা একটাও কল
দিলাম না মেয়েটাকে|
তারাতারি বেরিয়ে পড়লাম অফিস
থেকে| এখনও অনেক কাজ বাকী|
এতোক্ষনে হয়তো ওর রাগের
তাপমাত্রা লক্ষের কোঠায় পৌছে
গেছে|
বাসায় গিয়ে কলিংবেল টেপার
সাথে সাথেই দরজা খুলে গেলো|
মনে হইতেছে মীম দরজার এপাশেই
আমার জন্য অপেক্ষা করতেছিল| দরজা
টা খুলে দিয়ে রান্নাঘরে চলে
গেলো আমিও গিয়ে ওকে পিছন
থেকে ও জড়িয়ে ধরলাম|
.
- কি হইছে আমার জানপাখিটার??
- কই কিছু নাতো
.
- এইযে সকাল থেকে মনমরা হয়ে
আছো| জিজ্ঞাসা করলেও কিছু
বলতেছো না
- বললাম তো কিচ্ছু হয়নাই
.
- বললাম তো কিছু হইছে
- যাও তোমার অফিস নিয়ে পরে
থাকো| আমার দিকে কোনো
খেয়াল দিতে হবে না
.
- ওওও এই জন্যেই কি আমার পাখিটা
রাগ করছে??
- কে আপনার পাখি? যান যান
আপনার সুন্দরী কলিগদের কাছে
যান..... হুহ... ওরাই তো আপনার সব|
ওদের সাথে থেকেই তো আপনি
ভুলে যান, আজ কোনো একটা
স্পেশাল ডে|
.
- আজ আবার স্পেশাল ডে?? ও হ্যা
মনে পড়ছে| আজ আমার বড় ফুফার
মৃত্যুবার্ষিকী| বাহ কি লক্ষী বউ
আমার আমাদের ফ্যামিলির সবকিছু
মনে থাকে| এরকম লক্ষী বউ ঘরে ঘরে
থাকা উচিত|
- ধুর
.
- কি হলো?
- কিছু না... যাও কথাই নাই তোমার
সাথে
- কিন্তু কেন?
- জানি না
বলেই ওখান থেকে এসে বেডরুমের
দিকে যতে থাকলো| শাওনটা
ততোক্ষনে পুরোপুরি সাজিয়ে
ফেলেছে বেডরুম| অতঃপর
ছোটখাটো আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে
মীমকে বার্থডে উইশ করা হলো|
মীমের দিকে তাকালাম ওর মুখ দিয়ে
কোনো কথা বের হচ্ছে না| হঠাৎ
করে এত্তো ভালোবাসা পেলে
যে কারও এরকম হওয়াটা স্বাভাবিক|
এটা আমার জানা আছে| কিছুক্ষন পর
পাগলিটা একদৌড়ে আমার বুকে
এসে আছড়ে পড়লো| আর বলতে
লাগলো "হেইট ইউ... হেইট ইউ... হেইট
ইউ..." আমিও আর কথা বাড়ালাম না|
বলতে থাকুক| অন্য কেউ না জানলেও
অন্তত আমিতো জানি কি পরিমান
ভালোবাসা লুকিয়ে আছে এই
কথাটার মধ্যে| আমিও দেরি না করে
পরম যত্নে ওকে আমার বুকে জড়িয়ে
নিলাম|
.
যাক শেষপর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক মতোই
হয়ে গেলো কোনো রকম ঝামেলা
ছাড়াই| ফার্স্টে ভাবছিলাম
বাসায় গেলে মীম মেয়েটা
লঙ্কাকান্ড না বাধিয়ে ছাড়বে
না| অনেক অনেক ধন্যবাদ গুরুজী
আপনাকে| আপনি যদি এই সারপ্রাইজ
জিনিসটা প্রথমে আবিস্কার না
করতেন তাহলে আমার আজ খবর
ছিলো| ওকে গুরুজী... বাসায় এসে
কেক খেয়ে যাওয়ার আমন্ত্রন রইলো|
শাওন- "মামা রোমান্স তো অনেক
হইলো... কেক কাটবি না, খিদেয় তো
পেট চো চো করতেছে"
আমি- "ধুর ব্যাটা আগে রেস্ট নিতে
দে| দেখছিস কত্তো কষ্ট করে তোর
ভাবীর অভিমান ভাঙাইলাম| তুই
পারবি এইরকম??"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now