বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিমানী বউ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X - -এত সাজছো কেন অপর্ণা? -বেড়াতে যাব। -ও আচ্ছা। -কি? -না, বেড়াতে যাবে বললে, তাই। -রেডি হও। -কেন? -কেন মানে? -তুমি বেড়াতে যাবে, এতে শুধুশুধু আমি রেডি হবো কেন? -তুমিও যাবে তাই। -কোথায়? -বেড়াতে। দেখো রাগাবে না কিন্তু একদম। -রাগোনা একটু। কতদিন তোমাকে রাগতে দেখি না। -জানি তো। -কি জানো? -এরপর বলবে রাগলে পরে তোমাকে দারুন লাগে। -মোটেও তা বলবো না। আমি বলবো রাগলে পড়ে তোমাকে লহ্মী লহ্মী লাগে। -ধূর। তা আবার হয় নাকি? রাগলে কাউকে লহ্মী লাগে না। -তাই বুঝি? তাহলে অন্য রকম লাগে। অপর্ণা তুমি অন্য রকম। - এটা বলে আমি নিজের মত কাজ করতে থাকি। এদিকে অপর্ণা আয়নার সামনে বসে চুল আচড়াচ্ছে। আয়নার সামনে বসে চুল আচড়ানোর সময় মেয়েদের কেমন কেমন লাগে। অপর্ণাকেও কেমন কেমন লাগছে। আজ আমাদের ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মাসের শুরুটা কয়েকটা দিন পেরিয়ে গেছে। মাসের শুরুটা কয়েকটা দিন পেরিয়ে গেলে মধ্যবিত্ত মানুষ গুলোর মন টন এসব ভালো থাকে না। এক থেকে পাঁচ তারিখ তারা নিজেকে রাজা ভাবে। বাকিটা মাস ফকির। আমারো এখন নিজেকে ফকির ফকির লাগছে। - -আজ না বেরোলেই হতো না অপর্ণা? -একদম না। এই যাও তো যাও, তোমার সাথে কোন কথা নেই। হারকিপটে মাল একটা। -আমি মাল? -হ্যাঁ মাল। শুধু মাল নয়, মালেশ্বর মাল। -না। -কি না? -আমি নিজেকে মধ্যবিত্ত ভাবি। তার থেকে ভাল গরীব ভাবতাম। -ওই, আবার লেকচার দেওয়া শুরু হইছে। আচ্ছা জানতে পারি কেন গরীব ভাবতা? -নিজেকে মধ্যবিত্ত থেকে গরীব ভাববার মধ্যে সুবিধা আছে। গরীবরা রাস্তা ঘাটে শুতে পারে। যা ইচ্ছা তাই খেতে পারে। যা খুশি তাই পড়তে পারে। কিন্তু মধ্যবিত্তরা সেটা পারে না। তাদের স্ট্যাটাস মেইনটেইন করে চলতে হয়। স্ট্যাটাস মেইনটেইন করতে গিয়ে তাদের নিজেকে বোকা লাগে। আমারো মাঝে মাঝে নিজেকে বোকা লাগে। -বোকা তো তুমি অবশ্যই। তার সাথে কান্ডজ্ঞান হীন। -বরকে কেউ এসব বলে অপর্ণা? -আমি বলি। তুমি যাবে কিনা তাই বলো? -কোথায় যাব? -ডেট এ। -ইস। ডেটএ যাওয়ার মানে বোঝো? -বুঝি। তবে তুমি যা ভাবছো তাই না। মেয়েরা অনেক রকম ডেটে যায়। তারমধ্যে ভাল ডেটে যাওয়াও আছে। এটা ভাল ডেট। -ঠিক আছে চলো। কই আমার জামা টামা কি আছে দাও। -ওষুধ খেয়েছো? -কি ওষুধ? -কি ওষুধ মানে? কাল রাতে না জ্বর এসেছিলো। কই দেখি একটু গা টা। - আমার গায়ে এখনো জ্বরের উত্তাপটা কমেনি। মাথাটাও একটু একটু ধরে আছে। কিন্তু এসব অপর্ণাকে বলা যাবেনা। বললে ওর মন ভেঙে যাবে। একসপ্তাহ ধরে প্ল্যান করে আছে ঘুরতে যাওয়াটা সেটা আর হবে না তাহলে। - -আরে নেই জ্বরটা। -কই দেখি -দেখার কি হলো? ও এমনিতেও আমার গা গরম থাকে। -ইস। গা যে এখনো পুড়ে যাচ্ছে। -মোটেও না। একশো এক জ্বরে কারোর গা পোড়ে না। -পোড়ে। আজ বেরোনো বন্ধ। -কেন? তা কেন হবে। এই তো বলছিলে বেড়াতে যাবে। -বলেছিলাম। তখন তোমার গায়ে হাতদিয়ে দেখিনি। -ধূর -কি হলো? -কিছু না। -কিছু না মানে। -ওই যে ডেটে যাওয়া হলো না। চলো না একটু খারাপ ডেটে যাই। -ধ্যাত, আমার বয়েই গেছে। -আবার বলোনা "ধ্যাত"... -কেন? -বলো না প্লিজ? -আরে বলবে তো কেন? এমনি এমনি বলা যায় নাকি। -তাহলে চলো ও ঘরে যাই। -ধ্যাত। অসভ্য একটা। -আহারে... -কি হলো? -হে খোদা মেয়েদের মুখ থেকে ধ্যাত শব্দটা শুনতে যে কত্ত ভাল লাগে, তুমি ওদেরকে কখনো বলো না। --- অপর্ণা হাসতে হাসতে মাএ যে শাড়ীটা পড়েছে সেটা ছেড়ে অন্য একটা পুরোনো শাড়ি পড়তে থাকে। আমি একটানা তাকিয়ে থাকি ওরদিকে। আজ এক বছর বিয়ে হয়েছে আমাদের। তবু রোজ অপর্ণাকে আমার ভীষন নতুন নতুন মনে হয়। একটু পরে ও ফোন করবে ডাক্তারকে। চিন্তিত মুখ নিয়ে জানতে চাইবে, আমার জ্বরটা এখনো কমলোনা কেন। ভুলে যাবে একটু আগে ওর ছোট্ট একটা অনুরোধ রাখতে পারিনি আমি। ভেঙে গিয়েছে ওর আমার সাথে ঘুরতে যাওয়ার দিন সাতেকের আশা। তার বদলে আমাকে নিয়ে আমার অসুস্থতা নিয়ে পরবে। মেয়েরা এরকমই কখনো তারা মা, কখনো প্রেমিকা, কখনো আবার স্ত্রী রুপে জীবনের সেরা বন্ধু। আজও চিনতে পারলাম না এই মেয়ে গুলোকে। উপরওয়ালা চিরকালই এদের কেমন রহস্যময় করে রাখে। ধরা যায় না কোনদিন. মাঝে মাঝে আমি ভাবি- গোটা পৃথিবী চালাচ্ছেন যিনি, তাঁর এত আয়োজন করে নারীকে বানানোর কি প্রয়োজন ছিলো কে জানে? কি জানি এর উত্তরটা অপর্ণারা জানে কিনা, আমি জানি না. হয়তোবা জানে না কোন পুরুষই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভিমানী স্যারের চিঠি
→ অভিমানী বউ
→ অভিমানী ভালোবাসা
→ অভিমানী ভালবাসা ২
→ অভিমানী ভালবাসা
→ অভিমানী♥মন-৮
→ অভিমানী♥মন-৬
→ অভিমানী♥মন-৫
→ অভিমানী♥মন-৪
→ অভিমানী♥মন-৩
→ অভিমানী♥মন-২
→ অভিমানী♥মন-১
→ অভিমানী
→ অভিমানী বউ (*.*)
→ অভিমানী বউ (*.*) শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now