বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নন্দিতা কে নিয়ে একটা গান লিখবো। না গান লিখতে পারবো না। আমি তো কখনও গান লিখি না। হ্যাঁ গান লিখবো না, আজ তোমাকে নিয়ে একটা ছবি আঁকবো।
.
কি ভেবেছিলে, আমি ছবি আঁকতে পারবো না? হাসালে তুমি, দেখ আমি কেমন করে তোমার ছবি আঁকি। একটু না হয় অপেক্ষা কর, ছবি আঁকা পর্যন্ত থাকো।
.
তোমার কথা বলতে হবে না, শুধু চেয়ে থাকো। কি থাকবা তো? খুব বেশি সময় নিবো না তোমার থেকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকো।
.
তুমি তো আর ফুল না যে সন্ধ্যা হতে না হতেই ঝরে যাবে। তুমিতো চাঁদেরকণা, যা সারারাত আলো ছড়াবে, আর সেই আলোতে আমি তোমার ছবি আঁকবো।
তোমার সাথে পরিচয় হয় ছবি আঁকা শিখতে গিয়ে। আমি সেদিন ছবি আঁকা শিখার জন্য আমার বাবার সাথে তোমাদের সাথেই আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম। ভর্তি হয়েছিলাম, কিন্তু কোনদিন ছবি আঁকার কাছে আমি ছিলাম না। আমি সবসময় সাদা খরগোশটার সাথে মজা করতাম। ছবি আঁকার চেয়ে খরগোশ নিয়ে খেলা করার মজাই আলাদা ছিল।
.
সপ্তায় শুক্রবার আমরা ছবি আঁকা শিখতে যেতাম, তুমিও যেতে।
তোমার সাথে কথা হতো না। একদিন তুমি আমাকে বকা দিলে, আমি কেন ছবি আঁকতে এসে খরগোশ নিয়ে খেলা করি। তখন তোমার কথায় আমার একটুও রাগ হয়নি। আমিতো তোমার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, কিছুই বলিনি। কেন যেন বলতেও পারিনি। সত্যি তোমার চোখের দৃষ্টি তখন আমাকে পাগলপারা করে দিয়েছিল।
.
কিন্তু তার কিছুদিন আগে স্যার আমাকে ছবি আঁকার জন্য বকা দিয়েছিল। আমি বাসায় গিয়ে আমার বড় আপিকে বলেছিলাম। পরবর্তী শুক্রবার আপি আমার সাথে এসে স্যারকে কতগুলো বকা দিল, তারপর থেকে তো স্যার আমাকে ছবি আঁকার জন্য আর কখনও বকা দেয় নি।
.
মাঝেমাঝে যখন ছবি আঁকার ক্লাশে যেতাম তখন তোমার পাশের বেঞ্চে বসতাম। আমি তো ছবি আঁকতাম-ই না। শুধু তোমার ছবি আঁকা দেখতাম। কি সুন্দর, কমল হাতে তুমি ছবি আঁকতে!
.
তোমার মনে আছে একবার তুমি একটা খরগোশ আর্ট করেছিলে? কি দারুণ হয়েছিল খরগোশটা তাই না!
তুমি যখন ক্লাশের বাহিরে গিয়েছিলে, তখন আমি তোমার আর্ট করা খরগোশটা চুরি করেছিলাম। তুমি অনেক কান্না করেছিলে, আমি এখনও তোমার সেই কাঁদোকাঁদো চোখগুলো দেখতে পাই।
.
তোমার ঊনিশতম জন্মদিনের সেরা গিফ্ট তো আমি দিয়েছিলাম। গিফ্টের মোড়ানো প্যাকেট যখন খুলেছিলে, তখন তোমার আঁকা খরগোশটা দেখে নিশ্চই ছোটবেলার সেই আর্ট স্কুলের কথা মনে পরেছিল।
.
আর্ট স্কুলেই তোমার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়। পরিচয়ের চারমাস পর তোমার আর খোঁজ পাইনি। তারপর সাতটা বছর তোমার আর আমার দেখা হয়নি। তোমাকে আর্ট স্কুলে না পেয়ে আমি আর স্কুলে যাই নি।
তোমাকে অনেক খুঁজেছি। তোমার সকল মেয়ে বান্ধবী থেকে তোমার খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কোথাও তোমার বিন্দু পরিমান খোঁজ পাইনি।
.
পরে জানতে পারলাম, তোমরা বাসা চেঞ্জ করে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলে।
.
সাত বছর পর তোমার সাথে আমার দেখা হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটির 'মধুর ক্যান্টিনে'। প্রথমে আমি তোমাকে চিনতে পারিনি। বাট তোমাকে দেখার পর মনে কেমন যেন ঘন্টা বেজে ওঠে।
.
ঘন্টাটা অবশ্যই পাগলা ঘন্টার মতই ছিল। জেল খানার কয়েদীরা যখন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন একটা পাগলা ঘন্টা বাজিয়ে দেয়া হয়। আমার মনে তখন ঐরকম একটা পাগলা ঘন্টা বেজেছিল। তবে পালিয়ে যাওয়ার মত কিছুই ছিল না, এটা ফিরে পাওয়ার ঘন্টা।
মধুর ক্যান্টিনে তোমার সাথে আসা রিয়া নামের মেয়েটি যখন তোমার নাম ধরে ডাক দিল, তখন আমি অবাক হয়ে যাই!
.
তার সাথে আরও বেশি অবাক হই তোমার নিচের ঠোটে থাকা সেই তিলক দেখে!
.
তুমি যখন ছবি আঁকতে তখন তোমার গালের নিচে ডান হাতটা থাকতো। কারণ তুমি বাম হাতেই আঁকতে। তোমার ডান হাতের সাথে ছোট্ট তিলকটা তোমাকে কেমন যে লাগতো আমি কাউকে বুঝাতে পারবো না!
ভার্সিটিতে তুমি আমাকে চিনতে পারোনি! আমি সবসময় তোমাকে ফলো করতাম। দেখতাম কারো সাথে প্রেম ভালোবাসায় জড়ালে কিনা বা কেউ তোমার পেছনে ঘুরতো কিনা।
.
আমি সবসময় তোমার পিছুপিছু থাকতাম। তুমি কখনও একটুও বুঝতে না। তোমার ঊনিশতম জন্মদিনে আমি বিনা দাওয়াতেই তোমাদের বাসায় গিয়েছিলাম। কেন গিয়েছিলাম নিশ্চই বুঝতে পারোনি, হ্যাঁ আমি শুধু গিফ্টা দেওয়ার জন্যে গিয়েছি। গিফ্ট দিয়ে সাথে সাথে আমি চলে আসি।
.
রাতে তুমি গিফ্টের মোড়ানো প্যাকেট খুলেছিলে, আর সাথে সাথে অবাক হয়ে যাও! সেই খরগোশ, যা তুমি আর্ট করেছিলে। খরগোশের ছবির সাথে ছোট্ট একটা কথা লিখেছিলাম। আর লিখাতে যা ছিল, "আর্ট স্কুল এবং খরগোশ পাগল ছেলেটা"।
.
সাথে সাথে তোমার চোখে সাত বছর পূর্বের খরগোশ পাগল ছেলেটার, খরগোশ নিয়ে খেলা করার দৃশ্য ভেসে ওঠে। এমনকি তাকে বকা দেওয়ার দৃশ্য ভেসে ওঠে।
তুমি সারারাত খরগোশ পাগল ছেলেটার কথা ভাবলে। ঐ রাতে তোমার একটুও চোখে ঘুম আসেনি। শেষ রাতে একটু ঘুমিয়ে সকাল সকাল ভার্সিটি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে।
.
ভার্সিটিতে এসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে আজ তোমার একটুও ভালো লাগছে না। শুধুই খরগোশ পাগল ছেলেটার কথাই মনে পরে।
হটাৎ করে তোমার পাশে একটা খরগোশ দেখতে পাও। তুমি তো অবাক! দেখা মাত্র তুমি খরগোশ টা স্পর্শ করতে চাইলে, কিন্তু ব্যর্থ হলে। তোমার ব্যর্থতা দেখে বন্ধুরা সবাই খিলখিল করে হেসে ওঠে, সাথে আমিও না হেসে পারিনি।
.
আমি খরগোশ টাকে ডাক দেওয়ার সাথে সাথে খরগোশ টা আমার কাছে চলে আসে, আমি খরগোশ টাকে ধরে তোমার হাতে দিলাম। তুমি যে কি হাসি দিলে তখন, তা কখনও ভাবতেও পারিনি। তোমার হাসিটা এতো মায়াবী ছিল যে, যা আর কারো কাছে পাইনি।
.
আমার হাত থেকে তুমি খরগোশটা কোলে নিলে, আর আমার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে রইলে! আমি তোমাকে ঐদিন কিচ্ছু বলিনি। তার কারণ তুমি আমাকে কতটা মনে রেখেছিলে তা জানার জন্য।
.
হ্যাঁ তুমি মনে রেখেছিলে আমাকে। তোমার ঠোটের কোণের নড়াচড়া দেখে আমি বুঝেছি। তুমি আমাকে কিছু বলতে চেয়েছিলে কিন্তু বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে লজ্জায় লজ্জিত হয়ে কিছুই বলনি।
.
তারপর থেকে তোমাকে ফলো করে নিজেকে লুকাতে পারতাম না। তুমি আমাকে দেখে ফেলতে। এভাবে দুইদিন তোমার সাথে লুকোচুরি করেছিলাম।
.
হটাৎ আমি দুইদিন ভার্সিটিতে যাইনি। আব্বু অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে দুইদিন হাসপাতালে ছিলাম। যার কারণে ভার্সিটিতে যাওয়া হয়নি।
.
দুইদিন পর যখন ভার্সিটিতে গেলাম তখন তুমি আমাকে দেখে অনেকটা খুশী হয়েছিলে!
সবাই ক্লাশে আসতো স্বাভাবিক ভাবেই। আমিই শুধু একটু ব্যতিক্রম ছিলাম। আমি প্রতিদিন আমার সাদা খরগোশটাকে আমার সাথে ক্লাশে নিয়ে আসতাম। একদিন তো স্যার বকা দিয়েছিল কেন প্রতিদিন খরগোশ নিয়ে আসি। পরে আমার আব্বুর কল পেয়ে আর কিছু বলেনি।
.
আমি সবসময় ক্লাশের লাস্ট বেঞ্চে বসতাম। কদিন লক্ষ করি তুমিও লাস্ট বেঞ্চে বসা শুরু করছো।
.
এই মডার্ন যুগে আমি তোমাকে একটা চিরকুট দিলাম। চিরকুটে দুইটি বাক্য লিখেছিলাম, যাতে লিখা ছিল,,,,
"খরগোশ পাগল ছেলেটা স্কুল শেষ করে ভার্সিটি পর্যন্ত যে দুইটি চোখের খোঁজ করে যাচ্ছে, অবশেষে সেই চোখের খোঁজ পেয়েছে। আর সেই চোখগুলো হয়তো তোমার! "
.
আমি চিরকুট দিয়ে সাথে সাথে ক্লাশ থেকে বের হয়ে যাই। তুমি চিরকুট পড়েছিলে আর মুচকি হাসি দিয়ে চিরকুটটা বুকে নিলে। আমি আড়ালে থেকে সব দেখি।
.
তারপর থেকে তোমার আমার একসাথে থাকা নিয়মিত লাস্ট বেঞ্চে ক্লাশ করা, ঘুরাঘুরি করা, গান গাওয়া, ছবি আঁকা ইত্যাদি সময়গুলো অসাধারণ ভাবে কেটেছিল।
.
এভাবেই চলে আসে তোমার বিশ তম জন্মদিন। জন্মদিনে আমার হাতে তোমার একটা ছবি আঁকার জন্য তুমি বলেছিলে। আমি ছবি আঁকা শুরু করেছিলাম। হটাৎ তুমি অসুস্থ হয়ে যাও। তুমি হাসপাতালে, সাথে তোমার পরিবারের সবাই।
ডাক্তার থেকে জানতে পারলাম তোমার অবস্থা গুরুতর! খুব কান্না পায় তখন। হাসপাতালে দীর্ঘ তিনদিন তিন রাত তুমি ঘুমিয়ে। আগামীকাল তোমার জন্মদিন। আজ তোমার ছবি আঁকা শুরু করি। হটাৎ তোমার ছোট বোন আমার মোবাইলে কল দিয়ে বলে তোমার অবস্থা আরও বেশি খারাপ। আমি ছবি আঁকা রেখেই তোমার কাছে ছুটে যাই
.
কিন্তু তোমাকে আর পাইনি। আমি যাওয়ার আগেই তুমি চলো যাও না ফেরার দেশে। ছবি আঁকা পর্যন্তও অপেক্ষা করনি।
.
আজ আমি পাগলের মত তোমার ছবি আঁকি। যেখানে সেখানে ছবি আঁকি। কখনও দেয়ালে, কখনও রাস্তার সাদা কালো পথে, কখনও পরে থাকা কাগজের ফাঁকে!
আর একা একা তোমার জন্মদিন পালন করি।
জন্মদিনের সরাঞ্জম গুলো দেখলে হয়তো তুমি আমার সাথে আর কথাই বলতে না। রাস্তায় পরে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত কেক কেটে নিজে নিজে হাত তালি দিয়ে তোমার জন্মদিন পালন করি।
যখন কেক পাই তখনি তোমার জন্মদিন পালন করি। হ্যাঁ আমি সুখেই আছে, আমার নন্দিতার জন্মদিন তো পালন করতে পারি তাই সুখে আছি। হয়তো এভাবেই বাকিটা সময় চলে যাবে। যতদিন বেঁচে থাকবো তোমার জন্মদিন এমন করেই পালন করে যাবো।
.
হ্যাপি বার্থডে নন্দিতা, হ্যাপি বার্থডে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now