বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিয়তি

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X . অনেক দেখতাম মানুষকে প্রেম করতে। বন্ধুদেরকেও দেখতাম প্রেম করতো। ভালোবাসা কি তখনও বুঝতাম না। . সময়টা বেশকিছুদিন আগের। সবে মাত্র ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি। অনেক হাসি-খুশি আর বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বিভোর থাকতাম। ভার্সিটির পাশে বসে রাসেল মামার টং দোকানে এক কাপ চা আর হাতে গোল্ডলিফ সুইচ হলেতো কথাই নেই। আড্ডাটা বেশ জমে উঠতো। সেদিন ভার্সিটি শেষে বাসে করে বাড়ি ফিরছিলাম। গাড়ি তার আপন গতিতে চলছে। আজকের সন্ধ্যা কেমন যেন আনমনা। সূর্যের আলো আস্তে আস্তে আধারের মাঝে লুকিয়ে যেতে লাগলো। প্রতিদিনকার মতো ভিক্ষা করা সেই অন্ধ বৃদ্ধ লোকটি আজ বাস স্ট্যান্ডে নেই। হয়তো অন্য কোথাও গিয়েছে। মাঝে মাঝে রাস্তা পার করিয়ে দিতাম লোকটিকে। এই রে আড্ডায় ব্যাস্ততার জন্য রাসেল মামাকেতো আজ বিল দিতে ভুলে গিয়েছি- ভাবতেই পাশ থেকে একটি মেয়ে কণ্ঠ ভেসে আসলো। . ~কি ভাইয়া? পুরো দুই সিট জুরে বসে আছেন কেনো? এক সিটে আপনি আর অন্য সিটে আপনার ব্যাগ। হুহ! যতসব...সরিয়ে বসুন। ~আপু ভালো করে বললেইতো পারতেন। এভাবে উত্তেজিতো হবার দরকার ছিলো???... (হাল্কা রেগে) . জিদ করে কিছু না বলেই বাস থেকে নেমে হাঁটা দিলাম। হাঁটছি আর সিগেরেট টানছি। মনে খুব রাগ। ধুর শুধু শুধু নামলাম। ঐ মেয়ের বাপের বাস নাকি?? নাহ! আমার প্রতিবাদ করার দরকার ছিলো। রিকশা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। . সপ্তাহ দু এক পরের কথা। ভার্সিটির ক্লাস শেষ করে,আড্ডা মারতে মারতে কখন যে সন্ধ্যা ৭টা বেজে গেলো বুঝতেই পারলাম না। বাবার বকার ভয়ে তাড়াতাড়ি বাসে উঠে পরলাম। বাস সামনের স্ট্যান্ড এ থামলো। ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঝড় হবে মনে হচ্ছে। বাতাস উপোভোগ করছিলাম। হঠা্‌ৎঃ . ~ভাইয়া বসতে পারি?-(একটি মেয়ের কন্ঠ ভেসে আসলো) . ~তাকিয়ে দেখলাম-একি এটাতো সেই মেয়েটা। ঐ দিনের কথা মনে পরে রাগ উঠে গেলো।অনুমতি ছাড়াই মেয়েটি বসে পরলো। আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বলতে লাগলোঃ . ~ভাইয়া আই এম সো সরি...প্লিজ রাগ করবেন না। আসলে ঐদিন নীবির স্যার ভার্সিটির ব্লাড ডোনেশন ক্লাবের কাজ নিয়ে অনেক বকা-ঝকা করেছিলেন। সো সরি...খারাপ বিহেভ এর জন্য(মেয়েটি) ~নীবির স্যার? (নামটা পরিচিতো ছিলো) ~জি। আমাদের ভার্সিটির পদার্থ-বিজ্ঞান বিভাগ এর হেড।(মেয়েটি) ~আপনার ভার্সিটির নাম কি? আর কোন ইয়ার এ পরেন। (আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম) . মেয়েটি ব্রু কুচকে উত্তর দিলো। উত্তর শুনে আমি হাসছিলাম। . ~ওমা হাসছেন যে? (ব্রুগুলো আরো কুচকে) ~আমাদের ভার্সিটির জুনিয়র মেয়ে, আমাকেই ধমক দেয়। হাসবো নাতো কি কাঁদবো??? (রসিকতা করে) ~আপনিও ঐ ভার্সিটিতে পরেন। আমার সিনিয়র,আল্লাহ!! ভাইয়া আই এম সো সরি...সো সরি। (মেয়েটি) ~আরে নাহ। ইটস্‌‌ ওকে। (আমি) ~আপনার নামটাতো জানাই হলো না। নামটা জানতে পারি(মেয়েটি) ~সাইফ। (আমি) ~ওহ। আমি মুসকান। (মেয়েটি) ~হুম, গুড। (আমি) ~বৃষ্টি হবে মনে হচ্ছে? (মুসকান) ~তাইতো দেখছি। ~সমস্যা নেই সামনের বাস স্ট্যান্ড এর কাছেই আমার বাসা। আর আমার কাছে ছাতাও আছে। (মুসকান) ~আমার আর কি? বৃষ্টি হলে ভিজে ভিজে বাড়ি যাবো। ~ভাইয়া ছাতা লাগবে? আপনি আমার ছাতা নিয়ে যেতে পারেন। কাল ভার্সিটিতে না হয় দিয়ে দিবেন? (মুসকান) ~ভার্সিটির পাশে মামার টং দোকানে থাকবো। এতো খুঁজতে পারবো না আপনাকে। ঐখান থেকে ছাতা নিয়ে যাবেন। ~ভারি অসহ্যকর লোকতো আপনি!!! (মেয়েটি ব্রু কুঁচকে বললো) . আমার তখন অসস্তি বোধ হচ্ছিলো ছাতাটা নিতে। তারপরও বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য ছাতাটা নিলাম। . পরদিনঃ রাসেল মামার টং দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। জেই মাত্র আরমানের থেকে সিগেরেট নিয়ে টান দিচ্ছিলাম, উনি এসে হাজির। এমনভাবে তাকালো যেন অনেক বড় ধরনের অপরাধ করছি। . ~আমার ছাতাটা। (মুসকান) ~এই নিন। (এগিয়ে দিয়ে বললাম) . নাকটা ফুলিয়ে চলে গেলো। আড্ডা শেষ করে বরাবর এর মতোই বাসায় গিয়ে ঘুম দিলাম। পরদিন সকালে ক্লাস করতে ভার্সিটি এসেছি। হঠাৎ কোথা থেকে এসে সামনে দাঁড়ালো। . ~আপনি সিগেরেট খান জানলে ছাতাটা দিতাম না (মুসকান) ~কেনো? সিগেরেটইতো খাই, বেশি খারাপ কিছুতো আর খাই না। ~ভালো, আপনি খেয়ে মারা গেলে আমার কি? বাই দা ওয়ে আমাকে ধন্যবাদও জানালেন না। (মুসকান) ~বলার সময়তো দিবেন......ধন্যবাদ ~হাহ! যান যান,এভাবে হবে না আমাকে ফুচকা খাওয়াতে হবে (মুসকান) . যেমন কথা তেমন কাজ। মেয়েটি পেটুকও বটে। ভালোই ফুচকা খেতে পারে। আস্তে আস্তে আমাদের মাঝে বন্ধুত্ত সুলভ সম্পর্ক গড়ে উঠে। মেয়েটি খুব চঞ্চল। মাঝে মাঝে আমাদের ফোনে কথা হতো। মেয়েটির ব্রু কুঁচকানো আর মায়াবি চোখগুলো ভালোই লাগতো। আর যখন আওায়াজ করে হাসতো তখন আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যেতো। পরীক্ষার কারনে বেশ কয়েকদিন কথা বলা বন্ধ ছিলো। তখন কেমন যেন অস্থির অস্থির লাগতো। বুঝতে পেরেছিলাম তার প্রতি দূর্বল হয়ে পরেছি। ঠিক নয়দিন পর ফোন দিয়ে বললোঃ ~সাইফ ভাইয়া...অনেকদিন ফুচকা খাওয়ান না...খাওয়াবেন? . তার দেয়া সময় অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হলাম। মেয়েটি সবসময় ডান হাতে কালো সুতা বেঁধে রাখতো। সাদা হাতে ভারী মানাতো। ওর ফুচকা খাওয়া দেখতে খুব ভালো লাগতো। ইচ্ছে করতো নিজ হাতে খাইয়ে দেই। এখনও মনে পরে আমরা যখন প্রথম রিকশায় উঠেছিলাম আমি লজ্জা পাচ্ছিলাম দেখে খুব জোরে জোরে হাসছিলো। কি দারুনই না তার হাসিটা। যেনো সব মায়া তার হাসিতেই আছে। ওকে কারনে অকারনে হাসানোর চেষ্ঠা করতাম। বেশিদিন আর মনের কথাটা লুকিয়ে রাখতে দিলো না শয়তান বন্ধু শুভ। মুসকানকে গিয়ে সব বলে দেয়। আমি তখনও জানতাম না। একদিন মুসকান আমাকে ফোন দিয়ে বললোঃ . ~সাইফ ভাইয়া, দেখা করবেন? একটু কাজ ছিলো। . যথাসময়ে পৌছালাম। ও আমার মুখোমুখি বসে ছিলো। খুব ইতস্তত বোধ করছিলাম বলে সিগেরেট ধরালাম। হঠাৎ করে মেয়েটি আমার সিগেরেট টান দিয়ে নিয়ে নিলো। সিগেরেট এর আগুন তার হাতে লাগা মাত্রই নরম হাতে ফোশকা পরে গেলো। আমি সাথে সাথে ওর হাত ধরে বললামঃ . ~কই দেখি কোথায় লেগেছে? ~আমার হাত পুড়লে আপনার কি? ~আমি সিগেরেট খেলে আপনার কি? ~আপনি এতো খারাপ কেনো? শুভ ভাইয়া আমাকে সব বলেছে। ভালোবাসেন বললে কি হয়? ~ভয় করে , তাই। (নিচু স্বরে) ~আপনি এতোদিনেও বুঝেন নাই? আপনাকে ভালোবেসেছিলাম ঐ দিন থেকে যেদিন দেখলাম অন্ধ বৃদ্ধ লোকটিকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করেছিলেন। খুব ভালো লেগেছিলো দেখে। তারপর ঐ দিন যখন বাসে আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করলাম আপনি চুপ করে চলে গিয়েছিলেন। আপনার পারসোনালিটি, ব্যবহার আমাকে আপনার প্রতি দুর্বল করে দিয়েছে। আপনি সবসময় আমাকে হাসাতেন। খুব ভালো লাগতো যখন আপনার সাথে সময় কঁটাতাম। ~ও আচ্ছা। ~ও আচ্ছা !!! মানে ? এক্ষণই আমাকে জড়িয়ে ধরে আই লাভ ইউ বলুন... (অভিমান করে) ~জড়িয়ে ধরতে পারবো না। (মাথা নিচু করে) ~তবে ওটা ছাড়াই বলুন। (অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে) ~আই লাভ ইউ। ~সত্যিতো?? (অনেকক্ষণ চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে) ~হুম। আমি মাথা নাড়ালাম। আজকে থেকে আপনি আপনি বলা বাদ। . অনেক ভালো চলছিলো আমাদের সম্পর্কটা। অনেক খুঁনসূটি আর মায়া দিয়ে পরিপূর্ণ ছিলো আমাদের ভালোবাসা। আমাকে সিগেরেট থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়েছিলো। আমাদের সম্পর্কটাতে ভালোবাসাঁর কোন কমতি ছিলো না। মাঝে মাঝে শুভকে ফোন দিয়ে একশ বার থ্যাংকস দিতাম। ভালোই ছিলাম আমরা। দেখতে দেখতে তিন বছর হয়ে গেলো আমাদের সম্পর্কের। মুসকান সবসময় আমাকে বলতোঃ . ~জান, আমাদের বাসাটা অনেক সুন্দর হবে। মায়া আর ভালোবাসা দিয়ে পরিপূর্ণ থাকবে। তুমি আমাকে বুকে নিয়ে ঘুমাবে। আমার চুল বেঁধে দিবে। একসাথে বৃষ্টিতে ভিজবো...তুমি দেখো অনেক সুন্দর হবে আমাদের সংসার। . ~ভাবতে ভাবতে সিগেরেট শেষ হয়ে আগুন হাতে লাগা মাত্রই চমকে গেলাম। চোখের কোণায় পানি জমেছে। স্মৃতির জগত থেকে ফিরে আসলাম। আজ তিন বছর আগের মতই মুসকান আমাকে ডেকেছে। ও নাকি ওর বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। আমাকে দেখতে চায়, তাই আমাদের সেই পছন্দের জায়গাটিতে আসতে বলেছিলো। তাকে বারণ করে বললামঃ . ~তুমি বারান্দায় এসো-আমি নিচেই থাকবো। . সাড়ে পাঁচটায় তার বাসার সামনে দাঁড়ালাম। আজ সেই দিনের মতোই ঠান্ডা বাতাস বইছে। মুসকান আমার পছন্দের নীল শাড়ীটি পড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে। আকাশ থেকে কালো মেঘের বুক চিঁড়ে বৃষ্টি পড়ছে। পুরোপুরি ভিজে গেলাম। আমি অপলক দৃষ্টিতে আমার সেই মুসকানের মায়া ভরা মুখটার দিকে চেয়ে আছি। হঠাৎ তার পেটের উপর কারো হাত আবিষ্কার করলাম। মুসকানের গালে চুমু খাচ্ছে সেই হাতের মালিক। বুঝতে বাকি রইলো না এটা তার স্বামী। আমি স্পষ্ট দেখতে পারছিলাম আমার মুসকানের চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। আমার অশ্রুগুলো আমার চোখে আর ঠাঁই পেলো না। বৃষ্টির কারনে আমার চোখের পানিগুলো ঢেকে গিয়েছে। মুসকান হয়তো বুঝতে পারে নি আমি কাঁদছি। . মা-বাবার ইচ্ছাতেই বিয়ে করে মুসকান। আর বিয়ে করবেই না কেনো, ছেলে অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার। বেকারত্বের কাছে নিজ হাতে বলি দিয়েছি আমি আমার ভালোবাসাকে। পাগলের মতো কেঁদেছিলাম। ওর মায়াভরা চোখ, নরম গাল, ওর আওয়াজ করা হাসির অধিকারগুলো যখন অন্য কারো হচ্ছিলো তখন নিজেকে আর সামলাতে পারি নি। আমার কান্না দেখে শুভ বার বার নিজেকে দোষ দিচ্ছিলো। আসলে দোষ ছিলো নিয়তির। নিজের জীবণের থেকে বেশি ভালোবাসতাম মুসকানকে। চিৎকার দিয়ে কেঁদেছিলাম যেদিন মুসকান ফোন করে বলেছিলোঃ . ~সাইফ আমাদের স্বপ্নগুলো আর পুরোন হলো না। (অনেক কেঁদে কেঁদে) . বেশিক্ষণ তার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকি নি। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে বাড়ি ফিরছিলাম। কানে একটাই কথা আসছিলোঃ “ভাইয়া ছাতা লাগবে?” আজ মুসকান অন্য কারো। এখন সে অন্যের বুকে মাথা রেখে ঘুমায়...যাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনতাম আজ সে অন্য কারো স্বপ্ন বুনছে। অনেক ভালোবাসিরে পাগলী। . --সুখে থাক, ভালো থাক আমার ভালোবাসা.....এটাই প্রার্থনা। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♦নিয়তির বদলা♦
→ নিয়তির প্রেম [দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব]
→ নিয়তির প্রেম [প্রথম পর্ব]
→ নিয়তি (পর্ব-৩)
→ নিয়তি
→ নিয়তি (পর্ব-২)
→ নিয়তি (পর্ব-১)
→ "নিয়তি"
→ নিয়তির মিলন
→ নিয়তি
→ নিয়তি
→ নিয়তির লিখন
→ নিয়তি
→ নিয়তি
→ নিয়তির_খেলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now