বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীরবে নিভৃতে যুগ যুগ ধরে . .

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X আল্লাহর দোহাই লাগে আমারে আর মাইরেন না ! আপনার দুইটা পায়ে পড়ি আমারে একটু দয়া করেন ! ও আল্লাহ রে . . . চুপ কর হারমজাদী ! আর কত ? তোরে বিয়া কইরাই আমি ভুল করছি । তোর বাপ যে এত বড় চিটার কে জানত ! . খবরদার ! আমার বাপেরে নিয়া কিছু কইবেন না ! ভাল হইবোনা কইলাম ! . হায় হায় ! . . . . বাচ্চার দেখি এখনো তেজ কমে নাই ! আজইকা তোরে আমি . . . ও বাবাগো . . ও মাগো . . . মার ! . . বাচ্চারে আরো মার । . . বাচ্চার চৌদ্দগুষ্টির কপালে ঝাড়ু মারি । আমার সহজ সরল পোলাটারে এমনি কইরা ঠকাইল ! আমার এত সুন্দর পোলারে এই কালিটা গছাই দিল ! কতা আছিল চল্লিশ হাজার দিবো ! পুরা টেকা না আইনতি পাইল্লে আইজ থেইকা তোর ভাত বন্ধ . . বাচ্চা ! তোর বাপ আস্ত একটা শয়তান ! কি লম্বা লম্বা দাড়ি রাখছেরে . . কি আমার মাওলানারে . . ভন্ড মাওলানারে আমি . . . এসব কি কন আম্মা ! আমার ছোট ভাইটা আজ একমাস ধরে বিছানায় ! ও যদি হঠাত্ অসুস্থ না হইত বাবা আপনাদের সব টাকা দিয়ে দিত সময় মত । . কি ! তুই আমারে টেকার গরম দেখাস ! হুনছস রে রইসউদ্দী . . তোর বউ আমারে . . . . . বাচ্চা ! . . বাচ্চা ! তোর এত বড় সাহস ! আমার মায়ের মুখের উপর কথা কস ! মগুরটা কই গেল রে . . আজইকা তোরে আমি . . . . . আয়েশার শরীরের অবস্থা খুব একটা ভাল না । ডাক্তার দেখানো দরকার । শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কালো রক্ত ঝমাট বেঁধে আছে । কিন্তু ডাক্তার তো দুরের কথা , শাশুড়ি ওকে রাতে খেতেই দেয়নি ! ! . বিয়ে হয়েছে মাত্র আট মাস । এমন কোন দিন নাই , রইসউদ্দী আয়েশার গায়ে হাত তুলেনি । আয়েশার অপরাধ একটাই , তার বাবা প্রতিশ্রুত যৌতুক দিতে পারেনি । . গভীর রাত । সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন । বিয়ের পর থেকে একটা রাতও ঠিক মত ঘুমাতে পারেনি আয়েশা । আজ খুব করে ইচ্ছে করছে লম্বা একটা ঘুম দিতে । খাটের তলায় বড় একটা দড়ি আছে । আর জানালার পাশের ঐ যে আম গাছটা . . আম গাছটা যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে আয়েশাকে । আয়েশা আজ কিছুতেই নিজেকে ফেরাতে পারছে না । চুপি চুপি খাটের নিচ থেকে রশিটা বের করে নেয় । নিজের মধ্যে এক ধরনের মুক্তির স্বাদ পেতে থাকে আয়েশা । এইতো আর একটু , তারপরই চির শান্তির ঘুম . . তারপরই স্বাধীনতা . . তারপরই মুক্তি . . . গাছের সাথে দড়ি ঝুলানো হয়ে গেছে । এখন আর কোন ভয় নেই । আয়েশা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে জীবনের ওপারের রাস্তায় । শেষবারের মত মা- বাবাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে । ছোট ভাইটা একমাস ধরে জন্ডিসে ভুগছে । ভাইটার মলিন চেহারা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে । . আয়েশা ঢুকরে ঢুকরে কাঁদছে । দুরের ঐ চাঁদটাও বুঝি কাঁদছে আয়েশার মত । তাইতো বারবার মেঘের আড়ালে মুখ লুকাচ্ছে । যাবার বেলায় চাঁদটাকে দু- চোখ ভরে দেখে নিচ্ছে আয়েশা । ঐ চাঁদের সাথে যে তার গভীর সখ্যতা । ছোট্ট জানালাটা দিয়ে প্রতি রাতে ঐ চাঁদটার সাথে কত কথা বলত । সুখের কথা . . দুখের কথা . . পাথর চাপা কষ্টের কথা . . বোবা কান্নার বোবা কথা . . . আয়েশার হাত দুটো কাঁপছে । মোড়ায় দাঁড়িয়ে যেইনা মুক্তির মালাটা গলায় পরবে , অমনি একটা মৃদু কন্ঠস্বর ভেসে এল . . . মা . . ! ও মা . . ! তুমি কি আমাকে মেরে ফেলবে এখন ? ? . আয়েশা নিজের অজান্তেই চিত্কার দিয়ে মোড়া থেকে সরে যায় । কি করছি ! এ আমি কি করছি ! হায় খোদা ! আমি নিজেকে মারতে গিয়ে নিজের সন্তানকেই মেরে ফেলছি ! . না , আজও পারলো না । এ নিয়ে গত একমাসে বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে আয়েশা । প্রতিবারই শেষ মুহুর্তে এসে তার অনাগত সন্তানের কথা মনে পড়ে । নিজের মায়া হয়ত ত্যাগ করা যায় । কিন্তু সাতটি মাস ধরে নিজের ভেতর যে প্রানটাকে সে আগলে রেখেছে , তার মায়া কি করে ত্যাগ করবে আয়েশা । . রাত প্রায় শেষের দিকে । চারদিকে এখনো কি অদ্ভুত মায়াবী সাদা জোছনা । পুকুর পাড়ের জোনাকিগুলোর যেন ক্লান্তি নেই এতটুকু । খালি জ্বলছে আর নিভছে । মাঝে মাঝে আয়েশার জোনাকি হতে ইচ্ছে করে খুব . . . . দিনের বেলায় বাবলা গাছের পাতার নিচে লুকিয়ে থাকবে । আর রাতে দখিনের নরম বাতাসে ডানা মেলে জোছনায় লুটোপুটি খাবে । কেউ তাকে খুঁজে পাবেনা . . কেউ তাকে মারতে পারবে না . . কেউ তাকে "কালি" বলতে পারবে না . . তার মা- বাবাকে গালি দিতে পারবে না . . . . । . আসসালাতু খাইরুম মিনান্নাউম . . . . পূবের আকাশটা লাল হয়ে উঠেছে । দুর থেকে ভেসে আসছে ফজরের আযান । একটু পর ই ভোর হবে । সাদা বকের দল ইতিমধ্যে বাসা ছাড়তে শুরু করেছে । গন্তব্য তাদের দুরের জলা . .। লাল আকাশে সাদা বকগুলোকে দেখে খুব কান্না পাচ্ছে আয়েশার । এই মুহুর্তে আয়েশারও সাদা বক হতে ইচ্ছে করছে । ভোরের শীতল বাতাসে ডানা মেলতে ইচ্ছা করছে । বুক ভরে নিশ্বাস নিতে ইচ্ছে করছে . . আয়েশা জানে , কিছুক্ষন পরই ভোর হবে । মুখোমুখি হতে হবে আরেকটি নতুন সূর্যের , নতুন দিনের । আর নতুন দিন মানেই কিছু কুত্সিত মানুষের সেই পুরনো চেহারা । আগের চেয়ে আরও বেশী কুত্সিত , আরো বেশী ভয়ংকর । তাই আরেকটি অপ্রত্যাশিত ভোরের সামনে দাঁড়িয়ে আয়েশা . . . . . আসলেই কি কখনো ভোর আসবে আয়েশার জীবনে ? . সূর্য উঠলেই কি ভোর হয় ? ?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নীরবে নিভৃতে যুগ যুগ ধরে . .

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now