বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নীল পর্ব ১

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নীল আসিফ মেহদী ********************************* এক. মানুষ তৃপ্তিসহ ঢেঁকুর তোলে। দবির তৃপ্তিসহ আড়মোড় ভাঙছে। এটি তার ঘুম ভাঙার প্রথম ধাপ। দবিরের ঘুম ভাঙে তিন ধাপে! দ্বিতীয় অর্থাৎ সেমিফাইনাল ধাপে সে বউয়ের কাছে আহ্লাদ করে এক কাপ চা চায়। আহ্লাদপর্ব চলে বেশ কিছুক্ষণ। এরপর ফাইনাল স্টেজে সেই চা পান করে তার ঘুমমুক্ত দিনের শুভ উদ্বোধন ঘটে! দবির বউয়ের ঘুম ভাঙানোর জন্য আবৃত্তি করছে, ‘ভোর হলো, দোর খোলো, খুকুমণি ওঠো রে।’ তার স্ত্রীর সত্যিকার নামই খুকু। খুকুর অন্য দুই ভাই-বোনের নাম: বাবু ও বেবী! আরও ভাইবোন থাকলে, হয়তো নাম হতো গ্যাঁদা-ছানা-পোনা জাতীয় কিছু। বউকে তার নাম নিয়ে দবির ক্ষ্যাপায়; আবার সোহাগও করে। সাতসকালে ঘুম থেকে উঠতে খুকুর খুব বিরক্ত লাগে। কিন্তু তার স্বামী এই পরিবার চালানোর জন্য সারাটা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে - এসব ভেবে খুকু চা তৈরি করতে যায়। এই চা দবিরের কাছে অমৃত! বড়লোকদের থাকে ‘বেড-টি’ এর অভ্যাস। দবিরের তো তেমন বেড বা খাট-ই নেই; আছে একটি চৌকি। তাই সে সকালের চায়ের নাম দিয়েছে ‘চৌকি-টি’। খুকু ‘চৌকি-টি’ বানাতে ঘুম-ঘুম চোখে উঠে বসল। দবিরের চোখ পানিতে ভরে গেল। আনন্দিত হলেই তার চোখ পানিতে ভরে যায়; অথচ হাজার দুঃখেও তার চোখে পানি আসে না। মানুষের চোখের পানি মহামূল্যবান; অনভ্যস্ত অনুভূতিতেই কেবল পূর্ণরূপে ধরা দেয়। ঘুম ভেঙে উঠতে বউয়ের যে কষ্ট হচ্ছে, দবির তা বোঝে। কিন্তু স্বামীর জন্য তার এই মমতা, দবিরের হৃদয়ে খুকুর জন্য ভালোবাসার প্লাবন বইয়ে দেয়। ঘরের দরজা-জানালা সব বন্ধ। খুকু দরজা খুলে বাইরে গেল। কিন্তু প্রায় তক্ষুনি হুড়মুড় করে আবার ঘরের ভেতরে এসে ঢুকল। খুকুর চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ! দবির হাঁ হয়ে গেল। কী হয়েছে, বুঝতে পারছে না। বলল, ‘কী হইছে খুকুমণি?! মনে হইতাছে, বাইরে আকাশ ভাইঙ্গা পড়ছে!’ খুকুর মুখে কোনো কথা নেই! দবির হকচকিয়ে গেল। ঝট করে চৌকি থেকে নেমে বউকে পাশ কাটিয়ে দরজার বাইরে গেল। আকাশ ভেঙ্গে পড়েনি; কিন্তু এ কী অবস্থা আকাশের! এ কী অবস্থা চারপাশের! মানুষ প্রথম আগুনের দেখা পেয়ে যেভাবে চমকে গিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই চমকে স্ট্যাচু হয়ে গেছে রাজমিস্ত্রী দবির! দুই. সুয্যিমামা জাগার আগে সালমান জেগে ওঠে। অনেক সময় প্রকৃতির অ্যালার্ম ক্লক ‘কক’ অর্থাৎ ‘মোরগ’-এর ডাকাডাকির আগেই তার ঘুম ভেঙে যায়। ফ্রেশ হয়ে খাতা-কলম নিয়ে সূর্য ওঠার অপেক্ষায় সে বসে থাকে। একদিকে সূর্য ধীরে ধীরে নিজেকে নিয়ে হাজির হয়; অন্যদিকে সালমানের হৃদয়েও কবিভাব উদিত হয়! আবার সমস্ত দিনের শেষে পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে অর্থাৎ সূর্য অস্ত গেলে, সালমানের কবিভাবও অস্ত যায়! সূর্যাস্তের পর কবি হয়ে ওঠে পাঠক। সালমান তার কাব্যচর্চার প্রসেসকে এভাবেই মন-মগজে সেঁটে নিয়েছে। আজ ঘুম থেকে উঠেই সালমানের মনে হচ্ছিল, প্রকট কিছু একটার প্রচণ্ড অভাব যেন চারপাশে! কিন্তু কী তা, সে ধরতে পারছিল না। সূর্য ওঠার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ-ই যেন সে বুঝতে পারল! কবিতার লাইন আসতে থাকল তার হৃদয়ে ‘নীল আকাশ লোকান্তরে, নীল বেদনা এই অন্তরে!’ শুধু যে আকাশ থেকে নীল উধাও, তা নয়! তার হাতের নীল খাতা আর নীল নেই! নীল কলমের কালিও নীল নেই! সালমান কল করল দেওয়ানকে। দেওয়ান তার বন্ধু; বিজ্ঞানী মানুষ। একজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে কবির প্রকৃত বন্ধুত্ব কি আদৌ সম্ভব - এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাদের বারবার। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর সঙ্গে ছিল বিশ্বকবির বন্ধুত্ব। বিজ্ঞানী আইনস্টাইনেরও বন্ধু ছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সম্পূর্ণ দুই ভুবনের ভিন্ন ধাঁচের পরিপার্শ্বের মধ্যে কাজ করা মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব সম্ভব - অন্তত ইতিহাস তো তা-ই বলে। কথায় আছে, ‘বার্ডস অব দ্য সেইম ফেদার ফ্লক টুগেদার’। কিন্তু সালমানের মনে হয়, প্রতিটি পাকা বন্ধুত্বে একজনকে হতে হয় উদার! কারণ দুজন স্বার্থপর মানুষের বন্ধুত্ব টিকে না। আবার দুজন উদার মানুষের মধ্যে অগোছালো সম্পর্ক হতে পারে; গোছানো বন্ধুত্ব সম্ভব একজন স্বার্থপর এবং একজন নিঃস্বার্থ মানুষের মধ্যেই। সালমান নিজেকে স্বার্থপর ভাবে। আর দেওয়ান স্বার্থজ্ঞানহীন মানুষ; বোঝে শুধু গবেষণা। দেওয়ান সালমানের কল ধরে বলল, ‘বন্ধু, একটি ব্যাপার নিয়ে আমি মহাব্যস্ত। খুব জরুরী কিছু না হলে পরে কথা বলব।’ ‘না বন্ধু, পরে কথা বললে চলবে না। এটি শুধু খুব নয়; খুবতর, খুবত্তম জরুরী বিষয় বলতে পার।’ ‘তাহলে বলে ফেলো।’ ‘আজকে আকাশের অবস্থা দেখেছ?’ ‘সেটা নিয়েই তো কাজ করছি। শুধু আকাশের অবস্থা না দোস্ত, নদী-নালা-খাল-বিল-সমুদ্রের অবস্থা দেখলেও তুমি হাঁ হয়ে যাবে! কোথাও কোনো নীল নেই!’ ‘সত্যিই অদ্ভুত! আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমার বাসায় আসছি।’ এটুকু বলে দেওয়ানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সালমান কল কেটে দিল। চলবে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্ক্রিনের ওপারে নীল আকাশ
→ নীল সীমার শেষ আলো
→ নীল রক্ত
→ নীল_তিমির: ১ম পর্ব
→ নীল বরণ ছেলেটি
→ নীলদ্বীপ (পর্ব৭)
→ নীল দ্বীপ (পর্ব ৬)
→ নীল দ্বীপ (পর্ব ৫)
→ নীল দ্বীপ (পর্ব ৪)
→ নীল দ্বীপ (পর্ব ২)
→ নীল দ্বীপ (পর্ব ৩)
→ নীল দ্বীপ(পর্ব১)
→ হৃদয়ের নীলপরী (শেষ পর্ব)
→ হৃদয়ের নীলপরী ১৯
→ হৃদয়ের নীলপরী ১৮

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now