বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার বিয়ে হয় ভাদ্র মাসের সাত তারিখে। সারাটা দিন সে কি কাঠ ফাঁটা রোদ। বিকেলের দিকে শুরু হল আবার বৃষ্টি । যেন তেন বৃষ্টি না একেবারে শিল পড়া বৃষ্টি ।
ছোট থাকতে আকাশ কালো হলেই শুরু হতো আমার অপেক্ষা কখন কাঁদবে আকাশ,কখন পাবো আকাশের সেই মন খারাপ করা মালাই বরফ! পাশের বাসার রঞ্জু আর আমি বিশাল এক থালা নিয়ে নেমে পরতাম শিল কুড়াতে। রঞ্জু চিৎকার করে বলতো "নীলাপ্পু এদিকে দেখে যাও কত্ত বড় বরফ!" দুইজন মিলে সেই বরফ সারা গায়ে মাখতাম। দাদী কটমট করে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকতো। দাদীর অগ্নিদৃষ্টি অগ্রাহ্য করার মতো সাহস আমার শুধু এই বৃষ্টির দিনেই হত।
সেই আমি আজ ভয়ে কুঁকড়ে আছি। আজ যে আমার বিয়ে। শিল পড়া রাতে নাকি কোন কাজই শুভ হয় না।
শুভ-অশুভ, শুচি-অশুচির কখনো কোন ধার ধারে নি আমার বাবা। সবাই বলে আমি নাকি আমার বাবার মত হয়েছি। আমিও এত দিন এটাই বিশ্বাস করতাম কিন্তু যখন আমি আমার শরীরের নিচের অংশে তাকাই,বাম পা টা ছাড়া ডান পা টাকে বড্ড অসহায় মনে হয়। ডান পা টার মতো আমার চিন্তা চেতনাও ধীরে ধীরে অসহায় হতে শুরু করে। নিজেকে কুলক্ষুণে ভাবা সেই যে আমার প্রথম। তিন তিনটে বিয়ে ভাঙা মেয়ে আর যাই হোক শুভ যে হতে পারে না তা আমার থেকে কে ভাল বলতে পারবে!
হয়ত উপরে একজন আছেন এটা প্রমান করার জন্যই আমাকে ছেলে পক্ষ কেন জানি পছন্দ করে ফেলে। আমিও বিয়ে ভাঙার প্রহর গুনতে শুরু করে দেই ঠিক সেদিন থেকেই। নাহ্ অনেক ধুমধাম করেই আমার বিয়ে হয়। শিল পড়া রাতেই আমার বিয়ে হয়। এই পৃথিবীর সেরা সুখী মানুষ এর মাঝে নিজেকে রাখতে মন বলে সেদিন।
একটা ছেলে কেমন করে এতটা সুন্দর হয়! আমার ঘোমটা টা আস্তে করে নামিয়ে আমাকে দেখে ছেলেটা, ভুল বললাম, আমিই অপলক চোখে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে থাকি। একটুও ভয় ছিল না,একটুও লজ্জা ছিল না আমার চোখে মুখে। বাইরে তখন বৃষ্টি, ভেতরে তখন কথার ফুল ফুটছে। একটা মানুষ কেমন করে এত্ত গুছিয়ে কথা বলে? কেমন করে পারে? সেই প্রথম কোন ছেলেকে আমার হিংসে করা। চশমার আড়ালে মানুষটার ঢেকে থাকা চোখ দুটিকে ছুঁয়ে দেখতে মন চেয়েছে হাজার বার, লক্ষ বার। পারি নি। সুন্দর দূর থেকেই দেখতে হয়। আমি মন্ত্র মুগ্ধের মত শুনে যাই সেই মানুষটার কথা। সারাটা রাত আমাকে একটু পর পর চোখ লুকাতে হয়, চোখ যে তখন বৃষ্টি ঝরার অপেক্ষায়।
কখন যে দিনের আলো জানালার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকলো তার হিসেব আমাদের কাছে ছিল না।
ভাদ্রের দশ তারিখ।
সেদিন সারাটাবেলা গনগনে সূর্য ছিল ঠিক মাথার উপর। আমার বিয়ের ঠিক তিন দিনের মাথায় ভাদ্র মাসের দশ তারিখে আমার স্বামী মারা যায়। ঘুটঘুটে অন্দ্ধকার রাতে এমন ভয়ানক ও অদ্ভুত একটা ঘটনা যে ঘটবে আমি তা ভাবতেও পারি নি।
(১ম পর্ব সমাপ্ত। চলবে.........)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now