বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নীল ইন্টার ফাস্ট য়ারে পড়ে ঢাকার মোটামুটি একটা
নামকরা ভাল কলেজে।কলেজ শুরু হয়েছে তিন মাস
যাবত।মোটামুটি ভাল ছাত্র হওয়ায় তার বাবা মা তাকে ঢাকা
পাঠিয়ে দিয়েছে।তার ফ্যামিলির অর্থনৈতিক অবস্থা
তেমন ভালো না।তাই সবসময় প্রেম ভালোবাসা আর
মেয়েদের থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করে।
আর অন্যদিকে নীলা বড়লোক বাবার একমাত্র
মেয়ে,দেখতেও বেশ সুন্দরী হওয়ায় এই তিন
মাসেই অনেক ছেলের ক্রাশ হয়ে গেছে।
নীল বাদে প্রায় সব ছেলেরাই ঘুরে নীলার
পিছনে।কিন্তু নীলা কাউকে তেমন পাত্তা দেয়না।
ছেলেদের পিছনে পিছনে ঘুরিয়ে বেশ মজা পায়
সে।তবে সে কিছুদিন যাবত খেয়াল করছে যে
সব ছেলেরা তার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে
থাকলেও নীল ভুলেও তার দিকে তাকায় না এমনকি
অন্য কোনো মেয়েদের দিকেও না।এতে
বেশ অবাকই হয়েছে নীলা।কারণ নীল দেখতে
বেশ হ্যান্ডসাম আর স্মার্ট।আর দেখতে এতটা কিউট
যে সে চাইলে যেকোনো মেয়েকে
পটাতে পারবে।নীলার দিকে তাকায় না বলে
নীলের উপর খুব রাগ হয় নীলার।সে সারাক্ষণ শুধু
ভাবে যে আমি এত সুন্দরি হওয়া সত্ত্বেও নীল
আমার দিকে তাকায় না কেন।সারাক্ষণ নীলের কথা
ভাবতে ভাবতে এখন নীলকে দেখলেই অদ্ভুদ
ভালোলাগা কাজ করে নীলার।ক্লাসে সারাক্ষণ
তাকিয়ে থাকে নীলের দিকে।নীলা বুঝতে
পেরেছে যে সে নীলকে ভালোবেসে
ফেলেছে।নীলা ভাবছে কি করা যায়।হঠাত তার মাথায়
একটা বুদ্ধি আসল।নীল কলেজে আসার সময়
নীলা ইচ্ছা করে নীলকে ধাক্কা দিল।তারপর:
নীলা:দেখে চলতে পারেন না?নাকি মেয়ে
দেখলে চোখ উড়ে বাসায় চলে যায়?
নীল:সরি।।আমি ইচ্ছা করে ধাক্কা দিইনি(বলেই হনহন
করে চলে গেল নীল )
অবাক দৃষ্টিতে হতবিহ্বশ হয়ে নীলের দিকে
তাকিয়ে রইল।ধাক্কা দিল সে আর সরি বলল নীল!!
যাইহোক নীলা ঠিকই বুঝতে পারল যে এভাবে
কোনো লাভ হবেনা।তাই সে সিদ্ধান্ত নিল
নীলের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করবে।তবে মনে
হয়না নীল রাজি হবে।তাই ভেবে রাখল রাজি না হলে
সরাসরি প্রপোজ করবে নীলকে ।তাই পরেরদিন
সেজেগুজে কলেজে গেল নীলা।নীল
আসতেই তাকে ডাক দিল নীলা।।
নীলা:এইযে...একটু শুনবেন...
নীল:জ্বি.আমি?
-হুম।আসলে কালকের জন্য সরি।আমি নিজেই
আসলে আপনাকে ইচ্ছা করে ধাক্কা দিয়েছিলাম।
-ইটস ওকে।তাহলে আমি আসি।
-আরেকটু দাড়ান।একটা কথা ছিল।
-তাড়াতাড়ি বলেন।আমার ক্লাস আছে।
-আমাদের দুজনের নামের মধ্যে কিন্তু মিল
আছে।আপনার নীল আর আমার নীলা।
-তো?
-আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করবেন??
-সরি।
-আমি জানতাম আপনি রাজি হবেন না।যাইহোক আমি
আসলে আপনাকে ভালোবাসি..I Love You..
নীল কিছু না বলেই চলে গেল।এরপর থেকে
প্রতিদিন নীলা নীলকে ফলো করতে থাকে।
একমাস পরেও কোনো লাভ হলোনা।নীল
সবসময় ইগনোর করে চলত নীলাকে।এতে
বেশ কষ্ট হয় নীলার।তাই সে সিদ্ধান্ত নিল জীবন
আর রাখবে না।তাই নীলের ফোন নাম্বার যোগার
করে একটা ম্যাসেজ দিল নীলা:-"" Ami Nela.Ami
Sotti Tomake Onek Valobashi Neel..Kintu Amar
Valobashar Kono Mullo Nei tmr Kasey..Ar Tmake
Na Pelay Amr Kasey Amr Life Er Kono Mullo Nei
Amr Kasey.Tai Ami Chole Jacchi Na Ferar
Deshay.Amake Plz Maf Koray Deo Arpo
Theko.""
নীল ম্যাসেজটা দেখে ভাবল নীলা হয়ত
আবেগে লিখছে এগুলা।কারণ নীলের ধারণা
এখনকার যুগে এরকম ভালোবাসা নেই যে কেঊ
কারো জন্য সুইসাইড করবে।তাই ব্যাপারটা তেমন
আমলে নিল না নীল।কিন্তু নীলা সত্যি সত্যি সেদিন
৮ টা ঘুমের ওষুধ একসাথে খেয়ে ফেলে।
হসপিটালে ভর্তি করা হলো তাকে।নীলার বাবা মা
অনেক চেষ্টা করেও নীলার ওষুধ খাওয়ার কারণটা
বুঝতে পারল না।১৮ ঘন্টা পর ঞ্জান ফিরল নীলার।
অনেক চেষ্টা করেও নীলার মুখ থেকে
নীলের নাম ছাড়া আর কিছু বলানো গেল না।
নীলার বাবা মা নীলার বান্ধবির কাছ থেকে
নীলের ব্যাপারে সবকিছু জানতে পারল।পরে তারা
নীলের ঠিকানা জোগাড় করে সেখানে গেল।
তারা দুজনে নীলকে অনেক বোঝাতে লাগল
যে নীলা সত্যি তাকে ভালোবাসে।একসময়
নীলার মা কান্না করে দিল।আদরের একমাত্র
মেয়ে বলে কথা।শেষে নীল বলল যে সে
একবার দেখতে চায় নীলাকে।সে গিয়ে দেখল
যে নীলা বেডে শুয়ে আছে ।নীলাকে
দেখে বেশ মায়া লাগল নীলের।নীলকে
দেখেই নীলা উঠে বলে উঠল:
-নীল আমি সত্যি ভালোবাসি তোমাকে
নীলাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক হবে না ভেবে নীল
বলল:-হুম।আমি জানি তো।কিন্তু তুমি তো অসুস্থ।তুমি
আগে সুস্থ হও তারপর এই বিষয়ে কথা বলব আমরা।
ঠিকাছে?
-না..তুমি এখন উত্তর দিবা।
নীলার চোখের দিকে তাকিয়ে মায়ার গভীরতায়
হারিয়ে গেল নীল।কিছু না বলে জরিয়ে ধরল
নীলাকে।নীলার ভালোবাসার কাছে হার মানল
নীলের বাস্তবতা।
_
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now