বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প : নীল আকাশে'র ওই সাদা মেঘ "
.
আবির আর অরিন ।
সেই ৬ষ্ট শ্রেনী থেকে একই স্কুলে পড়াশুনা করে। প্রথম দিকে কেউ কাউকে চিনত না। না চেনারি কথা । দুই জন এক স্কুলের একই ক্লাসে হলেও তাদের ক্লাস রুম ছিল ভিন্ন। তাই কেউ কাউকে চিনে না।
.
দেখতে দেখতে নবম শ্রেনীতে উঠে। দুই জনে বিজ্ঞানের স্টুডেন্ট হওয়ার সুবাদে, একে অপরের একটু পরিচিত। প্রথম দিকে কেউ কারো সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলত না। এভাবে দশম শ্রেনীতে উঠে যায়। তাদের বন্ধুত্ব টাও অনেক গভীর হয়ে যায়।
.
আবির :- অরিন একটা হেল্প করবা?
অরিন :-আজ অব্ধি না করছি নাকি?
আবির :- না করো নাই।
অরিন :- তাহলে বলেই ফেলো। আমার যথা সাদ্ধ চেস্টা করব।
আবির :- তাহলে শুনো। ওই মানবিক শাখারা একটা মেয়েকে অনেক দিন ধরেই লাইক করি । কিন্তু বলার সাহস পাচ্ছি না একটু বলে দিবা।
অরিন :আচ্ছা, বলে দিব, ওর নাম কি সেটা বলো?
আবির :- ওর নাম হল কথা।
অরিন :- ওহ কথা। তুমি দ্বারাও টিফিন টাইমে আমি সুযোগ বুঝে বলে দিব।
আবির : ধন্যবাদ দোস্ত।
.
আবির তো সেই খুশি। মনে হচ্ছে , সে আসমানে'র চাঁদ হাতে পেতে যাচ্ছে। খুশি হওয়ারি কথা । নতুন প্রেম প্রীতি বলে কথা। কথায় আছে না ক্লাস নাইনে উঠে লাইন করার ইচ্ছা জাগে । আবিরের ও ব্যাতিক্রম হয় নি। সেই ক্লাস নাইন থেকে কথাকে পছন্দ করে । কিন্তু বলার সাহস পায় নি। অবশেষে , অরিন কে দিয়ে তার মনের কথাটা বলেই ফেলল। অপেক্ষা শুধু বিপরীত পক্ষের প্রতিউত্তর।
.
স্কুল ছুটি হয়েছে। সবাই সবার মত বাড়ি যাচ্ছে । আবির ও বাসা যাচ্ছে। স্কুলের গেট দিয়ে বের হতে যাবে তখন অরিনের ডাক ,
অরিন :- এই শাওন এই দিকে একটু শুনে যাও।
আবির :-হুম বল ?
অরিন : কথা, তোমার সাথে নাকি কি বলবে, তোমরা কথা বলতে বলতে বাসায় যাও আমি প্রাইভেটে যাই।
আবির :- আচ্ছা । ঠিক আছে।
.
আবির আর কথাকে রেখে অরিন প্রাইভেটে চলে গেলে। তারা দুই জন নিরব হয়ে দাড়িয়ে আছে কেউ কারো সাথে কথা বলছে না। হঠাৎ কথা নিরবতা ভেজ্ঞে ,
-কেমন ,আছো ? (কথা)
-ভাভাভাল আছি। তুম্মমি কেমন আছো (তোতলাতে তোতলাতে উত্তর দিল আবির)
-আরে । মেয়েদের মত তোতলাচ্ছো কেনো ? আর ভয়েই বা পাচ্ছ কেনো।
-কই না তো।
-গুড । অরিন যা বলল , সব কি সত্য ?
-হুম।
-কি ,হুম ?
-সব , সত্যি ।
-কেনো , তোমার সাহস নাই ? নিজে বলতে পারতে না!
-হুম আছে।
-তাহলে , তুমি না বলে অন্য কাউকে দিয়ে বলালে কেনো ?
- ও আমার ফ্রেন্ড, নিজে বলতে পারতেছি না । তাই ওর হেল্প নিলাম।
-ওকে , বুঝেছি । কাল সকালে , ফরহাদ স্যারের বাসার ওখানে দাড়াইবা। আজ আসি।
-ওকে আস।
.
আবির খুশি মনে বাসায় ফিরল। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে খুব আনন্দের সহিত অরিন কে ধন্যবাদ জানিয়ে একটা ম্যাসেজ দিল। অরিন ও স্বাগতম জানিয়ে ম্যাসেজের রিপ্লাই দিল।
.
কিছুদিন, যাবৎ।
খুব সুন্দর মুহূর্ত পার করছিল আবির । হটাৎ করেই সুন্দর মুহূর্ত গুলোর মাঝে কালো মেঘ ছেয়ে যায়। কথা'র নিকট থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু কথা। আবিরে'র নীল আকাশের ওই সাদা মেঘে'র বদলে। কাল মেঘে ছেঁয়ে যায়.....
-আবির । তোমার সাথে কিছু কথা আছে? (কথা)
-হ্যা , বল। (আবির)
-আমার বাসায় , সব কিছু জেনে ফেলছে। গতকাল আব্বু আমাকে অনেক বকাবকি করেছে এবং এও বলছে যে, পরীক্ষা দিতে দিবে না ।যদি তোমাকে না ছাড়ি । তুমি আমাকে ভুলে যাও। আর , হ্যা । আব্বু বলছে , তোমার বাসাতেও নাকি বলে দিবে।
-কি বলছ , এই সব !
ভুলে যাব মানে ? ভুলে যাওয়ার জন্যে ভালবেসেছি নাকি ?
-হ্যা , আবির । ভুলে যাবে ।
আর কখনো ডিস্টার্ব করবা না....
.
আবিরের নীল আকাশে'র ওই সাদা মেঘে'র বদলে। কাল মেঘ ছেঁয়ে দিয়ে। কথা চলে যাচ্ছে । আর ,আবির ।তার পথের দিকে চেয়ে আছে। এত সুন্দর একটা সম্পর্ক কোন কারন ছারা ভেঙে দিয়ে গেল। সেদিন অনেকটা ভেঙে পড়ে আবির । আর সেই মুহূর্তে অরিন তার পাশে এসে দাড়ায়। আবির'কে, সব সময়। বিভিন্ন ভাবে ব্যাস্ত রাখার চেস্টা করত। কারন ব্যাস্ত থাকলে অন্য ভাবনা গুলা আর জ্বালাত্বন করে না । কস্ট গুলাও কাছে আসতে পারে না।
.
সময়, সময়ে'র মতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।
দেখতে দেখতে টেস্ট পরিক্ষা চলে আসে। সবাই লেখাপড়া নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।বেশ কয়েকদিন স্কুল বন্ধ থাকায় আবির অরিন কে ফোন দেয়...
-কেমন ,আছো ? অরিন । (আবির)
-ভাল। তুমি ? (অরিন)
-ভাল। কি কর ?
-এই , তো ! বসে আছি। তুমি ?
-হ্যা , আমিও। কালকে তো এক্সাম । প্রিপারেশন কেমন ?
-ভালই। তোমার ?
-ভালই....
.
যত দিন যাচ্ছে । আবির অরিনের প্রতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কথা'র সাথে ব্রেক আফ হওয়ার পর । এই মেয়েটা সারাক্ষণ আবিরের খেয়াল রেখেছে। সাপোর্ট করেছে।
.
টেস্ট পরিক্ষা , শেষ হতেই।
স্কুলের বিদায় অনুষ্টানও এসে পড়ে। সবাই সবার ইচ্ছেমত সেঁজেছে।
আজ অরিনকে অসাধারণ সুন্দর দেখাচ্ছে। লাল একটা শাড়ি পড়েছে । হাত ভর্তি কাচের নীল চুড়ি। চোখে কাজল। মনে হচ্ছে , এ এক অপ্সরী। বার বার অরিন এর দিকে তাকাচ্ছে আর মুচকি মুচকি হাসি দিচ্ছে, আবির। অরিনো ব্যাপারটি লক্ষ্য করে। সে নিজেও হেসে ফেলে । আবিরের দিকে তাকিয়ে। সেদিন, অনেক ব্যাস্ততার কারণে দুজনে'র তেমন কথা বলা হয়ে উঠেনি। অনুষ্ঠান শেষে, যে যার বাসায় চলে যায় ।
.
দুই জনেই পরিক্ষা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। বেরে যায় তাদের মধ্যে একটু দুরত্ব। পরীক্ষার জন্য একে অপরের ভালভাবে খোঁজ খবর নিতে পারে না। দুজন ,দুজন'কে খুব মিস করত । হয়ত , ভালবেসে ফেলেছে একে অপরকে। শুধু বলার অপেক্ষা । কিন্তু কেউ কাউকে বলার সাহস পাচ্ছে না।
.
তাদের, দুজনের। পরিক্ষা শেষ হবার পর। তারা একি কলেজে এডমিশন হয়।
নতুন কলেজ । নতুন লাইফ । নতুন বন্ধুবান্ধব, নতুন দুষ্টুমি বেশ ভালই চলছে। দিন যত যাচ্ছে অরিন যেন আবিরের প্রতি আরো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
.
হটাৎ, একদিন । অরিন, আবির'কে ডেকে বলল, তোমাকে একটা কথা বলি ?
আবির :- হুম , বল ।
অরিন :-কথাটা শুনার পর রাগ করবে নাতো ?
আবির :-আচ্ছা , রাগ করব না। এখন বল তো কি বলবে ?
অরিন :-আমাকে বিয়ে করবে ?
আবির :-মজা করছো । আমার সাথে !
অরিন :- হ্যা । কিন্তু সিরিয়াস.....
অরিন চলে যাচ্ছে আর আবির বোকার মত তার কথা ভাবছে। ফান বাট সিরিয়াস এটা কেমন কথা। ধুর ও একটা পাগলি। ওর কথায় কান না দেয়াই ভাল। এই ভেবে আবির চলে গেলো।
.
কলেজে এসে আবির চেঞ্জ হয়ে গেছে । আগের মত অরিনের সাথে কথা বলে না। কেমন যেন এরিয়ে চলে। নতুন বন্ধুবান্ধব দের বেশি প্রধান্য দেয়। নতুন বলে কথা। আসলে নতুন জিনিস গুলার প্রধ্যান্য একটু বেশিই থাকে। শুধু আবির না । অন্য যে কারো ক্ষেত্রেই এমন হয়।
.
আবিরের এই অবহেলা আর অরিন নিতে পারছে না। কলেজের প্রায় পরিসমাপ্তির দিকে। কিছু দিন পরেই তাদের বিদায়ি অনুষ্টান। অরিন , ঠিক করে রেখেছে ।তার মনের কথা টা বলেই দিবে। যেই ভাবা সেই কাজ।
.
আজ কলেজের শেষ দিন। কলেজের সকল অনুষ্টান প্রায় শেষ। আবির, অরিন বাদে বাকি সবাইকে নিয়ে ব্যাস্ত । তাই বাধ্য হয়ে অরিন . আবির'কে ডাক দেয়...
অরিন :-আমার সাথে একটু এক জায়গায় যাবে ?
আবির :-কোথায় যাবে ?
অরিন :- গেলেই বুঝবা...
.
অরিন রিক্সা ডাক দিল। রিক্সায় দুই জন চুপ চাপ বসে আছে। কিছুক্ষণ পর পার্কের গেটের সামনে রিক্সা থামাল ।ভাড়া পরিশোধ করে পার্কের ভিতরে চলে গেলো......
আবির :- হঠাৎ এখানে কেনো ?
অরিন :-তোমাকে কিছু কথা বলব। কোন ফান না সত্যি কথা । আমার কথা । আমার মনের কথা। এই বলে অরিন আবির'কে বলেই ফেলল, শুন আবির । সেই এস.এস.সি ইর পর থেকে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। বিভিন্ন ভাবে ভালবাসার ইংগিত দিয়েছে ।কিন্তু তোমার কোন সারা পায়নি। কিন্তু আর থাকতে পারছি না। খুব বেশি ভালবেসে ফেলেছি তোমাকে । আর থাকতে পারব না। প্লিজ না করো না। তাহলে বাঁচতে পারব না...
.
আবির নিশ্চুপ কি বলবে বুঝতে পারছে না ।
অপর দিকে , অরিন কান্না করেই যাচ্ছে। আবির. অরিন কে কাছে টেনে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,
তোমাকেও যে খুব বেশি ভালবাস অরিন । কিন্তু বন্ধুত্ব নস্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কিছু বলতে পারি নি। যদি তুমি রেগে গিয়ে আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দাও । তাই বলিনি ...
অরিন :-তাহলে , এখন বল হাদারাম ..
আবির :- তুমি কি আমার প্রাক্টিক্যাল করে দিতে সাহয্য করবা।
অরিন :- করতে পারি তবে একটা শর্তে ।
আবির :- তোমার শত শর্তেও আমি রাজি।
অরিন : আমাকে কখনো ছেরে যাবেন নাতো।
আবির :- না কখনো না।
অতঃপর অরিন আর আবিরের পাঁচ বছরের বন্ধুত্ব আজ নতুন একটি অধ্যায় শুরু করল.... আবিরে'র আকাশ নতুন করে সাদা মেঘে ছেয়ে গেল। কালো মেঘে'র ঠাই আর কখন হবেনা , হয়তো.....
.
ණ লিখা :Bahadur Mia Shehab (স্বার্থপর )
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now