বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শরীরটা টানটান করে উবু হয়ে শুয়ে ছিলেন জাতীর জনক শেখ মুজিবুর রহমান। স্বর্গীয় প্রশান্তিতে তাঁর গাঢ় একটা ঘুমও এসে গিয়েছিলো। কিন্তু একসময় ঘুমটা হঠাৎ হালকা হয়ে গেলো। চোখ বুজে থেকেই মনে হলো তাঁর শরীরের উপর, তাঁর পিঠের উপর যেনো কিছু একটা উঠেছে, অথবা কিছু একটা পড়েছে। তিনি তা অগ্রাহ্য করে আবার ঘুমিয়ে যেতে চেষ্টা করলেন। পরপরই তাঁর আবার মনে হলো পিঠের উপরের সেই কিছু একটা ক্রমেই ভারী হয়ে উঠছে। এবং সেটা পিঠের উপর উঠে স্থির হয়ে নেই— হাঁটছে। হেঁটে হেঁটে মাথার দিকে এগোচ্ছে। অতএব, সেটা কোনো জিনিস না— জন্তু হয়তো।
স্বর্গের ভেতর মানুষের কক্ষে জন্তু এলো কীভাবে! চোখ মেললেন তিনি। উবু অবস্থা থেকে ঘুরে স্বাভাবিক হতে চাইলেন। পারলেন না— পিঠের জন্তুটা আরো ভারী হয়ে উঠেছে। সেটার পদাঘাতগুলো তীব্র হয়ে উঠছে আস্তে আস্তে। তারপর মাথা কাঁত করে তিনি পিঠের দিকে তাকালেন। জন্তুটা এখনো তাঁর পশ্চাদ্দেশের কাছাকাছি— চোখ গেলো না সে পর্যন্ত। স্রষ্টার পক্ষ থেকে স্বর্গবাসীদেরকে বিশেষ যে ক্ষমতাগুলো দেয়া হয়, সেগুলোর একটা হলো মাথাটা লাটিমের মতো ফনফন করে ঘোরাতে পারার ক্ষমতা। চট্ করে ক্ষমতাটার কথা মনে পড়ে গেলো তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে মাথাটা ঘুরিয়ে পুরোপুরি পেছন দিকে নিয়ে নিলেন তিনি। পরপরই একদম থ হয়ে গেলেন— এটা কী করে সম্ভব?
তিনি দেখতে থাকলেন— তাঁর শরীরটা ক্রমেই ছোটো হয়ে যাচ্ছে! ইশকুল পড়ুয়া বাচ্চাদের শরীরের মতো ছোটো! অদ্ভুত ব্যাপার— তাঁর সেই ছোট্ট শরীরটার পিঠের উপর কোনো জন্তু না— হস্তিদর্শন একজন মানুষ(?)! মানুষ(?)টা হস্তিদর্শন হলেও তার পা দুটো লাঙলের ফলার মতো দেখতে এবং ধারালোও খুব! মানুষ(?)টা হেঁটে হেঁটে এগোচ্ছে আর মানুষ(?)টার লাঙল-ফলা-স্বদৃশ পা দুটো তাঁর পিঠের উপর গেঁথে গেঁথে যাচ্ছে। গেঁথে যাওয়া সে পা উঠোবার সাথে সাথে গলগল করে বেরিয়ে আসছে রক্ত। শরীরটা রক্তে মাখামাখি হয়ে যাচ্ছে। কঠিনভাবে আটকে যাচ্ছে বিছানার সাথে। ক্রমশ।
মানুষ(?)টার মুখের দিকে হঠাৎ চোখ চলে গেলো তাঁর। মানুষ(?)টা হাঁটছে আর হাসছে। সে হাসি যেনোতেনো হাসি না— যুদ্ধে জয়ী হবার পর মানুষের মুখে যে হাসিটা ফোটে, ঠিক সেই হাসি।
এ কে? চেহারা তো চেনা লাগছে না। এ কি তাঁর পরিচিত, নাকি অপরিচিত কেউ? মনে পড়ছে না আপাতত। সাথে সাথে স্রষ্টার দেয়া আরো একটা বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োগ করলেন তিনি, যে ক্ষমতার বলে অচেনা, অপরিচিতের পরিচয়ও পুঙ্খানুপুঙ্খ জেনে যাওয়া যায়।
পরপরই মানুষ(?)টার যে পরিচয় তিনি পেলেন, তাতে তার শরীরে যন্ত্রণা হতে শুরু করলো। সে যন্ত্রণা ক্রমেই তীব্র হতে থাকলো। এবং একসময় তিনি চিৎকার শুরু করলেন। এবং চিৎকার করতে থাকলেন তিনি স্বর্গের প্রশান্ত চতুর্দিককে চিরেফেঁড়ে।
.
তাঁর পরিচয় পাওয়া পরিচিত মানুষ(?)টা হলো—
নূর হোসেন পাটোয়ারী
সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী-লীগ
হাইমচর (উপজেলা), চাঁদপুর
.
.
।। ২ ।।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘুম ভেঙে ধড়মড় করে ঠেলে উঠলেন। এবং একটু থিতু হতেই টের পেলেন তাঁর বুকের ভেতর থেকে একটা শব্দ ভেসে আসছে অনবরত— ধক্। ধক্। ধক্। পরপরই বুকের দিকে চোখ ফেললেন তিনি। কিছুই দেখা গেলো না। কিন্তু ধকধক শব্দের সাথে সাথে বুকটাও বেশ ঘনঘন ওঠা-নামা করছে— বোঝা যাচ্ছে।
তাঁর চারপাশ ঘিরে চাপচাপ অন্ধকার। বুক থেকে চোখ সরিয়ে সেই অন্ধকারের শরীরে তাকিয়ে তিনি মনে করতে চেষ্টা করলেন— ঠিক কী ঘটলো একটু আগে, ঠিক কী ঘটনা। কার যেনো গোঙানোর শব্দ। তীব্র যন্ত্রণায় কাতর হয়ে একজন পুরুষ মানুষ কণ্ঠ থেকে যেমন শব্দ বের করে, শব্দটা ঠিক তেমন। কণ্ঠটাও কেমন পরিচিত! কার কণ্ঠ? কার কণ্ঠ? বাবার কণ্ঠ না? তাঁর বাবার কণ্ঠ না! তাই তো! বাবার কণ্ঠই তো! ভুল হবার কথা না একদম— দীর্ঘ ৪২ বছর আগেই কণ্ঠটা শেষ শুনেছেন, এমন তো না। প্রযুক্তির কল্যাণে কণ্ঠটার কিছুটা বন্দী করা গেছে। সারা দেশের মানুষ যেমন কণ্ঠটা শোনে এখন— তিনিও শোনেন। প্রায়ই।
কিন্তু বাবার কণ্ঠ এখন কোত্থেকে আসবে? তাও যন্ত্রণাকাতর গোঙানো কণ্ঠ! কোত্থেকে আসবে? না, তিনি হয়তো দুঃস্বপ্ন দেখেছেন। গভীরভাবে তিনি কান পাতলেন চারপাশে— কই? বাবার কণ্ঠ কেনো— কারো কণ্ঠের কম্পনই তো টের পাওয়া যাচ্ছে না! অন্য কোনো শব্দেরও তো কোনো সাড়া নেই কোথাও! তাহলে? না, তিনি একটু আগে দুঃস্বপ্ন দেখেছেন। দুঃস্বপ্নই— নিশ্চিত।
শুয়ে পড়া দরকার। ঘুমোতে হবে। কিন্তু গলাটা শুকনো শুকনো লাগছে— একগ্লাস পানি খাবেন নাকি? না, থাক— ইচ্ছে করছে না। তিনি শুয়ে পড়লেন। চাদরটা বুক পর্যন্ত টেনে নিয়ে চোখ বুজলেন। সঙ্গে সঙ্গে কণ্ঠটা আবার ভেসে আসতে থাকলো। তীব্র যন্ত্রণাকাতর গোঙানো কণ্ঠ। বাবার কণ্ঠ।
কণ্ঠটা কোথাও থেকে ভেসে আসছে অনর্গল। তাহলে তিনি কি আবার ঘুমিয়ে পড়লেন? ঘুমঘোরে কি আবার দুঃস্বপ্নটা দেখতে শুরু করলেন? ছোটোবেলা শিখেছিলেন— ঘুম, না জাগরন বুঝতে হলে গায়ে চিমটি কাটতে হয়— গায়ে চিমটি কেটে দেখবেন নাকি?
নিজের গায়ে নিজেই চিমটি কাটলেন তিনি। বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনীর মাথায় বেশ জোর দিয়েই শক্তি পৌঁছে দিলেন। না, তিনি ঘুমে নেই, তিনি জেগেই আছেন। একটু ব্যথায় শব্দ করে উঠলো তাঁর কণ্ঠটা— উহ্! বাবার কণ্ঠটাও শব্দ করছে, গোঙানীর, অন্ধকারের শরীর কেটে কেটে ভেসে ভেসে আসছে বাতাসে, অনর্গলই।
না, তাঁকে এখন ঘুমোতে হবে। যেখান থেকে যতো যা শব্দ আসে— আসুক গে। সে শব্দ যন্ত্রণাকাতর কণ্ঠের হয়— হোক; সে কণ্ঠ তাঁর বাবার হয়— হোক। তাঁকে এখন ঘুমোতে হবে— অন্য যাবতীয় বিষয় ঘুমজাগার পর।
নিজেকে ঘুম পাড়ানোর বিশেষ এবং অসাধারণ ক্ষমতাটা মস্তিষ্কে প্রয়োগ করলেন তিনি।
.
.
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘুমিয়ে পড়েছেন ততোক্ষণে— চাপচাপ অন্ধকারের ভেতর তলিয়ে থেকে আমরা অন্তত বুঝে নিলাম সেটুকু। এবং সেইসাথে আমরা বুঝতে থাকলাম, আমরা টের পেতে থাকলাম, জাতীর জনক শেখ মুজিবুর রহমান গোঙাচ্ছেন স্বকণ্ঠে। আমাদের অজানা কোনো এক জগত থেকে ভেসে ভেসে আসছে বুকের ভেতরটা হিম করা তীব্র যন্ত্রণাকাতর সে কণ্ঠ।
.
.
--------------------------------------------
দাহকালের ধ্বণি—
নিদ্রাবতী । সুপণ শাহরিয়ার
২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
.
===============================
* খবর: চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ওছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানে ছাত্রদের দ্বারা নির্মিত মানবসেতুর এক শিক্ষার্থীর উপর দিয়ে সগৌরবে হেঁটে গেলেন উপজেলা আওয়ামী-লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন পাটোয়ারী (মূলত তার সম্মানেই তৈরি করা হয়েছিলো মানবসেতুটি) [বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now