বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাম রেখেছি কাব্য (প্রথম পর্ব)
- Sajeeb Kishore Chakroborty
- কিরে তুই আর আগের মত কথা বলিস না
কেনো আমার সাথে?
- আমি তো কারো সাথেই খুব একটা কথা বলি না
- কিন্তু কেনো?
- এমনি
- আমাকে বলবি না?
( seen 79 PM)
অফলাইনে চলে যায় কাব্য. আর অন্তি ভাবতে
থাকে কি হয়েছে ছেলেটার.আগে যে
ছেলেটা এত কথা বলতো এখন কেনো বলে
না? কি হতে পারে. সবাইকে হাসি খুশি তে যে
মাতিয়ে রাখতো আজ সেই যেনো সব থেকে
বিমর্ষ...ভেবে কূল না পেয়ে অন্তি ব্যস্ত হয়ে
পড়ে অন্যদের সাথে চ্যাটিং এ..
অন্তি আর কাব্যর সম্পর্কটা ভাই বোনের মত.
অন্তি কাব্যকে নিজের ভাই বলে. মনের সব কথা
কাব্যর সাথে শেয়ার করে. কাব্যও করে. ওরা
ক্লাসমেট. তবে কাব্য সাইন্সের আর অন্তি
কমার্সের.
২ ঘন্টা পর-
- দাদা তোমার লেখা গল্পটাতে আমি নেই
কেনো?
- কোন গল্পটাতে?
- ঐ যে "আরেকটি লাভ স্টোরি...হাজার বছর
ঘুরে".. ঐ টাতে.
- আচ্ছা পরের গল্পটাতে তোর নাম থাকবে.
- থ্যাংকইউ দাদা..
(seen 9:25 PM)
আবার অফলাইন হয়ে যায় কাব্য. এবার কথা হচ্ছিলো
প্রিমার সাথে. প্রিমা মেয়েটা অনেক হাসিখুশী
চঞ্চল মেয়ে. কাব্যর ২-৩ বছরের জুনিয়র.
কাব্যকে দাদা বলে ডাকে.
এর ১ ঘন্টা পরে -
- দোস্ত আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না. - ও
- কি ও? তুই না আমার বেস্ট ফ্রেন্ড?
- হুম
- আবার হুম? আমি তোর মত ক্রিয়েটিভ কিছু পারি না.
আমাকে কেউ চিনবে না.
- তুই কমার কোম্পানির পার্টনার হবি?
- আমি তো কোন কাজই পারি না. - তাতে কি. আমি
শিখিয়ে নেবো.
- না নিজে পারলে করবো. নাহলে না.
( seen 10:45 PM)
কথা হচ্ছিলো কাব্য আর জিসানের মধ্যে. ওরা
বেস্ট ফ্রেন্ড.
রাত ১২:৪৫,
ছাদের উপরের ট্যাংক.
সিগারেটের পোড়া টুকরোগুলোর পাশে বসে
আছে কাব্য. ভাবছে সবার ইচ্ছাগুলো পূরন করে
নিজে ছুটি নিয়ে নেবে. ভাবছে লিখবে
জীবনের শেষ গল্পটা.গাইবে জীবনের শেষ
গান আর আকিয়ে রাখবে জীবনের শেষ ছবি টা.
হঠাত একটা কল আসে কাব্যর মোবাইলে. কলটা
করেছে অনিক.
অনিক কাব্যর আরেকটা বেস্ট ফ্রেন্ড.
- দোস্ত ঘুমাস?
- না. বল
- কাল কি পরীক্ষা?
- কেমিস্ট্রি
- তুই কাইন্ডলি আগে যাইয়া তোর সামনের সিটটা
রাখিস আমার জন্যে. আমি কিচ্ছু পারি না. পড়ার টাইম
পাই নাই.একটা বিয়ের পার্টি ছিলো. তুইই ভরসা.
ফোনটা কেটে দেয় কাব্য.
পরের দিন পরীক্ষায় অনিকের কথা মত সামনের
সিটটা খালি রেখে দেয় কাব্য. অনিক ও সেখানে
বসে.
অপুকে দিয়ে প্রিমাকে দিয়ে দেয় প্রিমাকে
নিয়ে লেখা গল্প.
জিসানকে দেয় একটা এগ্রিমেন্ট পেপার. বলে
বাসায় গিয়ে খুলবি. তার আগে না. আমার কসম.
অন্তিকে বলে অন্তি তুই জানতে চেয়েছিলি না
আমার কি হয়েছে.
তুই এই চিঠি টা কাল সবার সামনে পড়বি. বলে
অন্তিকে একটা চিঠি দিয়ে চলে যায় কাব্য.
ঘটনার শুরু এর কিছুক্ষন পরে....
জিসান বাসায় গিয়ে এগ্রিমেন্ট পেপার খুলে
দেখে কাব্য তার পুরো কোম্পানিটাই জিসান এর
নামে লিখে দিয়েছে. রেগে যায় ও. ফোন
করে কাব্যকে.
ফোন অফ.
প্রিমার জন্য লেখা গল্পটা পড়ে প্রিমা আর অপু.
গল্পের নিচে লেখা আমার জীবনের শেষ
গল্পটা আমার সুইট ছোট বোনটার জন্যে.
চমকে ওঠে অপু আর প্রিমা. শেষ গল্প মানে কি.
কি হইছে কাব্যর? ফোন দেয় কাব্যকে.
ফোন অফ.
অনিকের ফোনে একটা মেসেজ আসে.
"পরের পরীক্ষাগুলো তোকে একাই দিতে
হবে দোস্ত. বেস্ট অফ লাক." অনিক বুঝতে
পারে না মেসেজটা. ফোন দেয় কাব্যকে.
ফোন অফ.
ওরা সবাই মিলে প্রীতার সাথে দেখা করে. হ্যা
কাব্যর প্রীতার সাথে.
অপু: কাব্য হঠাত এমন অদ্ভুত কাজ গুলো করলো
কেনো?
জিসান: আসলেই. আমারে পুরো কোম্পানিই
লিখে দিছে.
অনিক. আমারেও অদ্ভুত মেসেজ দিছে.
প্রীতা: আমি কিছু জানি না. আমারে হঠাত বলল ও
অন্য কাউকে ভালোবাসে. আমি যেনো ওকে
ভুলে যায়. ও ঠকিয়েছে আমাকে. আমি বলেছিলাম
না ও আমাকে ভালোবাসে না. আমি ঠিক ছিলাম.
প্রিমা: কাব্য দাদা এমন কাজ কপ্রতে পারে আমার
বিশ্বাস হয় না।
অন্তি: আমার মনে হয় কিছু একটা গোলমাল আছে.
আমাকে একটা চিঠি দিছিলো. সেটা পড়ে দেখি.
" ঘাসফুল গাড় নীল রং এর হয়. তবে আমি গত ১৫
দিনে একবারের জন্যেও ঘাসফুল দেখি নি. আগে
প্রতিদিন এই ব্যস্ত শহরের সূর্যোদয় দেখতাম
এখন আর দেখি না. সকালে ব্রেকফাস্ট করবো
না বলে মায়ের সাথে আর কথা কাটাকাটি করি না. না
খেয়ে প্রীতা কে রাগিয়ে দেই না. ভর দুপুরে
রোদে ঘুরে প্রীতার বকুনি খাই না এখন. সন্ধ্যার
মৃদু আলোতে লেকের ধারে বসে ফুচকা
খেতেও যায় না. ছাদের উপরে ট্যাংকটাও শুন্য
পড়ে থাকে আমার আশায়. আমি আর হাসি না. কাদিও
না. তোরা যখন চিঠি টা পড়ছিস তখন হয়তো আমি এই
দুনিয়াতে নেই. প্রীতাকে বলিস আমি ওকে
ঠকায়নি. আমি শুধু ওকেই ভালোবাসি. শেষ নিশ্বাস
পড়ার আগ পর্যন্ত ওকেই ভালোবাসি. তবে আমার
এই অনিশ্চিত জীবনের সাথে ওকে জড়ায়ে চাই
নি. তোদের সাথে কত সময় কাটিয়েছি. কত স্মৃতি
আছে তোদের সাথে. অনেক মিস করবো
তোদের. ভালো থাকিস তোরা. কাব্য আর গল্প
লিখবে না.. গল্প হয়ে থাকবে. গান গাইবে না. গান
হয়ে থাকবে. ছবি আকবে না, ছবি হয়ে থাকবে.
চলে যাচ্ছি রে. সবাইকে ফাকি দিয়ে. দূর থেকে
দেখবো তোদের "
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now