বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নাম না জানা গল্প

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X শেষ হয়েছে মিনিট দশেক হলো, তাও চায়ের কাপটা হাতেই ধরে আছে।সিগারেটটা বাতাসেই অর্ধেক পুরে গেছে। নিষ্পলক দৃষ্টিতে হাতে সোনালী রং এর টাইটান ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে আছে। কালাম মামার ডাকে হুশ ফিরলো অনিকের। . কালাম মামা আগে ওকে এতটা মনমরা দেখে নি। বছর তিনেক ধরে অনিক কালাম মামার দোকানে চা-সিগারেট খায়। কালাম মামার ঘরের ছেলের মতই হয়ে গেছে অনিক। মামা আরেকটা সিগারেট নিয়ে এসেছে অনিকের জন্য, কিভাবে কিভাবে যেন বুঝে যায় লোকটা কখন অনিকের সিগারেট লাগবে। মাথায় হাত রেখে বললো, কিরে কত টাকা লাগবে? -না, মামা, লাগবে না। -আমার কাছেও লুকাইতেছিস? -না মামা, লুকানোর কিছু নাই। মামি কেমন আছে? -উনি আছেন ভালাই। -অসুখ সেরেছে? -যেই ওষুধ আইনা দিসোস, ভালা না হইয়া কই যাইবো? তোর মন খারাপ নাকি শরীর? -মামা, তোমার বাকি কত হলো? -১৩৮০ টাকা। দেওন লাগবো না এহন। লাগলে চাইয়া নিমুনি। - ৩০০ রাখো মামা। বাকিটা পরের মাসে। পকেট থেকে ৩০০ টাকা বের করে কালাম মামার হাতে ধরিয়ে দিলো অনিক। বের হয়ে যাওয়ার সময় কালাম মামা আবার ডাক দিলো অনিককে। হাতে ২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললো, - খুচরা নিমু না, ১০০ রাখলাম, সামনের মাসে একবারে ১২৮০ টাকা দিবি। আর শুন, ওর লাইগা মন খারাপ করিস না, কষ্ট পাবে মেয়েটা। একটা হাসি দিয়ে অনিক বের হয়ে গেলো। এই লোকটা আজব, কিভাবে যেন বুঝে যায় অনিককে। কিন্তু মামার টাকা এতদিন বাকি রাখতে যে অনিকের খুব খারাপ লাগে। চা এর দোকানে ২-৪ হাজার টাকা বাকি মানে অনেক কিছু। জেল থেকে বের হবার পরে বাহিরের লোকের মধ্যে একমাত্র কালাম মামা তাকে এতটা ভালোবাসে, এতটা বিশ্বাস করে। অনিককে নিজের ছেলের মতই ভালোবাসে লোকটা। শুধু জিজ্ঞেস করেছিলো, "তোর কি দোষ ছিলো?" অনিক বলেছিলো তার কোনো দোষ নেই। এটাই কালাম মামার জন্য যথেষ্ট ছিলো। কিভাবে খুন করতে পারে অনিক রিয়াকে? এই মেয়েটাকে সে পাগলের মত ভালোবাসতো। রিয়াও নাটক করে গেছে অনিকের সাথে, সে কখনোই অনিককে ভালোবাসে নি। রিয়ার কাছে ভালোবাসা ছিলো শুধুই পাশাপাশি হাটা, এক কফি দুইজনে খাওয়া, রিক্সায় করে ঘুরে বেরানো, একটা চুমু, বৃষ্টির দিনে হাত ধরে রাস্তায় হাটতে হাটতে গান গাওয়া। . কিন্তু অনিক কখনোই এরকম ছিলো না। তার কাছে ভালোবাসা হলো তার ভালোবাসার মানুষকে কিছু সময়ের জন্য নয়, চিরদিনের জন্য নিজের করে নেয়ার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যাওয়া, নিজের চাওয়া পাওয়া ভুলে সেই মানুষটিকে ভবিষ্যতে খুশি রাখার স্বপ্ন দেখা, নিজের পায়ে দাড়ানোর চেষ্টা করা, তাছাড়া কি আর কোন মেয়ের বাবা বিয়ে দিবে নাকি তার সাথে? সেখানে রিয়ার বাবা তো অনেক সচেতন মানুষ। দিনটা ছিলো রিয়া-অনিকের একসাথে থাকার ৩য় বছরের প্রথম দিন। রিয়ার জেদ, তিন বছরের সম্পর্ক, তিন বছর আগে আজকের দিনে তারা প্রথম একে অপরের হয়েছিলো। তাই তাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে। অনিকের এগুলো পছন্দ না অতটা। তাও রিয়া চেয়েছে তাই সে রাজি হয়ে গেলো। সকাল দশটা, অনিক অপেক্ষা করছে রিয়ার জন্য। শীত ভালো পরেছে এবার। অনিকের হাত জমে যাচ্ছে। দশটাতেই আসার কথা ছিলো রিয়ার। এত দেরি হচ্ছে কেন? ও তো দেরি করে না কখনো। . রিয়া-অনিক এর ব্যাপারে রিয়ার ভাইয়া জানে, আর কেউ জানেনা বাসার। ভাইয়া যদিও অনিককে পছন্দ করে না। ১০.২০ এ রিয়াকে দেখতে পেয়ে অনিক প্ল্যান মত অটোতে উঠে গেলো। আজ তারা শহরের বাহিরে একটু গ্রামের দিকে অটো নিয়ে ঘুরবে। রিয়াও অটোতে উঠে পরলো। ঘন্টা হিসেবে অটো ভাড়া ঠিক করা আছে। ৩ ঘন্টা ঘুরার ইচ্ছা আছে যদি রিয়ার ভাইয়া ঝামেলা না করেন। . -আসতে এতত দেরি হলো যে, তুমি তো দেরি কর না কখনো। -ভাইয়া ছিলো বাসায়। -যা ভেবেছিলাম। -তুমি অনেক্ষন দাঁড়িয়ে আছো, না? -ব্যাপার না। -আমাকে ভালোববাসো তুমি? -না। - মিথ্যা বলে না। কতটা ভালোবাসো? -বললামই তো ভালোবাসি না। -তুমি সবসসময় এরকম কর আমার সাথে, আমার কি ইচ্ছা করে না তোমার মুখ থেকে শুনতে? তুমি একটু রোমান্টিক যে কবে হবা। -হুম -বলো। -হুম। -আচ্ছা, আমি মরে গেলে আমাকে মিস করবা? -আজাইরা কথা ছাড়া কথা নাই? -আমি তোমার জন্য একটা গিফট এনেছি। এই বলে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিলো রিয়া অনিকের হাতে। -কি এটা? -না না, এখন না, বাসায় যেয়ে খুলবা। হ্যাপি এনিভার্সারি জান। -বিয়ে করি নাই আমরা। -তাও, করবা তো। এই দিনেই তুমি এসেছিলো আমার জিবনে, বলো, প্লিজ। -হুম। আমি তোমার জন্য কিছু আনি নাই কিন্তু। -তুমিই তো আমার গিফট বাবু, আমার আর কিছু লাগবে না। এভাবেই কত শত কথা বলতে বলতে সময় কেটে গিয়েছিলো অনেক। অনিকও রিয়ার জন্য একটা গিফট নিয়ে গিয়েছিলো, সারপ্রাইজ দিবে বলে আগে বলেছে যে কোনো গিফট আনে নি অনিক। হঠাত করে রিয়া অনিকের কাধ থেকে মাথা সরিয়ে নিলো। বুকে হাত দিলো রিয়া। -কি হয়েছে? -কিছু না, ঠিক আছি আমি। এই বলে আবার অনিকের বুকে মাথা রাখলো রিয়া। -জান, তোমার কাছে কিছু চাই নি আজ পর্যন্ত, আজ চাবো, দিবা? -কি? -আমাকে একটা চুমু দাও না এখন। অনিক রিয়ার কপালে একটা চুমু দিলো। . হঠাত একটু পরে রিয়া আবার মাথা উঠিয়ে নিলো অনিকের ঘার থেকে। বুকে হাত দিলো রিয়া। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বুঝা যাচ্ছে। অনিক দেরি না করে রিয়ার ভ্যানিটি ব্যাগ খুললো। কিন্তু ইনহেলার পেলো না। -বাবু, ইনহেলার কোথায়? -শেষ। -তুমি ইনহেলার ছাড়া আসলে কেন? -ভুলে গিয়েছিলাম, তাড়াহুড়া করে এসেছি। রিয়া কথা বলতে পারছে না ভালো ভাবে। দম বন্ধ হয়ে আসছে তার। অনেক দূরে চলে এসেছে তারা শহর থেকে। অনেক খুজেও ইনহেলার পেলোনা কোথাও। কোনো হাসপাতালও নেই। অনিক অটো ঘুরাতে বললো। শহরে ফিরবে তারা। রিয়া অনিকের কোলে মাথা রেখে ছটফট করছিলো। হঠাত অনিক বুঝতে পারে.......... রিয়া ঘুমিয়ে গেছে।আর জাগবে না রিয়া। . রিয়ার ভাই অনিকের নামে কেস করেছিলো, মার্ডার কেস। কি মনে করে আবার ৩ দিনের মাথায় কেস উইড্রো করে নেয়। অনিককে কাদতে কাদতে জড়িয়ে ধরেছিলো ভাইয়া। শেষবার অনিককে রিয়া একটা ঘড়ি দিয়েছিলো, টাইটানের, সোনালী রঙের। আর রিয়ার জন্য কিনা শেষ উপহার অনিক শেষ পর্যন্ত দিতে পারলো না রিয়াকে। রিয়া আসলেই অনিককে ভালোবাসে নি, ভালোবাসলে এভাবে ছেড়ে যেতে পারতো না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নাম না জানা গল্প
→ এ্যাডভোকেড সাহেবের জানাযার নামাজ ও তার ছেলের গল্প
→ নাম না জানা গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now