বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নীহা মাংস রান্না করবে আর তাতে ঝাল হবে না— তা কি হয়?
অসম্ভব। অনেক চেষ্টা করেও সে আজ অব্দি এটা ঠিক করতে পারে নি— কীভাবে যেনো মরিচের পরিমাণ হয়েই যায় অধিক। তবে সে মাংসের চেহারা এতো সুন্দর হয়— সুশান প্রশংসা না করে পারে না। কিন্তু খেতে খেতে সেই প্রশংসা ক্রমে হয়ে যায় রাগ।
বরাবরের মতোই খেতে খেতে সুশানের চোখ-মুখ রক্তবর্ণ হয়ে গেলো। সে একপ্লেট ভাতের অর্ধেকটা খেয়েই ঝগড়া শুরু করে দিলো— ‘আচ্ছা, তুমি কি এতো ঝাল ঢালো আমাকে খেতে না দেয়ার জন্যে?’
নীহা বললো, ‘ছি ছি! কী বলো তুমি এইসব!’
‘নয়তো কী? তুমি জানো না— আমি বেশি ঝাল খেতে পারি না?’
‘আমি আসলে…’
অসমাপ্ত কথাতেই নীহাকে থামিয়ে দিয়ে সে গরম হয়ে উঠলো— ‘চুপ করো! আমাকে আর কিছু বলতে হবে না। তুমি একা একা খাওয়ার জন্যে রান্না করেছো— একা একাই খাও। পেট ভরে খাও।’
উঠে দাঁড়ালো সুশান, এবং সেই প্লেটেই হাত ধুয়ে সে বকতে বকতে শোবার ঘরে চলে গেলো।
নীহা কিছু আর বললো না। খেতে খেতে সেও বুঝতে পেরেছে একটু বেশিই ঝাল হয়ে গেছে মাংসটাতে। খুব বেশি ঝাল খাওয়া অভ্যাস থাকলেও তারও একটু একটু ঠোঁট জ্বলছে, জিভ জ্বলছে।
সুশানের কথা ভেবে তারও আর খাওয়া হলো না। মন খারাপ হয়ে গেলো। সেও উঠে দাঁড়ালো— সুশানকে ঠাণ্ডা করতে হবে। রান্নাঘর থেকে চিনির বৈয়ম নিয়ে সেও শোবার ঘরে চলে গেলো— খুব ঝাল লাগলে চিনি খেলে গাল ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
ও ঘরে গিয়ে সুশানের কাণ্ড দেখে নীহার খারাপ হওয়া মন ভালো হয়ে গেলো। হঠাৎ হাসি পেয়ে গেলো। দেখে বিছানার উপর টান টান শরীরে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে সুশান। তার জিভ অর্ধেক বাইরে বের করা। এবং জিভ বরাবর উপরে সিলিং ফ্যান— শো শো শব্দ করে ফ্যান ঘুরছে ফুল স্পিডে।
‘এই সু, তোমাকে দেখতে এখন কী বিচ্ছিরি লাগছে— তুমি জানো? জিভ ভিতরে নাও। আর এই নাও চিনি। চিনি গালে দাও— দেখবা গাল ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। ওঠো।’
নীহার কথায় সুশানের কোনো ভাবান্তর দেখা গেলো না। সে চিনি খাবে না— জিভ বের করে চিৎ হয়েই শুয়ে থাকবে।
নীহা আবার বললো, ‘কী হলো— ওঠো! আর আমি ইচ্ছে করে অতো ঝাল দিই নি, না বুঝে দিয়েছি। আমি সরি, সোনা! আগামীতে আর এমনটা হবে না। ওঠো।’
সুশান উঠলো না। সে সেভাবেই রেগে আছে।
‘সরি তো, বাবা! ওঠো। ওভাবে শুয়ে থেকো না— দেখতে খারাপ লাগছে।’
সুশান তখনো নিরুত্তর।
‘চিনি খাবা না? আচ্ছা তাহলে কি আমি গালে ফুঁ দিয়ে দেবো? ফ্যানের বাতাসের চে’ গালের ফুঁ আরো ঠাণ্ডা বেশি।’
শেষমেষ নীহাকেই বিছানায় যেতে হলো। আধশোয়া হয়ে সে সুশানের গালের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফুঁ দিতে থাকলো। একটু ক্ষণ পরেই দেখলো সুশানের মুখে হাসি ফুটেছে। তাহলে কি ফ্যানের বাতাসের চেয়ে তার গালের ফুঁ-তেই বেশি আরাম লাগছে সুশানের?
কিন্তু পরমুহূর্তেই ঝট্ করে কীভাবে কী হয়ে গেলো— নীহা বুঝতেই পারলো না— শুধু খেয়াল করলো— সে চিৎ হয়ে শোয়া, আর সুশানের পুরো শরীরটা তার শরীরের উপর চাপানো। এবং তার জিভটা ইতোমধ্যে সুশানের গালের ভেতর। তার মাথার পেছনটা শক্ত করে ধরে সুশান সেটা সাধ মিটিয়ে চুষে চলেছে।
সুশানের এমন আচরণে বরাবরই তার শরীরে ঝড় বয়ে যায়। তার ইচ্ছে করে— সুশানের শরীরটাকে ছিঁড়ে-খুঁড়ে যাচ্ছেতাই কিছু করে ফেলে। এবং সে করেও— ছিঁড়তে-খুঁড়তে না পারলেও এমন মুহূর্তে তার অন্য অন্য যা কিছু ইচ্ছে হয়, সে তাই করে— যতোবেলা ঝড় না মেটে। কিন্তু এই ভর দুপুরবেলা সুশানের আচরণে দ্রবীভূত হওয়া সাজে না। দরজা-জানলা সব খোলা— কেউ দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। তারচে’ সে যেটুকু করছে, সেটুকুতেই স্থির থাক— এর বেশি আপাতত দরকার নেই। অনেক কষ্টে নিজেকে বোঝালো নীহা।
একসময় সুশান থামলো। কিন্তু নীহার শরীর থেকে নামলো না— তার মনে আরো কিছু আছে। নীহা তা এড়িয়ে গিয়ে মিচমিচ করে হাসতে হাসতে বললো, ‘ঝাল মিটলো?’
সুশান মাথা নেড়ে বললো, ‘উঁহু।’ বলেই সে খপ করে নীহার ঠোঁট গালে নেবার চেষ্টা করলো। পারলো না— নীহা চালাকি করে মুখ সরিয়ে নিলো। এবং মুখে মিচমিচে হাসি নিয়েই বললো, ‘ডাকাত একটা!’
.
----------------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now